মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ–নরওয়ে আলোচনা।।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ; গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্ব।।
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও নরওয়ে।
মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন (Håkon Arald Gulbrandsen)। এ সময় দুই দেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাংলাদেশ ও নরওয়ের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ, গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ খাতে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে এ খাতকে আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব।
বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনায় নরওয়ের আগ্রহ
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ও নরওয়ে উভয়ই মনে করে, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে মৎস্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে।
উপস্থিত ছিলেন
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক, মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব বেবী রাণী কর্মকার, রয়্যাল নরওয়েজিয়ান এম্বাসি ঢাকার অর্থনৈতিক বিষয়াবলি ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মুন্তাসির বায়জিদ, অ্যাজাইল রিসোর্সেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কুমরুজ্জামান খান সোহেল এবং গ্যালান্স বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
নতুন সম্ভাবনার দুয়ার
মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নরওয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের বিপুল মৎস্যসম্পদ ও সামুদ্রিক সম্ভাবনা—দুই দেশের সহযোগিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে উঠলে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।





















