
পেঁয়াজ চাষের জন্য উপযুক্ত মাটি হলো দোআঁশ ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটি। এটি উর্বর হওয়া উচিত এবং সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধাও থাকতে হবে। পেঁয়াজ সাধারণত ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভালো জন্মে, তবে ১৫-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। পেঁয়াজ সরাসরি জমিতে বীজ বুনে, কন্দ বা চারা রোপণ করে চাষ করা যায়।
পেঁয়াজ চাষের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে উল্লেখ করা হলো:
- জমি নির্বাচন ও তৈরি:পেঁয়াজের জন্য সুনিষ্কাশিত জমি নির্বাচন করতে হবে। জমি ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে তৈরি করতে হবে। মাটির ঢেলা ভেঙে ঝুরঝুরে ও সমান করে নিতে হবে। পেঁয়াজের জমি চাষের জন্য ডিস্কহ্যারো ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে মাটি পুনরায় শক্ত হয়ে যায়।

- বীজ শোধন:বীজ বপনের পূর্বে বীজ শোধন করা জরুরি। প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম রোভরাল বা প্রোভেক্স দিয়ে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে বীজ শোধন করতে হবে। এরপর, ছায়াযুক্ত স্থানে শুকিয়ে জমিতে রোপন করতে হবে।
- চারা রোপণ:বীজতলার পরিচর্যা করা প্রয়োজন। বীজ বপনের পর সেভিন ৮৫ পাউডার বীজতলার চারিদিকে ছিটিয়ে দিতে হবে। চারা রোপণের জন্য ৩-৪ সপ্তাহ পূর্বে জমি তৈরি করতে হবে।

- সার প্রয়োগ:পেঁয়াজ চাষে সারের পরিমাণ নির্ভর করে মাটির গুণাগুণের উপর। তবে, সাধারণভাবে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি সার ব্যবহার করা হয়।
- সেচ ও পানি নিষ্কাশন:পেঁয়াজ চাষে নিয়মিত সেচ দেওয়া প্রয়োজন, তবে খেয়াল রাখতে হবে জমিতে পানি জমে না থাকে। বর্ষাকালে পেঁয়াজ চাষের জন্য উঁচু জমি নির্বাচন করা উচিত, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে না।

- রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা:পেঁয়াজ চাষে বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। যেমন – পেঁয়াজের পচা রোগ, পাতা ঝলসা রোগ, থ্রিপস ইত্যাদি। এদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সঠিক সময়ে কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।
- ফসল সংগ্রহ:পেঁয়াজ রোপণের ১২০-১৪০ দিন পর ফসল সংগ্রহ করা যায়।
পেঁয়াজ চাষে উপরোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যেতে পারে।
























