
ডেস্ক রিপোর্ট: রামায়ণের সেই লঙ্কাকান্ড নয় যেন বাস্তবেই ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় গত রোববার ঘটেছে আরেক ভয়াবহ লঙ্কাকান্ড, যা বিধ্বস্ত করেছে দ্বীপটির শান্তি, সম্প্রীতি এবং কেড়ে নিয়েছে এ পর্যন্ত ৩৫৯ জনের প্রাণ।
শ্রীলঙ্কার তিনটি চার্চ, তিনটি অভিজাত হোটেল, কলম্বো এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে পৌছেছে, যা প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে। এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৫০০জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির পুলিশের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানায়।
নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতিও রয়েছে। এছাড়া, মিস্টার সেলিমের জামাতাও হামলায় আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ ওই হামলার জন্য দায়ী করছে ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত বা এনটিজে নামক একটি জিহাদি গোষ্ঠীকে। এ পর্যন্ত ৪০ জনকে আটক করেছে পুলিশ তবে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে নিহতদের জন্য গণ শেষকৃত্য। গণ শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে কলম্বোর উত্তরে নেগম্বো শহরে সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায়। মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৩০মিনিটে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শোক ও শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান শুরু হয়।
রোববার যে সময়ে বোমা হামলা শুরু হয়েছিলো সে সময়টিকেই নীরবতা পালনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং নীরবতা পালনের সময় মানুষ মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি। সেইসঙ্গে নিহতদের স্মরণে দেশটির নাগরিকেরা আজ তিন মিনিটের নিরবতা পালন করেছে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, এই ট্রাজেডির মুখে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা আবশ্যক। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানায় সোমবার মধ্যরাত থেকে শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা চলছে।
দেশটির স্থানীয় সময় গত রবিবার সকাল ৮ টা ৪৫ নাগাদ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উদযাপনকালে কোচকিকাদে, কাতুয়াপিটিয়া ও বাট্টিকালোয়া নামক স্থানের তিনটি গির্জায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রায় একই সময়ে দেশটির রাজধানীর অভিজাত তিনটি হোটেল সাংগ্রি লা, দ্য কিন্নামোন এবং কিংসবারিতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
শ্রীলঙ্কার সরকার বা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বোমা হামলাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় গ্রুপ জড়িত থাকলেও তারা আন্তর্জাতিক সহায়তা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হামলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, ইসলামিক স্টেট অথবা আল কায়েদা এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এরই মধ্যে এই হামলাকে সমর্থন করে আইএস জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসাবেই এই হামলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গৃহযুদ্ধ চলার সময় তামিল টাইগাররা আত্মঘাতী হামলাকে এক প্রকার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতো। সে সময় সরকারি কর্মকর্তা ও স্থাপনা লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা করা হতো। কিন্তু গির্জা এবং হোটেলে হামলার ঘটনা শ্রীলঙ্কায় একেবারে নতুন।
“দেশের ভেতরে থাকা একদল ব্যক্তি এসব হামলা করেছে এটা আমরা বিশ্বাস করি না,” কেবিনেট সেক্রেটারি রাজিথা সেনারত্নে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা বলেন। তিনি বলেন, “এখানে একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আছে, যাদের ছাড়া এ হামলা সফল হতো না”।
একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্যদের ধরতে অন্যান্য দেশের সহায়তা চেয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি, রয়টার্স
























