RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
Thursday , 23 July 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

পৃথিবীতে ব্রয়লার ও লেয়ার পোল্ট্রি পালনের ইতিহাস

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
July 22, 2026 3:24 pm

পৃথিবীতে ব্রয়লার ও লেয়ার পোল্ট্রি পালনের ইতিহাস

কৃষি বিপ্লব থেকে আধুনিক শিল্পে রূপান্তরের এক বিস্ময়কর যাত্রা

-ড. বায়েজিদ মোড়ল।।

বর্তমান পৃথিবীতে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস হলো মুরগির মাংস ও ডিম। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই ব্রয়লার (Broiler) ও লেয়ার (Layer) পোল্ট্রি শিল্প কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আজকের এই আধুনিক শিল্প একদিনে গড়ে ওঠেনি। হাজার হাজার বছর আগে মানুষের হাতে গৃহপালিত হওয়া জঙ্গলি মুরগি থেকে শুরু করে জেনেটিক উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিল্পায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আজকের ব্রয়লার ও লেয়ার শিল্পের জন্ম হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে পৃথিবীতে ব্রয়লার ও লেয়ার পোল্ট্রি পালনের ইতিহাস, বিবর্তন, বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হলো।

জঙ্গলি মুরগি থেকে গৃহপালিত মুরগি

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর অধিকাংশ গৃহপালিত মুরগির পূর্বপুরুষ হলো রেড জঙ্গল ফাউল (Red Junglefowl – Gallus gallus)। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে বর্তমান থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারত ও বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে এদের বসবাস ছিল।

প্রায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ বছর আগে মানুষ প্রথম এই জঙ্গলি মুরগিকে গৃহপালিত করা শুরু করে। প্রথমদিকে মুরগি পালন করা হতো মূলত ধর্মীয় আচার, খেলাধুলা (Cock Fighting) এবং পরে খাদ্যের উৎস হিসেবে।

প্রাচীন সভ্যতায় মুরগি পালন

খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালের দিকে মুরগি ভারত থেকে পারস্যে এবং পরে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাণিজ্যের মাধ্যমে মিশর, গ্রিস ও রোমান সাম্রাজ্যে পৌঁছে যায়।

রোমানরা প্রথম মুরগিকে নিয়মিত খাদ্য উৎপাদনের জন্য পালন শুরু করে। তবে তখনও মাংস ও ডিম উৎপাদনের জন্য আলাদা জাত ছিল না।

ইউরোপে উন্নয়নের সূচনা

মধ্যযুগে ইউরোপের প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবারের উঠোনে কিছু মুরগি থাকত। এগুলোকে বর্তমানে যাকে বলা হয় Backyard Poultry

এই সময়ে মুরগির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল—

  • বছরে মাত্র ৬০-৮০টি ডিম
  • ধীরে বৃদ্ধি
  • কম ওজন
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি

বৈজ্ঞানিক প্রজননের যুগ

১৮০০ সালের মাঝামাঝি ইউরোপ ও আমেরিকায় বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মুরগির সংকরায়ন শুরু করেন।

এই সময়ে জনপ্রিয় জাতগুলো ছিল—

  • Plymouth Rock
  • Rhode Island Red
  • Sussex
  • Leghorn
  • New Hampshire
  • Cornish

এগুলো থেকেই পরবর্তীতে আধুনিক ব্রয়লার ও লেয়ার জাতের ভিত্তি তৈরি হয়।

আধুনিক লেয়ার শিল্পের জন্ম

ডিম উৎপাদনের জন্য আলাদা জাত তৈরির কাজ শুরু হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে।

বিশেষ করে White Leghorn জাতটি ডিম উৎপাদনে অসাধারণ দক্ষতা দেখায়।

১৯২০-৩০ সালের দিকে আমেরিকা ও ইউরোপে লেয়ার খামার বাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে।

সেই সময়ে একটি উন্নত লেয়ার বছরে ১৮০-২০০টি ডিম দিত।

বর্তমানে আধুনিক লেয়ার বছরে ৩২০-৩৫০টিরও বেশি ডিম দিতে সক্ষম।

ব্রয়লার শিল্পের জন্ম

আজকের ব্রয়লার শিল্পের ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়।

১৯২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ারের কৃষাণী Cecile Steele ভুলবশত ৫০০টি বাচ্চা মুরগি পান।

তিনি সেগুলো বিক্রি না করে মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করেন।

অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি বিশাল লাভ করেন।

এই ঘটনাকেই বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক ব্রয়লার খামারের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।

Chicken of Tomorrow প্রতিযোগিতা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯৪৮ সালে Chicken of Tomorrow Contest আয়োজন করে।

লক্ষ্য ছিল—

  • দ্রুত বৃদ্ধি
  • বেশি বুকের মাংস
  • কম খাদ্যে বেশি ওজন
  • কম সময়ে বাজারজাত

এই প্রতিযোগিতা আধুনিক ব্রয়লার শিল্পের ভিত্তি তৈরি করে।

জেনেটিক বিপ্লব

১৯৫০-এর পর বিজ্ঞানীরা নির্বাচিত প্রজননের মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়ন ঘটান।

বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ ব্রয়লার এসেছে—

  • Cornish
  • White Plymouth Rock

এই দুই লাইনের সংকরায়নের মাধ্যমে।

অন্যদিকে আধুনিক লেয়ার তৈরি হয়েছে প্রধানত—

  • White Leghorn
  • Rhode Island Red
  • Brown Layer Line

থেকে।

খাদ্য বিজ্ঞানের উন্নয়ন

ব্রয়লার ও লেয়ার শিল্পের আরেকটি বড় বিপ্লব আসে পুষ্টিবিজ্ঞানে।

বিজ্ঞানীরা নির্ধারণ করেন—

  • প্রোটিন
  • শক্তি
  • অ্যামিনো অ্যাসিড
  • ভিটামিন
  • মিনারেল
  • এনজাইম
  • প্রোবায়োটিক

এর সঠিক মাত্রা।

ফলে খাদ্য রূপান্তর হার (Feed Conversion Ratio) নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়।

ভ্যাকসিনের আবিষ্কার

১৯৬০-এর পর নিউক্যাসল, মারেকস, গাম্বোরোসহ বিভিন্ন রোগের কার্যকর টিকা উদ্ভাবিত হয়।

এর ফলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

আধুনিক হ্যাচারি প্রযুক্তি

ইনকিউবেটর প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে লক্ষ লক্ষ বাচ্চা একসাথে উৎপাদন সম্ভব হয়।

বর্তমানে বিশ্বের বড় হ্যাচারিগুলো প্রতি সপ্তাহে কয়েক মিলিয়ন বাচ্চা উৎপাদন করতে পারে।

ইন্টিগ্রেশন মডেলের সূচনা

১৯৭০-এর দশক থেকে বড় কোম্পানিগুলো পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

একটি কোম্পানি—

  • Grand Parent
  • Parent Stock
  • Hatchery
  • Feed Mill
  • Farm
  • Processing Plant
  • Marketing

সবকিছু পরিচালনা করতে শুরু করে।

এটিই আজকের Vertical Integration

বিশ্বের প্রধান ব্রয়লার উৎপাদনকারী দেশ

বর্তমানে প্রধান উৎপাদক দেশগুলো হলো—

  • যুক্তরাষ্ট্র
  • ব্রাজিল
  • চীন
  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  • ভারত
  • রাশিয়া
  • মেক্সিকো

বিশ্বের প্রধান ডিম উৎপাদনকারী দেশ

বর্তমানে ডিম উৎপাদনে শীর্ষ দেশ—

  • চীন
  • ভারত
  • যুক্তরাষ্ট্র
  • ইন্দোনেশিয়া
  • মেক্সিকো
  • ব্রাজিল
  • জাপান

আধুনিক ব্রয়লারের বৈশিষ্ট্য

বর্তমানের একটি ব্রয়লার—

  • ৩০-৩৫ দিনে বাজারজাত হয়
  • ওজন ২-২.৫ কেজি
  • FCR মাত্র ১.৪-১.৬
  • বুকের মাংসের পরিমাণ অনেক বেশি

যেখানে ১৯৫০ সালে একই ওজন হতে সময় লাগত প্রায় ১১০-১২০ দিন।

আধুনিক লেয়ারের বৈশিষ্ট্য

বর্তমানের একটি লেয়ার—

  • বছরে ৩২০-৩৫০টিরও বেশি ডিম দেয়
  • ডিম উৎপাদন শুরু করে ১৭-১৮ সপ্তাহে
  • খাদ্য গ্রহণ তুলনামূলক কম
  • উৎপাদন দক্ষতা অত্যন্ত বেশি

প্রযুক্তির নতুন যুগ

বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে—

  • Artificial Intelligence (AI)
  • IoT সেন্সর
  • রোবটিক ফিডিং
  • স্মার্ট ক্লাইমেট কন্ট্রোল
  • অটোমেটিক ডিম সংগ্রহ
  • ডেটা অ্যানালিটিক্স
  • জিনোমিক নির্বাচন
  • Precision Nutrition

ভবিষ্যতের ব্রয়লার ও লেয়ার শিল্প

বিশ্ব এখন আরও টেকসই উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে।

গবেষণার মূল লক্ষ্য—

  • অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত উৎপাদন
  • কম কার্বন নিঃসরণ
  • প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করা
  • পরিবেশবান্ধব খামার
  • উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্য
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
  • কম খাদ্যে বেশি উৎপাদন

শেষ কথা

পৃথিবীতে ব্রয়লার ও লেয়ার শিল্পের ইতিহাস মূলত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ইতিহাস। হাজার বছর আগে জঙ্গলি মুরগি থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষিভিত্তিক শিল্পে পরিণত হয়েছে। আধুনিক জেনেটিক্স, পুষ্টিবিজ্ঞান, টিকাদান, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে বর্তমানে একটি ব্রয়লার মাত্র এক মাসে বাজারজাত হয় এবং একটি লেয়ার বছরে ৩২০টিরও বেশি ডিম উৎপাদন করতে পারে।

ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা আরও বাড়বে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্রয়লার ও লেয়ার শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনোমিক প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই বলা যায়, বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবেই পোল্ট্রি শিল্প আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সর্বশেষ - ছাগল পালন