RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Thursday , 27 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি সহায়তার আশ্বাস//মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রীর

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 27, 2026 9:44 am

উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারি সহায়তার আশ্বাস মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রীর।।

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ), বুধবার, ১১ ভাদ্র (২৬ আগস্ট): খামারিদের উৎপাদিত দুধ, মাংস ও অন্যান্য প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কেন্দ্র স্থাপনে সরকার সহায়তা দেবে বলেও তিনি জানান।

বুধবার গজারিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সুফলভোগী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এই প্রশিক্ষণে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার চরাঞ্চলের সুফলভোগীরা অংশ নেন।

উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না খামারিরা

মন্ত্রী বলেন, দেশের খামারিরা পরিশ্রম করে দুধ, মাংস, ডিমসহ বিভিন্ন প্রাণিসম্পদ পণ্য উৎপাদন করলেও অনেক সময় সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থার অভাবে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

তিনি বলেন, “এ সমস্যা সমাধানে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। উৎপাদন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ—প্রতিটি পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”

স্থানীয়ভাবে ছোট প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে খামারিরা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন প্রাণিসম্পদ পণ্য সংরক্ষণ ও মূল্য সংযোজনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সারের কৃত্রিম সংকট বরদাশত করা হবে না

দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই সারের সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। পর্যাপ্ত সার থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সময়ে সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকের কাছে সময়মতো উপকরণ পৌঁছাতে না পারলে উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। তাই সরবরাহব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষক কার্ডে সংরক্ষিত হবে উৎপাদন ও উপকরণের তথ্য

কৃষি খাতের কার্যকর পরিকল্পনার জন্য কৃষকের উৎপাদনসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সরকারের কাছে থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোন এলাকায় কত জমিতে কোন ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, কী পরিমাণ সার ও বীজ প্রয়োজন এবং উৎপাদিত পণ্যের স্থানীয় ও জাতীয় চাহিদা কত—এসব তথ্যের ভিত্তিতে সরকারকে আগাম পরিকল্পনা করতে হবে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন, জমি, ফসল এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে সরকার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হলে প্রথমে কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, “যিনি মাছ চাষ করেন, গরু পালন করেন, দুধ উৎপাদন ও বিক্রি করেন কিংবা পান চাষ করেন—তিনিও কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষির সঙ্গে যুক্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে।”

খাস জলাশয়ে তৈরি হবে মাছের অভয়াশ্রম

দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়াতে খাস জলাশয়ে পরিকল্পিত অভয়াশ্রম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এসব অভয়াশ্রম মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে। বর্ষা মৌসুমে সেখান থেকে মাছ বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

তবে মাছের অভয়াশ্রম রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে স্থানীয় জনগণ, মৎস্যজীবী ও প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানিকারক দেশ হওয়ার লক্ষ্য

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে রাখা যাবে না। আগামী দিনে দেশকে কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে।

এ জন্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সুফলভোগীদের মধ্যে বকনা গরু ও প্রাণিখাদ্য বিতরণ

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুন্সীগঞ্জ-৩ (মুন্সীগঞ্জ সদর–গজারিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খান এবং পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম।

এ সময় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এম. এ. জলিল, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রকল্পের সুফলভোগী খামারিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ২৫ জন সুফলভোগী প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২৫টি বকনা গরু ও প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্য বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ১০০ জন কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে উন্নত জাতের ৫০০টি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ফুলদী নদীর খালে রুইজাতীয় মাছের ২৮৬ কেজি পোনা অবমুক্ত করেন।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত