RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Thursday , 27 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
   

শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতায়: বাংলাদেশের আরও ১৫টি বৃহৎ পোলট্রি খামার ও হ্যাচারির অজানা ইতিহাস।।

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 24, 2026 12:25 am

শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতায়: বাংলাদেশের আরও ১৫টি বৃহৎ পোলট্রি খামার ও হ্যাচারির অজানা ইতিহাস।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ১০টি পোলট্রি প্রতিষ্ঠান—কাজী ফার্মস গ্রুপ, সিপি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড, প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড, নরিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড, নাহার এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড, আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেড, প্রভিটা ব্রিডার্স অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড, কোয়ালিটি ফিডস ও কোয়ালিটি পোলট্রি ব্রিডার্স, আমান পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড এবং ইনডেক্স পোলট্রি প্রাইভেট লিমিটেড—নিয়ে আমাদের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাঠক ও দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

বিশেষ করে অনেকে জানতে চেয়েছেন, এই ১০টি প্রতিষ্ঠানের পর দেশে আরও কোন কোন উল্লেখযোগ্য পোলট্রি খামার, ব্রিডার ও হ্যাচারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং তাদের ইতিহাস, উৎপাদনক্ষমতা, পণ্য, কর্মসংস্থান, সাফল্য, সংকট ও বর্তমান অবস্থান কী। পাঠক-দর্শকদের সেই আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার ১১ থেকে ২৫ নম্বর পর্যন্ত আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য তুলে ধরা হলো। তবে একই বছরের পূর্ণাঙ্গ ও নিরীক্ষিত তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে এই ক্রমকে সরকারি চূড়ান্ত র‍্যাঙ্কিং নয়, বরং প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি গবেষণামূলক তুলনামূলক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

এই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ব্যক্তিমালিকানাধীন। ফলে একই বছরের কর্মীসংখ্যা, বিক্রয়, মোট সম্পদ, প্যারেন্ট স্টক ও বাচ্চা উৎপাদনের নিরীক্ষিত তথ্য প্রকাশিত নয়। তাই কোনো তথ্য না পাওয়া গেলে অনুমান না করে ‘প্রকাশিত হয়নি’ বলা হয়েছে। ক্রমটি সরকারি র‍্যাঙ্কিং নয়; প্রকাশিত উৎপাদনক্ষমতা, হ্যাচারি, ব্রিডার খামার, ডিম-মাংস, খাদ্য কারখানা এবং বাজারে উপস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি গবেষণামূলক অবস্থান।


১১. এজি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

এজি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ আহসান গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। আহসান গ্রুপের যাত্রা ১৯৮৬ সালে হলেও এজি এগ্রোর পোলট্রি কার্যক্রম আনুমানিক ২০১১ সালে শুরু হয়। গ্রুপের উদ্যোক্তা পরিবারের পূর্ণ শেয়ারবিন্যাস প্রকাশিত নয়। তবে এটি আহসান গ্রুপের মালিকানাধীন এবং বর্তমান পরিচালনা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের অধীনে। উন্নত বাচ্চা, মানসম্মত খাদ্য এবং খামারিদের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে।

এজি এগ্রো ‘এ১ চিকস অ্যান্ড ফিডস’ নামে ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চা, পোলট্রি, মাছ ও গরুর খাদ্য বাজারজাত করে। গাজীপুরের শ্রীপুরে খাদ্য কারখানা; জামালপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও নোয়াখালীতে ছয়টি ব্রিডার খামার এবং গাজীপুর ও নোয়াখালীতে দুটি হ্যাচারি রয়েছে। প্রতিটি ব্রিডার খামারের প্রকাশিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৩২ হাজার পাখি এবং দুই হ্যাচারির সম্মিলিত বাচ্চা উৎপাদনক্ষমতা সপ্তাহে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। খাদ্য উৎপাদনক্ষমতা মাসে প্রায় ৩০ হাজার টন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এজি এগ্রোর প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য

রোগমুক্ত প্যারেন্ট স্টক ব্যবস্থাপনা, আমদানিনির্ভর কাঁচামাল, বাচ্চার মূল্যপতন, জীবাণু-নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানির ব্যয় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান চ্যালেঞ্জ। আহসান গ্রুপের প্রকাশিত তথ্যে পুরো গ্রুপে ৭০০-এর বেশি কর্মীর উল্লেখ থাকলেও শুধু এজি এগ্রোর সংখ্যা, বার্ষিক বিক্রয় ও মোট সম্পদ প্রকাশিত হয়নি।

কেন ১১তম: ছয়টি ব্রিডার খামার, দুটি হ্যাচারি ও বড় খাদ্য কারখানার সমন্বিত সক্ষমতার কারণে এটিকে ১১তম স্থানে রাখা হয়েছে।


১২. প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পোলট্রি বিভাগ

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল আমজাদ খান চৌধুরী। গ্রুপটি ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করলেও বৃহৎ বাণিজ্যিক পোলট্রি কার্যক্রমে পরে প্রবেশ করে। বর্তমানে গ্রুপটির নেতৃত্বে রয়েছেন আহসান খান চৌধুরী। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ডিম, মুরগির মাংস ও সমন্বিত পোলট্রি উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ খাতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে প্রাণের স্বয়ংক্রিয় লেয়ার খামার রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খামারটি দৈনিক প্রায় পাঁচ লাখ ডিম উৎপাদন করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি নোয়াখালী, শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে চারটি অত্যাধুনিক ডিমের খামার নির্মাণ করে দৈনিক আরও ২০ লাখ ডিম উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি ব্রিডার খামার, ব্রয়লার পালন ও মুরগির মাংস উৎপাদনে বিনিয়োগের উদ্যোগ রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে পোলট্রি খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাণের পোলট্রি বিনিয়োগ

গ্রুপটির মোট কর্মীসংখ্যা লক্ষাধিক বলে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যে উল্লেখ থাকলেও পোলট্রি বিভাগের পৃথক সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। নতুন প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পোলট্রি বিভাগের পৃথক টার্নওভার ও সম্পদও অপ্রকাশিত।

কেন ১২তম: ডিম উৎপাদন ও বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত বড়; কিন্তু নিজস্ব ব্রিডার, হ্যাচারি ও বাচ্চা উৎপাদনের পূর্ণ সক্ষমতা এখনো নির্মাণ ও সম্প্রসারণ পর্যায়ে থাকায় ১২তম স্থানে রাখা হয়েছে।


১৩. ডায়মন্ড এগ লিমিটেড ও প্রোটিন হাউস

ডায়মন্ড এগ লিমিটেড ২০১২ সালে বৃহৎ বাণিজ্যিক লেয়ার খামারে প্রবেশ করে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়সার আহমেদ। দেশের ক্রমবর্ধমান ডিমের চাহিদা পূরণ, আধুনিক পরিবেশ-নিয়ন্ত্রিত খামারে সারা বছর উৎপাদন ধরে রাখা এবং ভোক্তাদের বাছাই ও মোড়কজাত ডিম সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।

প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক ডিম উৎপাদন ছিল প্রায় তিন লাখ। পরবর্তী সময়ে তা প্রায় ১৫ লাখ ডিমে উন্নীত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ডায়মন্ড এগ ও সংশ্লিষ্ট প্রোটিন হাউসের সম্মিলিত উৎপাদন একসময় দৈনিক প্রায় ১৮ লাখ ডিম ছিল বলেও সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য খাবার ডিম, বাছাই করা ও মোড়কজাত ডিম এবং পোলট্রিসংশ্লিষ্ট কিছু পণ্য। ঢাকায় প্রধান কার্যালয় থাকলেও উৎপাদন খামার ও বিপণনব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বড় শহর ও খুচরা বাজারে পণ্য সরবরাহ করা হয়। ডায়মন্ড এগের উৎপাদন

প্রকাশিত পেশাগত তথ্যে কর্মীসংখ্যা ৫১–২০০-এর মধ্যে দেখানো হলেও এটি পূর্ণ খামারশ্রমিকসহ নিরীক্ষিত সংখ্যা নয়। বার্ষিক বিক্রয়, জমি, ভবন, পাখি ও মোট সম্পদের আর্থিক মূল্য প্রকাশিত হয়নি। ডিমের দরপতন, খাদ্যমূল্য, রোগ, গরমে উৎপাদন হ্রাস এবং বাজার নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিযোগিতা কমিশনের জরিমানাও মোকাবিলা করতে হয়েছে।

কেন ১৩তম: ডিম উৎপাদনে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান; কিন্তু নিজস্ব হ্যাচারি, ব্রিডার ও খাদ্য উৎপাদনের প্রকাশিত ব্যাপ্তি তুলনামূলক সীমিত হওয়ায় ১৩তম।


১৪. ফিনিক্স পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি

ফিনিক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সামিউল আহসান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৪ সালে যাত্রা শুরু করে এবং বাংলাদেশের পুরোনো আধুনিক পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। পরবর্তী সময়ে তাঁর ছেলে রফিউল আহসান গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব নেন। দেশের প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি কমানো, উন্নত জাতের মুরগি ও বাচ্চা উৎপাদন এবং আধুনিক পোলট্রি প্রযুক্তি চালু করাই ছিল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

গ্রুপের অধীনে ফিনিক্স পোলট্রি, ফিনিক্স হ্যাচারি ও ফিনিক্স ফিড মিলসসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানের কথা নিজস্ব ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। কার্যক্রমের মধ্যে মুরগির খামার, বাচ্চা, খাবার ডিম, পশুখাদ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য, মাছচাষ, কৃষি, ওষুধ ও জৈবশক্তি রয়েছে। ঢাকায় প্রধান ও করপোরেট কার্যালয় থাকলেও উৎপাদনকেন্দ্রের হালনাগাদ জেলা ও সক্ষমতার পূর্ণ তালিকা পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পুরোনো তথ্যে প্রায় ৯০০ স্থায়ী কর্মী ও ১,২০০ দৈনিক শ্রমিক এবং গ্রুপের বার্ষিক বিক্রয় ১৪৫.৫০ মিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছে। তবে তথ্যটি কোন অর্থবছরের এবং স্বাধীনভাবে নিরীক্ষিত কি না স্পষ্ট নয়; তাই বর্তমান টার্নওভার হিসেবে ব্যবহার করা নিরাপদ হবে না। একইভাবে মোট সম্পদও প্রকাশিত নয়। ফিনিক্স গ্রুপ

বার্ড ফ্লু, পুরোনো অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, নতুন প্রতিযোগী, খাদ্যের দাম এবং প্রজন্মান্তরের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটির বড় চ্যালেঞ্জ।

কেন ১৪তম: ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি হলেও বর্তমান উৎপাদন ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাবে ১৪তম স্থানে রাখা হয়েছে।


১৫. আফিল এগ্রো ও আফিল ফিড মিলস

আফিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শেখ আফিল উদ্দিন। গ্রুপটির আধুনিক যাত্রা ২০০৩ সালে শুরু হয়। পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদের পাশাপাশি কাগজ, মোড়ক, পাট, চামড়া, জ্বালানি ও অন্যান্য শিল্পে গ্রুপটির বিনিয়োগ রয়েছে। যশোর অঞ্চলে বড় আকারের আধুনিক মুরগির খামার গড়ে নিরাপদ ডিম-মাংস উৎপাদন, স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিজস্ব খাদ্যের মাধ্যমে উৎপাদনব্যয় নিয়ন্ত্রণ ছিল পোলট্রি উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

আফিল এগ্রোর প্রকাশিত তথ্যে ১৭টি লেয়ার শেডে প্রায় ছয় লাখ মুরগি এবং দৈনিক তিন লাখের বেশি ডিম উৎপাদনের উল্লেখ রয়েছে। ব্রয়লার বিভাগে ৪৭টি শেডে প্রায় সাড়ে আট লাখ মুরগি ধারণক্ষমতা এবং দৈনিক প্রায় ৪০ টন মুরগির মাংস উৎপাদনের দাবি করা হয়েছে। নিজস্ব ব্রিডার খামার, হ্যাচারি ও খাদ্য কারখানাও রয়েছে। প্রধান উৎপাদনভিত্তি যশোর অঞ্চলে হলেও বিক্রয় ও পরিবেশক নেটওয়ার্ক দেশের অন্যান্য এলাকায় বিস্তৃত।

আফিল গ্রুপের নিজস্ব তথ্যে পুরো গ্রুপে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। তবে শুধু পোলট্রি বিভাগের কর্মী, বার্ষিক বিক্রয় ও সম্পদের পৃথক হিসাব প্রকাশিত হয়নি। আফিল গ্রুপ

রোগ নিয়ন্ত্রণ, বড় পাখির সংখ্যা ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যশস্যের দাম এবং ডিম-মাংসের দরপতন বড় চ্যালেঞ্জ।

কেন ১৫তম: ডিম ও মাংস উৎপাদনে বড় হলেও হ্যাচারি ও বাচ্চা উৎপাদনের হালনাগাদ তুলনাযোগ্য তথ্য সীমিত। এ কারণে ফিনিক্সের পর ১৫তম স্থানে রাখা হয়েছে।


১৬. রেনাটা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

রেনাটা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী রেনাটা লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। রেনাটার পূর্বসূরি ফাইজার বাংলাদেশের কার্যক্রম ১৯৭২ সালে শুরু হলেও রেনাটা এগ্রোর আলাদা প্রতিষ্ঠাবর্ষের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কোনো একক ব্যক্তির নয়; তালিকাভুক্ত রেনাটা লিমিটেড ও তার শেয়ারধারীদের অধীন পরিচালিত।

উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ব্যবহার করে বাণিজ্যিক বাচ্চা, ব্রয়লার এবং বিশেষ গুণসম্পন্ন খাবার ডিম উৎপাদন ছিল উদ্যোগটির উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানটি একদিন বয়সী বাণিজ্যিক বাচ্চা ও ব্রয়লার উৎপাদনের পাশাপাশি ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ডিম উৎপাদন করেছে। এসব ডিম রেনাটার সহযোগী ভোক্তাপণ্য প্রতিষ্ঠান পূর্ণভার মাধ্যমে বাজারজাত হয়েছে। রেনাটা এগ্রো

কোম্পানির খামার, হ্যাচারি, কর্মীসংখ্যা, উৎপাদনক্ষমতা, বিক্রয় ও সম্পদের পৃথক হালনাগাদ তথ্য জনসমক্ষে নেই। রেনাটা লিমিটেডের সামগ্রিক আর্থিক প্রতিবেদন থাকলেও সেটিকে রেনাটা এগ্রোর টার্নওভার বলা যাবে না। প্রতিষ্ঠানটিকে প্রচলিত সস্তা ডিমের বাজারে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ প্রিমিয়াম ডিমের ক্রেতা তৈরি, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডিমের গুণমান প্রমাণের চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। বৃহৎ ওষুধ কোম্পানির মূল ব্যবসার তুলনায় কৃষিবিভাগের অগ্রাধিকার ধরে রাখাও একটি ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ।

কেন ১৬তম: প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বিশেষায়িত পণ্যে এগিয়ে থাকলেও বর্তমান পোলট্রি উৎপাদনের পরিসংখ্যান অপ্রকাশিত হওয়ায় ১৬তম স্থানে রাখা হয়েছে।


১৭. ফ্রেশওয়ে পোলট্রি গ্রুপ

ফ্রেশওয়ে বাংলাদেশে ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করে; এর কৃষিপ্রযুক্তিভিত্তিক নতুন কার্যক্রম ২০২৩ সালের দিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। প্রকাশিত পেশাগত তথ্যে এবিএম ওবায়দুল্লাহকে সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপদ মুরগি উৎপাদন, ক্ষুদ্র খামারিদের অর্থায়ন এবং খাদ্য থেকে ভোক্তা পর্যন্ত অনুসরণযোগ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

ফ্রেশওয়ের পাঁচটি সংযুক্ত কার্যক্রম হলো—নিজস্ব পোলট্রি খাদ্য, সোনালি প্যারেন্ট স্টক খামার, জীবাণু-নিরাপদ হ্যাচারি, ‘ফার্মওয়াইজ’ চুক্তিভিত্তিক খামার এবং ‘প্রোটিন বাডি’ নিরাপদ মাংস-ডিম বিপণন। প্রধান খামার জয়পুরহাটের তেঘর বিশায় এবং শিল্প ইউনিট জয়পুরহাট বিসিক শিল্পনগরীতে। চুক্তিভিত্তিক খামার উত্তরাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। ফ্রেশওয়ে

প্রকাশিত পেশাগত প্ল্যাটফর্মে কর্মীসংখ্যা ২০১–৫০০ শ্রেণিতে দেখানো হলেও অন্য উৎসে ভিন্ন সংখ্যা পাওয়া যায়। ফলে নিরীক্ষিত সংখ্যা নিশ্চিত নয়। বার্ষিক বিক্রয়, বিনিয়োগ, জমি, ভবন ও সম্পদের আর্থিক হিসাব প্রকাশিত হয়নি। নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাজারের আস্থা অর্জন, অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশমুক্ত উৎপাদন প্রমাণ, ক্ষুদ্র খামারিকে অর্থায়ন, নিরাপদ ক্রয় নিশ্চয়তা এবং সাধারণ মুরগির সঙ্গে দামের প্রতিযোগিতা বড় চ্যালেঞ্জ।

কেন ১৭তম: আধুনিক সমন্বিত ব্যবসায়িক মডেল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়; তবে প্রতিষ্ঠানের বয়স কম এবং প্রকাশিত উৎপাদনক্ষমতা সীমিত হওয়ায় ১৭তম স্থানে রাখা হয়েছে।


১৮. সানি ব্রিডার্স লিমিটেড

সানি ব্রিডার্স লিমিটেড সানি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পোলট্রি প্রতিষ্ঠান। এর সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাবর্ষ, প্রতিষ্ঠাতা ও শেয়ারধারীদের নাম নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশিত হয়নি। ফলে মালিকের নাম অনুমান করা ঠিক হবে না। প্রতিষ্ঠানটি উন্নত প্যারেন্ট স্টক ব্যবস্থাপনা, আধুনিক হ্যাচারিতে স্বাস্থ্যবান একদিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন এবং খামারিদের নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে।

সানি ব্রিডার্সের প্রধান কারখানা ও উৎপাদনকেন্দ্র ময়মনসিংহের ভালুকার কাঠালীতে। ঢাকার বনানীতে করপোরেট কার্যালয় এবং খুলনায় বিক্রয় কার্যালয় রয়েছে। সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সানি ফিডস, শওকত ফিড মিলস ও সুলতানা এগ্রো কমপ্লেক্স রয়েছে। ফলে বাচ্চা, পোলট্রি খাদ্য, প্রাণিখাদ্য এবং কৃষিসহায়তা—একই ব্যবস্থার মধ্যে দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। সানি ব্রিডার্স

প্রতিষ্ঠানটি প্যারেন্ট স্টক থেকে হ্যাচিং ডিম, একদিন বয়সী বাচ্চা এবং পোলট্রি খাদ্য উৎপাদন করে। কিন্তু প্যারেন্ট স্টকের সংখ্যা, সাপ্তাহিক বাচ্চা উৎপাদন, কর্মীসংখ্যা, বার্ষিক বিক্রয় ও মোট সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। জীবাণু-নিরাপত্তা বজায় রাখা, বাচ্চার সমান ওজন ও মান নিশ্চিত করা, হ্যাচিং ডিমের উর্বরতা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাজারে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা প্রধান চ্যালেঞ্জ।

কেন ১৮তম: ব্রিডার, হ্যাচারি ও খাদ্যের সমন্বিত কাঠামো থাকলেও উৎপাদনের পরিমাণ ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা কম। এ জন্য ১৮তম স্থানে রাখা হয়েছে।


১৯. পিপলস পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড

পিপলস পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি বাংলাদেশের পুরোনো পরিচিত বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুবুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাবর্ষ এবং মালিকানার পূর্ণ ইতিহাস সহজলভ্য সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উৎসে পাওয়া যায়নি।

দেশীয় খামারিদের জন্য মানসম্মত প্যারেন্ট স্টক, হ্যাচিং ডিম ও একদিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন এবং বাচ্চা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো ছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য। ঢাকার মগবাজারে এর করপোরেট যোগাযোগের ঠিকানা পাওয়া যায়; তবে উৎপাদন খামার ও হ্যাচারির বর্তমান অবস্থান, সংখ্যা ও সক্ষমতার পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত নয়। এফবিসিসিআই সদস্য পরিচিতি

প্রতিষ্ঠানের প্রধান পণ্য একদিন বয়সী বাচ্চা ও পোলট্রি প্রজননসংশ্লিষ্ট উপকরণ। কর্মীসংখ্যা, সাপ্তাহিক উৎপাদন, বার্ষিক বিক্রয়, জমি, ভবন, যন্ত্রপাতি এবং মোট সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। বাংলাদেশের বাচ্চার বাজারে বড় প্রতিষ্ঠানের মূল্যপ্রতিযোগিতা, অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় বাচ্চার দরপতন, প্যারেন্ট স্টকের রোগ, হ্যাচারি বিদ্যুৎব্যবস্থা ও খামারিদের চাহিদার মৌসুমি পরিবর্তন মোকাবিলা করতে হয়েছে।

কেন ১৯তম: দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনে নেতৃত্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান উৎপাদন ও আর্থিক তথ্য অপ্রকাশিত থাকায় ১৯তম স্থানে রাখা হয়েছে।


২০. কুইক চিকস লিমিটেড

কুইক চিকস আগে এগস অ্যান্ড হেনস নামে পরিচিত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাবর্ষ, প্রতিষ্ঠাতা ও মালিকানার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত নয়। এটি জয়পুরহাটকেন্দ্রিক পোলট্রি খামার ও হ্যাচারি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সদ্য ফোটা বাচ্চার মৃত্যুহার কমানো, দ্রুত খাদ্য-পানি দেওয়া এবং ক্ষুদ্র হ্যাচারিগুলোকে প্রদর্শনমূলক প্রযুক্তি সরবরাহ করা এর কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে কুইক চিকস, রয়্যাল পাস রিফর্ম ও পোলট্রিটেক বাংলাদেশের সহযোগিতায় দেশের প্রথম দিককার ‘স্মার্টস্টার্ট’ প্রদর্শনী হ্যাচারি স্থাপন করা হয়। এতে ডিম থেকে বের হওয়ার পর বাচ্চা দ্রুত খাদ্য, পানি ও আলো পায়। ফলে পরিবহন-পূর্ব দুর্বলতা ও পানিশূন্যতা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। কুইক চিকসের প্রযুক্তি প্রকল্প

প্রতিষ্ঠানের প্রধান পণ্য একদিন বয়সী বাচ্চা এবং হ্যাচারিসংক্রান্ত প্রযুক্তিসেবা। তবে প্যারেন্ট স্টকের সংখ্যা, হ্যাচারি উৎপাদনক্ষমতা, কর্মী, বার্ষিক বিক্রয় ও সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। নতুন প্রযুক্তির ব্যয়, দক্ষ অপারেটর তৈরি, খামারিদের প্রযুক্তির সুবিধা বোঝানো, বিদ্যুৎ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বাচ্চার মূল্যপতন বড় চ্যালেঞ্জ।

কেন ২০তম: আকারের চেয়ে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন ও আর্থিক তথ্য সীমিত হওয়ায় ২০তম স্থান দেওয়া হয়েছে।


২১. প্ল্যানেট এগ্রো লিমিটেড

প্ল্যানেট গ্রুপ ২০১০ সালে ব্যবসা শুরু করে এবং প্ল্যানেট এগ্রোর পোলট্রি কার্যক্রম ২০১৫ সালে চালু হয়। প্রতিষ্ঠাতা ও মালিকানার ব্যক্তিনাম প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত পরিচিতিতে স্পষ্ট নয়। প্রাণিস্বাস্থ্য পণ্য ও খাদ্যসংযোজনীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত মানের ব্রয়লার ও রঙিন মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

প্রতিষ্ঠানটির সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার রাগঞ্জে দুটি ব্রিডার খামার ও একটি হ্যাচারি রয়েছে। প্যারেন্ট স্টক থেকে উৎপাদিত ডিম নিজস্ব হ্যাচারিতে নিয়ে একদিন বয়সী বাচ্চা তৈরি করা হয়। পণ্যগুলোর মধ্যে ব্রয়লার বাচ্চা, রঙিন প্রিমিয়াম পাখির বাচ্চা এবং ‘দেশি প্লাস’ ধরনের রঙিন বাচ্চা রয়েছে। ঢাকার বনানীতে প্রধান কার্যালয় এবং পরিবেশক-খামারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে বিপণন করা হয়। প্ল্যানেট এগ্রো

প্রতিষ্ঠানটির প্যারেন্ট স্টকের সংখ্যা, সাপ্তাহিক বাচ্চা উৎপাদন, কর্মী, বার্ষিক বিক্রয় এবং মোট সম্পদের মূল্য প্রকাশিত হয়নি। প্ল্যানেট এগ্রোকে বাজারে ব্রয়লার বাচ্চার বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, রঙিন মুরগির জাতের ধারাবাহিক মান, প্যারেন্ট স্টক আমদানি, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং দূরবর্তী এলাকায় জীবিত বাচ্চা নিরাপদে পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে।

কেন ২১তম: দুটি ব্রিডার খামার ও নিজস্ব হ্যাচারি থাকা গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু উৎপাদনের আকার ও আর্থিক তথ্য অপ্রকাশিত হওয়ায় ২১তম স্থানে রাখা হয়েছে।


২২. বে এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

বে এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশে প্যারেন্ট স্টক ও হ্যাচারি খাতে পরিচিত পুরোনো প্রতিষ্ঠান। এটি বে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন শিল্পগবেষণা ও ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের নথিতে পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠাবর্ষ, মূল উদ্যোক্তা ও বর্তমান শেয়ারধারীদের নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য সহজলভ্য নয়।

প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক খামারিদের জন্য উন্নত প্যারেন্ট স্টক, হ্যাচিং ডিম এবং একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা সরবরাহের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো করপোরেট ঠিকানা পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান খামার, হ্যাচারি, জেলা, প্যারেন্ট স্টক ও সাপ্তাহিক উৎপাদনক্ষমতার হালনাগাদ তালিকা প্রকাশিত হয়নি।

বে এগ্রোর প্রধান পণ্য একদিন বয়সী ব্রয়লার বা লেয়ার বাচ্চা এবং পোলট্রি প্রজননসংশ্লিষ্ট পণ্য। বর্তমান কর্মীসংখ্যা, বার্ষিক বিক্রয়, মোট সম্পদ, জমি ও যন্ত্রপাতির আর্থিক মূল্য পাওয়া যায়নি। বার্ড ফ্লু, প্যারেন্ট স্টক আমদানির ব্যয়, ডলার সংকট, হ্যাচিং ডিমের উর্বরতা, বড় প্রতিষ্ঠানের মূল্যপ্রতিযোগিতা এবং অস্বাভাবিক বাচ্চার দরপতন প্রতিষ্ঠানটির মতো মাঝারি হ্যাচারির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

কেন ২২তম: দীর্ঘদিনের শিল্পপরিচিতি ও ব্রিডার-হ্যাচারি কার্যক্রমের কারণে তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান উৎপাদন সক্রিয়তা ও আর্থিক তথ্য পর্যাপ্তভাবে যাচাইযোগ্য না হওয়ায় ২২তম অবস্থান দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের যাচাই হলে অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।


২৩. ইউনিভার্সাল পোলট্রি হ্যাচারিজ লিমিটেড

ইউনিভার্সাল পোলট্রি হ্যাচারিজ ঝিনাইদহকেন্দ্রিক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যারেন্ট স্টক ও হ্যাচারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাবর্ষ, প্রতিষ্ঠাতা এবং মালিকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত উৎসে পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামারিদের একদিন বয়সী বাচ্চা সরবরাহ এবং ঢাকাকেন্দ্রিক সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে বলে কার্যক্রম থেকে বোঝা যায়।

২০২৫ সালের বাজারসংকটের সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় ৭০ হাজার প্যারেন্ট স্টক ছিল। লোকসানের কারণে কোরবানির ঈদের আগে প্রায় ২০ হাজার প্যারেন্ট স্টক ওজন হিসেবে বিক্রি করার পর প্রায় ৫০ হাজার অবশিষ্ট ছিল। প্রতিষ্ঠানটি সপ্তাহে প্রায় ১৮ লাখ টাকা লোকসানের কথা জানিয়েছিল। এই তথ্য প্রতিষ্ঠানটির একসময়কার উল্লেখযোগ্য উৎপাদনভিত্তির ইঙ্গিত দেয়। হ্যাচারির বাজারসংকট

প্রধান পণ্য ব্রয়লার বা লেয়ার একদিন বয়সী বাচ্চা ও হ্যাচিং ডিম। বর্তমান কর্মীসংখ্যা, স্বাভাবিক সাপ্তাহিক উৎপাদন, বার্ষিক বিক্রয় ও মোট সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অতিরিক্ত উৎপাদনে বাচ্চার দাম ৫–৮ টাকায় নেমে যাওয়া, অথচ প্যারেন্ট স্টকের খাদ্য, শ্রম, বিদ্যুৎ ও ওষুধের খরচ চালিয়ে যাওয়া।

কেন ২৩তম: প্যারেন্ট স্টকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যা থাকলেও আর্থিক সংকট ও উৎপাদন কমানোর কারণে ২৩তম স্থানে রাখা হয়েছে।


২৪. সানরাইজ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড

সানরাইজ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি এসএস ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠাবর্ষ এবং উদ্যোক্তার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশিত প্রাতিষ্ঠানিক পাতায় পাওয়া যায়নি। খাদ্য, প্যারেন্ট স্টক ও বাচ্চা একই ব্যবস্থাপনায় রেখে মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের খামারিদের উন্নত মানের বাচ্চা সরবরাহ করাই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

নাটোরের হুগোলবাড়িয়া, সুগার মিল রোডে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনকেন্দ্র। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এতে ৩০ হাজারের বেশি প্যারেন্ট স্টক ধারণক্ষমতা রয়েছে। পরিবেশ-নিয়ন্ত্রিত খামার, ডিম বাছাই, জীবাণুমুক্তকরণ, স্বয়ংক্রিয় ইনকিউবেটর, বাচ্চা বাছাই, প্রাথমিক টিকা এবং জীবাণু-নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। পণ্য হচ্ছে ব্রয়লার ও লেয়ার একদিন বয়সী বাচ্চা; এসএস ফিডের মাধ্যমে খাদ্য ও কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হয়। সানরাইজ হ্যাচারি

কর্মীসংখ্যা, সাপ্তাহিক বাচ্চা উৎপাদন, বার্ষিক বিক্রয়, জমি-ভবন ও মোট সম্পদের মূল্য প্রকাশিত হয়নি। ছোট ও মাঝারি খামারির কাছে বাচ্চার মান ধরে রাখা, প্রথম সপ্তাহের মৃত্যুহার কমানো, প্যারেন্ট স্টক রোগমুক্ত রাখা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বড় হ্যাচারির সঙ্গে মূল্যপ্রতিযোগিতা প্রধান চ্যালেঞ্জ।

কেন ২৪তম: প্রকাশিত প্যারেন্ট স্টক ও আধুনিক হ্যাচারি কাঠামো প্রতিষ্ঠানটিকে গুরুত্বপূর্ণ করেছে। কিন্তু উৎপাদন ও আর্থিক তথ্য সীমিত হওয়ায় ২৪তম স্থানে রাখা হয়েছে।


২৫. অরবিট বিডি পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি

অরবিট বিডি রাজবাড়ীকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত কৃষি ও পোলট্রি প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সাল থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান বা মালিকের নাম প্রকাশিত ওয়েবসাইটে স্পষ্ট নয়। প্যারেন্ট স্টক, হ্যাচারি, খাদ্য এবং লেয়ার খামারকে একই ব্যবস্থাপনায় এনে স্থানীয় খামারিদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ছিল এর উদ্দেশ্য।

রাজবাড়ীর কুষ্টিয়া সড়কের ভবানীপুরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যক্রম। এর ব্যবসায়িক ইউনিটের মধ্যে ব্রিডার খামার, হ্যাচারি, খাদ্য কারখানা ও লেয়ার খামার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একদিন বয়সী বাচ্চা, পোলট্রি খাদ্য এবং খাবার ডিম উৎপাদনের দাবি করে। তবে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত কয়েকটি সংখ্যা অস্পষ্ট ও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ; তাই সেগুলো গবেষণায় ব্যবহার করা হয়নি। অরবিট বিডি

কর্মীসংখ্যা, প্যারেন্ট স্টক, হ্যাচারি উৎপাদনক্ষমতা, বার্ষিক বিক্রয় এবং জমি-ভবনসহ মোট সম্পদের যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। মাঝারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুঁজির সীমাবদ্ধতা, জীবাণু-নিরাপত্তা, মানসম্মত প্যারেন্ট স্টক, খাদ্যের মূল্য, বাজারে পরিচিতি এবং দেশব্যাপী পরিবেশক গড়ে তোলা প্রধান চ্যালেঞ্জ।

কেন ২৫তম: ব্রিডার, হ্যাচারি, খাদ্য ও লেয়ার—চারটি ইউনিট থাকায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের তথ্যস্বচ্ছতা ও যাচাইযোগ্য উৎপাদনসংখ্যা সবচেয়ে সীমিত হওয়ায় ২৫তম স্থান দেওয়া হয়েছে।


এই ১৫ প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নতুন উদ্যোক্তাকে যে স্বপ্ন দেখায়

এই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস নতুন উদ্যোক্তাকে শেখায়—পোলট্রি খাতে সফল হওয়ার জন্য শুরুতেই লাখ লাখ মুরগি, বিশাল হ্যাচারি কিংবা শতকোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন একটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তার টেকসই সমাধান তৈরি করা।

কেউ উন্নত বাচ্চা উৎপাদনের মাধ্যমে এগিয়েছে, কেউ খাবার ডিমে, কেউ নিরাপদ মাংসে, আবার কেউ খাদ্য, চুক্তিভিত্তিক খামার কিংবা প্রযুক্তিতে নিজের জায়গা তৈরি করেছে। প্রাণ দেখিয়েছে—অন্য কৃষিব্যবসার শক্তিশালী বিপণনব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে পোলট্রিতে প্রবেশ করা যায়। ডায়মন্ড এগ প্রমাণ করেছে, শুধু ডিম উৎপাদনেও বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। ফ্রেশওয়ে দেখাচ্ছে, ক্ষুদ্র খামারিকে অর্থায়ন, উন্নত বাচ্চা, খাদ্য ও ক্রয় নিশ্চয়তার মধ্যে যুক্ত করে নতুন ধরনের ব্যবসা তৈরি সম্ভব। কুইক চিকস দেখিয়েছে, ছোট একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও পুরো হ্যাচারি ব্যবস্থার মান বাড়াতে পারে।

তবে এসব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা শুধু সাফল্য নয়—সতর্কতা। ইউনিভার্সাল হ্যাচারির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, উৎপাদন বেশি হলেই লাভ নিশ্চিত হয় না। বাজারে বাচ্চার দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে গেলে বড় প্যারেন্ট স্টকও বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ফিনিক্সের ইতিহাস শেখায়, পুরোনো সুনাম ধরে রাখতে নিয়মিত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে হয়।

একজন নতুন উদ্যোক্তা ৫০০ মুরগির জীবাণু-নিরাপদ খামার, স্থানীয় ডিম সংগ্রহ ও মোড়কজাতকরণ, অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশমুক্ত মাংস, মুরগির বিষ্ঠা থেকে জৈব সার, খামারের তথ্য সংরক্ষণ কিংবা ক্ষুদ্র খামারিদের কারিগরি সহায়তা দিয়ে শুরু করতে পারেন। শুরুতেই সবকিছু নিজে করার প্রয়োজন নেই। বিশ্বাসযোগ্য হ্যাচারি, খাদ্য সরবরাহকারী, প্রাণিচিকিৎসক ও নিশ্চিত ক্রেতার সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই বেশি নিরাপদ।

বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখুন, কিন্তু ছোট পরিসরে তথ্যভিত্তিক পরীক্ষা দিয়ে শুরু করুন। ঋণের আগে বাজার, শেডের আগে জীবাণু-নিরাপত্তা এবং মুরগি কেনার আগে ক্রেতা নিশ্চিত করুন। আজকের পরিকল্পিত ৫০০ মুরগির খামারই একদিন বাংলাদেশের নতুন সমন্বিত পোলট্রি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।

সংক্ষিপ্ত তথ্যসূত্র

এজি এগ্রো, প্রাণ-আরএফএল, ডায়মন্ড এগ, ফিনিক্স গ্রুপ, আফিল গ্রুপ, রেনাটা এগ্রো, ফ্রেশওয়ে, সানি ব্রিডার্স, পিপলস পোলট্রি, কুইক চিকস, প্ল্যানেট এগ্রো, বে এগ্রো, ইউনিভার্সাল পোলট্রি হ্যাচারিজ, সানরাইজ হ্যাচারি ও অরবিট বিডির প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য; এফবিসিসিআই, The Daily Star, The Business Standard এবং PoultryTechBangladesh-এর শিল্প ও সংবাদ প্রতিবেদন।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

কৃষিকে আধুনিক করতে সহযোগিতা করবে ইউএস এআইডি

থাই পুটি মাছ চাষের মাস্টার গাইড ।পর্ব–৩ (২ মাস থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত খাদ্য, পানির গুণাগুণ, অ্যারেশন ও পুকুরের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা । )

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনে জয়ী হলেন যারা

পৃথিবীতে রুই-কাতলা মাছ চাষের ইতিহাস

আগামীতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে//মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

Why how to do land registration: Part 6/9

কেন কিভাবে করবেন জমি রেজিস্ট্রেশন: পর্ব-৬/৯

কৃষি সাংবাদিক ড. বায়েজিদ মোড়ল

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে জানুয়ারিতে সচেতনামূলক কর্মসূচি শুরু-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

মুরগির ফিড গরুকে খাওয়ালে কি হয়…

বনসাই শিল্পী লায়লার স্বপ্ন : শহরে থেকে গ্রাম ছোঁয়া