RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Monday , 3 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

মুরগির রানীক্ষেত (Newcastle Disease) রোগের ইতিহাস

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 3, 2026 12:14 am

কৃষি সাংবাদিক ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষনাধর্মী প্রতিবেদন, “মুরগির রানীক্ষেত (Newcastle Disease) রোগের ইতিহাস”।।

রানীক্ষেত রোগ (Ranikhet Disease) বা নিউক্যাসল ডিজিজ (Newcastle Disease, ND) বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক ভাইরাসজনিত পোল্ট্রি রোগ। এটি মুরগি, কবুতর, হাঁসসহ ২৫০টিরও বেশি প্রজাতির পাখিকে আক্রান্ত করতে পারে। রোগটির কারণ হলো Newcastle Disease Virus (NDV), যা বর্তমানে Avian orthoavulavirus 1 (পূর্বের নাম Avian Paramyxovirus-1) নামে পরিচিত।

রোগটির প্রথম আবিষ্কার

১৯২৬ সালে প্রথমবারের মতো এই রোগের প্রাদুর্ভাব দুটি স্থানে প্রায় একই সময়ে শনাক্ত হয়—

  • জাভা (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) – ডাচ পশুচিকিৎসাবিদ Kraneveld প্রথম রোগটির বর্ণনা দেন।
  • নিউক্যাসল-আপন-টাইন (Newcastle upon Tyne), ইংল্যান্ডDoyle একই ধরনের রোগ শনাক্ত করেন এবং পরবর্তীতে এই শহরের নামানুসারে রোগটির নাম দেন Newcastle Disease

কেন “রানীক্ষেত রোগ” নাম?

১৯২৭ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডের রানীক্ষেত (Ranikhet) অঞ্চলে এই রোগের একটি বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে। এরপর ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে এটি রানীক্ষেত রোগ (Ranikhet Disease) নামে পরিচিত হয়ে যায়। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে এর স্বীকৃত নাম Newcastle Disease (ND)

বিশ্বব্যাপী বিস্তার

রোগটি শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে—

  • ১৯২০-এর শেষ দিকে: ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান ও কোরিয়া।
  • ১৯৩০–১৯৫০: ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকায়।
  • ১৯৬০-এর দশক থেকে: আধুনিক বাণিজ্যিক পোল্ট্রি শিল্পের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
  • বর্তমানে এটি বিশ্বের অধিকাংশ দেশে স্থানীয় (endemic) অথবা সময়ে সময়ে মহামারি আকারে দেখা যায়।

বাংলাদেশে রানীক্ষেত রোগ

বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পোল্ট্রি শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে রানীক্ষেত রোগ অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে—

  • দেশি মুরগি,
  • ব্রয়লার,
  • লেয়ার,
  • সোনালী মুরগি—

সব ধরনের খামারেই এ রোগের ঝুঁকি রয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি চালু হওয়ার আগে অনেক এলাকায় মৃত্যুহার ৮০–১০০% পর্যন্ত পৌঁছাত। বর্তমানে নিয়মিত ভ্যাকসিন ব্যবহারের কারণে ক্ষতি অনেক কমলেও, টিকা না দেওয়া বা বায়োসিকিউরিটি দুর্বল খামারে এখনও বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

ভ্যাকসিনের ইতিহাস

১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে নিউক্যাসল রোগের বিরুদ্ধে প্রথম কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হয়। পরে LaSota, B1, Hitchner B1, Mukteswar, Komarovসহ বিভিন্ন লাইভ ও ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন তৈরি হয়। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ পোল্ট্রি খামারে নিয়মিত নিউক্যাসল রোগের টিকা প্রদান করা হয়, যা রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে স্বীকৃত।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

রানীক্ষেত রোগের কারণে—

  • হঠাৎ ব্যাপক মুরগি মারা যেতে পারে।
  • ডিম উৎপাদন ৩০–৭০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
  • ব্রয়লারের ওজন বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
  • প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী পোল্ট্রি শিল্পে কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।

শেষ কথা

রানীক্ষেত বা নিউক্যাসল রোগ প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিশ্ব পোল্ট্রি শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯২৬ সালে ইন্দোনেশিয়া ও ইংল্যান্ডে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এটি দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯২৭ সালে ভারতের রানীক্ষেতে বড় প্রাদুর্ভাবের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় এটি “রানীক্ষেত রোগ” নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে উন্নত ভ্যাকসিন, কঠোর বায়োসিকিউরিটি এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে রোগটি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও, এটি এখনও বিশ্ব পোল্ট্রি শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাসজনিত রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সর্বশেষ - ছাগল পালন