পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও আলোচিত ১০টি বাণিজ্যিক কুকুর প্রজনন খামার।।
ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

পৃথিবীর গরু, মুরগি বা শূকরের খামারের মতো কুকুর প্রজনন খামারের কোনো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং নেই। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান মোট কুকুর, প্রজননক্ষম মাদি, বছরে জন্ম নেওয়া বাচ্চা ও বিক্রির হিসাব প্রকাশ করে না। একই খামারে কুকুরের সংখ্যা বছরভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। ফলে নিচের ক্রমটি কোনো আনুষ্ঠানিক “বিশ্ব র্যাঙ্কিং” নয়। সরকারি নথি, আদালতের দলিল, প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন এবং প্রাণিকল্যাণ সংস্থার প্রকাশিত সর্বোচ্চ কুকুরসংখ্যার ভিত্তিতে তালিকাটি সাজানো হয়েছে।
এখানে পোষা কুকুর বিক্রির খামারের পাশাপাশি গবেষণাগারের জন্য বিশেষভাবে বিগল উৎপাদনকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও রাখা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলোকে সফল ব্যবসার অনুসরণীয় উদাহরণ হিসেবে নয়; বরং বৃহৎ কুকুর প্রজননশিল্পের আকার, ব্যবসা, ঝুঁকি, নৈতিক প্রশ্ন এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বোঝার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
১. মার্শাল বায়োরিসোর্সেস বা মার্শাল ফার্মস—যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নর্থ রোজ এলাকায় অবস্থিত মার্শাল বায়োরিসোর্সেস বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী বাণিজ্যিক গবেষণা-কুকুর প্রজনন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটি আগে মার্শাল ফার্মস নামে বেশি পরিচিত ছিল। আশির বেশি বছর ধরে তাদের কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীনে তাদের প্রাণী উৎপাদন কার্যক্রম রয়েছে। তারা প্রধানত গবেষণাগারের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যের বিগল কুকুর উৎপাদন করে; পাশাপাশি ফেরেট, বিড়াল ও ক্ষুদ্রাকৃতির শূকরও সরবরাহ করে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য হলো নিবন্ধিত “মার্শাল বিগল”। গবেষণার ফল তুলনাযোগ্য রাখার জন্য এসব কুকুরের বয়স, ওজন, স্বাস্থ্য, রোগমুক্ত অবস্থা ও বংশগত বৈশিষ্ট্য যথাসম্ভব একই ধরনের রাখার চেষ্টা করা হয়। ওষুধের নিরাপত্তা পরীক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা, পশুচিকিৎসার ওষুধ এবং বিভিন্ন জৈব-চিকিৎসাবিষয়ক কাজে এগুলো বিক্রি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তাদের বৈশ্বিক বিগল উৎপাদনকেন্দ্রগুলো আইএসও ৯০০১:২০১৫ মান অনুসরণ করে এবং প্রাণীকল্যাণসংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও রয়েছে। মার্শাল বায়োরিসোর্সেসের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি
কুকুরের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলোর সংগৃহীত নথিতে কোনো কোনো সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোয় প্রায় ১৮ হাজার থেকে ২৩ হাজার কুকুর থাকার দাবি পাওয়া যায়। এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা কঠিন; তাই এগুলোকে আনুমানিক সর্বোচ্চ হিসাব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তা সত্ত্বেও স্থাপনার বিস্তৃতি, বহুদেশীয় কার্যক্রম এবং গবেষণাগারে কুকুর সরবরাহের পরিমাণ বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে।
মার্শালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিকল্যাণ বিতর্ক রয়েছে। প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো খাঁচায় আবদ্ধ রাখা, পর্যাপ্ত সামাজিক যোগাযোগের অভাব এবং চিকিৎসার জন্য কুকুর বিক্রির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নতুন ওষুধ, টিকা এবং চিকিৎসাপদ্ধতির নিরাপত্তা যাচাইয়ে প্রাণী গবেষণা এখনো গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের কুকুর আইন ও নির্ধারিত কল্যাণনীতি অনুযায়ী পরিচর্যা করা হয়।
মার্শালের ইতিহাস দেখায়, বড় কুকুর প্রজনন ব্যবসা শুধু বাচ্চা উৎপাদন নয়; এটি বংশতথ্য, রোগনিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যমান, পরিবহন ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকব্যবস্থার সমন্বিত শিল্প। একই সঙ্গে এত বড় প্রাণীগোষ্ঠী একটি প্রতিষ্ঠানে রাখলে স্বচ্ছতা, স্বাধীন তদারকি এবং প্রতিটি কুকুরের শারীরিক ও মানসিক কল্যাণ নিশ্চিত করা কত কঠিন—সেটিও এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে চলা বিতর্ক থেকে স্পষ্ট।
২. এনভিগো আরএমএসের কাম্বারল্যান্ড বিগল খামার—যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের কাম্বারল্যান্ড কাউন্টিতে অবস্থিত এনভিগো আরএমএসের বিগল প্রজননকেন্দ্রটি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক গবেষণা-কুকুর উৎপাদন স্থাপনাগুলোর একটি ছিল। এনভিগো মূলত ওষুধ ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য প্রাণী এবং সংশ্লিষ্ট সেবা সরবরাহ করত। ২০২১ সালে ইনোটিভ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এনভিগোকে অধিগ্রহণ করে। কাম্বারল্যান্ড কেন্দ্রে হাজার হাজার বিগল প্রজনন করে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, ওষুধ কোম্পানি ও বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো হতো।
২০২২ সালে কেন্দ্রটিতে প্রায় চার হাজার বিগল ছিল। এত বড় সংখ্যক কুকুর একই স্থানে রাখার জন্য আলাদা প্রজনন ইউনিট, বাচ্চা প্রসবের ঘর, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচিতি নম্বর ও পরিবহনব্যবস্থা প্রয়োজন হতো। বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ছিল পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উৎপাদনের একটি বিশাল ব্যবস্থা। কিন্তু সরকারি পরিদর্শনে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার তথ্য উঠে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের পরিদর্শকেরা অপর্যাপ্ত পশুচিকিৎসা, কমসংখ্যক কর্মী, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অতিরিক্ত তাপ, অপর্যাপ্ত খাদ্য এবং অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসায় ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা নথিভুক্ত করেন। বিচার বিভাগের তদন্তে কিছু কুকুরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়া এবং অনুমোদিত পদ্ধতি না মেনে মেরে ফেলার অভিযোগও আসে। ২০২২ সালে আদালতের সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় চার হাজার বিগল ছেড়ে দিতে সম্মত হয়। পরে উদ্ধারকারী সংগঠনগুলো কুকুরগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও পরিবারের কাছে পাঠায়।
২০২৪ সালে এনভিগো আরএমএস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রাণিকল্যাণ আইন এবং পরিবেশবিষয়ক অপরাধের অভিযোগে দোষ স্বীকার করে। আদালতের সমঝোতায় মোট ৩৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা ও সংশোধনমূলক ব্যয়ের ব্যবস্থা করা হয়—যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণিকল্যাণসংক্রান্ত মামলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক দণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটিকে কাম্বারল্যান্ডে কুকুর প্রজনন ও বিক্রি থেকেও বিরত রাখা হয়। মামলার বিস্তারিত—যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
এনভিগোর ঘটনা বড় বাণিজ্যিক প্রজননব্যবস্থার মৌলিক দুর্বলতা প্রকাশ করে। কাগজে লাইসেন্স, নিয়মিত উৎপাদন এবং বড় গ্রাহকগোষ্ঠী থাকলেও প্রতিটি প্রাণীর চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত না হলে পুরো ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। এখানে প্রায় চার হাজার কুকুর থাকার সরকারি ও আদালতসমর্থিত তথ্য পাওয়া যায়। সেই নথিভুক্ত সর্বোচ্চ সংখ্যার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে।
এই খামার থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কুকুরের সংখ্যা বাড়ানোর আগে প্রশিক্ষিত কর্মী, পর্যাপ্ত পশুচিকিৎসক, রোগ শনাক্তকরণ, জরুরি চিকিৎসা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাধীন পরিদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন বাড়িয়ে পরিচর্যার ক্ষমতা অতিক্রম করলে খামারটি ব্যবসা নয়, প্রাণিকল্যাণ সংকটে পরিণত হয়।
৩. রিডগ্লান ফার্মস—উইসকনসিন, যুক্তরাষ্ট্র
রিডগ্লান ফার্মস যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ব্লু মাউন্ডস এলাকায় প্রতিষ্ঠিত একটি বৃহৎ বিগল প্রজনন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ছয় দশক ধরে এখানে গবেষণাগারে ব্যবহারের জন্য বিগল কুকুর উৎপাদন করা হতো। ১৯৬০-এর দশকে কার্যক্রম শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অল্প কয়েকটি প্রধান গবেষণা-কুকুর সরবরাহকারীর একটিতে পরিণত হয়।
প্রকাশ্য নথিতে সময়ভেদে দুই হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত বিগল থাকার তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রজননক্ষম মাদি, পুরুষ কুকুর, দুগ্ধপোষ্য বাচ্চা, বেড়ে ওঠা কুকুর এবং গবেষণায় ব্যবহৃত প্রাণী—বিভিন্ন শ্রেণিতে কুকুর রাখা হতো। বিগল শান্ত স্বভাবের, তুলনামূলকভাবে ছোট এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হওয়ায় গবেষণাশিল্পে এ জাতটির চাহিদা বেশি। রিডগ্লান সেই নির্দিষ্ট বাজারকে কেন্দ্র করেই কয়েক দশক ব্যবসা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কুকুরের আবাসন, সামাজিক যোগাযোগ, চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে চোখের “চেরি আই” সমস্যার চিকিৎসা কারা করতেন এবং তা পশুচিকিৎসা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না—এ নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়। প্রাণী অধিকারকর্মীরা দাবি করেন, বড় শিল্পঘরের মধ্যে কুকুরগুলো স্বাভাবিক জীবন, খোলা জায়গায় চলাচল এবং মানুষের সঙ্গ থেকে বঞ্চিত ছিল। প্রতিষ্ঠানটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিল, তাদের কুকুর সুস্থ ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পরিদর্শনের আওতায় পরিচালিত হয়েছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে আইনি চাপ, আন্দোলন এবং প্রাণিকল্যাণ সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার পর রিডগ্লান কুকুর প্রজনন ও গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রায় দুই হাজার বিগলকে ধাপে ধাপে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। ২০২৬ সালে অবশিষ্ট কুকুরগুলোও বিভিন্ন উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে। ডেন কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের রিডগ্লান-সংক্রান্ত তথ্য
রিডগ্লানের অবস্থান নির্ধারণে সর্বোচ্চ নথিভুক্ত কুকুরসংখ্যা প্রধান বিবেচ্য হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে প্রায় তিন হাজার এবং বন্ধ হওয়ার সময় প্রায় দুই হাজার কুকুর থাকার কথা বলা হয়। সংখ্যার এই পার্থক্য সময়ের ব্যবধানের কারণে। তাই তিন হাজারকে স্থায়ী সংখ্যা নয়, বরং কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে ধারণ করা আনুমানিক সর্বোচ্চ সংখ্যা বলা নিরাপদ।
রিডগ্লান দেখিয়েছে, দীর্ঘদিন বৈধ লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা স্থায়ী নয়। কুকুরের ব্যবহার, আবাসন ও মানসিক কল্যাণ সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে পুরোনো ব্যবসায়িক মডেল চাপে পড়ে। বাংলাদেশের কোনো উদ্যোক্তা কুকুর প্রজননকেন্দ্র করতে চাইলে এখান থেকে শিক্ষা হলো—শুধু আইনি অনুমোদন যথেষ্ট নয়; জনসাধারণের আস্থা, উন্মুক্ত পরিদর্শন, চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ নথি এবং কুকুরের স্বাভাবিক আচরণ প্রকাশের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
৪. গ্রিন হিল ২০০১ বিগল প্রজননকেন্দ্র—ইতালি
ইতালির ব্রেসিয়া প্রদেশের মনতিচিয়ারি এলাকায় অবস্থিত গ্রিন হিল ২০০১ ছিল ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা-কুকুর প্রজননকেন্দ্র। এটি মার্শাল বায়োরিসোর্সেসের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতো। মূল ব্যবসা ছিল গবেষণাগারের জন্য বিগল উৎপাদন করে ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে সরবরাহ করা। বিভিন্ন সূত্রে বছরে প্রায় তিন হাজার বিগল উৎপাদনের সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে।
গ্রিন হিলের উৎপাদনব্যবস্থা সাধারণ পোষা কুকুরের খামারের চেয়ে আলাদা ছিল। এখানে জাতের বাহ্যিক সৌন্দর্য বা প্রদর্শনী সাফল্যের পরিবর্তে নির্দিষ্ট বয়স, ওজন, স্বাস্থ্যমান এবং গবেষণার উপযোগী তুলনামূলক অভিন্নতার ওপর জোর দেওয়া হতো। জন্মের পর প্রতিটি কুকুরকে পরিচিতি নম্বর দেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নির্দিষ্ট খাদ্য এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পরিবহনের ব্যবস্থা ছিল ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০১২ সালে প্রাণী অধিকারকর্মীদের আন্দোলন ও সরকারি তদন্তের পর প্রতিষ্ঠানটিতে বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়। প্রায় ২,৫০০ বিগল জব্দ করে পরে পরিবার ও উদ্ধারকারী সংগঠনের কাছে দেওয়া হয়। তদন্তে কুকুরের অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু, চিকিৎসার ঘাটতি এবং প্রাণীর সঙ্গে অগ্রহণযোগ্য আচরণের অভিযোগ আসে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ব্যবস্থাপক ও সংশ্লিষ্ট পশুচিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ইতালির আদালত কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা ও অযৌক্তিকভাবে কুকুর হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আপিল আদালতও মূল দণ্ড বহাল রাখে। গ্রিন হিল মামলার আদালত-পরবর্তী বিবরণ
গ্রিন হিলের কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। মামলাটি ইতালিতে গবেষণার জন্য প্রাণী প্রজনন ও ব্যবহারের আইন নিয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি করে। এটি দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশ হওয়া বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার গ্রাহক থাকা কোনো খামারকে প্রাণিকল্যাণ আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না।
তালিকায় গ্রিন হিলকে চতুর্থ স্থানে রাখার কারণ হলো—এর নথিভুক্ত ধারণক্ষমতা, বছরে কয়েক হাজার বিগল সরবরাহের ব্যবস্থা এবং প্রায় ২,৫০০ কুকুর একসঙ্গে জব্দ হওয়ার ঘটনা। তবে এটিকে বর্তমান সক্রিয় খামার মনে করা যাবে না। এটি একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক প্রজননকেন্দ্র।
বাংলাদেশের জন্য গ্রিন হিলের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রজনন খামারে কুকুরের মৃত্যু, চিকিৎসা, প্রজননের ব্যবধান, বাচ্চার স্বাস্থ্য এবং বিক্রির গন্তব্যের পূর্ণাঙ্গ নথি থাকতে হবে। খামারের নিজস্ব পশুচিকিৎসক থাকলেও স্বাধীন সরকারি পরিদর্শন প্রয়োজন। উৎপাদনকেন্দ্রের ভেতর জনসাধারণ বা স্বীকৃত তৃতীয় পক্ষের পর্যবেক্ষণের সুযোগ না থাকলে অনিয়ম বছরের পর বছর গোপন থাকতে পারে।
৫. এমবিআর একরস—ক্যামব্রিজশায়ার, যুক্তরাজ্য
ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজশায়ারের ওয়াইটন এলাকায় অবস্থিত এমবিআর একরস বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত বাণিজ্যিক বিগল প্রজননকেন্দ্রগুলোর একটি। এটি মার্শাল বায়োরিসোর্সেসের যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রধানত গবেষণাগারে ব্যবহারের জন্য বিগল জন্ম দেওয়া ও বড় করা হয়। পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট বয়সে কুকুরগুলো বিভিন্ন অনুমোদিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।
প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে কেন্দ্রটি বছরে প্রায় দুই হাজার বিগল উৎপাদন করতে পারে এবং কোনো কোনো সময়ে এক হাজারের বেশি কুকুর সেখানে অবস্থান করে। সরকার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট বার্ষিক উৎপাদনের সব তথ্য প্রকাশ না করায় সংখ্যাগুলো নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে খামারের আয়তন, নিয়মিত পরিবহন এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বোঝা যায়, এটি ছোট বা শখের প্রজননকেন্দ্র নয়—একটি শিল্পপর্যায়ের প্রতিষ্ঠান।
এমবিআর একরস বলছে, তাদের কুকুর আইনসিদ্ধ চিকিৎসা গবেষণার জন্য উৎপাদিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের কঠোর লাইসেন্স ও তদারকির আওতায় পরিচালিত। গবেষণায় প্রাণীর ব্যবহার এখনো নতুন ওষুধের নিরাপত্তা পরীক্ষার একটি আইনস্বীকৃত অংশ—এটাই তাদের ব্যবসার প্রধান যুক্তি। বিপরীতে আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, কুকুরগুলো খোলা পরিবেশ, স্বাভাবিক সামাজিক জীবন এবং পরিবারের সংস্পর্শ ছাড়াই বড় হচ্ছে কি না।
২০২১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির বাইরে “ক্যাম্প বিগল” নামে একটি স্থায়ী প্রতিবাদ শিবির গড়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা কুকুর উৎপাদন ও গবেষণাগারে পাঠানো বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০২২ সালে কয়েকজন কর্মী প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে কিছু বিগল নিয়ে যান; পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও মামলা হয়। ফলে এমবিআর একরস শুধু একটি খামার নয়, যুক্তরাজ্যে প্রাণী গবেষণা বনাম প্রাণীর অধিকার বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
তালিকায় প্রতিষ্ঠানটিকে পঞ্চম স্থানে রাখা হয়েছে বছরে আনুমানিক দুই হাজার কুকুর উৎপাদনের ক্ষমতা এবং একই সময়ে এক হাজারের বেশি কুকুর রাখার তথ্যের ভিত্তিতে। এটি এখনো সক্রিয়—যা গ্রিন হিল, এনভিগো বা রিডগ্লানের মতো বন্ধ প্রতিষ্ঠান থেকে একে আলাদা করে। প্রতিষ্ঠানের মূল কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের কুকুর উৎপাদনকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য, গুণমান ও প্রাণীকল্যাণের নির্ধারিত মান মেনে চলে।
এমবিআর একরসের ঘটনা দেখায়, আইনসিদ্ধ হলেই কোনো ব্যবসা নৈতিক বিতর্কের বাইরে চলে যায় না। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য শিক্ষা হলো—প্রজনন খামারের উদ্দেশ্য, ক্রেতা, প্রাণীর চূড়ান্ত ব্যবহার এবং কল্যাণনীতি প্রকাশ্যে জানাতে হবে। স্বচ্ছতা না থাকলে গোপনীয়তা থেকেই সন্দেহ ও বিরোধের জন্ম হয়।
৬. হুইসপারিং ওকস কেনেলস—পশ্চিম ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের পার্কার্সবার্গ এলাকায় অবস্থিত হুইসপারিং ওকস কেনেলস একসময় দেশটির সবচেয়ে বড় পোষা কুকুর উৎপাদনকারী খামারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে প্রধানত ড্যাশহান্ডসহ বিভিন্ন খাঁটি জাতের কুকুর বাণিজ্যিকভাবে প্রজনন করা হতো। উৎপাদিত বাচ্চাগুলো সরাসরি ক্রেতা, মধ্যস্বত্বভোগী অথবা পোষা প্রাণীর দোকানে বিক্রি করা হতো।
২০০৮ সালে কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিকল্যাণ সংগঠনগুলো সেখানে অভিযান চালালে প্রায় এক হাজার কুকুর পাওয়া যায়। এত বিপুল সংখ্যক কুকুর একক মালিকানাধীন খামারে রাখার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। কুকুরগুলো বিভিন্ন খাঁচা, পুরোনো ভবন ও অস্থায়ী আবাসনে ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক কুকুরকে নিয়মিত বাইরে বের করা বা মানুষের সঙ্গে সামাজিকভাবে মেশার সুযোগ দেওয়া হতো না। সরাসরি মারধরের প্রমাণ না থাকলেও এত কুকুরকে যথাযথভাবে পরিচর্যা করা বাস্তবে সম্ভব কি না—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
মালিক শেষ পর্যন্ত কুকুরগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে ছেড়ে দিতে সম্মত হন। বেস্ট ফ্রেন্ডস অ্যানিমেল সোসাইটি, স্থানীয় মানবিক সংগঠন ও বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল কয়েক দিনের মধ্যে কুকুরগুলো সরিয়ে নেয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা, চিকিৎসা, সামাজিকীকরণ ও নির্বীজনের পর কুকুরগুলোকে বিভিন্ন পরিবারে দত্তক দেওয়া হয়। হুইসপারিং ওকস বন্ধ হওয়ার বিবরণ
খামারটির পরিবেশগত প্রভাবও আলোচনায় আসে। বিপুল পরিমাণ কুকুরের মল-মূত্র ও বর্জ্য আশপাশের পানি ও জমিতে পড়ছিল কি না—তা নিয়ে তদন্ত হয়। এই ঘটনা দেখায়, কুকুরের খামার শুধু প্রাণিকল্যাণের বিষয় নয়; বর্জ্য, দুর্গন্ধ, পানি দূষণ, রোগজীবাণু এবং প্রতিবেশীর স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
হুইসপারিং ওকস তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে, কারণ প্রায় এক হাজার কুকুর উদ্ধারের তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে নথিভুক্ত। এটি বর্তমানে বন্ধ। তাই এটিকে সফল ও চলমান খামার হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। বরং এটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবসা বড় করার পরিণতির একটি সতর্কতামূলক উদাহরণ।
এখান থেকে নতুন উদ্যোক্তা শিখতে পারেন—খামারের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা আগে নির্ধারণ করতে হবে এবং সেটি কখনো অতিক্রম করা যাবে না। প্রতিটি কুকুরের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, ব্যায়াম, মানুষের সংস্পর্শ, চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতা দরকার। এক হাজার কুকুর রাখা আর এক হাজার কুকুরকে ভালোভাবে পালন করা এক কথা নয়। সংখ্যাকে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি করলে প্রাণিকল্যাণ, পরিবেশ এবং ব্যবসার সুনাম—তিনটিই ধ্বংস হতে পারে।
৭. ফার্নিশ কেনেলস বা ইউকে ডগ ব্রিডিং একাডেমি—উত্তর আয়ারল্যান্ড
উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি টাইরোনের ফাইভমাইলটাউন এলাকায় ডেভিড ও জনাথন হ্যামিল্টনের সঙ্গে সম্পর্কিত ফার্নিশ কেনেলস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের বৃহৎ পোষা কুকুর প্রজননকেন্দ্র হিসেবে আলোচিত। পরবর্তী সময়ে “দ্য ইউকে ডগ ব্রিডিং একাডেমি লিমিটেড” নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই ঠিকানা ও পরিচালকদের সম্পর্ক পাওয়া যায়।
বিভিন্ন সময়ের সংবাদ, প্রামাণ্যচিত্র ও প্রাণিকল্যাণ আন্দোলনে প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েকশ থেকে প্রায় ৯০০ পর্যন্ত প্রজননক্ষম কুকুর রাখার অনুমতির দাবি করা হয়েছে। তবে বর্তমান লাইসেন্সে অনুমোদিত সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং বাস্তবে উপস্থিত কুকুরের সংখ্যা এক নয়। তাই ৯০০ সংখ্যাটিকে নিশ্চিত বর্তমান পশুসংখ্যা বলা যাবে না। স্থানীয় ফারমানা ও ওমা জেলা পরিষদের ২০২৬ সালের তালিকায় ডেভিড হ্যামিল্টন এখনো নিবন্ধিত কুকুর প্রজনন প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। জেলা পরিষদের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা
উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইনে তিন বা তার বেশি প্রজননক্ষম মাদি রাখলে অথবা বছরে তিন বা তার বেশি লিটার উৎপাদন ও বিক্রি করলে লাইসেন্স নিতে হয়। আবাসন, খাবার, প্রসবের স্থান, স্বাস্থ্য, সামাজিকীকরণ, মানসিক উদ্দীপনা এবং রেকর্ড সংরক্ষণ—সবকিছুর জন্য শর্ত রয়েছে। দুই শতাধিক মাদি রাখার ব্যবস্থাও আইনি ফি কাঠামোর মধ্যে স্বীকৃত, যা বোঝায় যে অঞ্চলটিতে বড় শিল্পপর্যায়ের প্রজননকেন্দ্র আইনত পরিচালিত হতে পারে।
ফার্নিশ কেনেলসকে নিয়ে সমালোচকেরা অতিরিক্ত উৎপাদন, কুকুরের সামাজিক জীবন এবং এত বড় সংখ্যার প্রাণীর ব্যক্তিগত পরিচর্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিষ্ঠানপক্ষ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, লাইসেন্স নবায়নের আগে পরিদর্শন করা হয় এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে অনুমতি দেওয়া হয় না। অভিযোগ, প্রচারণার দাবি ও সরকারি পরিদর্শনের ফল—এই তিনটিকে তাই আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।
তালিকায় প্রতিষ্ঠানটি সপ্তম স্থানে রয়েছে প্রকাশ্যে আলোচিত লাইসেন্সধারী ধারণক্ষমতা ও কয়েক দশকের বৃহৎ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে। তবে নির্ভরযোগ্য বর্তমান পশুগণনা না থাকায় এর অবস্থান আনুমানিক।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষাটি পরিষ্কার—প্রতিটি লাইসেন্সে সর্বোচ্চ মাদি, পুরুষ কুকুর, লিটার এবং মোট কুকুরসংখ্যা লিখতে হবে। শুধু মালিকের নাম প্রকাশ যথেষ্ট নয়; পরিদর্শন প্রতিবেদন, মৃত্যুহার, রোগ, বিক্রি ও অবসরপ্রাপ্ত মাদির পুনর্বাসনও প্রকাশ করতে হবে। তাহলেই বৈধ বড় খামার ও ক্ষতিকর “পাপি মিল”-এর পার্থক্য বোঝা সম্ভব হবে।
৮. স্টোনহেঞ্জ কেনেলস—আইওয়া, যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট পয়েন্ট এলাকায় স্টিভ ক্রুসের পরিচালিত স্টোনহেঞ্জ কেনেলস কয়েক দশক ধরে দেশটির অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কুকুর প্রজনন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজের খামারে বাচ্চা উৎপাদন করত না; অন্যান্য প্রজননকারীর কাছ থেকে কুকুর সংগ্রহ করে দোকান ও ব্যবসায়িক ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের সঙ্গেও যুক্ত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় পরিদর্শন নথি নিয়ে করা অনুসন্ধানে কোনো কোনো সময়ে সেখানে প্রায় ৭০০ কুকুর থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এই সংখ্যা স্থায়ী নয়, তবে প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ নথিভুক্ত আকার বোঝায়। এত বড় কার্যক্রম চালাতে প্রজননকেন্দ্র, বাচ্চা রাখার ইউনিট, পরিবহন, নথিভুক্তকরণ এবং পাইকারি ক্রেতার একটি বিস্তৃত যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।
স্টোনহেঞ্জ কেনেলস বহুবার বিতর্কে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের পরিদর্শকেরা পশুচিকিৎসায় বিলম্ব, অসুস্থ বা আহত কুকুরের যথাযথ পরিচর্যা না করা এবং পরিদর্শনসংক্রান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। প্রাণিকল্যাণ সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘদিন ধরে দেশের সমস্যাপূর্ণ বৃহৎ প্রজনন ব্যবসার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নতুন একজনের নামে নেওয়া হয় বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে পুরোনো লাইসেন্সের অধীনে জমা হওয়া অনিয়মের ইতিহাস নতুন লাইসেন্সের নথিতে দৃশ্যমান না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়। জমি ও ভবনের মালিকানা এবং কার্যক্রমের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ আগের মালিকের সঙ্গে কতটা যুক্ত—তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রকাশ্য প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো কোনো সময়ে সর্বোচ্চ ৭০০ কুকুর ছিল। স্টোনহেঞ্জ কেনেলসের লাইসেন্স পরিবর্তনসংক্রান্ত প্রতিবেদন
প্রতিষ্ঠানটি তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে প্রধানত নথিভুক্ত সর্বোচ্চ পশুসংখ্যা এবং দীর্ঘদিনের পাইকারি সরবরাহ কার্যক্রমের কারণে। এটি দেখায়, বড় কুকুর ব্যবসা শুধু একটি খামারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; উৎপাদক, দালাল, পরিবহনকারী, পোষা প্রাণীর দোকান এবং অনলাইন বিক্রেতা মিলিয়ে একটি দীর্ঘ সরবরাহশৃঙ্খল তৈরি হয়।
বাংলাদেশে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক কুকুর প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু খামার নয়, দালাল ও বিক্রয়কেন্দ্রকেও নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি কুকুরের মাইক্রোচিপ নম্বর থেকে মা-বাবা, জন্মস্থান, পরিবহনকারী এবং চূড়ান্ত বিক্রেতা শনাক্ত করা সম্ভব হতে হবে। মালিক বা লাইসেন্সের নাম বদলালেই আগের অনিয়মের ইতিহাস মুছে যাওয়া উচিত নয়।
৯. ড্যানিয়েল জিঙ্গেরিচের বহু-স্থানের প্রজনন ব্যবসা—আইওয়া, যুক্তরাষ্ট্র
ড্যানিয়েল জিঙ্গেরিচের কুকুর প্রজনন ব্যবসাটি একটি একক খামারের পরিবর্তে আইওয়া অঙ্গরাজ্যের একাধিক স্থানে ছড়িয়ে থাকা বাণিজ্যিক কার্যক্রম ছিল। ২০১৯ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের লাইসেন্স পান। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক কুকুর সংগ্রহ, প্রজনন ও বিভিন্ন পোষা প্রাণীর দোকানে বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসাটি বড় হয়ে ওঠে।
সরকারি নথিতে তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন স্থান থেকে ৫০০-এর বেশি কুকুর ও বাচ্চা উদ্ধার বা আত্মসমর্পণের তথ্য রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদালতের মাধ্যমে ৫০০-এর বেশি কুকুর হস্তান্তর নিশ্চিত করে। চূড়ান্ত হিসাবে ৫১৪টি কুকুর আত্মসমর্পণের তথ্য পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক প্রজননক্ষম কুকুর, অসুস্থ প্রাণী এবং ছোট বাচ্চা ছিল।
পরিদর্শকেরা অল্প সময়ের মধ্যে দুই শতাধিক প্রাণিকল্যাণ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল চিকিৎসাবিহীন আঘাত, অসুস্থ কুকুর, জট পাকানো লোম, প্রয়োজনের তুলনায় ছোট খাঁচা, অপর্যাপ্ত পানি এবং মৃত কুকুর পড়ে থাকা। পরিস্থিতি গুরুতর হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
শেষ পর্যন্ত বিচার বিভাগ হস্তক্ষেপ করলে জিঙ্গেরিচ তার লাইসেন্স সমর্পণ এবং ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় লাইসেন্স প্রয়োজন হয় এমন কুকুর ব্যবসা থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকতে সম্মত হন। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণিকল্যাণ আইনের অধীনে লাইসেন্সধারী প্রজননকারীর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপগুলোর একটি। জিঙ্গেরিচের ৫০০-এর বেশি কুকুর হস্তান্তর—যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
তালিকায় এই ব্যবসাকে নবম স্থানে রাখার কারণ হলো, একাধিক স্থানে থাকা সত্ত্বেও কুকুরগুলো একই ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সরকারি প্রক্রিয়ায় ৫০০-এর বেশি কুকুরের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছে। তবে এটি এখন বন্ধ এবং মালিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ।
ঘটনাটি প্রমাণ করে, দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। পর্যাপ্ত কর্মী, চিকিৎসা ও আবাসন ছাড়াই শত শত কুকুর সংগ্রহ করলে রোগ, অপুষ্টি, আঘাত এবং মৃত্যুর ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জেলায় একাধিক খামার থাকলে সেগুলো আলাদা নয়, সমন্বিত মালিকানার অধীন মোট ধারণক্ষমতা হিসেবে গণনা করতে হবে। অন্যথায় ছোট ছোট লাইসেন্সের আড়ালে বিশাল অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা গড়ে উঠতে পারে।
১০. ব্যাংকসিয়া পার্ক পাপিজ—অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলস অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাংকসিয়া পার্ক পাপিজ এই তালিকার অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভিন্ন। এটি গবেষণাগারের জন্য নয়, প্রধানত পরিবারে পোষার জন্য কুকুর উৎপাদন ও বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, তাদের পরিবার তিন প্রজন্ম এবং ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে কুকুর প্রজননের সঙ্গে যুক্ত। পুরোনো প্রচারণায় ৭০ বছরের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ক্যাভুডল, স্পুডল ও মিনি-গ্রুডলের মতো সংকর পোষা কুকুরের জন্য পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ায় এসব ছোট ও মাঝারি আকারের পরিবারবান্ধব কুকুরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ওয়েবসাইটে বাচ্চার জন্মতারিখ, লিঙ্গ, সম্ভাব্য আকার, বাবা-মায়ের পরিচয়, মাইক্রোচিপ নম্বর, টিকা এবং মূল্য প্রকাশ করা হয়। কোনো কোনো কুকুরের মূল্য কয়েক হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার।
ব্যাংকসিয়া পার্ক জানায়, তাদের বাচ্চাগুলো পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা, টিকা, কৃমিনাশক প্রয়োগ, মাছি নিয়ন্ত্রণ এবং মাইক্রোচিপ করার পর বিক্রি করা হয়। সামাজিকীকরণের জন্য আলাদা কর্মী রাখার দাবিও প্রতিষ্ঠানটি করে। অবসরপ্রাপ্ত মা-বাবা কুকুরকে নতুন পরিবারে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। ব্যাংকসিয়া পার্ক পাপিজের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য
তবে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে মোট কতটি মাদি, পুরুষ ও বাচ্চা রাখে—তার যাচাইযোগ্য পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না। ফলে এটিকে নির্দিষ্ট কুকুরসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বের দশম বৃহত্তম বলা যাবে না। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কারণ হলো—দীর্ঘ ইতিহাস, একাধিক প্রজনন সম্পত্তি, ধারাবাহিক অনলাইন বিক্রি, বহু জাতের সংকর কুকুর উৎপাদন এবং পোষা কুকুরের বাজারে বড় বাণিজ্যিক উপস্থিতি।
এ ধরনের “ডিজাইনার” সংকর জাত নিয়ে স্বাস্থ্যগত প্রশ্নও রয়েছে। শুধু দুটি জনপ্রিয় জাতের সংকর হলেই বাচ্চা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগমুক্ত হয় না। মা-বাবার হাঁটু, নিতম্ব, চোখ, হৃদ্যন্ত্র ও বংশগত রোগের পরীক্ষা প্রয়োজন। ক্রেতার উচিত কেবল সুন্দর ছবি বা “কম লোম পড়ে” ধরনের প্রচারণা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মূল স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেখা।
ব্যাংকসিয়া পার্কের ইতিবাচক দিক হলো—বাচ্চার পরিচয়, মূল্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা অনলাইনে তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা। তবে বড় প্রতিষ্ঠান মূল্যায়নে নিজস্ব প্রচারণাই যথেষ্ট নয়; সরকারি পরিদর্শন, মৃত্যুহার, প্রজননের ব্যবধান এবং অবসরপ্রাপ্ত মাদির অবস্থাও জানতে হবে।
তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত তালিকা
| ক্রম | প্রতিষ্ঠান | দেশ | প্রকাশ্য নথিতে পাওয়া আকার | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| ১ | Marshall BioResources | যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ | আনুমানিক ১৮–২৩ হাজার কুকুরের দাবি | সক্রিয় |
| ২ | Envigo Cumberland | যুক্তরাষ্ট্র | প্রায় ৪,০০০ বিগল | বন্ধ |
| ৩ | Ridglan Farms | যুক্তরাষ্ট্র | প্রায় ২,০০০–৩,০০০ বিগল | ২০২৬ সালে বন্ধ |
| ৪ | Green Hill 2001 | ইতালি | প্রায় ২,৫০০ কুকুর জব্দ; বছরে প্রায় ৩,০০০ উৎপাদনের দাবি | বন্ধ |
| ৫ | MBR Acres | যুক্তরাজ্য | বছরে প্রায় ২,০০০; একই সময়ে ১,০০০-এর বেশি থাকার দাবি | সক্রিয় |
| ৬ | Whispering Oaks Kennels | যুক্তরাষ্ট্র | প্রায় ১,০০০ কুকুর | বন্ধ |
| ৭ | Furnish Kennels | উত্তর আয়ারল্যান্ড | কয়েকশ; সর্বোচ্চ প্রায় ৯০০-এর লাইসেন্স-দাবি | নিবন্ধিত কার্যক্রম রয়েছে |
| ৮ | Stonehenge Kennels | যুক্তরাষ্ট্র | কোনো কোনো সময়ে প্রায় ৭০০ | পরিবর্তিত লাইসেন্সে কার্যক্রম |
| ৯ | Daniel Gingerich operation | যুক্তরাষ্ট্র | ৫১৪ কুকুর আত্মসমর্পণ | বন্ধ ও নিষিদ্ধ |
| ১০ | Banksia Park Puppies | অস্ট্রেলিয়া | বর্তমান মোট সংখ্যা প্রকাশিত নয় | সক্রিয় |
গবেষণার চূড়ান্ত মূল্যায়ন
বড় কুকুর প্রজনন খামারের সফলতা কখনো শুধু কুকুর বা বাচ্চার সংখ্যা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং দেখতে হবে—প্রতিটি মাদি কতবার বাচ্চা দিচ্ছে, বংশগত রোগ পরীক্ষা হচ্ছে কি না, কুকুরের ব্যায়াম ও সামাজিকীকরণের সুযোগ আছে কি না, অসুস্থ প্রাণী কত দ্রুত চিকিৎসা পাচ্ছে এবং অবসরপ্রাপ্ত কুকুর কোথায় যাচ্ছে।
এই তালিকার দশটির মধ্যে অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠানই কোনো না কোনো সময়ে প্রাণিকল্যাণ বিতর্কে জড়িয়েছে; কয়েকটি আদালতের নির্দেশে বন্ধ হয়েছে। অতএব “সবচেয়ে বড়” হওয়া আর “সবচেয়ে ভালো” হওয়া এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত আদর্শ হবে অল্পসংখ্যক কুকুর নিয়ে নিবন্ধিত, স্বাস্থ্যপরীক্ষাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও প্রাণিকল্যাণসম্মত প্রজননকেন্দ্র—যেখানে প্রতিটি কুকুরকে উৎপাদনের যন্ত্র নয়, অনুভূতিসম্পন্ন প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তথ্যসূত্র
১. Marshall BioResources—প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, বিগল উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রম।
২. U.S. Department of Justice—Envigo-এর প্রায় ৪,০০০ বিগল উদ্ধার, মামলা ও জরিমানার তথ্য।
৩. Dane County Sheriff’s Office ও Associated Press—Ridglan Farms বন্ধ ও কুকুর পুনর্বাসন।
৪. LAV Italy ও Science—Green Hill প্রজননকেন্দ্রের মামলা ও আদালতের রায়।
৫. Best Friends Animal Society—Whispering Oaks থেকে প্রায় ১,০০০ কুকুর উদ্ধার।
৬. U.S. Department of Justice—Daniel Gingerich-এর ৫০০-এর বেশি কুকুর হস্তান্তর ও নিষেধাজ্ঞা।
৭. Fermanagh and Omagh District Council—উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রজননকেন্দ্রের লাইসেন্স।
৮. Banksia Park Puppies—প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও প্রজনন কার্যক্রম।
৯. USDA ও Animal Legal & Historical Center—বাণিজ্যিক কুকুর প্রজনন আইন ও তদারকি।
১০. Polgár et al. (2019)—খামার বা কেনেলে রাখা কুকুরের কল্যাণবিষয়ক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা।
দ্রষ্টব্য: বিশ্বে কুকুরের খামারের কোনো স্বীকৃত “শীর্ষ ১০” তালিকা নেই; প্রকাশ্য তথ্য ও নথিভুক্ত কুকুরসংখ্যার ভিত্তিতে তালিকাটি সাজানো হয়েছে।






















