খাগড়াছড়ির মশার কামড় উৎসাহ যুগিয়েছে মহব্বত উল্লাহকে পাহাড়ের বুকে সোনা ফলাতে
ড. বায়েজিদ মোড়ল
প্রকৃতি অকৃপণভাবে সাজিয়েছে এই খাগড়াছড়িকে। এখানে রয়েছে আকাশ-পাহাড়ের মিতালী, চেঙ্গি ও মাইনী উপত্যাকার বিস্তৃণ সমতল ভু-ভাগ ও উপজাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা। খাগড়াছড়ির স্থানীয় নাম চিংমি । মহালছড়ি, দীঘিনালা পানছড়ি রামগড় লক্ষীছড়ি মানিকছড়ি মাটিরাঙ্গা যেদিকেই চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। আর এখানকার এই সবুজাভাব ফলপ্রসুভাবে মানব সভ্যতার উন্নয়নের স্বার্থে ধরে রাখার কাজ যে প্রতিষ্ঠানটি করে যাচ্ছে সে প্রতিষ্ঠানটির নাম পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি। পাহাড়ে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে পরে সেচ প্রয়োগ করে কৃষি কাজে ব্যবহার করার এক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহব্বত উল্লাহ।
১৯৮২ সালে ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন।বিসিএস দিয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের যশোরে যোগদান করেন১৯৮৪ সালের ২৫ মার্চ। সেখানে কৃতিত্বের সাথে কাজ করার পর ১৯৮৯ সালে গাজীপুর জয়দেবপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট (বারি)এর সরেজমিন গবেষনা বিভাগে কাজ শুরু করেন। সারা দেশে এই উইং এর আওতায় অনেক কাজ হয় তিনি মনিটরিং করতেন। পাশাপাশী জয়দেবপুরের বারি কম্পাউন্ড মাঠেও তিনি বারি উদ্ধাবিত প্রযুক্তিগুলো সরেজমিনে পরীক্ষা নিরিক্ষা ও টেকসই বা স্থায়িত্ব করার চেষ্টা করতেন। এরপর তিনি গাজীপুর সালনার বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকার উপর এমএস ডিগ্রি লাভ করেন ও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকার উপর গবেষনা থিসিস করে ২০০২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বারিতে কাজ করে অনেক খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেন। এক পর্যায় ২০০৮ সালে তার পদন্নতি হয়ে প্রদান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হয়ে যান।এতে তার অনেক বিপথগামী সহকর্মী ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তা তাকে সহ্য করতে চাইতোনা। তাকে বদলি করতে হবে কোথায় বদলি করা যায়। যে বাবনা সেই কাজ তাকে বদলি করে পাঠিয়ে দেওয়া হলো খাগড়াছড়ির এই পহাড়ী কৃষি গবেষনা উপকেন্দ্রে। তখন তার পরিবার ও ছেলে মেয়ে সবাই গাজীপুরে স্কুলও কলেজে পড়াশুনা করে। এসব কিছু ফেলে তিনি কিভাবে খাগড়াছড়ি যাবেন তারপরও যেতে তাকে হবেই সরকারী চাকরি বলে কথা সারা দেশে চাকরি করতে হবে।
পরিবারের সবাইকে গাজীপুর রেখে তিনি একাই চলে গেলেন খাগড়াছড়ি ২০০৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। তখন গিয়ে এই উপকেন্দ্রটিকে পেলেন জরাজীর্ণ অবস্থায়।পাহাড়ের মানুষদের আর্থ সামাজিক অবস্থা খারাপ। আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে তাদের তেমন কোন জ্ঞান চিলোনা। তিনি প্রথমে গিয়ে সকল অফিসার ও ষ্টাফদের ডেকে বললেন আমার বউ বাচ্চা সব রয়েছে গাজীপুরে আপনারা যারা আছেন আপনারাই আমার আপনজন। আসুন আমরা সবাই মিলে মিশে এক সাথে কাজ করে এই উপকেন্দ্রটিকে গড়ে তুলি বাংলাদেশের মধ্যে আদর্শ কেন্দ্র হিসেবে। উপকারী বন্ধু পেয়ে সবাই মহব্ব উল্লাহকে সহযোগিতা করতে লাগলো। গবেষনায় আসতে লাগলো ভালো ফলাফল এর মধ্যে একটি মাল্টার জাত উদ্ভাবন করে ফেলে যেটা বারি মাল্টা-১ নামে চলছে। এর মধ্যে কমল ও চাইনা ছোট কমলার উপর গবেষনা করে সফল হলে বারি কমলা-২ নামে ঐ কমলার জাত উদ্ভাবন হয়। এরপর পাহাড়ের বড় বড় গাছে তিনি গোলমরিচ চাষের গবেষনা শুরু করেন। শুরু করেন পাহাড়ের খাধে কফি চাষাবাদের। যেখানে হাত দেন সেখানে সফলতা পান। এলাকাবাসীকে ডেকে ১০ হাজার কৃষকদের সহযোগিতা করেন। তার কাজে খুশি হয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসে তখন জেলাপ্রশাসকের মাধ্যমে জাপান এ্যামবাসীর কাছ থেকে পাহাড়ের খাদে বৃষ্টির পানি জমা রেখে সারা বছর সবজী ফলমুল চাষাবাদের মডেল তৈরীর ফান্ড পেয়ে যান। আর তিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।
নতুন উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি বাস্তবে কাজে লাগাতে পাহাড়ি এলাকার নিম্নাংশে দুই পাহাড়ে বাঁধ দিয়ে ছোট ছোট পানি সংরক্ষণাগার তৈরী করা হয়। পরে ধরে রাখা বৃষ্টির এই পানি দিয়ে শুষ্ক মওসুমে পাহাড়ি সমতল ভুমিতে বিনা খরচে কৃষি জমিতে সেচের মাধ্যমে যেকোন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। তিনি ভুট্টা, টমেটো, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজী চাষাবাদ করেন।
পাহাড়ি এলাকার কৃষি মূলত বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। এখানে ভুগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদনের এলাকা শতকরা ১ ভাগের কম। ফলে শুষ্ক মওসুমে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল হয়ে পড়ে। বেশীরভাগ পাহাড় ও সমতল ভুমি সেচের পানির অভাবে অনাবাদি পড়ে থাকে। এলাকার কৃষককে বৃষ্টিনির্ভর জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। কেবলমাত্র স্থানীয় কিছু নদীই এখানকার পানির প্রধান উৎস।
এক সময় একটি কথা প্রচলিত ছিল সরকারী কোন কর্মকর্তাকে শায়েস্তা করার জন্যই মুলতঃ খাগড়াছড়ি বদলি করতো। ড. মহব্বত উল্লাহকে যখন খাগড়াছড়ি বদলি করা হলো অনেকেই মনে করলেন বেটাকে শায়েস্তা করার জন্যই খাগড়াছড়ি পাঠানো হল্ োকিন্তু সেখানে গিয়ে মহব্বত উল্লার জন্যও কিছুটা শায়েস্তার মতো অবস্থা । পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তিনি। সমস্ত ব্যর্থতা তাকেই নিতে হবে। পাহাড়ের উপর উঠে বসে নিজে ভাবলেন এখানে এসে জীবনের এই শেষ প্রান্তে ব্যর্থতার গøানী মাথায় নিতে অবসরে গেলে ছেলে মেয়ে নাতি-নাতনী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কি জবাব দেবো। তাই সারাক্ষন ভাবতে লাগলেন কিভাবে এই কেন্দ্রে উন্নয়ন ঘটানো যায়। পাহাড়ের উপর কিছু বড় বড় গাছ ছিল। গাছের গোড়াতে তিনি গোলমরিচের চারা এনে লাগালেন, খাদে কিছু মাল্টা কিছু কমলা কিছু কফির গাছ এনে লাগালেন। কর্মচারি ও শ্রমিকদের বললেন নিচ তেকে পানি এনে গাছের গোড়া দিতে। সারা বছর খাটাখাটনি করে সাফল্যের পার্সেন্টেস ১০ শতাংশের কম। কিন্তু পানির অভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যায়। নিচের ২-৩শো ফুট নিচে গিয়ে পানি এনে সেই পানি দিয়ে আসলে গাছ বাচানো সম্ভব নয়। এই ১০ শতাংশের কমের মাঝেই তিনি দেখলেন যে কয়েকটা গাছ যকন বাচাতে পেরেছি তাহলে বাকিগুলোও পারবো। এখন আমাকে কাজ করতে হবে প্রযুক্তি নির্ভর কাজ করতে হবে। কি প্রযুক্তি আনলে আমি এখনে সফলতা পাবো। বন্ধু বান্ধব কেহই কোন পরামর্শ দেয়না। বরং খোচা মারে বেটা খাগড়াছড়ি শুয়ে শুয়ে ঘুমা আর মশার কামড় খা। খাগড়াছড়ি গিয়ে কি কেউ কাজ করে সবাইতো মশার কামড় খেতে যায়।
পাহাড়ের বুকে বসে সত্যি সত্যি মশার কামড় খেতে লাগলেন আর ভাবতে লাগলেন এই মশার মতোই আমি এই পাহাড়ী মাটি কামড়ে ফসল ফলাবো। এই পাহাড়ী মাটি আমাকে সাফল্য দিবে বলেই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। আর কষ্ট না করলেতো কেষ্ট মেলে না।বেশিরভাগ সহকর্মী তাকে অনুৎসাহী করার চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু সহকর্মীদের নিয়ে তিনি শুরু করলেন অভিযাত্রা। প্রথমে শুরু করেন অফিসের আশপাশগুলো ফল আর ফুলের গাছ লাগানো দিয়ে। ফুল আর ফলে এক অপরুপ সৌন্দর্যফুটে উঠেছে এই পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে।
আমি সরেজমিন ঘুরে দেখেছি, দীঘিনালার মিলনপুর ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে নতুন উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের কৃষক শুষ্ক মৌসুমে কোন প্রকার মেশিনের ব্যবহার বা কৃত্রিম শক্তির ব্যবহার ছাড়াই বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এ প্রযুক্তির ফলে একদিকে পাহাড়ের লোকজন যেমন জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে, পাশাপাশি সারা বছর ধানসহ যে কোন ফসল উৎপাদনে পানির নিশ্চিত ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। আবার যেসব ফসল বা ফল জাতীয় গাছ পাহাড়ের উঁচু ঢালে চাষ করা হচ্ছে সেসব গাছে এই সংরক্ষিত বৃষ্টির পানি যান্ত্রিকভাবে বা মেশিনের মাধ্যমে উপরে তুলে সাপ্লাই করা হচ্ছে।
মহববত উল্লাহ, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরণের ছোট ছোট পাঁচটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার তৈরী করে পাহাড়ি ভুমি ও পাহাড়ের সমতল ভুমিতে সেচ কার্য পরিচালিত করে আসছে। এতে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগারগুলো থেকে ১৫০ একর পাহাড়ি উঁচু ভূমি ও বিনা খরচে ৫০ একর পাহাড়ি সমতল ভুমি সেচের আওতায় নিয়ে আসেন তিনি।
গত এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ১৫০০-২০০০ মিলিলিটার বৃষ্টি কমে গেছে। ফলে বৃষ্টিনির্ভর জুমচাষ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন তথা খরায় পাহাড়ি কৃষকের জীবন ও জীবিকা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এজন্য এখনই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পূর্বক বিভিন্ন লাগসই, খাপ খাওয়ানোর উপায়, সমৃদ্ধ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে এই পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়ির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহব্বত উল্লাহ প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেন। তিনি পাহাড়ি এলাকার পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা, শস্য বহুমুখীকরণ, নতুন নতুন ফসল ও এর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন তিনি। তিনি জলাধারে মাছ হাঁস একসাথে পালন করছেন।
এফপিজিআর প্রকল্পের অধীনে প্রথমে এই কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি সংরক্ষণাগার তৈরী করেন। পরে পাহাড়ে কৃষকদের মাঝে এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে দীঘিনালা উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে সাতটি সংরক্ষণাগার তৈরী করে কৃষকদের সেচের মাধ্যমে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি করেন তিনি। এভাবে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সংরক্ষণাগার তৈরী করে তা থেকে সংযোগ স্থাপন করে কৃষকদের মাঠে সরাসরি পানি পৌছে দেন তিনি।
তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি জেলাসহ দেশের অন্যান্য পার্বত্য জেলায় এই প্রযুক্তিটি দেওয়া হলে এখানকার ফসলের উৎপাদন বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিভিন্ন ফসলের উপর সেচের বিভিন্ন পরীক্ষা কার্যক্রম গম ভুট্টা ফল ও সবজী ফসরের উৎপাদন ২-৩গুন বৃদ্ধি শুধু সেচ দ্বারা করা সম্ভব।
তার সহকর্মী ৪ জন কর্মকর্তা জানান, দেশের সকল পাহাড়ি অঞ্চলে এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হলে এখানকার ফসলের উৎপাদন বেড়ে যাবে। কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ জীবন-জীবিকার চিত্র পাল্টে যাবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিভিন্ন ফসলের উপর সেচের বিভিন্ন পরীক্ষা কার্যক্রমে গম, ভুট্টা, ফল ও সবজি ফসলের উৎপাদন দুই থেকে তিন গুন বৃদ্ধি শুধু সেচ দ্বারা করা সম্ভব। পাহাড়ি কৃষক সাধারণত দরিদ্র, কম শিক্ষিত, তাদের জীবিকা শ্রম বিক্রি ও জুম চাষের মাধ্যমে পরিবারের ভরণপোষণ করে থাকেন। ফলে উদ্ভাবিত এ নতুন বৃষ্টির পানি ব্যবহারের পদ্ধতি পাহাড়ের কৃষকের জীবনযাত্রার মান পাল্টে দেবে। এ প্রযুক্তি সুবিধাভোগী কৃষক হারাধন ত্রিপুরা, সয়ন ত্রিপুরা, অনিমেষ চাকমা, বাবু মারমা, আনোয়ার হোসেন জানান, ড.মহব্বত উল্লাহ স্যারের নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগের মাধ্যমে তারা কৃষি কাজে সুফল পাচ্ছেন। এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
একজন সরকারী কর্মকর্তা কাজ করতে চাইলে ানেক কাজ করতে পারে একটি এলাকার উন্নয়ন খুব অল্প সময়ে ঘটাতে পারে। যেটা পারলেন ড. মহব্বত উল্লাহ। তার অধিন এখন ৪ জন কর্মকর্তা, ২ জন প্রকল্প কর্মকর্তা, ৪৮ জন ষ্টাফ ও ১০৩ জন নিয়মিত ও অনিয়মিত শ্রমিক আছে যা দিয়ে তিনি একটি এলাকার উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। সামনে প্রতিবছরই তিনি নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে করে দেশকে দিবেন।আর কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি কফি ও গোল মরিচের জাত উদ্ভাবন করবেন সফর গবেষনা চলছে। পাহাড়ের মাঝে এবং পাহাড়ের উপরে তিনি সেচের যে অচিন্তিনীয় ঘটনা ঘটিয়েছেন তা তুলনাহীন। তিনি এমনভাবে বাধগুলো দিয়েছেন বৃষ্টিতে পানি বেশি হলে সানফ্লাওয়ার পলের মতো পানি বের হয়ে যাবার সুযোগ আছে ওেকবল সারা বছর তার যতটুকু পানি লাগবে কেবরমাত্র সেটুকু পানিই তিনি ধরে রাখেন। ২০০ ফুট ৩০০ ফুট উচু পাহাড়ের উপরে তিনি পানি তুলে নিয়ে এতো সুন্দর সবজী ও ফলমুল করেছেন সত্যি চোখে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে। আগে সরকারী অফিসাররা কেহ এই উপকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যেতে চাইতো না কারন খাগড়াছড়ি পাহাড়ী এলাকা যাওয়াটা অনেক কষ্ট তারপর সেখানে গিয়ে থাকা খাওয়ার অনেক অসুবিধা ছিলো। তাই যেতে চাইতো। ড. মহব্বত এই উপকেন্দ্রেই অফিসারদের পরিদর্শনে গিয়ে রাতে থাকার জন্য সুন্দর রেষ্টরুম করেছেন। পুরো প্রকল্প ঘুরে দেখতে দেখতে তো চোখ জুড়িয়ে যায় আর চলে আসতে মন চায়না। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা জেলায় কৃষি গবেষনার ও কৃষি সম্প্রসারণের অফিস আছে সব অফিসের প্রধান কর্মকর্তারা যদি ড. মহববত উল্লাহর মত এমন হতেন, এমন উদ্যোগ নেন তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে আমাদের খুব কম সময় লাগবে।
























