RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Thursday , 27 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
   

“নাহার লোহমান লেয়ার থেকে ১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান ও কৌতুহল…

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 25, 2026 11:14 am

“নাহার লোহমান লেয়ার থেকে ১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান ও কৌতুহল…//৩০০ মুরগি থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃষিশিল্প: নাহার গ্রুপের গড়ে ওঠার ইতিহাস।।

নাহার পোল্ট্রি, নাহার ডেইরি, নাহার ফিড ও নাহার এগ্রোর সাফল্যের পথচলা।।

ড. বায়েজিদ মোড়ল | AgricultureNews24.com।।

১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য

বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্পে উচ্চ উৎপাদনক্ষম লেয়ার মুরগি, দীর্ঘ উৎপাদনকাল এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে নাহার এগ্রো। ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে নাহার এগ্রো ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোহমান ব্রিডার্স যৌথভাবে আয়োজন করে—“নাহার লোহমান লেয়ার থেকে ১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে দেশের পোল্ট্রি খাতের উদ্যোক্তা, খামারি, বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে উন্নত লেয়ার জাত, দীর্ঘমেয়াদি ডিম উৎপাদন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মুরগির স্বাস্থ্য, জীব-নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর খামার পরিচালনা নিয়ে কারিগরি আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদকে প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল; তবে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, লোহমান ব্রিডার্সের বৈশ্বিক কারিগরি সেবা বিশেষজ্ঞ মার্ক পল চার্লস অ্যালেন এবং ইন্টার এগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাহার এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমান টুটুল। এছাড়া এসিআই এগ্রোবিজনেসের প্রেসিডেন্ট এফ এইচ আনছারী, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশের স্বনামধণ্য পোল্ট্রী ব্যবসায়ীগণ, খামারীগণ, কৃষি বিষয়ক সবগুলো পত্রিকার সম্পাদকগণ ও নাহার গ্রুপের কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে লোহমান জাতের উৎপাদনক্ষমতা, বৈশিষ্ট্য এবং সঠিক পালন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন ইন্টার এগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান। নাহার পোল্ট্রির গড়ে ওঠার ইতিহাস, বর্তমান কার্যক্রম, খামার ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন নাহার এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমান টুটুল এবং তাঁর ছেলে ও নাহার এগ্রোর পরিচালক তানজিব জাওয়াদ রহমান। লোহমান ব্রিডার্সের বৈশ্বিক কারিগরি সেবা বিশেষজ্ঞ মার্ক পল চার্লস অ্যালেনও দীর্ঘ উৎপাদনকাল ধরে লেয়ার মুরগির স্বাস্থ্য ও ডিম উৎপাদন ধরে রাখার বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরেন।

তবে ‘১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম’ কথাটিকে এখনই নাহারের প্রতিটি মুরগির নিশ্চিত উৎপাদন হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি উন্নত বংশগত সক্ষমতা, সুষম খাদ্য, সঠিক দৈহিক ওজন, আলো, তাপমাত্রা, বায়ু চলাচল, রোগনিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর জীব-নিরাপত্তার সমন্বয়ে অর্জনের একটি উচ্চাভিলাষী উৎপাদন-লক্ষ্য।

নাহারের সঙ্গে লোহমান ব্রিডার্সের সম্পর্কও নতুন নয়। আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে নাহার এগ্রো প্রায় ১০ হাজার মাদি লোহমান এলএসএল লাইট প্যারেন্ট স্টক দিয়ে বাণিজ্যিক লেয়ার বাচ্চা উৎপাদনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিল।

কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান আজ একটি লেয়ার মুরগি থেকে ১২০ সপ্তাহে ৬০০টি ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কারিগরি আলোচনার আয়োজন করছে, সেই প্রতিষ্ঠানের শুরু হয়েছিল মাত্র ৩০০টি মুরগি ও ৯০০ টাকা দিয়ে। কীভাবে সেই ছোট উদ্যোগ নাহার পোল্ট্রি, নাহার ডেইরি, নাহার ফিড, নাহার হ্যাচারি ও নাহার এগ্রোর সমন্বিত কৃষিশিল্পে পরিণত হলো—সেই সংগ্রাম, বিপর্যয়, সম্প্রসারণ ও সাফল্যের ইতিহাসই তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

শৈশবের ৩০০ মুরগিতে স্বপ্নের শুরু

নাহার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমান টুটুলের কৃষি উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল প্রাণী ও পাখির প্রতি ভালোবাসা থেকে। ১৯৮৬ সালে তিনি সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। ঈদের সালামি হিসেবে পাওয়া ৯০০ টাকা দিয়ে তিনি ফাউমি জাতের ৩০০টি মুরগি কেনেন। বাড়ির সামনে ঢেউটিন দিয়ে একটি ছোট ব্রুডিং ঘর তৈরি করে নিজেই মুরগিগুলোর পরিচর্যা শুরু করেন।

প্রায় ২০ সপ্তাহ পর মুরগিগুলো ডিম দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে দৈনিক ডিম উৎপাদন ২৮০ থেকে ২৯০টিতে পৌঁছায়। পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে বাকি ডিম প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষের কাছে বিক্রি করা হতো। এই ছোট উদ্যোগ থেকেই তাঁর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে মুরগি পালন এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়।

নাহার এগ্রোর প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে ১৯৮৯ সালকে প্রাণিসম্পদ উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রার বছর বলা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বার্তায় আবার ১৯৯০ সালে চট্টগ্রামে ছোট পরিসরে পোল্ট্রি ও ডেইরি কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। তথ্য দুটি সমন্বয় করে বলা যায়, ১৯৮৬ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগের বীজ বপনের পর ১৯৮৯–৯০ সময়কালে এটি নিয়মিত বাণিজ্যিক উদ্যোগে রূপ নেয়।

মায়ের নামে প্রতিষ্ঠানের নাম ‘নাহার’

প্রতিষ্ঠানটির নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক ভালোবাসা ও সম্মান। রকিবুর রহমান তাঁর মা শামসুন নাহারের নাম অনুসারে প্রতিষ্ঠানের নাম রাখেন ‘নাহার’। শামসুন নাহার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং মোহাম্মদ রকিবুর রহমান টুটুল ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

রকিবুর রহমানের বাবা টি এস মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে রকিবুর রহমানকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হয়। সেই সময় তিনি পোল্ট্রির পাশাপাশি গরু পালন এবং দুধ উৎপাদনের কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করেন।

১৯৯৪ সালে ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রমকে আলাদা পরিচয়ে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় নাহার ডেইরি, নাহার পোল্ট্রি এবং নাহার পোল্ট্রি ফিড নামে কার্যক্রম বিভক্ত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি মুরগির খামার না থেকে বহুমুখী কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যায়।

নাহার পোল্ট্রির গড়ে ওঠা

নাহার গ্রুপের প্রধান ভিত্তি পোল্ট্রি খাত। প্রথম দিকে বাণিজ্যিক ডিম উৎপাদনের জন্য মুরগি পালন করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্যারেন্ট স্টক, হ্যাচিং ডিম, হ্যাচারি এবং এক দিনের বাচ্চা উৎপাদনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে প্রবেশ করে।

১৯৯৮ সালে চট্টগ্রামের কুমিরায় প্রায় ৪ হাজার ২০০টি মুরগি দিয়ে প্যারেন্ট স্টক পালন শুরু করা হয়। প্যারেন্ট স্টক হলো বিশেষভাবে নির্বাচিত প্রজনন মুরগি, যাদের ডিম থেকে বাণিজ্যিক খামারের জন্য এক দিনের বাচ্চা উৎপাদন করা হয়।

প্যারেন্ট স্টক পালন সাধারণ মুরগি পালনের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত জাত নির্বাচন, বয়স অনুযায়ী সঠিক ওজন বজায় রাখা, সুষম খাদ্য, মোরগ-মুরগির যথাযথ অনুপাত, রোগ প্রতিরোধ, আলো নিয়ন্ত্রণ, ডিম সংরক্ষণ এবং হ্যাচারি ব্যবস্থাপনায় সামান্য ভুলও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

লোহমান ব্রিডার্সের তথ্যমতে, মোহাম্মদ রকিবুর রহমানের পোল্ট্রিশিল্পে প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। নাহার এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্য একটি সংবাদ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সালে গঠিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কার্যক্রম শুরু ও কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধনের পৃথক সময়ের কারণে এই এক বছরের পার্থক্য হয়ে থাকতে পারে।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নাহার প্রধানত ব্রয়লার প্যারেন্ট স্টক নিয়ে কাজ করে। পরবর্তী সময়ে দেশের বাজারে ডিমপাড়া মুরগির বাচ্চার চাহিদা বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি লেয়ার প্যারেন্ট স্টক ও লেয়ার বাচ্চা উৎপাদনে প্রবেশ করে।

২০০৪ সালের বড় বিপর্যয়

নাহার গ্রুপের ইতিহাস শুধু সাফল্যের নয়; এটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও সংকট মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোরও ইতিহাস।

২০০৪ সালে একটি আধুনিক হ্যাচারি স্থাপনের লক্ষ্যে ফ্রান্স থেকে প্রায় ৪৬ হাজার প্যারেন্ট স্টক বাচ্চা আমদানি করা হয়। কিন্তু বাচ্চাগুলো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, এর মধ্যে প্রায় ২৬ হাজার বাচ্চা মারা গেছে। একসঙ্গে এত বাচ্চার মৃত্যু প্রতিষ্ঠানটির জন্য ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়।

একদিকে আমদানি করা বাচ্চার মৃত্যু, অন্যদিকে ব্যাংকঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে। তখন প্রশ্ন দেখা দেয়—জীবিত প্যারেন্ট স্টক থেকে উৎপাদিত ডিম কোথায় এবং কীভাবে ফোটানো হবে?

পরবর্তী সময়ে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া গেলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে হ্যাচারি নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নাহারের প্রথম হ্যাচারি উৎপাদন শুরু করে।

হ্যাচারি চালুর পরই বার্ড ফ্লুর আঘাত

হ্যাচারি চালুর পরপরই দেশে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কঠোর জীব-নিরাপত্তা অনুসরণ করায় নাহারের খামার ও হ্যাচারির বাচ্চা রক্ষা পেলেও বাজারে এক দিনের বাচ্চার চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে যায়।

উৎপাদন খরচের তুলনায় বাচ্চার বিক্রয়মূল্য অনেক নিচে নেমে আসে। ফলে খামার ও হ্যাচারি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন বন্ধ করেনি। জীব-নিরাপত্তা, খামার ব্যবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে ওঠে।

এই অভিজ্ঞতা নাহারকে শিখিয়েছে—পোল্ট্রিশিল্পে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হয় না; রোগনিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিও থাকতে হয়।

২০১৩ সালে লোহমান বাচ্চা উৎপাদনে নতুন অধ্যায়

নাহার পোল্ট্রির ইতিহাসে ২০১৩ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইন্টার এগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান জানান ২০১৩ সালে নাহার এগ্রো লোহমান এলএসএল লাইট প্যারেন্ট স্টক গ্রাহক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। সে সময় নাহারের খামারে প্রায় ১০ হাজার মাদি প্যারেন্ট স্টক স্থাপন করা হয়। পরবর্তী বছরের মধ্যে এই সক্ষমতা তিনগুণ করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাহার এগ্রো উন্নত জাতের প্যারেন্ট স্টক থেকে বাণিজ্যিক লেয়ার বাচ্চা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের নতুন যুগে প্রবেশ করে। এটি শুধু নতুন একটি জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের ঘটনা ছিল না; বরং আন্তর্জাতিক জাত উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান লোহমান ব্রিডার্সের সঙ্গে নাহারের দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সম্পর্কের ভিত্তিও শক্তিশালী করে।

লোহমান এলএসএল লাইট মূলত উন্নত উৎপাদনক্ষম সাদা ডিমপাড়া লেয়ার। এই জাতের প্যারেন্ট স্টক ব্যবস্থাপনায় সঠিক খাদ্য, নির্ধারিত দৈহিক ওজন, আলো, তাপমাত্রা, রোগনিয়ন্ত্রণ ও কঠোর জীব-নিরাপত্তা অনুসরণ করা জরুরি। এসব আধুনিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণের ফলে নাহার বাংলাদেশের খামারিদের কাছে উন্নত উৎপাদনক্ষম এক দিনের লেয়ার বাচ্চা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

২০১৩ সালের সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় নাহার এখন দীর্ঘ উৎপাদনকাল ধরে একটি লেয়ার মুরগি থেকে অধিকসংখ্যক মানসম্মত ডিম পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০২৬ সালে লোহমান ব্রিডার্সের সঙ্গে যৌথভাবে ‘নাহার লোহমান লেয়ার থেকে ১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য’ নিয়ে কারিগরি অনুষ্ঠান আয়োজন সেই দীর্ঘ সম্পর্ক ও উন্নয়নযাত্রারই নতুন অধ্যায়।

১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম: লক্ষ্য অর্জনে যা প্রয়োজন

আধুনিক লেয়ার ব্যবস্থাপনায় এখন শুধু ৭০ বা ৮০ সপ্তাহ পর্যন্ত ডিম উৎপাদন নয়; মুরগিকে সুস্থ রেখে উৎপাদনকাল আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১২০ সপ্তাহে ৬০০টি ডিম উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—

  • উন্নত বংশগত বৈশিষ্ট্যের সুস্থ বাচ্চা নির্বাচন;
  • বয়স অনুযায়ী মুরগির দৈহিক ওজন ও ওজনের সমতা নিশ্চিত করা;
  • বেড়ে ওঠা ও ডিম উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে সুষম খাদ্য দেওয়া;
  • ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ উপাদানের সঠিক ভারসাম্য রাখা;
  • বিশুদ্ধ ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ;
  • বয়স অনুযায়ী আলো ব্যবস্থাপনা;
  • শেডে উপযুক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা;
  • নিয়মিত টিকাদান ও রোগ পর্যবেক্ষণ;
  • কঠোর জীব-নিরাপত্তা অনুসরণ;
  • ডিমের খোসার মান এবং মুরগির হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা;
  • খাদ্য গ্রহণ, ডিম উৎপাদন, ডিমের ওজন ও মৃত্যুহারের তথ্য সংরক্ষণ।

এই ব্যবস্থাগুলোর কোনো একটিতে বড় ঘাটতি থাকলে শুধু উন্নত জাত দিয়ে ৬০০ ডিমের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তাই অনুষ্ঠানের মূল বার্তাটি শুধু অধিক ডিম নয়; বরং দীর্ঘ সময় মুরগিকে সুস্থ রেখে লাভজনকভাবে ডিম উৎপাদন করা।

নাহার ফিড: নিজস্ব চাহিদা থেকে জাতীয় বাজারে

পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারের টেকসই উৎপাদনের জন্য মানসম্মত খাদ্যের নিয়মিত সরবরাহ অপরিহার্য। এই প্রয়োজন থেকেই নাহার পোল্ট্রি ফিডের বিকাশ ঘটে। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি পোল্ট্রি, মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদনকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

২০২৩/২৪ সালে সরেজমিনে আমি নাহার ডেইরি উপর প্রতিবেদন করতে গেলে জানতে পারি,, মিরসরাই, সিরাজগঞ্জ ও যশোর অঞ্চলে নাহারের চারটি পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য কারখানা ছিল। এসব কারখানার সম্মিলিত মাসিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার টন। তখন প্রকৃত উৎপাদন ছিল মাসে প্রায় ৩০ হাজার টন।

উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ২০ শতাংশ নাহারের নিজস্ব খামারে ব্যবহার করা হতো এবং বাকি ৮০ শতাংশ দেশের বাজারে বিক্রি করা হতো। নিজস্ব খাদ্য কারখানা থাকায় নাহার কাঁচামাল নির্বাচন, খাদ্যের পুষ্টিমান, গুণগত মান এবং নিয়মিত সরবরাহের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে।

বর্তমানে নাহারের পণ্যের মধ্যে ব্রয়লার, লেয়ার ও গবাদিপশুর খাদ্যের পাশাপাশি ভাসমান ও ডুবন্ত মাছের খাদ্যও রয়েছে। এই খাদ্য শুধু প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব খামারে নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ খামারিদের কাছেও সরবরাহ করা হয়।

নাহার ডেইরির বিকাশ

পোল্ট্রির পাশাপাশি নাহার ডেইরি প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ে রকিবুর রহমান বিভিন্ন স্থান থেকে গরু সংগ্রহ করে ডেইরি খামার সম্প্রসারণ করেন। একসময় তাঁর ডেইরি খামার থেকে দৈনিক প্রায় ২০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হতো। ১৯৯৪ সালে ডেইরি কার্যক্রমকে ‘নাহার ডেইরি’ নামে পৃথক পরিচয় দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে উন্নত জাতের গাভী, পরিকল্পিত প্রজনন, বাছুর পালন, নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন এবং খামারভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে ডেইরি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

২০২৩/২৪ সালে সরেজমিনে আমি নাহার ডেইরি উপর প্রতিবেদন করতে গেলে জানতে পারি, নাহারের ডেইরি খামারে প্রায় ১ হাজার ৭০০টির উপরে দুধেল গরু, বাছুর ও ষাড় ছিল। দৈনিক দুধ উৎপাদন ছিল আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার লিটার। নাহারের পোল্ট্রি, খাদ্য ও ডেইরি কার্যক্রম একই ব্যবস্থাপনার অধীনে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি কিছু বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। নিজস্ব কারখানায় গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন, খামারের গোবর ও পোল্ট্রি বর্জ্য কাজে লাগানো, কৃষিজমিতে জৈবসার প্রয়োগ এবং বিভিন্ন প্রাণিসম্পদ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় করা সম্ভব হয়েছে।

নাহার এগ্রো: একটি সমন্বিত কৃষিশিল্প

নাহার এগ্রো হচ্ছে গ্রুপটির বিস্তৃত কৃষি কার্যক্রমের সমন্বিত পরিচয়। এর অধীনে রয়েছে—

  • গ্র্যান্ড প্যারেন্ট ও প্যারেন্ট স্টক খামার;
  • ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চা উৎপাদন;
  • হ্যাচারি পরিচালনা;
  • পোল্ট্রি, মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন;
  • ডেইরি ও গরু পালন;
  • দুধ উৎপাদন;
  • মাছ চাষ ও মাছের খাদ্য;
  • উদ্যান ও অন্যান্য কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম;
  • খামারিদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা।

২০২৩/২৪ সালের আমি সরেজমিনে গিয়ে জানতে পারি, নাহার গ্রুপের অধীনে ১০টি প্রতিষ্ঠান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩৫টি উৎপাদন স্থাপনা এবং চার হাজারের বেশি কর্মীর কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে দুই হাজার ৫০০-এর বেশি সরাসরি এবং প্রায় ১০ হাজার পরোক্ষ কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়। একই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

একই সময়ের তথ্য অনুযায়ী, নাহারের বিভিন্ন পোল্ট্রি খামারে প্রায় ১২ লাখ ব্রয়লার ও লেয়ার প্যারেন্ট স্টক ছিল। সেখান থেকে উৎপাদিত হ্যাচিং ডিম ব্যবহার করে বিভিন্ন হ্যাচারিতে সপ্তাহে আনুমানিক ২২ থেকে ২৪ লাখ এক দিনের বাচ্চা উৎপাদন করা হতো।

খামারিদের সঙ্গে নাহারের সম্পর্ক

নাহার গ্রুপের বিস্তার শুধু নিজস্ব খামার, হ্যাচারি ও খাদ্য কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রায় পাঁচ হাজার পোল্ট্রি খামারের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ হাজার খামারিকে বাচ্চা, খাদ্য ও বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়ে এসেছে।

শুধু উন্নত বাচ্চা কিনলেই একজন খামারির সফলতা নিশ্চিত হয় না। বাচ্চার সঙ্গে সঠিক খাদ্য, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ, জীব-নিরাপত্তা, আলো ব্যবস্থাপনা এবং বাজারসংক্রান্ত পরামর্শ প্রয়োজন। নাহার একই সঙ্গে বাচ্চা, খাদ্য ও কারিগরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে এই সম্পূর্ণ উৎপাদনশৃঙ্খলের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।

নতুন বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন

২০২৩/২৪ সালের আমি সরেজমিনে গিয়ে জানতে পারি , নাহার এগ্রো ডিম উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। পরিকল্পনায় স্বয়ংক্রিয় খাদ্য ও পানি সরবরাহ, ডিম সংগ্রহ, তাপমাত্রা ও বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ, স্বয়ংক্রিয় বর্জ্য অপসারণ এবং পোল্ট্রি বিষ্ঠা থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টন জৈবসার উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল।

পরিকল্পনার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দৈনিক দুই লাখ ভোগ্য ডিম উৎপাদন। পরবর্তী পর্যায়ে ১২ লাখ মুরগির সাতটি শেডের মাধ্যমে দৈনিক ১০ লাখ ডিম এবং আরও পরে উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা জানানো হয়।

তবে কোনো বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা এবং প্রকৃত উৎপাদনে পৌঁছানো এক বিষয় নয়। ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসব লক্ষ্যের কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির হালনাগাদ উৎপাদন প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য প্রয়োজন।

সাফল্যের পেছনের প্রধান কারণ

নাহার গ্রুপের বিকাশ বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।

প্রথমত, প্রতিষ্ঠানটি একবারে বিশাল মূলধন নিয়ে শুরু হয়নি। ছোট খামার থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আয় পুনরায় ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, পোল্ট্রির একটি মাত্র স্তরে সীমাবদ্ধ না থেকে প্যারেন্ট স্টক, হ্যাচারি, বাচ্চা, খাদ্য, নিজস্ব খামার ও খামারি সেবাকে একই উৎপাদনশৃঙ্খলে আনা হয়েছে।

তৃতীয়ত, পোল্ট্রির পাশাপাশি ডেইরি, মাছ, গবাদিপশুর খাদ্য ও উদ্যানকৃষিতে বিনিয়োগ করে ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। ফলে কোনো একটি খাতে সংকট দেখা দিলে পুরো প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে থেমে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমেছে।

চতুর্থত, ২০০৪ সালে আমদানি করা বাচ্চার মৃত্যু, ব্যাংকঋণ না পাওয়া, বার্ড ফ্লু, বাচ্চার বাজারমূল্য পতন, খাদ্যের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডিমের বাজারে অস্থিরতার মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

পঞ্চমত, লোহমান ব্রিডার্সের মতো আন্তর্জাতিক জাত উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে উন্নত প্যারেন্ট স্টক, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং কারিগরি জ্ঞান গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য নাহারের শিক্ষা

নাহার গ্রুপের ইতিহাস থেকে নতুন উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে ছোট উদ্যোগ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে। শুধু বড় শেড তৈরি কিংবা বেশি মুরগি কিনলেই সফলতা আসে না। বাজার, খাদ্য, রোগনিয়ন্ত্রণ, বাচ্চার মান, হিসাবরক্ষণ এবং বিপণন—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, বিপর্যয়কে ব্যবসার সমাপ্তি হিসেবে না দেখে ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা। ২৬ হাজার আমদানি করা প্যারেন্ট স্টক বাচ্চার মৃত্যু এবং বার্ড ফ্লুর মতো বড় ধাক্কা অতিক্রম করেও নাহার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তবে নতুন উদ্যোক্তাদের নাহারের বর্তমান আকার অনুকরণ না করে প্রতিষ্ঠানটির ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল অনুসরণ করা উচিত। প্রথমে ছোট পরিসরে মানসম্মত উৎপাদন, সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং স্থায়ী বাজার তৈরি করে পরে সম্প্রসারণ করাই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

শেষ কথা

একজন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের ৩০০টি মুরগি পালনের উদ্যোগ আজ পোল্ট্রি, হ্যাচারি, ডেইরি, খাদ্য, মাছ ও উদ্যানকৃষির সমন্বিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নাহার গ্রুপের এই যাত্রার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শামসুন নাহার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমান টুটুল। বর্তমানে পরিচালক তানজিব জাওয়াদ রহমানসহ পরিবারের নতুন প্রজন্মও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে।

১৯৯৮ সালে প্যারেন্ট স্টক পালন, ২০০৫ সালে প্রথম হ্যাচারি, ২০১৩ সালে লোহমান এলএসএল লাইট প্যারেন্ট স্টক স্থাপন এবং পরবর্তী সময়ে আধুনিক খাদ্য কারখানা ও বৃহৎ ডেইরি গড়ে তোলা—প্রতিটি ধাপ প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক বিবর্তনের অংশ।

২০২৬ সালে লোহমান ব্রিডার্সের সঙ্গে যৌথভাবে ‘১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম’ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কারিগরি আলোচনার আয়োজন প্রমাণ করে, নাহার এখন শুধু অধিকসংখ্যক বাচ্চা, ডিম কিংবা খাদ্য উৎপাদন নয়; দীর্ঘ উৎপাদনকাল, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও টেকসই খামার ব্যবস্থাপনার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে এই লক্ষ্য বাস্তবে সফল করতে হলে উন্নত জাতের পাশাপাশি খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মানসম্মত খাদ্য, রোগনিয়ন্ত্রণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন ও আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছ প্রকাশ, পণ্যের মান রক্ষা, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং খামারিবান্ধব সেবা অব্যাহত রাখতে পারলে নাহার গ্রুপ ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

তথ্যসূত্র

১. নাহার এগ্রোর প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট—প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, পরিচালনা পর্ষদ ও পণ্যসংক্রান্ত তথ্য।
২. লোহমান ব্রিডার্স—বাংলাদেশে নাহার এগ্রোর লোহমান এলএসএল লাইট প্যারেন্ট স্টক কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রতিবেদন।
৩. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড—নাহার এগ্রোর প্রতিষ্ঠা, সম্প্রসারণ, উৎপাদন ও বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদন।
৪. নাহার এগ্রো ও লোহমান ব্রিডার্স আয়োজিত ২৪ আগস্ট ২০২৬-এর অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র।
৫. অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা, অতিথি ও আয়োজকদের বক্তব্য থেকে সংগৃহীত তথ্য।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

ক্যাডেটরা হতে চলছে গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কাণ্ডারী

যে ৬০টি ভুল করলে খামার শুরু করার আগেই শেষ!

জার্মান সফররত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জার্মানের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ নিয়ে গবেষণা ও বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান

গরু পালনে কম খরচে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার উপায়

বর্ষাকালে মুরগির কলিব্যাসিলোসিস (E. coli) রোগ: কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, প্রতিকার ও প্রতিরোধ।।

আম রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার মৎস্য রপ্তানি বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সমুদ্রে অতিআহরণ নিয়ন্ত্রণে বিধিবদ্ধ পদক্ষেপ নেবে সরকার

বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ত্রাণ বিতরণ