নিজেস্ব প্রতিবেদক// পোল্ট্রি খামারিদের দাবি: প্রতি ডিমে ৪ টাকা, মাসে ৫০০ কোটি লোকসান।।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ) সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খামারিদের সুরক্ষা, ন্যায্য দাম নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল ডাটাবেজ চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে । উৎপাদক পর্যায়ে ডিমের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং লাগামহীন উৎপাদন খরচের কারণে প্রান্তিক খামারিদের তীব্র আর্থিক সংকটের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয় ।
মানববন্ধনের মূল দাবি ও সংকটসমূহ:
আর্থিক ক্ষতি ও লোকসান: খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ডিমে গড়ে ৪ টাকা লোকসান হচ্ছে। এর ফলে সারা দেশে পোল্ট্রি খাতের প্রান্তিক খামারিদের প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
ফারমার আইডি ও ডিজিটাল ডাটাবেজ: প্রকৃত উৎপাদনকারীদের চিহ্নিত করতে ও সহায়তা পৌঁছানোর জন্য খামারিদের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি এবং ‘ফারমার আইডি’ চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
জাতীয় পোল্ট্রি বোর্ড গঠন: খাতের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য একটি স্থায়ী জাতীয় পোল্ট্রি বোর্ড বা কাউন্সিল গঠনের দাবি তোলা হয়েছে ।
মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারিদের সুরক্ষা: গত কয়েক বছরে প্রায় ৬৪ হাজার পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, অবশিষ্ট খামারগুলোকে টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ঋণ এবং পোল্ট্রি বীমা চালুর জোর দাবি জানানো হয় ।
এ পরিস্থিতিতে খামারিদের জন্য ডিমের লাভজনক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, দেশের সব পোলট্রি খামারিদের নিয়ে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।

আজ শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী এ দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান ও বিপিআইএয়ের যুগ্ম মহাসচিব অঞ্জন মজুমদার বক্তব্য দেন। এর আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খামারিদের নিয়ে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। এতে খামারিরা তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে তার চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁরা প্রতিদিন লোকসান গুনছেন এবং ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা হিসাবে মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানান তিনি। আবার এই খাতে করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যদিও প্রতিযোগী দেশগুলোতে তা আরও কম বলা জানান এ উদ্যোক্তা।
বিপিআইএর সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে মাছ, মুরগির বাচ্চা, ওষুধ, টিকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহনসহ প্রায় সব ধরনের উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে পোলট্রি–শিল্পের মূল চালিকা শক্তি প্রান্তিক খামারিরাই সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। গত ৫ বছরে ৬৪ হাজার খামারি এ খাত থেকে ঝরে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

তাই সংগঠনটির পক্ষ থেকে ধান ও আখের মতো ডিমের ক্ষেত্রেও ন্যায্যমূল্য বা ‘ফেয়ার প্রাইস’–ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। তাদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এমন মূল্য নির্ধারণ করা, যাতে খামারিরা ন্যূনতম মুনাফা পেয়ে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।
জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল পোলট্রি ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। বিপিআইএর দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত খামারির সংখ্যা, উৎপাদন, চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রকৃত খামারিদের কাছে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান বলেন, ‘খামারিদের ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয় চলে যায় খাদ্যের পেছনে। তার সঙ্গে খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে আছে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর; আমরা এটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছি।’ প্রতিবেশী দেশগুলোতে কাঁচামালে এমন কর নেই বলে জানান তিনি।
বিপিআইএর দাবি, প্রত্যেক নিবন্ধিত খামারির জন্য ফার্মার আইডি চালু করা হোক। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা, স্বল্পসুদে ঋণ, টিকা, খাদ্যসহায়তা এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমাতে কার্যকর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়।

দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের সুরক্ষা, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম ও মুরগির মাংস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
মানববন্ধনে সারাদেশ থেকে আগত ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, দেশের পোল্ট্রি শিল্প বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ খামারিকে উৎপাদন খরচের নিচে ডিম ও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে।এতে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামার এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক খামার বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্মারকলিপিতে বিপিআইএ উল্লেখ করে, প্রায় ৭০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃষিভিত্তিক উৎপাদন খাত।
এই শিল্প দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, নারী উদ্যোক্তা, যুব কর্মসংস্থান এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংগঠনটির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-ভ্যাট এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য না পেলেও অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তাদের উচ্চমূল্যে ডিম ও মুরগির মাংস কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদক ও ভোক্তা-উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, আর লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
বিপিআইএ সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে দেশে ডিম ও মুরগির উৎপাদন কমে যাবে, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা দুর্বল হবে, আমদানিনির্ভরতা বাড়বে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়বে।
সংগঠনটির ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-উৎপাদন ব্যয়ের ভিত্তিতে লাভজনক ন্যূনতম মূল্য (ফেয়ার প্রাইস) নিশ্চিত করা,
দেশের সব বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারকে জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আনা,
সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ ও পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন,
বন্ধ হয়ে যাওয়া খামার পুনরায় চালুর জন্য অর্থায়ন,
পোল্ট্রি খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার বা হ্রাস,
বাজারে সিন্ডিকেট ও কারসাজি নিয়ন্ত্রণ,
পোল্ট্রি বীমা চালু,
আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ,
পোল্ট্রি শিল্পকে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে ঘোষণা,
ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা,
জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন কাউন্সিল বা বাংলাদেশ জাতীয় পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড গঠন এবং জাতীয় পোল্ট্রি নীতিমালা-২০২৫-এর প্রান্তিক খামারিবিরোধী ধারাগুলো সংশোধন।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “পোল্ট্রি শিল্পকে রক্ষা করা মানেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কোটি কোটি মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তাকে রক্ষা করা। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী উদ্যোগ দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক খামারিদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে।”
সংগঠনের মহাসচিব এম. সাফির রহমান বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান সংকট কেবল খামারিদের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ভোক্তার স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই অবিলম্বে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরাই দৈনিক ডিমের চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় হাজার হাজার খামারি লোকসানের মুখে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।
তারা বলেন, অনেক খামারি ঋণের বোঝা ও আর্থিক সংকটের কারণে খামার টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে উৎপাদন ঘাটতির কারণে ডিমের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিপিআইএ আশা প্রকাশ করেছে, সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে আরও টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভিত্তির ওপর পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে। এর ফলে লক্ষাধিক খামারি সুরক্ষা পাবেন, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ ডিম ও মুরগির মাংস কেনার সুযোগ পাবেন।
খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা হলেও এখন বিক্রয়মূল্য ৬ টাকা। ফলে প্রতিটি ডিমে ৪ টাকা লোকসান হচ্ছে। এভাবে প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দেশের তৃণমূল পর্যায়ের পোল্ট্রি খামারিরা। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের পোল্ট্রি খামারিরা টিকে থাকবে না, সব ঝরে পড়বে।
এ অবস্থায় ভবিষ্যতে পুরো পোল্ট্রি খাত চলে যাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে। এর ফলে সহজলভ্য প্রোটিনের বড় উৎস ডিম কিনে খেতে হবে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। কর্মসংস্থান হারাবে লাখ লাখ মানুষ।
ওই সংবাদ সম্মেলনে পোল্ট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডাটাবেজ চালুর দাবিও জানানো হয়। এর আগে একই দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন পোল্ট্রি খামারিরা।
বিপিআইএ সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী খামারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন তারা লোকসান গুনছেন, ক্রমে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন, অনেকেই লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পোল্ট্রি খাতে যৌক্তিক মূল্য (ফেয়ার প্রাইস) নির্ধারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে খামারিরা অন্তত ন্যায্য মুনাফা পান এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।
সারা দেশের পোল্ট্রি খামারিদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির আহ্বান জানিয়ে বিপিআইএ সভাপতি বলেন, সারা দেশের খামারিদের একটি জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ চালু হলে প্রকৃত খামারিদের সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং খামারিদের ঝরে পড়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণ সরাসরি প্রকৃত খামারিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএ মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, খামারিদের ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয় চলে যায় খাদ্যের পেছনে। তার সঙ্গে খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে আছে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর; আমরা এটা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছি। প্রতিবেশী দেশগুলোতে কাঁচামালে এমন কর নেই বলে জানান তিনি।
তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ের অভাবে পোল্ট্রি খাতে সুফল পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে জাতীয় পোল্ট্রি বোর্ড গঠন করা হোক। উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে আগামী এক দশকে পোল্ট্রি খাত সফল শিল্প খাতে পরিণত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ অঞ্জন মজুমদার বলেন, যখন খামারিরা লোকসান দিয়ে সাড়ে চার টাকায় ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হন, তখনো ভোক্তাকে সাড়ে ১০ টাকায় ডিম কিনতে হয়। ডিম পচনশীল পণ্য হওয়ায় খামারিরা তা মজুত করতে পারেন না, আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মধস্থতাকারীরা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিআইএর উপদেষ্টা এনসি বনিক, সহসভাপতি মেজবাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক সফিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গাজী নূর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য মুন্না মুন্সী প্রমুখ।



























