RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Monday , 7 September 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

বাংলাদেশে জারা ঘাস চাষের ইতিহাস, সম্ভাবনা ও পরিচর্যা।।

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
September 6, 2026 5:07 pm

বাংলাদেশে জারা ঘাস চাষের ইতিহাস, সম্ভাবনা ও পরিচর্যা।।

উচ্চ ফলনশীল এই ঘাসের বৈশিষ্ট্য, চাষপদ্ধতি, রোগবালাই।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

বাংলাদেশে গবাদিপ্রাণি পালনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হচ্ছে সারা বছর পর্যাপ্ত, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী সবুজ ঘাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে দুগ্ধ ও গরু মোটাতাজাকরণ খামারে খাদ্য ব্যয় মোট উৎপাদন খরচের বড় অংশ দখল করে। দানাদার খাদ্যের দাম বাড়ায় খামারিদের কাছে দ্রুত বর্ধনশীল ও বারবার কাটা যায়—এমন ঘাসের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

দেশের খামারিদের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ঘাসগুলোর মধ্যে জারা ঘাস অন্যতম। এই ঘাসের বাংলাদেশে আগমনের ইতিহাস যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি এর নামকরণ এবং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন থেকে আনা মাত্র ৪০টি কাটিং থেকে শুরু হওয়া জারা ঘাস এখন দেশের বহু জেলার গবাদিপ্রাণি খামারে চাষ হচ্ছে।

কিন্তু ঘাসটি জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর নাম নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো কাটিং বিক্রেতা একে ‘জারা-১’, ‘জারা হাইব্রিড’, ‘চায়না জারা’ বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক নামে প্রচার করছেন। অথচ ঘাসটির প্রবর্তক ডাঃ জহিরুল ইসলাম এর নাম দিয়েছিলেন শুধু ‘জারা ঘাস’—নামের আগে বা পরে কোনো সংখ্যা, দেশ কিংবা ‘হাইব্রিড’ শব্দ ছিল না।

জারা ঘাসের বাংলাদেশে আগমন, নামকরণ, প্রাথমিক বংশবিস্তার, গণমাধ্যমে প্রচার এবং খামারিদের কাছে কাটিং পৌঁছানোর পুরো ঘটনাপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছেন কৃষি সাংবাদিক ও গবেষক ড. বায়েজিদ মোড়ল। তাঁর মাঠপর্যায়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং বিদ্যমান কৃষিতথ্যের আলোকে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।


বাংলাদেশে জারা ঘাসের আগমন

বাংলাদেশে জারা ঘাস নিয়ে আসেন ডাঃ জহিরুল ইসলাম। তিনি চীন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ঘাসটির মাত্র ৪০টি কাটিং দেশে নিয়ে আসেন। সেই সময় বাংলাদেশে ঘাসটি পরিচিত ছিল না এবং এর কোনো বাণিজ্যিক বাজারও গড়ে ওঠেনি।

ডাঃ জহিরুল ইসলাম চীনে প্রশিক্ষনে গিয়ে এই ঘাসটি পাহাড়ের পাশে হতে দেখেন। সেখানের এক চীনা বন্ধুর সহযোগিতায় ৪০টি কাটিং আনেন। বিমান বন্দরে এই কাটিংগুলো বীজ হিসেবে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয। তখন ডাঃ জহির সবার সামনে একটি স্টিক আখের মতো খেয়ে দেখান আর বলেন আমি এ গুলো খাবো, আমার খাবার। তখন মিস্কি হেসে অনুমতি দেয় চীনের বিমান বন্দরে কর্মরত অফিসার। আর সেই ঘাস এখন বাংলাদেশের গরুর খামার জগতের সবচেয়ে ভাল ঘাস।

চীন থেকে নিয়ে আসা কাটিংগুলো দেশে রোপণ করার পর সেগুলোর অভিযোজন, বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে অল্পসংখ্যক কাটিং হওয়ায় খুব সতর্কতার সঙ্গে মাতৃগাছ তৈরি এবং নতুন কাটিং উৎপাদনের কাজ করতে হয়েছিল। একটি কাটিং থেকে গাছ, সেই গাছ থেকে একাধিক কাণ্ড এবং পরবর্তীতে সেসব কাণ্ড থেকে আরও কাটিং—এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে রোপণসামগ্রীর সংখ্যা বাড়ানো হয়।

মাত্র ৪০টি কাটিং থেকে দেশের অসংখ্য খামারে ঘাসটির বিস্তার কোনো একদিনের ঘটনা নয়। এর পেছনে ছিল দীর্ঘ সময়ের বংশবিস্তার, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা, প্রচার, খামারিদের আগ্রহ এবং এক খামারি থেকে অন্য খামারির কাছে কাটিং পৌঁছে দেওয়ার সম্মিলিত প্রক্রিয়া।


‘জারা’ নামকরণের ইতিহাস

জারা ঘাসের নামকরণের ইতিহাসটি শুধু একটি ঘাসের নামকরণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ডাঃ জহিরুল ইসলামের পারিবারিক আবেগ।

‘জারা’ ডাঃ জহিরুল ইসলামের মেয়ের নাম। চীন থেকে আনা ঘাসটি বাংলাদেশে রোপণ ও বংশবিস্তার করার পর তিনি নিজের মেয়ে জারা’র নাম অনুসারে এর নাম দেন ‘জারা ঘাস’

ডাঃ জহিরুল ইসলাম ঘাসটির নাম শুধু জারা ঘাস রেখেছিলেন। তিনি এর নামের আগে বা পরে কোনো সংখ্যা, দেশ, প্রজন্ম কিংবা ‘হাইব্রিড’ শব্দ যুক্ত করেননি। সুতরাং ঘাসটির প্রবর্তকের দেওয়া প্রকৃত ও মৌলিক নাম হচ্ছে—“জারা ঘাস”

পরবর্তী সময়ে ঘাসটির চাহিদা বাড়লে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এর কাটিং বিক্রি শুরু করে। বাজারে নিজেদের কাটিংকে আলাদা, নতুন বা অধিক ফলনশীল হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য কোনো কোনো বিক্রেতা ‘জারা-১’, ‘জারা হাইব্রিড’, ‘চায়না জারা’, ‘অরিজিনাল জারা’ কিংবা এ ধরনের বিভিন্ন নাম ব্যবহার করতে থাকেন। ফলে খামারিদের মধ্যে নামগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

কিন্তু নামের সঙ্গে ‘১’, ‘হাইব্রিড’ বা অন্য কোনো বিশেষণ যুক্ত করলেই সেটি আলাদা জাত হয়ে যায় না। নতুন কোনো জাত দাবি করতে হলে প্রয়োজন হয়—

  • জাতটির নির্ভরযোগ্য উৎস ও বংশপরিচয়;
  • মাতৃ ও পিতৃলাইনের তথ্য;
  • বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ;
  • অন্যান্য জাতের সঙ্গে তুলনামূলক মাঠপরীক্ষা;
  • পুষ্টিমান ও উৎপাদনক্ষমতার পরীক্ষাগার প্রতিবেদন;
  • সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বা নিবন্ধন।

এসব তথ্য ছাড়া শুধু বিক্রির সুবিধার জন্য নাম পরিবর্তন করা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে খামারিরা একই ঘাসকে ভিন্ন জাত মনে করে বেশি দামে কাটিং কিনতে পারেন।

জারা ঘাসের ইতিহাস শুরু থেকে প্রত্যক্ষ করা ড. বায়েজিদ মোড়লের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘাসটির মূল ও যথার্থ নাম জারা ঘাস। প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশে তাই এই নামটিই ব্যবহার করা হয়েছে।


‘জারা’ ঘাস দেশব্যাপী জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ড. বায়েজিদ মোড়লের ভূমিকা

জারা ঘাসের বাংলাদেশে আগমন এবং দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠা—দুটি আলাদা পর্যায়। ডাঃ জহিরুল ইসলাম ঘাসটি চীন থেকে নিয়ে এসে এর প্রাথমিক বংশবিস্তার করেন। কিন্তু নতুন এই ঘাস সম্পর্কে দেশের সাধারণ খামারিদের জানানোর জন্য প্রয়োজন ছিল ব্যাপক প্রচার, মাঠপ্রতিবেদন এবং কাটিং সংগ্রহের বাস্তব সহযোগিতা।

এই পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কৃষি সাংবাদিক ও গবেষক ড. বায়েজিদ মোড়ল

শুরু থেকেই প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ততা

জারা ঘাসের বাংলাদেশে প্রাথমিক বংশবিস্তার, মাঠে বেড়ে ওঠা, কাটিং তৈরি এবং খামারিদের কাছে পৌঁছানোর ঘটনাগুলো ড. বায়েজিদ মোড়লের চোখের সামনে ঘটেছে। ঘাসটির ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর তথ্য কোনো বিক্রেতার প্রচারণা বা শোনা কথার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তিনি শুরু থেকেই পুরো প্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষক ও সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

তিনি ঘাসটির মাঠপর্যায়ের ফলাফল দেখেছেন, ডাঃ জহিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রোপণ থেকে কাটাই পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায় পর্যবেক্ষণ করেছেন।

‘সবুজ বাংলা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রচার

ড. বায়েজিদ মোড়ল গাজী টেলিভিশনের জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘সবুজ বাংলা’–এর মাধ্যমে জারা ঘাস সম্পর্কে প্রচার শুরু করেন।

টেলিভিশন প্রতিবেদনে তিনি—

  • জারা ঘাসের বাংলাদেশে আগমনের ঘটনা;
  • ডাঃ জহিরুল ইসলামের ভূমিকা;
  • ঘাসটির নামকরণের ইতিহাস;
  • কাটিং নির্বাচনের নিয়ম;
  • রোপণ ও পরিচর্যাপদ্ধতি;
  • ঘাস কাটার সময়;
  • পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা;
  • মাঠপর্যায়ে ঘাসটির বৃদ্ধি—

দেশের কৃষক ও খামারিদের সামনে তুলে ধরেন।

টেলিভিশন তখন দেশের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক ও খামারিদের কাছে নতুন কৃষিপ্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। ‘সবুজ বাংলা’ অনুষ্ঠানে প্রচারের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খামারিরা প্রথমবারের মতো জারা ঘাস সম্পর্কে জানতে এবং কাটিং সংগ্রহে আগ্রহী হতে শুরু করেন।

Agriculture News-এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্রচার

টেলিভিশনের পাশাপাশি ড. বায়েজিদ মোড়ল তাঁর ইউটিউব চ্যানেল Agriculture News–এর মাধ্যমে জারা ঘাসের চাষাবাদ নিয়ে ধারাবাহিক ভিডিও ও মাঠপ্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

ভিডিও প্রতিবেদনে শুধু ঘাসের প্রশংসা করা হয়নি; বরং খামারিদের বোঝার সুবিধার জন্য মাঠে দাঁড়িয়ে দেখানো হয়েছে—

  • পরিপক্ব কাটিং কীভাবে নির্বাচন করতে হয়;
  • একটি কাটিংয়ে কয়টি গিট রাখা দরকার;
  • কাটিং কোন দিকে ও কত গভীরে লাগাতে হয়;
  • গাছ থেকে কীভাবে নতুন কাটিং তৈরি করতে হয়;
  • কতদিন পর ঘাস কাটতে হয়;
  • কাটার পর জমির পরিচর্যা কীভাবে করতে হয়;
  • গবাদিপশুকে কীভাবে কুচি করে খাওয়াতে হয়।

ভিডিওগুলো অনলাইনে থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ যেকোনো সময় সেগুলো দেখতে পেরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার হওয়ার ফলে জারা ঘাস সম্পর্কে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

কাটিং পেতে খামারিদের সহযোগিতা

জারা ঘাস সম্পর্কে প্রচার হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য খামারি ড. বায়েজিদ মোড়লের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের প্রধান প্রশ্ন ছিল—জারা ঘাসের আসল কাটিং কোথায় পাওয়া যাবে?

ড. বায়েজিদ মোড়ল আগ্রহী খামারিদের বিশ্বস্ত উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছেন। কোথায় কাটিং পাওয়া যেতে পারে, কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা উচিত, কাটিং পরিবহনের সময় কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সংগ্রহের পর কীভাবে রোপণ করতে হবে—এসব বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়েছেন।

এখনো দেশের কোনো এলাকার খামারি জারা ঘাসের কাটিং সংগ্রহে সমস্যায় পড়লে তিনি যথাসাধ্য বিশ্বস্ত উৎসের সন্ধান দেওয়ার চেষ্টা করেন।

সহযোগিতার বিনিময়ে কখনো অর্থ গ্রহণ করেননি

জারা ঘাসের প্রচার, খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ, কাটিংয়ের উৎস খুঁজে দেওয়া এবং চাষাবাদের পরামর্শ দেওয়ার বিনিময়ে ড. বায়েজিদ মোড়ল কখনো কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেননি।

তিনি নিজে জারা ঘাসের কাটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং এখনো নেই। কোনো বিক্রেতার কাছ থেকে কমিশন কিংবা কোনো খামারির কাছ থেকে পারিশ্রমিক না নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ কৃষক ও খামারিদের স্বার্থে এই সহযোগিতা করে আসছেন।

তাঁর লক্ষ্য ছিল এবং এখনো রয়েছে—

  • খামারিদের মানসম্মত সবুজ ঘাস উৎপাদনে উৎসাহিত করা;
  • পশুখাদ্যের ব্যয় কমাতে সহযোগিতা করা;
  • ভুল তথ্য ও প্রতারণা থেকে খামারিদের সতর্ক করা;
  • নতুন কৃষিপ্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া;
  • বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খামারিদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।

এখনো দেশব্যাপী মাঠে কাজ করছেন

জারা ঘাস জনপ্রিয় হওয়ার পরও ড. বায়েজিদ মোড়ল তাঁর দায়িত্ব শেষ হয়েছে বলে মনে করেননি। তিনি এখনো দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা ঘুরে গবাদি খামার পরিদর্শন করছেন এবং খামারিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন।

মাঠপর্যায়ে তিনি খামারিদের—

  • জমি নির্বাচন;
  • কাটিং যাচাই;
  • রোপণপদ্ধতি;
  • আগাছা নিয়ন্ত্রণ;
  • সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা;
  • কাটার উপযুক্ত সময়;
  • রোগবালাই শনাক্তকরণ;
  • পশুকে নিরাপদে খাওয়ানো;
  • উদ্বৃত্ত ঘাস সংরক্ষণ—

সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

এটি কেবল একটি ঘাসের প্রচারণা নয়; বরং দেশের খামারিদের পাশে থেকে গবাদিপ্রাণিখাদ্যের টেকসই সমাধান তৈরির একটি চলমান জনসেবামূলক উদ্যোগ।


জারা ঘাসের বৈজ্ঞানিক পরিচয়

জারা ঘাসের স্থানীয় নাম এবং বাংলাদেশে এর ইতিহাস জানা গেলেও ঘাসটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক বা জাতগত পরিচয় এখনো স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

গাছের আকৃতি, কাণ্ড, পাতা ও বংশবিস্তারের ধরন দেখে অনেকেই একে নেপিয়ার বা অন্যান্য বৃহদাকৃতির বহুবর্ষজীবী ঘাসের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু শুধু বাহ্যিক গঠন দেখে কোনো ঘাসের বৈজ্ঞানিক পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না।

ঘাসটি সত্যিই কোনো নির্দিষ্ট হাইব্রিড কি না, সেটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন—

  • উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ;
  • ক্রোমোজোম পরীক্ষা;
  • ডিএনএ বারকোডিং বা জেনেটিক বিশ্লেষণ;
  • পরিচিত ঘাসের জাতগুলোর সঙ্গে তুলনা;
  • একাধিক মৌসুম ও অঞ্চলে ফলন পরীক্ষা;
  • পুষ্টি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণ।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো স্বীকৃত গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই পরীক্ষা করা গেলে জারা ঘাসের বৈজ্ঞানিক পরিচয় স্থায়ীভাবে নথিবদ্ধ করা সম্ভব হবে।


জারা ঘাসের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও খামারিদের অভিজ্ঞতায় জারা ঘাসের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

দ্রুত বৃদ্ধি

উপযুক্ত মাটি, পানি ও পুষ্টি পেলে ঘাসটি দ্রুত বাড়ে। কাটার পর গোড়া থেকে নতুন কুশি বের হয় এবং পুনরায় ঘাস সংগ্রহ করা যায়।

লম্বা ও মোটা কাণ্ড

জারা ঘাসের কাণ্ড তুলনামূলক লম্বা ও মোটা হতে পারে। গাছ অতিরিক্ত বয়সী হয়ে গেলে কাণ্ড শক্ত ও আঁশযুক্ত হয়। তাই শুধু বেশি ওজন পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন মাঠে রাখা উচিত নয়।

প্রচুর কুশি উৎপাদনের সম্ভাবনা

গাছ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিচর্যা ভালো হলে গোড়া থেকে একাধিক কুশি বের হয়। এই কুশিগুলোই পরবর্তী ফলনের প্রধান ভিত্তি।

কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশবিস্তার

জারা ঘাস সাধারণত কাণ্ডের গিটযুক্ত কাটিং দিয়ে বিস্তার করা হয়। এ কারণে প্রতিবেদনে ‘বীজ’ শব্দের পরিবর্তে কাটিং বা রোপণসামগ্রী ব্যবহার করাই অধিক যুক্তিসংগত।

বারবার কাটা যায়

একবার জমি ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে কয়েক বছর পর্যন্ত ঘাস পাওয়া যেতে পারে। তবে কত বছর অর্থনৈতিকভাবে ফলন পাওয়া যাবে তা মাটি, সার, রোগবালাই, কাটার উচ্চতা ও পরিচর্যার ওপর নির্ভর করবে।

গবাদিপশুর উপযোগী

কচি ও পাতাবহুল অবস্থায় কেটে কুচি করে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াকে খাওয়ানো যায়। বয়স বেশি হলে কাণ্ড শক্ত হওয়ায় গবাদিপ্রাণি কিছু অংশ ফেলে দিতে পারে।

ফলন ও পুষ্টিমান ব্যবস্থাপনানির্ভর

বিভিন্ন প্রচারণায় অত্যন্ত বেশি ফলন ও প্রোটিনের দাবি করা হলেও সব দাবি পরীক্ষাগার বা গবেষণায় যাচাই করা হয়নি। একই ঘাসের পুষ্টিমানও কাটার বয়স, সার, পানি, মৌসুম এবং মাটির কারণে পরিবর্তিত হয়।


জারা ঘাস চাষপদ্ধতি

জমি নির্বাচন

উঁচু অথবা মাঝারি উঁচু, রোদযুক্ত এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত জমি নির্বাচন করতে হবে। দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি উপযোগী। ভারী মাটিতেও চাষ করা যায়, তবে নালা তৈরি করা জরুরি।

যে জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে, সেখানে গোড়া ও কাটিং পচে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।

রোপণের সময়

সেচের সুবিধা থাকলে বছরের বিভিন্ন সময়ে রোপণ করা যায়। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়—

  • ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল;
  • বর্ষা শুরুর সময় মে থেকে জুলাই—

রোপণের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক।

অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, প্রচণ্ড খরা বা তীব্র শীতের সময় নতুন কাটিং প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।

জমি প্রস্তুত

জমি কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হবে। আগের ফসলের গোড়া ও বহুবর্ষজীবী আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। শেষ চাষের সময় ভালোভাবে পচানো গোবর বা কম্পোস্ট মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া উপকারী।

নিচু জমিতে উঁচু বেড ও পানি বের হওয়ার নালা তৈরি করতে হবে।

কাটিং নির্বাচন

রোগমুক্ত ও পরিপক্ব মাতৃগাছ থেকে কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি কাটিংয়ে সাধারণত কমপক্ষে দুটি সুস্থ গিট বা চোখ থাকা ভালো।

কাটিং যেন—

  • শুকিয়ে না যায়;
  • পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত না হয়;
  • ছত্রাকের দাগ না থাকে;
  • অতিরিক্ত কচি না হয়;
  • রোগাক্রান্ত ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা না হয়।

রোপণের দূরত্ব

মাটির উর্বরতা ও পরিচর্যাপদ্ধতি অনুসারে সাধারণভাবে—

  • সারি থেকে সারি প্রায় ২–৩ ফুট;
  • কাটিং থেকে কাটিং প্রায় ১.৫–২ ফুট—

দূরত্ব রাখা যেতে পারে।

ঘন করে রোপণ করলে প্রথমদিকে জমি দ্রুত ঢেকে গেলেও পরে আলো-বাতাস কমে রোগ বাড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত দূরত্ব রাখলে জমির পূর্ণ ব্যবহার হয় না।

কাটিং রোপণের নিয়ম

কাটিং কাত করে বা মাটির সঙ্গে কিছুটা শোয়ানো অবস্থায় রোপণ করা যায়। অন্তত একটি গিট আর্দ্র মাটির নিচে রাখতে হবে। খুব গভীরে পুঁতলে কাটিং পচে যেতে পারে এবং খুব ওপরে থাকলে শুকিয়ে যেতে পারে।

রোপণের পর হালকা সেচ দিতে হবে। জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

শূন্যস্থান পূরণ

রোপণের ১০–১৫ দিন পর জমি পরীক্ষা করতে হবে। যে জায়গায় চারা বের হয়নি, সেখানে নতুন সুস্থ কাটিং লাগিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে।


সার ব্যবস্থাপনা

মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক পদ্ধতি। সব জমিতে একই পরিমাণ সার দেওয়া উচিত নয়।

সাধারণভাবে—

  • জমি প্রস্তুতের সময় পচানো গোবর বা কম্পোস্ট;
  • মাটির চাহিদা অনুযায়ী ফসফরাস, পটাশ ও সালফার;
  • প্রতিবার কাটার পর ভাগ করে নাইট্রোজেন সার;
  • সার দেওয়ার পর প্রয়োজনমতো সেচ—

দেওয়া যেতে পারে।

অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার করলে গাছ দ্রুত বাড়লেও কাণ্ড নরম হওয়া, গাছ হেলে পড়া, রোগবালাই বৃদ্ধি এবং নাইট্রেট জমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অনুমানের ভিত্তিতে বেশি সার না দিয়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত।


সেচ ও পানি নিষ্কাশন

কাটিং প্রতিষ্ঠার সময় মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে মাটির অবস্থা দেখে সেচ দিতে হবে। নির্দিষ্ট দিন গুনে সেচ না দিয়ে মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করা ভালো।

বর্ষায় নালা পরিষ্কার রাখতে হবে। পানি জমলে—

  • শিকড় দুর্বল হয়;
  • কাটিং ও গোড়া পচে যায়;
  • পাতায় হলদে ভাব দেখা দেয়;
  • ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সমস্যা বাড়ে;
  • নতুন কুশি উৎপাদন কমে যায়।

আগাছা নিয়ন্ত্রণ ও গোড়ায় মাটি দেওয়া

রোপণের প্রথম ৩০–৪৫ দিন আগাছা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা দুইবার নিড়ানি দিতে হবে।

প্রথম বা দ্বিতীয় কাটাইয়ের পর সারির দুই পাশ থেকে মাটি তুলে গোড়ায় দিলে—

  • গাছ শক্তভাবে দাঁড়ায়;
  • নতুন শিকড় বের হয়;
  • কুশি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে;
  • পানি জমে থাকার ঝুঁকি কমে;
  • গাছ হেলে পড়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

জারা ঘাস কাটার নিয়ম

প্রথম কাটার সময় শুধু দিন গণনা না করে গাছের প্রতিষ্ঠা, কুশির সংখ্যা, উচ্চতা ও কাণ্ডের কোমলতা বিবেচনা করতে হবে। সাধারণ পরিস্থিতিতে রোপণের প্রায় ৬০–৭৫ দিন পর প্রথম কাটাই করা নিরাপদ হতে পারে।

পরবর্তী সময়ে মৌসুম ও বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৩৫–৫০ দিন অন্তর কাটা যেতে পারে। শীত বা খরায় বৃদ্ধির সময় বেশি লাগতে পারে।

খুব কম বয়সে বারবার কাটলে গাছের শিকড়ে খাদ্যসঞ্চয় কমে যায়। আবার বেশি বয়সে কাটলে—

  • কাণ্ড শক্ত হয়;
  • আঁশ বেড়ে যায়;
  • হজমযোগ্যতা কমে;
  • পশু কাণ্ড ফেলে দেয়;
  • খাদ্যের অপচয় বাড়ে।

মাটি থেকে আনুমানিক ১০–১৫ সেন্টিমিটার ওপরে ধারালো দা বা যন্ত্র দিয়ে কাটলে অবশিষ্ট গোড়া থেকে নতুন কুশি বের হওয়ার সুযোগ থাকে। একেবারে মাটির সমান করে কাটলে নতুন বৃদ্ধির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


পশুকে খাওয়ানোর নিয়ম

জারা ঘাস সবুজ খাদ্যের উৎস হলেও একে গবাদিপ্রাণির সম্পূর্ণ বা একমাত্র খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। গবাদিপ্রাণির জাত, বয়স, শরীরের ওজন, দুধ উৎপাদন এবং শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে সুষম রেশন তৈরি করতে হবে।

খাওয়ানোর সময় করণীয়

  • নতুন ঘাস অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন।
  • ঘাস ১–২ ইঞ্চি আকারে কুচি করুন।
  • খড়, দানাদার খাদ্য ও খনিজের সঙ্গে সমন্বয় করুন।
  • পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি দিন।
  • কাদা, পচা বা ছত্রাকযুক্ত ঘাস খাওয়াবেন না।
  • বৃষ্টিভেজা ঘাস কিছুক্ষণ ছায়ায় রেখে পানি ঝরিয়ে দিন।
  • হঠাৎ অতিরিক্ত কচি ঘাস খাওয়াবেন না।
  • অতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োগ করা বা খরার পর দ্রুত বেড়ে ওঠা ঘাস সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করুন।

উদ্বৃত্ত জারা ঘাস উপযুক্ত পর্যায়ে কেটে সাইলেজ করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তবে সাইলেজ তৈরির সময় সঠিক আর্দ্রতা এবং সম্পূর্ণ বায়ুরোধী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।


জারা ঘাসের রোগবালাই ও প্রতিকার

জারা ঘাসের নিজস্ব রোগবালাই নিয়ে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা নেই। তাই শুধু লক্ষণ দেখে রোগের নাম নিশ্চিত করা ঠিক নয়।

কাটিং ও গোড়া পচা

লক্ষণ: কাটিং কালো ও নরম হওয়া, দুর্গন্ধ সৃষ্টি, নতুন চারা না বের হওয়া এবং গোড়া সহজে উঠে আসা।

প্রতিকার:

  • আক্রান্ত কাটিং তুলে নষ্ট করুন।
  • জমির পানি বের করে দিন।
  • অতিরিক্ত সেচ বন্ধ করুন।
  • সুস্থ কাটিং দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করুন।
  • পরবর্তী রোপণে উঁচু বেড ব্যবহার করুন।

পাতায় দাগ ও পাতা ঝলসানো

লক্ষণ: পাতায় বাদামি, কালো বা ধূসর দাগ; দাগ বড় হয়ে পাতা শুকিয়ে যাওয়া।

প্রতিকার:

  • আক্রান্ত পাতা ও গাছের অংশ সরিয়ে ফেলুন।
  • অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার বন্ধ করুন।
  • জমিতে আলো-বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন।
  • ওপর থেকে ঘনঘন পানি দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • রোগ নির্ণয়ের পর প্রয়োজন হলে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন।

মরিচা রোগ

লক্ষণ: পাতার নিচে কমলা, হলুদ বা মরিচার মতো গুঁড়া দেখা যায়। পরে পাতা শুকিয়ে যেতে পারে।

প্রতিকার:

  • আক্রান্ত অংশ কেটে জমির বাইরে সরান।
  • আক্রান্ত ক্ষেত থেকে কাটিং সংগ্রহ করবেন না।
  • সুষম সার ব্যবহার করুন।
  • রোগ বেশি হলে উদ্ভিদ রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

পাতা পোড়া বা আগা শুকানো

পাতা পোড়া সবসময় ছত্রাকের কারণে হয় না। পটাশের ঘাটতি, খরা, লবণাক্ততা, অতিরিক্ত সার বা সার সরাসরি গোড়ায় পড়লেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কারণ নিশ্চিত না হয়ে ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত নয়।

পাতা খেকো পোকা

ঘাসফড়িং, শুঁয়োপোকা বা অন্যান্য পাতা খেকো পোকা পাতায় ছিদ্র বা কাটা দাগ তৈরি করতে পারে।

প্রতিকার:

  • নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করুন।
  • ডিম ও শুঁয়োপোকা হাত দিয়ে সংগ্রহ করুন।
  • জমির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন।
  • পাখি ও উপকারী পোকা সংরক্ষণ করুন।
  • প্রয়োজন হলে অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করুন।

খাদ্যঘাসে ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা

জারা ঘাস সরাসরি গবাদি প্রাণিকে খাওয়ানো হয়। তাই রোগ বা পোকা দমনের জন্য ব্যবহার করা ছত্রাকনাশক, কীটনাশক কিংবা অন্য রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ ঘাসের মাধ্যমে প্রাণির শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব দুধ ও মাংসের নিরাপত্তা এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে। এ কারণে খাদ্যঘাসে বালাইনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

রোগের প্রকৃত কারণ শনাক্ত না করে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত নয়। শুধু পাতায় দাগ বা আগা শুকানো দেখলেই ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা যাবে না; কারণ পুষ্টির ঘাটতি, জলাবদ্ধতা কিংবা অতিরিক্ত সারেও একই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। প্রয়োজন হলে কৃষি কর্মকর্তা বা উদ্ভিদ রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

কেবল অনুমোদিত বালাইনাশক নির্ধারিত মাত্রায় ও লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। স্প্রে করার পর ওষুধের নির্ধারিত অপেক্ষাকাল বা নিরাপদ বিরতি শেষ হওয়ার আগে ঘাস কেটে গবাদিপ্রাণিকে খাওয়ানো বা বিক্রি করা যাবে না। ওষুধের নাম, প্রয়োগের তারিখ, মাত্রা ও নিরাপদ কাটাইয়ের তারিখ লিখে রাখা এবং বিক্রির সময় ক্রেতাকে বিষয়টি জানানো নিরাপদ দুধ ও মাংস উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


জারা ঘাসের পুষ্টিমান

জারা ঘাসের প্রচারণায় প্রায়ই অত্যন্ত বেশি ফলন ও প্রোটিন থাকার দাবি করা হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এসব দাবির সঙ্গে স্বীকৃত পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন, নমুনা সংগ্রহের সময়, ঘাস কাটার বয়স, পরীক্ষাপদ্ধতি কিংবা ফলাফল কাঁচা ঘাস না শুষ্ক পদার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত—এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ থাকে না। ফলে শুধু প্রচারণামূলক তথ্যের ভিত্তিতে ঘাসটির প্রকৃত পুষ্টিমান ও উৎপাদনক্ষমতা নির্ধারণ করা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

জারা ঘাসের পুষ্টিমান যাচাইয়ের জন্য স্বীকৃত পরীক্ষাগারে শুষ্ক পদার্থ (Dry Matter), অপরিশোধিত প্রোটিন (Crude Protein), অপরিশোধিত আঁশ (Crude Fibre), NDF, ADF, ছাই বা মোট খনিজ (Ash), ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, নাইট্রেট এবং হজমযোগ্যতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি একরপ্রতি বা হেক্টরপ্রতি ফলন নির্ধারণে শুধু কাঁচা ঘাসের ওজন নয়, শুষ্ক পদার্থের মোট উৎপাদনও হিসাব করতে হবে।

ঘাসের পুষ্টিমান ও ফলন মাটির উর্বরতা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া, রোপণের ঘনত্ব এবং কাটার বয়সের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে কাণ্ড শক্ত ও আঁশযুক্ত হয়; ফলে প্রোটিনের ঘনত্ব এবং হজমযোগ্যতা কমতে থাকে। তাই একটি জমি বা একটি বয়সে পাওয়া পরীক্ষার ফল সব এলাকার জারা ঘাসের জন্য প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। একাধিক অঞ্চল ও মৌসুমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করেই এর নির্ভরযোগ্য পুষ্টিমান ও ফলন নির্ধারণ করতে হবে।


বাণিজ্যিক নামকরণ ও কাটিং বিক্রিতে সতর্কতা

জারা ঘাসের জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে দেশে কাটিংয়ের একটি বাজার গড়ে উঠেছে। এটি একদিকে ঘাসটির সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে, অন্যদিকে বিভ্রান্তিকর নাম ও অতিরঞ্জিত প্রচারণার সুযোগ তৈরি করেছে।

খামারিদের সতর্ক থাকতে হবে—

  • ‘জারা-১’ লেখা মানেই উন্নত প্রজন্ম নয়;
  • ‘হাইব্রিড’ লেখা মানেই বৈজ্ঞানিকভাবে হাইব্রিড প্রমাণিত নয়;
  • ‘অরিজিনাল’ দাবি করলেই উৎস নিশ্চিত হয় না;
  • অত্যন্ত বেশি ফলন ও প্রোটিনের দাবি যাচাই করতে হবে;
  • শুধু কাটিং বিক্রির আয় দেখিয়ে লাভের নিশ্চয়তা দিলে সতর্ক হতে হবে;
  • মাতৃগাছ ও ক্ষেত না দেখে বেশি দামে কাটিং কেনা উচিত নয়।

ডাঃ জহিরুল ইসলামের দেওয়া মূল নাম জারা ঘাস। বাণিজ্যিক প্রয়োজনে তৈরি অন্য নামকে আলাদা বা উন্নত জাত হিসেবে গ্রহণ করার আগে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ চাওয়া উচিত।

দুধের গাভী ও ষাঁড় মোটাতাজাকরণে জারা ঘাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

জারা ঘাস দ্রুত বর্ধনশীল, বারবার কাটা যায় এবং তুলনামূলক কম জমি থেকে প্রচুর সবুজ খাদ্য সরবরাহ করতে পারে। এ কারণে দুধের গাভী ও মোটাতাজাকরণে থাকা ষাঁড়ের খাদ্যব্যবস্থায় ঘাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে জারা ঘাসকে একমাত্র বা পূর্ণাঙ্গ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এর প্রকৃত উপকার নির্ভর করবে কাটার বয়স, পুষ্টিমান, হজমযোগ্যতা এবং সম্পূর্ণ রেশন কতটা সুষম—তার ওপর।

দুধের গাভীর জন্য গুরুত্ব

কচি ও পাতাবহুল জারা ঘাস গাভীর রুমেন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় আঁশ, কিছু প্রোটিন, খনিজ ও আর্দ্রতা সরবরাহ করতে পারে। নিয়মিত মানসম্মত সবুজ ঘাস খাওয়ালে খাদ্যগ্রহণ, জাবর কাটা ও হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত কার্যকর আঁশ দুধের চর্বির মাত্রা বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত দানাদার খাদ্যজনিত অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

নিজস্ব জমিতে জারা ঘাস উৎপাদন করা গেলে কেনা সবুজ ঘাস ও দানাদার খাদ্যের ওপর কিছুটা চাপ কমতে পারে। তবে শুধু জারা ঘাস বাড়িয়ে দিলেই দুধের উৎপাদন বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। দুধ উৎপাদনের জন্য গাভীর রেশনে প্রয়োজনীয় শক্তি, ব্যবহারযোগ্য প্রোটিন, খনিজ, ভিটামিন, শুকনা আঁশ ও পরিষ্কার পানির সঠিক সমন্বয় থাকতে হবে। অসম খাদ্য দিলে দুধ কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রজনন ও স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। NDDB-এর সুষম রেশন নির্দেশনা

ষাঁড় মোটাতাজাকরণে গুরুত্ব

মোটাতাজাকরণে জারা ঘাস রেশনের প্রয়োজনীয় আঁশ ও সবুজ খাদ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভালো মানের কচি ঘাস রুমেনের অণুজীবকে সক্রিয় রাখে, খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং পশুর স্বাভাবিক ক্ষুধা বজায় রাখে। ফলে দানাদার খাদ্যের পুষ্টি ভালোভাবে কাজে লাগার পরিবেশ তৈরি হয়।

কিন্তু জারা ঘাস একা খাইয়ে দ্রুত মোটাতাজাকরণ সম্ভব নয়। দৈনিক ওজন বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত শক্তি ও প্রোটিন দরকার, যা সাধারণত শুধু সবুজ ঘাস থেকে পূরণ হয় না। উন্নত দৈনিক ওজন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাড়ন্ত গরুর সম্পূর্ণ রেশনে প্রায় ১৩ শতাংশ ক্রুড প্রোটিন ও ৬৯ শতাংশ TDN প্রয়োজন হতে পারে; পশুর ওজন ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এই চাহিদা বদলায়। Mississippi State University Extension

তাই জারা ঘাসের সঙ্গে খড় বা অন্য শুকনা আঁশ, ভুসি, খৈল, শস্যজাত শক্তির উৎস, খনিজ মিশ্রণ ও লবণ যুক্ত করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে রেশন তৈরি করতে হবে।

কীভাবে খাওয়ানো ভালো

  • কচি ও পাতাবহুল অবস্থায় ঘাস কাটতে হবে।
  • এক থেকে দুই ইঞ্চি করে কুচি করলে অপচয় কমে।
  • নতুন ঘাস অল্প পরিমাণে শুরু করে ৭–১০ দিনে ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে।
  • শুধু জারা ঘাস নয়—ডালজাতীয় ঘাস, খড় ও দানাদার খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
  • পশুর ওজন, দুধের পরিমাণ ও ঘাসের শুষ্ক পদার্থ না জেনে নির্দিষ্ট কেজি নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
  • পচা, দুর্গন্ধযুক্ত, কাদামাখা বা ছত্রাক আক্রান্ত ঘাস খাওয়ানো যাবে না।
  • অতিরিক্ত ঘাস সঠিক পদ্ধতিতে সাইলেজ করে সংরক্ষণ করা যায়।

প্রাপ্তবয়স্ক গবাদিপশুর খাদ্যচাহিদা কাঁচা ঘাসের ওজন দিয়ে নয়, মূলত শুষ্ক পদার্থের ভিত্তিতে হিসাব করা উচিত। ভালো মানের forage খাওয়া গরু দৈনিক শরীরের ওজনের আনুমানিক ২–২.৫ শতাংশ শুষ্ক পদার্থ গ্রহণ করতে পারে; তবে দুগ্ধদান, উৎপাদন ও খাদ্যের মান অনুযায়ী এটি পরিবর্তিত হয়। Ohio State University Extension

বিশেষ সতর্কতা

অতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োগ, খরা, দীর্ঘদিন মেঘলা আবহাওয়া বা গাছের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে ঘাসে নাইট্রেট জমার ঝুঁকি থাকতে পারে। সন্দেহ হলে পরীক্ষাগারে নাইট্রেট পরীক্ষা না করে বেশি পরিমাণ খাওয়ানো উচিত নয়। শুষ্ক পদার্থে নাইট্রেট ১০,০০০ পিপিএমের বেশি হলে অভ্যস্ত নয় এমন পশুতে তীব্র বিষক্রিয়া হতে পারে। Merck Veterinary Manual

জারা ঘাস দুধের গাভী ও মোটাতাজাকরণের ষাঁড়—উভয়ের জন্যই একটি সম্ভাবনাময় সবুজ খাদ্য। এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো খামারে নিয়মিত ঘাস সরবরাহ এবং খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা। কিন্তু এটিকে ‘দুধ বাড়ানোর’ বা ‘দ্রুত মোটাতাজা করার’ একক খাদ্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়।

খামারিদের উচিত নিজ জমির জারা ঘাসের Dry Matter, Crude Protein, NDF, ADF, TDN এবং Nitrate পরীক্ষা করা। এরপর পশুর ওজন, দুধ উৎপাদন ও মোটাতাজাকরণের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পুষ্টিবিদের সাহায্যে সুষম রেশন তৈরি করতে হবে। সঠিক বয়সে কাটা মানসম্মত জারা ঘাস সুষম খাদ্যের অংশ হলে দুধ উৎপাদন ও স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে; কিন্তু বয়সী, শক্ত ও নিম্নমানের ঘাস বেশি দিলেই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে না।


পরামর্শ

১. অল্প জমিতে শুরু করুন

শুরুতেই বড় জমিতে বিনিয়োগ না করে ৫–১০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করুন। অন্তত কয়েকটি কাটাইয়ের ফলন ও খরচের হিসাব দেখুন।

২. বিশ্বস্ত উৎস থেকে কাটিং সংগ্রহ করুন

সুস্থ মাতৃগাছ দেখে কাটিং নিন। বিক্রেতার দেওয়া নামের পরিবর্তে গাছের স্বাস্থ্য, ফলন এবং মাঠের ইতিহাস যাচাই করুন।

৩. নামের বিভ্রান্তি থেকে সাবধান থাকুন

মূল নাম জারা ঘাস। ‘জারা-১’, ‘জারা হাইব্রিড’ বা অন্য নামে বিক্রি করা হলেই সেটি পৃথক বা উন্নত জাত হয়ে যায় না।

৪. প্রতিটি কাটাইয়ের হিসাব রাখুন

কাটার তারিখ, কাঁচা ঘাসের ওজন, সার, সেচ, শ্রম ও পরিবহনের খরচ লিখে রাখুন। এতে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় ও লাভ বোঝা যাবে।

৫. পুষ্টিমান পরীক্ষা করুন

বাণিজ্যিক দাবি বিশ্বাস না করে স্বীকৃত পরীক্ষাগারে নিজের জমির ঘাস পরীক্ষা করুন। বিশেষ করে উচ্চ উৎপাদনশীল দুগ্ধ গাভীর খাদ্য পরিকল্পনায় এটি জরুরি।

৬. শুধু জারা ঘাসের ওপর নির্ভর করবেন না

জারা ঘাসের সঙ্গে অন্যান্য ঘাস, খড়, দানাদার খাদ্য, খনিজ ও বিশুদ্ধ পানি মিলিয়ে সুষম রেশন তৈরি করুন।

৭. অপ্রয়োজনে ইউরিয়া ও ওষুধ নয়

অতিরিক্ত ইউরিয়া ফলনের নিশ্চয়তা দেয় না। একইভাবে পাতায় দাগ দেখা দিলেই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা উচিত নয়। আগে সমস্যার কারণ শনাক্ত করুন।

৮. পশুর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করুন

নতুন ঘাস দেওয়ার পর পশুর খাদ্যগ্রহণ, জাবর কাটা, পেটের অবস্থা, গোবর, দুধ উৎপাদন ও শরীরের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন।

৯. কাটিং ব্যবসার পরিবর্তে ঘাসের উৎপাদনমূল্য দেখুন

কাটিংয়ের অস্বাভাবিক দাম সাময়িক হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ঘাসটি পশুখাদ্য হিসেবে কতটা উৎপাদনশীল ও সাশ্রয়ী, সেটিই মূল বিবেচ্য।

১০. সরকারি গবেষণা ও স্বীকৃতি প্রয়োজন

জারা ঘাসের বৈজ্ঞানিক পরিচয়, পুষ্টিমান, ফলন, রোগবালাই, নিরাপত্তা এবং অঞ্চলভিত্তিক অভিযোজন নির্ধারণে রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রয়োজন।

শেষ কথা

বাংলাদেশে জারা ঘাসের ইতিহাস ব্যক্তি উদ্যোগ, পারিবারিক আবেগ, কৃষি সাংবাদিকতা এবং খামারিদের পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য ঘটনা। ডাঃ জহিরুল ইসলাম চীন থেকে মাত্র ৪০টি কাটিং এনে ঘাসটির বংশবিস্তার শুরু করেন এবং নিজের মেয়ে জারা’র নাম অনুসারে এর নাম দেন জারা ঘাস

অন্যদিকে, ড. বায়েজিদ মোড়ল শুরু থেকেই টেলিভিশনের ‘সবুজ বাংলা’ অনুষ্ঠান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম Agriculture News-এর মাধ্যমে ঘাসটির পরিচিতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেন। শুধু প্রচার নয়, তিনি বিনা পারিশ্রমিকে খামারিদের কাটিং সংগ্রহ ও চাষাবাদে সহযোগিতা করেছেন এবং এখনো মাঠপর্যায়ে সেই কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

জারা ঘাস প্রাণিখাদ্য সংকট মোকাবিলায় সম্ভাবনাময় হলেও এর নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বাণিজ্যিক প্রচারণা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘাসটির বৈজ্ঞানিক পরিচয়, প্রকৃত ফলন, পুষ্টিমান ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সরকারি গবেষণা জরুরি। ইতিহাসের যথার্থতা বজায় রেখে, বিজ্ঞানসম্মত চাষ ও সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জারা ঘাস বাংলাদেশের গবাদিপশু খাতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র

  • ডাঃ জহিরুল ইসলাম ও ড. বায়েজিদ মোড়লের প্রত্যক্ষ মাঠপর্যায়ের তথ্য ও অভিজ্ঞতা।
  • গাজী টেলিভিশনের কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সবুজ বাংলা’–তে প্রচারিত মাঠপ্রতিবেদন।
  • Agriculture News–এ প্রকাশিত জারা ঘাসের মাঠভিত্তিক ভিডিও ও সাক্ষাৎকার।
  • কৃষি তথ্য সার্ভিসের কৃষি কথা–এ প্রকাশিত জারা ঘাসবিষয়ক নিবন্ধ—তবে সেখানে ব্যবহৃত বিকল্প নামকে প্রবর্তকের দেওয়া মূল নাম হিসেবে ধরা হয়নি।
  • প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাধারণ ঘাস চাষ ও পশুখাদ্য ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

নতুন খামার করার কথা ভাবছেন

জাতিসংঘের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশে জারা ঘাস চাষের ইতিহাস, সম্ভাবনা ও পরিচর্যা।।

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা

জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ মাছ ধরা মোকাবেলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে– মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

ছাগলের দানাদার খাবারের তালিকা

মুনাফা লোভীদের কারণে ইলিশের দাম বেশি//মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে আইন লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে

প্রধানমন্ত্রীর করোনা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল বিপিআইসিসি

একটা জিনিস জোর গলায় বলতে চাই

একটি ছেলে আর একটি মেয়ে রিক্সায় করে ঘুরতে বের হয়েছে