RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

লাল পালং পুঁই শাকের চাষাবাদ

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
জুন ১৩, ২০১৯ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
Lal Palong Pui Cultivation

Lal Palong Pui Cultivation

ড. মো. বায়েজিদ মোড়ল: শাক আমাদের অতি প্রয়োজনীয় একটি খাবার। শরীরের পুষ্টি যোগাতে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ধরণের শাক উৎপাদন হয় বাংলাদেশে। আগাছার সাথে যেমন এমনি এমনিই উৎপাদন হয় শাক, তেমনি চাষ করে উৎপাদন করা হয় বেশ কিছু শাক। এখানে লাল, পালং এবং পুঁই শাকের চাষাবাদ উল্লেখ করা হলো।

লালশাক

লাল রঙ- এর শাক দেখতে সুন্দর এবং খেতেও সুস্বাদু। লালশাক সারাবছর ধরেই উৎপন্ন করা যায় এবং এ শাকটি খুবই পুষ্টিকর এবং ক্যারটিন সমৃদ্ধ সবজি। সাধারণত লাল শাকের পাতাই সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

চাষ উপযোগী মাটি

লালশাক বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি যেখানে পানি জমে না সেসব মাটিতে ভালো জন্মে।

জাত

এদেশে সাধারণত লালশাকের স্থানীয় জাতের আবাদ হয়ে থাকে। লালশাকের জীবনকাল বীজ থেকে বীজ ১২৫-১৪০ দিন।

বীজ বোনার সময়

আমাদের দেশে এখন সারাবছর ধরেই লালশাকের আবাদ করা যায়। এছাড়া অধুনা বারি লালশাক-১ জাতের লালশাক আবাদ হয়ে আসছে।

বীজের পরিমাণ

                সারিতে বীজ বোনা হলে-

                প্রতি শতকে পরিমাণ-৬ তোলা

                প্রতি হেক্টরে পরিমাণ-১.০-১.৫ তোলা

                ছিটিয়ে বোনা হলে-

                প্রতিশতকে পরিমাণ- ১২ তোলা

                প্রতি হেক্টরে পরিমাণ- ২.০-২.৫

বীজ বপন বা বোনা

বীজ বোনার আগে জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে। লালশাকের বীজ আকারে ছোট বলে, বপনের আগে এসব বীজের সাথে শুকনো ছাই মিশিয়ে নিতে হয়। এ ছাই মিশানোর নিয়ম হচ্ছে-১ ভাগ বীজরে সাথে ৯ ভাগ ছাই। বীজ সারি বা লাইনে বপন হলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রাখতে হবে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার। এছাড়া প্রতি সারিতে ২০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে কাঠি দিয়ে ১.৫-২.০ সেন্টিমিটার গভীর করে লাল শাকের বীজ বপন করতে হয়।

সার প্রয়োগ

লালশাকের জন্য যে হারে সার প্রয়োগ করতে হয়, তাহলো- প্রতি শতকে গোবর-২০ কেজি, ইউরিয়া-৯০০ গ্রাম, টিএসপি-৩০০ গ্রাম ও এমপি ২৫০ গ্রাম। এ ফসলটি স্বল্পমেয়াদী, সেজন্য সবটুকু সারই জমি তৈরির সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। তবে শহরের আবাদকারীরা অল্প জায়গায় শুধুমাত্র গোবর সার প্রয়োগ করেই লালশাকের আবাদ করতে পারেন।

সেচ প্রয়োগ

লালশাক আবাদের জন্য জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকা আবশ্যক। তবে জমিতে অতিরিক্ত পানি হলে সাথে সাথে তা নিকাশের ব্যবস্থা নিতে হবে।

আগাছা দমন গাছ পাতলা করা

সাধারণত বৃষ্টি বা সেচের পর জমির উপরি ভাগের মাটিতে চাপ ধরে যায়। সে জন্য বৃষ্টি বা সেচের পর জমির মাটি ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। ভালো ফসল পেতে হলে জমি থেকে গাছ পাতলা করে ফেলতে হয়। এজন্য ছিটিয়ে বোনা হলে প্রতি বর্গমিটারে ১০০-১৪০ টি গাছ রাখতে হবে। সারিতে বপনকারীদের জন্য প্রতি লাইন ৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে গাছ রাখতে হবে।

রোগ দমন

মরিচা রোগ দ্বারা লাল শাক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। তবে আক্রান্ত বীজ পরিহার করে সুস্থ জমির বীজ দিয়ে ফসল আবাদ করা হলে রোগের আক্রমণ কমানো যায়।

পোকা মাকড় দমন

লালশাক শুয়ো পোকা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। সমম্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ পোকার হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করা যায়।

ফলন

লালশাকের জমিতে যে ফলন পাওয়া যায়, তাহলো-

প্রতি শতকে ফলন হয়- ২০-৩০ কেজি

প্রতি হেক্টরে ফলন হয়- ৫-৬ টন।

পালংশাক

পালংশাক একটি জনপ্রিয় ও সুস্বাদু শীতকালীন সবজি। এছাড়া এ সবজিটি ভিটামিন সমৃদ্ধ।

চাষ উপযোগী মাটি

পালংশাক সব ধরনের দো-আঁশ মাটিতে ভালো ফলন দিয়ে থাকে।

জাত

দেশি পালংশাকের কোনো উন্নত জাত নেই। এ জন্য এদেশে স্থানীয় জাতের পালংশাকের আবাদ হয়ে থাকে। এছাড়া এদেশে বেশ কিছু বিদেশি জাতেরও আবাদ হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে নবেল জায়েন্ট, ব্যানার্জি জায়েন্ট, অলগ্রীন, পুষ্প জ্যোতি। এসব পালংশাকের জীবনকাল ৪৫-৫০ দিন।

বীজ বোনার সময়

ভাদ্র-পৌষ মাস পালংশাকের বীজ বোনার বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমাণ

প্রতি শতকে বীজের পরিমাণ- ১০০-১৫০ গ্রাম

প্রতি হেক্টরে বীজের পরিমাণ- ৩০-৪০ কেজি

বীজ বপন

পালংশাকের আবাদের জন্য মাটি ঝুরঝুরে করতে হয়। বীজ জমিতে বোনার আগে ২-১ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। বপনের সময় ২০-২৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে সারি করতে হবে। এরপর প্রতি সারিতে ৪-৫ সেন্টিমিটার দূরে করে বীজ বপন করেত হবে। এছাড়া বীজ বপনের সময় জমির গভীরতা রাখতে হবে ২-৩ সেন্টিমিটার।

সার প্রয়োগ

পালংশাক আমাদের জন্য প্রতি শতকে যে হারে সার প্রয়োগ করতে হবে, তাহলো- গোবর-২০ কেজি, ইউরিয়া-৮০০ গ্রাম, টিএসপি-৩০০ গ্রাম ও এমপি ৩০০ গ্রাম। জমিতে রস থাকলে সব সার একত্রে প্রয়োগ করা যায়। তবে অন্য সময় হলে ইউরিয়া অর্ধেক রেখে দিয়ে বীজ বোনার ১০-১৫ দিন পর তা উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সেচ প্রয়োগ

জমিতে রস থাকলে পানি সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে রসের অভাব হলে জমিতে পানি সেচ দিতে হয়। এসময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন জমিতে অতিরিক্ত পানি না জমে।

গাছ পাতলা করা

চারা গজানোর ২-৩ সপ্তাহ পর থেকে কচি চারা জমি থেকে তুলে ফেলতে হয়। এসব চারা পাতলা করে দিলে এসব উঠানো চারা শাস হিসেবে খাওয়া যায় এবং সে সাথে এসব জমির ফসলও ভালো হয়।

ফলন

পালংশাকের জমিতে যে ফলন পাওয়া যায়, তাহলো-

শতক প্রতি ফলন হয়- ২০-৩০ কেজি

হেক্টর প্রতি ফলন হয়- ৬-৮ টন

পুঁইশাক

পুঁইশাক কোমল কাণ্ড ও পত্রবহুল লতানো দীর্ঘজীবী উদ্ভিদ। বাংলাদেশে তা খুবই জনপ্রিয় এবং বর্ষজীবী ফসল হিসাবে চাষ হয়ে থাকে। পুঁই অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ও ক্যালসিয়াম এবং সীমিত পরিমাণে অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজ লবণ বিদ্যমান আছে। এর পাতা, কচিডগা, অপক্ব ফল, ফুল ইত্যাদি শাক ও তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইলসে পুঁই খেতে খুবই মুখরোচক। কথায় বলে, ‘মাছের রাজা রুই, শাকের রাজা পুঁই।’

মাটি জলবায়ু

পুঁইশাকের বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট পানির প্রয়োজন হয়। তবে এ গাছ দাঁড়ানো পানি সহ্য করতে পারে না। উঁচু, দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ এ এঁটেল দো-আঁশ মাটি এবং উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে ইহা ভালো জন্মে। সুর্যালোকের অভাবে গাছ দুর্বল ও লিকলিকে এবং শীতে গাছের বৃদ্ধি ও বীজ গজানো ব্যাহত হয়।

জাত

লাল এবং সবুজ দু’জাতের পুঁই চাষ করা হয়। উভয় জাতের পাতাই পুরু  ও চওড়া এবং কাণ্ড বা ডাঁটা কোমল ও রসালো। গায়ের বর্ণ জাতের নামানুযায়ী লাল ও সবুজ হয়ে থাকে। লাল জাত বেশি পুষ্টিকর বলে কথিত আছে।

উৎপাদন  প্রযুক্তি

বারবার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করার পর জমিতে এক মিটার বা তিন ফুট পরপর ১৫-২০ সেমি. প্রশস্ত অগভীর নালা কাটতে হয় এবং নালার মাটি দু’দিকে ছড়িয়ে দিলে সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধা যুক্ত এক মিটার চওড়া বেড তৈরি হয়ে যায়। পরে মাচার ফসল বেডের মাঝ বরাবর এক সারিতে ১০০-১২০ সেমি, দূরত্বে আর ভুঁয়ে ফসল ৩৫-৪০ সেমি. দূরত্বে তিন সারিতে ২৫-৩০ সেমি. পর পর মাদা বা খুবরাীতে বীজ বপন বা চারা রোপণপূর্বক চাষ করতে হয়। ভুঁয়ে/ জমিতে ফসলের খরচ কম লাগে। বীজ ফসলের জন্য মাচায় পুঁই চাষ করা উত্তম। প্রতি মাদায় বা খুবরীতে ৪-৫টি বীজ বপন করতে হয় এবং গজানোর পর ২টি করে সুস্থ ও সবল চারা রাখলেই চলে। বীজতলায় চারা উৎপাদন বা বয়স্ক ডাঁটার শাখা কলম করেও রোপণ করা চলে। শাক আবাদরে জন্য হেক্টরে ১.৫-২.০ কেজি বীজ লাগে। বপনের আগে ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে নিলে বীজ গজাতে সুবিধা হয়। পুঁইশাক সারা বছরই চাষ করা যায়। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমেও আবাদ করা চলে।

সার ব্যবস্থাপনা

এ ফসল আবাদ করতে হলে হেক্টরপ্রতি ১০টন গোবর, ২০০ কেজি ইউরিয়া, ১০০ কেজি টিএসপি এবং ১০০ কেজি এমপি সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। গোবর ও টিএসপি সার প্রয়োগ জমি তৈরির সময়ে সুস্থ  জমিতে আর বাকি অর্ধেক চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করা ভালো। পরে ফসলের অবস্থা ও পরিবেশ বিবেচনা করে ইউরিয়া ও পটাশ সার ৩-৪ কিস্তিতে গাছের গোড়ার চারপাশে উপরিপ্রয়োগ করা চলে। তাছাড়া জমির মাটি ঝুরঝুরে ও আগাছামুক্ত রাখতে হয় এবং প্রয়োজনমতো সেচ নিষ্কাশন ও মাচার ব্যবহার করতে হয়ে।

ফসল সংগ্রহ বিপণন

চারা গজানোর ৪০-৪৫ দিন পর থেকেই ভুঁয়ে ফসলের ২০-২৫ সেমি. লম্বা ডগা পাতাসহ গোড়ার কিছুটা উপরের অংশ কেটে সংগ্রহ করা চলে। ডগা সংগ্রহের পর পুনঃপুনঃ গোড়া থেকে শাখা-প্রশাখা বের হয় যা ৫-৬টি পাতা ধারণ করলে পুনরায় সংগ্রহ করা হয়। মাচার ফসল বিলম্বে সংগ্রহ উপযোগী হয় এবং বাউনীতে লতানোর আগে সংগ্রহ করা যায় না। ডগা আঁশ আঁশ হওয়ার আগে রসাল অবস্থায় সংগ্রহ করা ও বাছাইপূর্বক আঁটি বেঁধে বিপণন করা উচিত। যথারীতি এফসল পরিচর্যা করলে ফল ধরার আগে পর্যন্ত গাছেল শাখা-প্রশাখা বিস্তার ও ফসল সংগ্রহ অব্যাহত থাকে। এতে হেক্টরপ্রতি ৫০-৬০ টন পুঁই এবং ৩০০-৫০০ কেজি বীজ জন্মে।

বীজ উৎপাদন

ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বেডের উপরে ৩০-১৫ সেমি. দূরত্বে বীজ বা চারা রোপণ করতে হয়। ডগা লতিয়ে বেশি হতে দেওয়া অনুচিত। অগ্রহায়ণ মাসে গাছের ফুল ও ফল ধরে এবং ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বীজ পাকে। মাচা করেও এ গাছে বীজ জন্মানো যায়। কিšত্ত খরচ বেশি পড়ে। তবে শাক হিসেবে কাটা গাছে ভালো বীজ জন্মে না।

সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

আলুর সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি- কৃষিমন্ত্রী

প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ ধরা ও বিক্রয় নিষিদ্ধ

ছাগলের দানাদার খাবারের তালিকা

দেশের সব মানুষের কাছে পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও সুদৃশ্য ইলিশ পৌঁছানো সরকারের লক্ষ্য -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

পোল্ট্রির বাজার ব্যবস্থায় সঠিক চর্চা না আনলে প্রান্তিক ডিম মুরগী উৎপাদন ব্যবস্থা টিকবে না।।

আগামীকাল বিশ্ব খাদ্য দিবস

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয় থেকে পাওয়া পদক

জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬’যেন যুগোপযোগী হয়, সেটিকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থানীয় পরিবেশক ও খামারিদের ক্ষমতায়নে আফতাবের কর্মসূচি- চট্টগ্রাম