নিজস্ব প্রতিবেদক//ল্যাবএইডের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি করল মৎস্যপদকপ্রাপ্ত ফোয়াব, সদস্য পরিবার পাবে ৩০% মূল্যছাড়।।

বাংলাদেশ সরকারের মৎস্যপদকপ্রাপ্ত মৎস্য, চিংড়ি ও মৎস্য পোনা উৎপাদনকারী খামার মালিকদের একমাত্র বাণিজ্যিক সংগঠন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ল্যাবএইড-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি (Health Service Agreement) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ফোয়াবের সকল সদস্য এবং তাদের স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, বাবা ও মা ল্যাবএইডের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবায় ৩০ শতাংশ বিশেষ মূল্যছাড়ে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
আজ অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ল্যাবএইড ক্যান্সার স্পেশাল হসপিটালের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অর্থনীতিবিদ সাকিফ শামীম। অন্যদিকে ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব)-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন।

অনুষ্ঠানে ল্যাবএইডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রানা রুবায়েত, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হান্নান এবং আলমগীর হোসেন। ফোয়াবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার হাবিবুর রহমান, ড. বায়েজিদ মোড়ল, লায়ন জাকির হোসেন, সাবিনা ইয়াসমিন, শেখ শাকিল আহমেদ, সাফায়েত হোসেন শাওন, এম আলী আকবর টুটুল, এমডি আবুল হোসেন-সহ সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সুস্বাস্থ্য। দেশের মৎস্য খাতের উদ্যোক্তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের জন্য উন্নত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই চুক্তির মাধ্যমে ফোয়াবের সদস্যরা যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন, তেমনি তাদের পরিবারের সদস্যরাও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ সরকারের মৎস্যপদকপ্রাপ্ত সংগঠন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন (ফোয়াব) দেশের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাছচাষিদের অধিকার সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং টেকসই মৎস্য চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটি মাছচাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে খাতের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
ফোয়াব ইতোমধ্যে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই (FBCCI), বিজনেস প্রোমোশন কাউন্সিল (BPC) এবং বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সদস্য হিসেবে ই-ট্রেসিবিলিটি পাইলটিং কাজ করছে, যা দেশের রপ্তানী বাণিজ্যে বিশাল অবদান রাখবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। সংগঠনটির লক্ষ্য শুধু মাছচাষিদের স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মান, রপ্তানি সক্ষমতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের মৎস্য শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সদস্য কল্যাণমূলক এই স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি ফোয়াবের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, বীমা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মতো উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হলে ফোয়াব দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও আধুনিক কৃষিভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনে পরিণত হবে।
দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়ন, আধুনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের কল্যাণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ফোয়াবের এ ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে বলেও অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


























