মুরগী পালন
বিভিন্ন রোগ এবং চিকিৎসা

ভারতে প্রতি বছরে যে মোট মুরগীর বাচ্চা উৎপন্ন হয়, সেই বাচ্চাদের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাচ্চা প্রতি বছরই মারা যায়। মুরগীর বিভিন্ন রোগই হচ্ছে পোলট্রি ব্যবসায়ের ক্ষতির কারণস্বরূপ।
অতএব পোলট্রির পরিচালকগণকে রোগ ও প্যারাসাইট (parasite) জনিত আক্রমণের কারণ এবং লক্ষণাদি সম্বন্ধে বিশেষভাবে অবিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। নতুবা রোগ এবং প্যারাসাইট জনিত আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণে অসুবিধা হবে।
সর্তকভাবে বাচ্চা নির্বাচন, ডিমপাড়া মুরগী নির্বাচন, যথোপযুক্ত গৃহ-ব্যবস্থা প্রয়োজনমতো সুষম (balanced) খাদ্য খাওয়ানো, যথোপযুক্ত প্রতিষেধক ব্যবস্থা এবং sanitation ব্যবস্থায় রোগ ও প্যারাসাইট জনিত আক্রমণ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
কিন্তু কিছু কিছু এমন রোগ রয়েছে- যা সুষ্ঠু পরিচালন-ব্যবস্থার মাধ্যমেও প্রতিরোধ করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না।
তবে পোলট্রির উদ্যোগে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য কর্ম। রোগ নিরাময় করা অপেক্ষা রোগ না হতে দেওয়া উত্তম।
অতএব পোলট্রির মুরগীদের স্বাস্থ্যরক্ষার বিষয়ে এবং পোলট্রির সর্বত্র স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বিশেষ সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক।
নতুন কেনা বা সংগৃহীত বাচ্চাদের বা বয়স্ক মোরগ-মুরগীদের অন্ততঃ সপ্তাহ যাবৎ পৃথক স্থানে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে।
বাচ্চাদের পূর্ণবয়স্ক মুরগী বা মোরগদের সঙ্গে মিশতে দেওয়া ঠিক হবে না।
খাদ্যপাত্র, জলপাত্রাদি প্রত্যহ পরিস্কার করতে হবে।
আদ্রর্তা এবং ঘিঞ্জি অবস্থা (over crowded condition) পরিহার করতে হবে।
রোগযুক্ত মোরগ বা মুরগীর সাধারণ লক্ষণ
ক্ষুধা হ্রাস, বিষন্নতা (dullness), দৌর্বল্য (debility), গ্রাত্রতাপ বৃদ্ধি এবং ঝুঁটি ও গলার ফুলের রং ফ্যাকাসে বা বিবর্ণ হওয়া।
যে বয়সেরই মোরগ বা মুরগী হোক না- যদি দল ছাড়া হয়ে এককভাবে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকে- নিস্ক্রিয়তার লক্ষণ হিসাবে গ্রহনযোগ্য।
সাধারণ সুস্থ মুরগীর বাচ্চার গাত্রতাপ
স্বাভাবিক স্বাস্থ্যবান একটি মুরগীর বাচ্চার তাপমাত্রা (rectal temperature) ৪০’৫ থেকে ৪৩ সেন্টিগেড (১০৫ থেকে ১০৯’৪ ফারেনহিট) হওয়া উচিত। গড় তাপমাত্রা ৪২সেন্টিগ্রেড ( বা ১০৭’৬ ফারেনহিট) হওয়া উচিত। তাপমান যন্ত্র মুরগীর মলদ্বারে প্রবেশ করিয়ে তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। শ্বাস ক্রিয়ার (respiration) হার (rate) প্রতি মিনিটে ১৫ থেকে ৩০ বার। গড়পড়তা বক্ষ স্পন্দন (heart beat) প্রতি মিনিটে ৩০০ বার।
পোলট্রির মুরগী কীটের (worms) দ্বারা সচরাচর আক্রান্ত হয়ে থাকে; ফলে ডিম প্রদানের ক্ষমতা হ্রাস পায়। বাহ্যিক শোষক কীট (external parasites) যেমন উকুন, টিক (ticks) ক্ষুদ্র মাছি ( flies) মুরগীদের মধ্যে বিরক্তি উৎপাদন করে এবং ওদের উৎপাদন জনিত দক্ষতাকে কমিয়ে আনে। Fowl tick পোলট্রির মুরগীদের মধ্যে বিশেষ মারাত্মক অবস্থা সুচিত করে।
কাঠে এবং ইটে এই চিক(tick) পোকা ডিম পাড়ে এবং প্রবর্ধিত হয়। এই জন্যেই পোলট্রির মুরগীদের বাহ্যিক তথা অভ্যন্তরীণ শোষক কীটাণুর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য মাঝে মাঝে পরীক্ষা করা উচিত।
























