RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Thursday , 27 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও আলোচিত ১০টি সামরিক কুকুর প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র।।

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 24, 2026 5:51 pm

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও আলোচিত ১০টি সামরিক কুকুর প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

সামরিক বাহিনী সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘কুকুরের খামার’ বলে না। এগুলো সামরিক কর্মক্ষম কুকুর প্রজনন, নির্বাচন, প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাকেন্দ্র। নিরাপত্তা ও সামরিক গোপনীয়তার কারণে অধিকাংশ দেশ বর্তমানে কত কুকুর পালন বা প্রশিক্ষণ দেয়, কত অর্থ ব্যয় করে কিংবা কোথা থেকে কুকুর সংগ্রহ করে—তার পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে না।

তাই নিচের ক্রমটি শুধু কুকুরের সংখ্যা বা জমির আয়তনের কঠোর আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং নয়। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, প্রশিক্ষণের পরিসর, নিজস্ব প্রজনন ব্যবস্থা, সামরিক গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য তথ্য বিবেচনায় তালিকাটি সাজানো হয়েছে।


১. ৩৪১তম প্রশিক্ষণ স্কোয়াড্রন—ল্যাকল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত জয়েন্ট বেস সান আন্তোনিও–ল্যাকল্যান্ডের ৩৪১তম প্রশিক্ষণ স্কোয়াড্রন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সুসংগঠিত সামরিক কুকুর প্রশিক্ষণব্যবস্থাগুলোর অন্যতম। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক কর্মক্ষম কুকুর কর্মসূচির কেন্দ্র। বিমানবাহিনী পরিচালনা করলেও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, মেরিন কোরসহ প্রতিরক্ষা বিভাগের বিভিন্ন শাখার কুকুর ও প্রশিক্ষকের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ এখানে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যমতে, কেন্দ্রটি প্রতিবছর প্রায় ৩০০টি কুকুর এবং ৬০০ জনের বেশি প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে। একই সময়ে প্রায় ৮০০ কুকুর কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধানে থাকতে পারে। এখানে নিজস্ব প্রজনন কর্মসূচি, বাইরে থেকে উপযুক্ত কুকুর কেনা, আচরণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা, গবেষণা, পরিবহন এবং অবসর-পরবর্তী দত্তক—সবই একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হয়।

নিজস্ব প্রজনন কর্মসূচিতে জন্মানো শাবককে প্রথমে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। পরে নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের কাছে কয়েক মাসের জন্য দেওয়া হয়, যাতে শাবক মানুষের সংসার, যানবাহন, শব্দ, ভিড় ও বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। প্রায় এক বছর বয়সে স্বাস্থ্য, সাহস, অনুসন্ধানের আগ্রহ, খেলনা বা পুরস্কারের প্রতি আকর্ষণ, গুলির শব্দ সহ্য করার ক্ষমতা এবং আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

উত্তীর্ণ কুকুর সাধারণত টহল ও বিস্ফোরক শনাক্তকরণ অথবা টহল ও মাদক শনাক্তকরণের দ্বৈত কাজে প্রশিক্ষণ পায়। বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া, জার্মান শেফার্ড, ডাচ শেফার্ড ও ল্যাব্রাডর এখানে বেশি দেখা যায়। প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক নির্বাচন, প্রশিক্ষক শিক্ষা এবং পূর্ণাঙ্গ পশুচিকিৎসার সমন্বয়ের কারণেই ল্যাকল্যান্ডকে বিশ্বের সামরিক কুকুর প্রশিক্ষণের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর তথ্য


২. বেইজিং সামরিক কুকুর প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র—চীন

চীনের বেইজিংভিত্তিক সামরিক কুকুর প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র দেশটির বিশাল সামরিক কুকুর ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, চীনের সামরিক কুকুর কর্মসূচি ১৯৫০ সালের দিকে শুরু হয়েছিল। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং পরে নতুন কাঠামোয় পুনরায় সম্প্রসারিত হয়।

২০১১ সালে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছিল, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীতে তখন ১০ হাজারের বেশি সামরিক কর্মক্ষম কুকুর ছিল এবং প্রতিবছর কয়েক শ কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সংখ্যাটি পুরোনো; একে বর্তমান হিসাব বলা যাবে না। তবে এটি চীনের সামরিক কুকুর কর্মসূচির ব্যাপকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

এই ব্যবস্থার কুকুরগুলো সীমান্ত পাহারা, সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা, টহল, অনুসন্ধান, মাদক ও বিস্ফোরক শনাক্তকরণ, দুর্যোগে উদ্ধার এবং শান্তিরক্ষা অভিযানে ব্যবহৃত হয়। কুনমিং কুকুর, জার্মান শেফার্ড, বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া ও ল্যাব্রাডরসহ বিভিন্ন জাত নির্বাচন করা হয়। কুনমিং কুকুর চীনে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা নিজস্ব কর্মক্ষম জাত; কঠিন পরিবেশ, দীর্ঘ সময় কাজ এবং নিরাপত্তা অভিযানের উপযোগিতার জন্য এটি আলোচিত।

শাবক নির্বাচনকালে স্বাস্থ্য, স্নায়বিক স্থিতি, সাহস, ঘ্রাণ অনুসরণের আগ্রহ, অপরিচিত স্থানে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রশিক্ষকের সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা দেখা হয়। পরে কাজ অনুযায়ী কুকুরগুলোকে আলাদা করা হয়। বিস্ফোরক অনুসন্ধানকারী কুকুরকে গন্ধ শনাক্ত করে শান্তভাবে সংকেত দেওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়, আর টহল কুকুরকে নিয়ন্ত্রিত প্রতিরোধ, অনুসরণ ও এলাকা পাহারার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

চীনের কেন্দ্রগুলোর বর্তমান কুকুরসংখ্যা, প্রজননক্ষম মাদি ও পুরুষের সংখ্যা এবং প্রশিক্ষণব্যয়ের বিস্তারিত প্রকাশিত নয়। এ কারণে বড় সংখ্যা উল্লেখে সতর্ক থাকা জরুরি। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় পরিসর, নিজস্ব জাত উন্নয়ন এবং সীমান্ত থেকে দুর্যোগ উদ্ধার পর্যন্ত বহুমুখী ব্যবহারের কারণে চীনের ব্যবস্থাটি বিশ্বের বৃহত্তমগুলোর একটি। সিনহুয়া/China Daily-এর প্রকাশিত তথ্য


৩. রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কোর সেন্টার অ্যান্ড কলেজ—মিরাট, ভারত

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট সেনানিবাসে অবস্থিত রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কোর সেন্টার অ্যান্ড কলেজ দেশটির সামরিক প্রাণী প্রজনন, প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসাব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মক্ষম কুকুর, ঘোড়া ও অন্যান্য সামরিক প্রাণীর ব্যবস্থাপনায় রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কোরের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

মিরাট কেন্দ্রটি সেনাবাহিনীর কুকুর এবং তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়। পাশাপাশি কুকুরের প্রজনন, শাবক পালন, কর্মক্ষমতা যাচাই, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, পশুচিকিৎসা এবং বিভিন্ন সেনা ইউনিটে পাঠানোর কাজ পরিচালনা করে। প্রতিরক্ষা ও আধা-সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনেও এখানকার দক্ষতা ব্যবহৃত হয়েছে। তবে বর্তমান কুকুরসংখ্যা ও বার্ষিক উৎপাদনের পূর্ণ সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না।

ঐতিহাসিকভাবে ল্যাব্রাডর রিট্রিভার, জার্মান শেফার্ড ও বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি জাতের পাশাপাশি দেশীয় মুধোল হাউন্ড, রামপুর হাউন্ড, রাজাপালায়াম, চিপ্পিপারাই ও কোম্বাই জাতের উপযোগিতা পরীক্ষার উদ্যোগ আলোচিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য স্থানীয় আবহাওয়া, উঁচু-নিচু ভূমি এবং দীর্ঘ অভিযানে দেশীয় জাতের সহনশীলতা কাজে লাগানো।

কুকুরগুলোকে বিস্ফোরক, মাইন, অস্ত্র ও মাদক শনাক্তকরণ; নিখোঁজ ব্যক্তি খোঁজা; পাহারা; টহল; সন্দেহভাজনকে অনুসরণ এবং দুর্যোগে উদ্ধারকাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়। কাশ্মীর, দুর্গম সীমান্ত, তুষারাচ্ছন্ন এলাকা এবং বিদ্রোহপ্রবণ অঞ্চলের বাস্তবতার কারণে ভারতীয় প্রশিক্ষণে পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

মিরাট কেন্দ্রের বড় শক্তি হলো—প্রশিক্ষণের সঙ্গে পশুচিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, প্রজনন এবং সামরিক বাহিনীর বাস্তব চাহিদার সংযোগ। তবে কর্মক্ষমতার নামে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া, অবসরপ্রাপ্ত কুকুরের পুনর্বাসন এবং দেশীয় জাত ব্যবহারের আগে বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য ও আচরণগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রকাশিত পরিচিতি


৪. ডিফেন্স অ্যানিমেল ট্রেনিং রেজিমেন্ট—মেলটন মোব্রে, যুক্তরাজ্য

ইংল্যান্ডের লেস্টারশায়ারের মেলটন মোব্রের রিমাউন্ট ব্যারাকে অবস্থিত ডিফেন্স অ্যানিমেল ট্রেনিং রেজিমেন্ট—ডিএটিআর ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক প্রাণী প্রশিক্ষণকেন্দ্র। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী, রয়্যাল এয়ার ফোর্স, সামরিক পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সংস্থার কুকুর ও প্রশিক্ষকদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে।

২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কেন্দ্রটির ক্যানাইন ট্রেনিং স্কোয়াড্রনে প্রায় ২০০টি দক্ষ কর্মক্ষম কুকুর ছিল। তাদের পুলিশ ও সামরিক স্থাপনা রক্ষা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক অনুসন্ধান, মাদক শনাক্তকরণ এবং হাতে তৈরি বোমা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিদেশে মোতায়েনের আগে কুকুর ও প্রশিক্ষক জুটিকে বাস্তবসম্মত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হয়।

প্রশিক্ষণে বাধ্যতা, দ্রুত নির্দেশ পালন, দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান, বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল, গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ সহ্য করা, অন্ধকার ভবনে কাজ, ভিড়ের মধ্যে মনোযোগ ধরে রাখা এবং নিয়ন্ত্রিত প্রতিরোধ শেখানো হয়। কাজ অনুযায়ী ল্যাব্রাডর, স্প্রিংগার স্প্যানিয়েল, জার্মান শেফার্ড, বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া ও অন্যান্য কর্মক্ষম জাত ব্যবহার করা হয়। ছোট ও চঞ্চল স্প্যানিয়েল অস্ত্র বা বিস্ফোরক অনুসন্ধানে দক্ষ, অন্যদিকে শেফার্ড ও ম্যালিনোয়া পাহারা ও টহলের কাজে বেশি উপযোগী।

এ কেন্দ্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো কুকুরের সঙ্গে প্রশিক্ষকের সমন্বিত প্রশিক্ষণ। একটি দক্ষ কুকুর থাকলেই কাজ সম্পন্ন হয় না; প্রশিক্ষককে তার আচরণ, ক্লান্তি, ভয়, গন্ধ পাওয়ার সংকেত এবং অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ বুঝতে হয়।

প্রায় ৪১ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগে নির্মিত নতুন প্রশিক্ষণ ভবনে শ্রেণিকক্ষ, ভেতর ও বাইরের প্রশিক্ষণ এলাকা এবং আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ, পানি পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার কেন্দ্রটিকে আধুনিক সামরিক অবকাঠামোর উদাহরণে পরিণত করেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য


৫. ৪৭০তম সামরিক কুকুর প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র—রাশিয়া

মস্কোর কাছাকাছি অবস্থিত রাশিয়ার ৪৭০তম সামরিক কুকুর প্রজনন ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র ঐতিহাসিকভাবে ‘রেড স্টার কেনেল’ নামে পরিচিত। সোভিয়েত সামরিক কুকুর ব্যবস্থার উত্তরাধিকার বহনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯২০-এর দশকে গড়ে ওঠে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো রাষ্ট্রীয় সামরিক কুকুর প্রজনন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ও পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন পাহারা, বার্তা বহন, আহত সৈনিক খোঁজা, মাইন শনাক্তকরণ এবং সামরিক স্থাপনা রক্ষার জন্য বিপুলসংখ্যক কুকুর প্রস্তুত করেছিল। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রেড স্টার কেনেলকে এমন একটি শক্তিশালী, ঠান্ডা-সহনশীল ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য কুকুর তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন জলবায়ুতে কাজ করতে পারে। এ উদ্যোগ থেকেই পরবর্তীতে ব্ল্যাক রাশিয়ান টেরিয়ার জাতের বিকাশ ঘটে।

বর্তমানে কেন্দ্রটি কুকুর প্রজনন, প্রশিক্ষক তৈরি, সামরিক ইউনিটে কুকুর সরবরাহ এবং বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধান ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে বলে প্রকাশ্য প্রতিবেদনে জানা যায়। জার্মান শেফার্ড, বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া, রাশিয়ান কর্মক্ষম জাত এবং ঘ্রাণশক্তিসম্পন্ন অন্যান্য কুকুর ব্যবহৃত হয়। প্রশিক্ষণের মধ্যে বিস্ফোরক ও মাইন শনাক্তকরণ, টহল, স্থাপনা পাহারা, অনুসরণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অন্তর্ভুক্ত।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে মোট কত কুকুর রয়েছে বা কেন্দ্রটি বছরে কত কুকুর প্রশিক্ষণ দেয়—তার হালনাগাদ যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশিত নয়। অতীতে আন্তর্জাতিক সামরিক কুকুর প্রতিযোগিতায় এ কেন্দ্রের দল অংশ নিয়েছে এবং বেলারুশ, ইরান, মিসর ও মধ্য এশিয়ার দেশের দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছে।

এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তবে সোভিয়েত যুগের কুকুরসংখ্যা, কথিত যুদ্ধসাফল্য কিংবা বর্তমান সক্ষমতা সম্পর্কে প্রচলিত অনেক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। তাই রেড স্টারকে সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, দীর্ঘ ইতিহাস, নিজস্ব প্রজনন এবং সামরিক কুকুরের জাত উন্নয়নে ভূমিকার কারণে তালিকায় রাখা হয়েছে। ৪৭০তম কেন্দ্র সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদন


৬. ১৩২তম ক্যানাইন ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট—সুইপ, ফ্রান্স

ফরাসি সেনাবাহিনীর ১৩২তম ক্যানাইন ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট—১৩২e RIC সামরিক কুকুর ব্যবহারের জন্য নিবেদিত বিশ্বের বিরল পূর্ণাঙ্গ রেজিমেন্টগুলোর একটি। ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুইপ এলাকায় এর প্রধান ঘাঁটি। এটি সাধারণ কুকুরের খামার নয়; কুকুর সংগ্রহ, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষক তৈরি এবং সামরিক অভিযানে কুকুর-প্রশিক্ষক দল মোতায়েন—সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত একটি কার্যকর সামরিক ইউনিট।

রেজিমেন্টের কুকুরগুলো সামরিক ঘাঁটি ও সংবেদনশীল স্থাপনা পাহারা, বিস্ফোরক ও অস্ত্র অনুসন্ধান, সন্দেহভাজনকে অনুসরণ, টহল এবং স্থলবাহিনীর অভিযানে সহায়তার জন্য প্রস্তুত হয়। ফরাসি বাহিনীর বিদেশি অভিযানের ইতিহাসের কারণে মরুভূমি, শহর, জঙ্গল, বিমানঘাঁটি এবং সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া ও জার্মান শেফার্ডের মতো শক্তিশালী কর্মক্ষম জাত বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে নির্দিষ্ট অনুসন্ধানের কাজে বিগলসহ ছোট, সক্রিয় ও ঘ্রাণশক্তিসম্পন্ন জাতের পরীক্ষামূলক ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। কুকুর নির্বাচনে শুধু আক্রমণক্ষমতা দেখা হয় না; খেলনা বা বলের প্রতি আগ্রহ, দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস, নিয়ন্ত্রণযোগ্যতা, অপরিচিত পরিবেশে স্থিতি এবং মানুষের সঙ্গে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

কুকুর ও প্রশিক্ষককে জুটি হিসেবে তৈরি করা এ প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি। প্রশিক্ষককে কুকুরের দেহভঙ্গি, গন্ধ পাওয়ার পর সূক্ষ্ম আচরণ, মানসিক চাপ এবং শারীরিক ক্লান্তি বুঝতে শেখানো হয়। সামরিক অভিযানে ভুল সংকেত জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হতে পারে; তাই পুনরাবৃত্ত অনুশীলন ও বাস্তবসম্মত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রেজিমেন্টটিকে সামরিক কুকুর-সম্পর্কিত বিশেষ কাজের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করে। বর্তমান কুকুরসংখ্যা সব সময় প্রকাশ না হলেও পূর্ণ রেজিমেন্ট কাঠামো, বিদেশে মোতায়েনের অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের কারণে এটি বিশ্বে অত্যন্ত আলোচিত। ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি


৭. বুন্ডেসভের সার্ভিস ডগ স্কুল—উলমেন, জার্মানি

জার্মানির রাইনল্যান্ড-প্যালাটিনেট রাজ্যের উলমেনে অবস্থিত বুন্ডেসভের সার্ভিস ডগ স্কুল দেশটির সামরিক কর্মক্ষম কুকুর ব্যবস্থার কেন্দ্র। এখানে নিজস্ব প্রজনন থেকে শুরু করে শাবকের প্রাথমিক পরিচর্যা, কর্মক্ষমতা যাচাই, বিশেষ প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষক শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মজীবন এবং অবসর—পুরো জীবনচক্র একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হয়।

নিজস্ব প্রজননের বড় সুবিধা হলো প্রতিটি কুকুরের বংশতালিকা ও পশুচিকিৎসার ইতিহাস জানা যায়। কোন বংশে অস্থিসন্ধির সমস্যা, স্নায়বিক দুর্বলতা বা অনুপযোগী আচরণ বেশি—তা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজননের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। ফলে শুধু দেখতে সুন্দর নয়, সুস্থ, স্থিতিশীল ও কাজের উপযোগী কুকুর তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কুকুরের জাত ও স্বভাব অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নির্ধারিত হয়। সামরিক পুলিশ, প্যারাট্রুপার, বিশেষ বাহিনী এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ইউনিটের জন্য প্রয়োজন আলাদা। কোনো কুকুর বিস্ফোরক অনুসন্ধান ও সুরক্ষা—দুই কাজে প্রশিক্ষিত হয়; আবার কোনোটি শুধু নির্দিষ্ট গন্ধ অনুসন্ধানে দক্ষতা অর্জন করে। জার্মান প্রশিক্ষণব্যবস্থায় ইতিবাচক পুরস্কার, প্রশিক্ষকের সঙ্গে বিশ্বাস এবং চাপের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত আচরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কেন্দ্রটিতে জার্মান সামরিক বাহিনীর বিশেষায়িত কুকুর হাসপাতাল রয়েছে। রোগ প্রতিরোধ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, পুনর্বাসন এবং বিদেশে মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত করা হয়। প্রশিক্ষকদের মাঠে কুকুর আহত হলে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থাপনাটিতে প্রায় ২০০টি আবাসন কক্ষ বা কেনেল রয়েছে, যদিও সবগুলো সবসময় পূর্ণ থাকে না। কর্মজীবন শেষে কুকুরকে মানবিকভাবে রাখা, পুরোনো প্রশিক্ষকের কাছে দেওয়া অথবা উপযুক্ত পরিবারে হস্তান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রজনন থেকে অবসর পর্যন্ত সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার কারণে উলমেন কেন্দ্রটি প্রাণিকল্যাণভিত্তিক সামরিক কুকুর ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। জার্মান সামরিক বাহিনীর তথ্য


৮. ওকেটজ ইউনিট—ইসরায়েল

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষ সামরিক কুকুর ইউনিটের নাম ওকেটজ, যার হিব্রু অর্থ ‘হুল’ বা ‘দংশন’। ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে সংঘটিত ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার পর ১৯৭৪ সালে সিরকিন ঘাঁটিতে আধুনিক ওকেটজ ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে মাত্র ১১ জন সদস্য থাকলেও পরে এটি ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ অভিযান সহায়ক ইউনিটে পরিণত হয়।

ওকেটজ একটি সাধারণ প্রজনন খামার নয়; এটি উচ্চমাত্রার নির্বাচন ও অভিযানভিত্তিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র। প্রতিটি কুকুরকে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কাজে দক্ষ করা হয়—বিস্ফোরক ও ফাঁদ শনাক্তকরণ, অস্ত্র অনুসন্ধান, মাদক ও চোরাচালান শনাক্তকরণ, নিখোঁজ মানুষ উদ্ধার, সন্দেহভাজনকে অনুসরণ অথবা বিশেষ অভিযানে সৈন্যদের আগে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরীক্ষা করা।

প্রশিক্ষক হতে আগ্রহী সেনাসদস্যকে কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রশিক্ষণের সময়ই একজন সদস্যকে নির্দিষ্ট কুকুরের সঙ্গে জুটি করা হয়। কয়েক মাস একসঙ্গে থাকা, খাওয়া, অনুশীলন ও অভিযান প্রস্তুতির মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়। ওকেটজের মতে, প্রশিক্ষক ও কুকুরের ব্যক্তিগত সম্পর্কই মাঠে সফলতার অন্যতম ভিত্তি।

ঘনবসতিপূর্ণ শহর, ভবন, সুড়ঙ্গ, বিস্ফোরক ফাঁদ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে কাজ করার প্রশিক্ষণ এ ইউনিটকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। অভিযানে কুকুরের শরীরে ক্যামেরা বসানোর ঘটনাও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব কাজে কুকুরের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা সামরিক অভিযানে প্রাণী ব্যবহারের নৈতিক প্রশ্ন সামনে আনে।

ইসরায়েলি বাহিনী নিরাপত্তাজনিত কারণে কুকুরসংখ্যা, প্রজননের উৎস ও প্রশিক্ষণব্যয়ের বিস্তারিত প্রকাশ করে না। ফলে এটিকে সংখ্যায় সবচেয়ে বড় বলা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তব অভিযানে ঘনঘন ব্যবহার, বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং নির্দিষ্ট কাজে গভীর প্রশিক্ষণের কারণে ওকেটজ বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সামরিক কুকুর ইউনিটগুলোর একটি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচিতি


৯. রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের কর্মক্ষম কুকুর ব্যবস্থা—অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সামরিক কুকুর ব্যবস্থা প্রধানত বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনার নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণব্যবস্থায় কুকুর ও প্রশিক্ষককে বাধ্যতা, টহল, ঘ্রাণ শনাক্তকরণ, অনুপ্রবেশকারী প্রতিরোধ এবং সামরিক ঘাঁটি রক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে কুইন্সল্যান্ডের আরএএএফ বেস অ্যাম্বারলির নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণব্যবস্থা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ভূখণ্ড, প্রচণ্ড গরম, দুর্গম সামরিক ঘাঁটি এবং দীর্ঘ সময় টহলের কারণে কুকুর নির্বাচনে শারীরিক সহনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জার্মান শেফার্ড, বেলজিয়ান ম্যালিনোয়া ও অন্যান্য কর্মক্ষম জাত ব্যবহার করা হয়। কুকুর ও প্রশিক্ষককে জুটি করার পর নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন, নির্দেশ পালন, গন্ধ অনুসন্ধান এবং বাস্তব নিরাপত্তা পরিস্থিতির মহড়া চালানো হয়।

২০২৬ সালে উত্তরাঞ্চলের আরএএএফ বেস টিন্ডালে প্রায় ৮৯ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যয়ে আধুনিক সামরিক কুকুর স্থাপনা চালু করা হয়। এতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত আবাসন, পৃথক চলাচলের জায়গা, শব্দ কমানোর ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় পানির পাত্র, পশুচিকিৎসা কক্ষ, খাদ্য প্রস্তুতের স্থান এবং পুনর্বাসনের জন্য জলচিকিৎসা পুল রাখা হয়েছে। উত্তর অস্ট্রেলিয়ার প্রচণ্ড গরমে কুকুরের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য রক্ষায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

টিন্ডাল মূল জাতীয় প্রজননকেন্দ্র নয়; এটি কার্যকর সামরিক কুকুরের উন্নত আবাসন, প্রশিক্ষণ ও মোতায়েন সহায়ক কেন্দ্র। ফলে একে অন্য কেন্দ্রগুলোর মতো বিশাল ‘খামার’ বলা ঠিক হবে না। তবু পশুকল্যাণ, পুনর্বাসন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক সামরিক অবকাঠামো মিলিয়ে এটি ভবিষ্যতের কর্মক্ষম কুকুরকেন্দ্র কেমন হওয়া উচিত—তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য


১০. রিপাবলিক অব কোরিয়া আর্মি মিলিটারি ওয়ার্কিং ডগ ট্রেনিং সেন্টার—চুনচন, দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার চুনচনে অবস্থিত রিপাবলিক অব কোরিয়া আর্মি মিলিটারি ওয়ার্কিং ডগ ট্রেনিং সেন্টার দেশটির সেনাবাহিনীর কুকুর প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার কঠোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দীর্ঘ সীমান্ত, সামরিক ঘাঁটি এবং মাইনঝুঁকির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষিত কুকুরের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।

কুকুরগুলোকে সামরিক ঘাঁটি পাহারা, সীমান্ত টহল, অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ, বিস্ফোরক ও অস্ত্র অনুসন্ধান এবং নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার কাজে ব্যবহার করা হয়। জার্মান শেফার্ড ও বেলজিয়ান ম্যালিনোয়ার মতো সাহসী, দ্রুত ও নির্দেশনির্ভর জাত এসব কাজে উপযোগী। ঘ্রাণ অনুসন্ধানের কাজে ল্যাব্রাডরসহ তুলনামূলক শান্ত স্বভাবের জাতও ব্যবহার করা হতে পারে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে কুকুরের স্বাস্থ্য, অস্থিসন্ধির অবস্থা, শব্দভীতি, অনুসন্ধানের আগ্রহ, অপরিচিত জায়গায় আচরণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা যাচাই করা হয়। পরে বাধ্যতা, প্রতিবন্ধকতা পার হওয়া, যানবাহনে যাত্রা, রাতের টহল, গুলির শব্দ, বিভিন্ন ভবনে অনুসন্ধান এবং নির্দিষ্ট গন্ধ শনাক্তকরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সফলতার জন্য প্রশিক্ষক ও কুকুরের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য।

দক্ষিণ কোরিয়া ও সেখানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সামরিক কুকুর দল যৌথ অনুশীলনও করে। এতে চিকিৎসা, আহত কুকুর সরিয়ে নেওয়া, বিভিন্ন বাহিনীর নির্দেশপদ্ধতি এবং যৌথ অভিযানের সমন্বয় উন্নত হয়।

কেন্দ্রটির বর্তমান আয়তন, কুকুরসংখ্যা, বার্ষিক প্রশিক্ষণক্ষমতা ও নিজস্ব প্রজনন সম্পর্কে পর্যাপ্ত সরকারি ইংরেজি তথ্য প্রকাশিত নয়। তাই একে দশম স্থানে রাখা হয়েছে মূলত কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক গুরুত্ব, সীমান্তনির্ভর কাজ, যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সামরিক কুকুর কল্যাণ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার কারণে। চুনচন কেন্দ্র সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য


এসব কেন্দ্রে কুকুর নির্বাচনের সাধারণ পদ্ধতি

সামরিক কুকুর তৈরি শুধু আক্রমণ শেখানোর বিষয় নয়। সাধারণত নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো পরীক্ষা করা হয়—

  • পূর্ণাঙ্গ শারীরিক সুস্থতা ও শক্ত অস্থিসন্ধি
  • প্রচণ্ড শব্দ ও অপরিচিত পরিবেশে স্থির থাকা
  • খেলনা বা পুরস্কারের প্রতি প্রবল আগ্রহ
  • দীর্ঘ সময় কোনো গন্ধ অনুসন্ধানের মানসিকতা
  • মানুষের নির্দেশ গ্রহণ ও সহযোগিতার ক্ষমতা
  • ভয় অথবা অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণাত্মক আচরণের অনুপস্থিতি
  • যানবাহন, সিঁড়ি, অন্ধকার ঘর ও পিচ্ছিল মেঝেতে চলার সাহস
  • গরম, ঠান্ডা কিংবা উচ্চভূমিতে কাজের উপযোগিতা
  • প্রশিক্ষণ শেষে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা

প্রজননের সময় শুধু কর্মক্ষমতা নয়; বংশগত রোগ, কোমর ও কনুইয়ের গঠন, স্নায়বিক স্থিতি এবং পূর্বপুরুষের স্বাস্থ্য ইতিহাসও বিবেচনা করা উচিত।

চূড়ান্ত মূল্যায়ন

এই দশটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাকল্যান্ড সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণব্যবস্থার উদাহরণ। চীনের ব্যবস্থা সম্ভাব্য সংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত বড় হলেও হালনাগাদ তথ্য সীমিত। ভারত নিজস্ব প্রজনন, দেশীয় জাত পরীক্ষা ও দুর্গম পরিবেশে কাজের কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটেন, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রাণিকল্যাণ ও আধুনিক আবাসনে অগ্রসর। ফ্রান্স ও ইসরায়েলের কেন্দ্রগুলো বাস্তব অভিযানভিত্তিক বিশেষায়নের জন্য পরিচিত, আর রাশিয়ার রেড স্টার ঐতিহাসিক প্রজনন ও জাত উন্নয়নের কারণে আলাদা মর্যাদা বহন করে।

একটি সফল সামরিক কুকুরকেন্দ্রের মূল শক্তি শুধু সাহসী কুকুর নয়; বৈজ্ঞানিক প্রজনন, মানবিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ প্রশিক্ষক, উন্নত চিকিৎসা এবং সম্মানজনক অবসর—সবকিছুর সমন্বয়।

তথ্যসূত্র

১. U.S. Air Force ও Joint Base San Antonio — ল্যাকল্যান্ডের ৩৪১তম সামরিক কুকুর প্রশিক্ষণ স্কোয়াড্রন।
২. China Daily/Xinhua — চীনের সামরিক কুকুর প্রজনন ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা।
৩. Indian Army — মিরাটের রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কোর সেন্টার।
৪. UK Ministry of Defence — ডিফেন্স অ্যানিমেল ট্রেনিং রেজিমেন্ট।
৫. Bundeswehr — জার্মানির উলমেন সামরিক কুকুর বিদ্যালয়।
৬. French Ministry of Armed Forces — ১৩২তম ক্যানাইন ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট।
৭. Israel Defense Forces — ওকেটজ বিশেষ সামরিক কুকুর ইউনিট।
৮. Australian Department of Defence — সামরিক কর্মক্ষম কুকুরকেন্দ্র।
৯. Russian Defence Ministry/ABC News — রাশিয়ার ৪৭০তম ‘রেড স্টার’ সামরিক কুকুরকেন্দ্র।
১০. ROKA MWD Training Center — দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কুকুর প্রশিক্ষণকেন্দ্র।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত
The rapists got up for rape

ধর্ষণে মেতেছে ধর্ষককুল

ক্যাডেটরা হতে চলছে গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কাণ্ডারী

হালদা নদী রক্ষায় গেজেট পরিবর্তন করা হবে-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

খামারিরাই প্রাণিসম্পদ খাতের প্রকৃত সেলিব্রেটিঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

কাঁকড়া রপ্তানির প্রধান প্রতিবন্ধকতা

চালের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদার করবে-ইরি

চলনবিলের ঐতিহ্য ফেরাতে মৎস্য সংরক্ষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে

বাংলাদেশের গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননের ইতিহাস

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদী ও সমুদ্রে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে

শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতায়: বাংলাদেশের আরও ১৫টি বৃহৎ পোলট্রি খামার ও হ্যাচারির অজানা ইতিহাস।।