RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

বাছুরকে পেট পুরে দুধ খাওয়ানো লাভজনক বিনিয়োগ-এমদাদ

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বাছুরকে পেট পুরে দুধ খাওয়ানো লাভজনক বিনিয়োগ-এমদাদ

ড. বায়েজিদ মোড়ল

কৃষি কাজ করে সফলতা পেয়েছে এমন মানুষ আছে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে।এই হিসেবে ৮৫ হাজার গ্রামের প্রায় প্রতিটি গ্রামে এক বা একাধিক মানুষ থকেলে ধরে নিয়া যায় বাংলাদেশে লক্ষাধিক মানুষ আছে যারা কৃষি কাজ করে সফল মানুষ। আর এই সব সফল মানুষদের অনুকরণ করে কিংবা অনুসরণ করে অনেকে যখন সেই কাজ করে পরিবারের সচ্চলতা আনে তখনই বলে কাজের বিপ্লব ঘটেছে।কেহই বিপ্লব করে ধান চাষ করে কেউবা আবার সবজী মাছ মুরগী গরু ছাগল ইত্যাদি পালন করে।আমাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই কৃষি কাজের সাথে জড়িত।গাভী পালন সরাসরী কৃষি কাজ না হলেও কৃষির উপখাত এটি।

চট্রগ্রামের হালিশহরের ফল্যাতলী বাজার এলাকার এমদাদুল ইসলাম। পিতার একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। পিতা একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিরেন এই হিসেবে এমদাদুলও মুদি ব্যবসার সাথে জড়িত হোন। সব সময়ই মুদি ব্যবসা ভালো থাকে কেবলমাত্র বাকি সামাল দিতে পারলে অনেক সময় অনেকে এতো বেশি বাকি নিয়ে ফেলে তখন মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে বাকি প্রচুর টাকা লোকসান হয়ে যায়। যাই হোক এমদাদুল কোন মতে ছোট আকারে ব্যবসা চালাতে থাকে। পিতা ৪ বিঘা কৃষি জমি রেখে যান। সেই জমিতে তিনি ধানও সবজী চাষাবাদ করতেন। ধান চাষের যে খড় হতো সেই খড় তিনি বিক্রি করে দিতেন।
১৯৯২ সালে এসে তার পরিবারে এক মেয়ে আর এক ছেলে। হঠাৎ স্ত্রী অসুস্থ্য হওয়ায় ছেলের দুধের ঘাটতি হলো। বাইরে থেকে দুধ কিনে খাওয়ান। থকনই ভাবনায় এলো একটা গাভী কিনার। যে ভাবনা সেই কাজ ১৪,২০০/= টাকা দিয়ে একটি ফিজিয়ান জাতের গাভী কিনলেন। গাভীটা তখন সাড়ে তিন লিটার করে দুধ দিতো।

এমদাদুল সকালে গাভীর যত্ন নিয়ে চলে যেতেন বাজারে সেখানে সারা দিন কাজ শেস করে আবার সন্ধ্রার আগে চলে আসতেন বাড়ীতে এসে গাভরি যত্ন নিতেন। বাজার থেকে দানাদার খাবার ও কিছু দুধ বর্ধক ওষুধ গাভীকে খাওয়াতেন। সত্যি সত্যি কাজ হলো। বাসায় যেবাবে নিজের সন্তান বৃদ্ধি পেতে লাগলো ঠিক তেমনি গাভরি দুধ বেড়ে ৬লিটারে চলে আসলো। কিছু দিনের মধ্যে গাভীটি আবার গাভীন হলো এবং সুন্দর আর একটি বকনা বাছুর হলো।এমদাদুল ঠিকই ব্যবসার পাশাপাশী গাভীর প্রতি আরো যত্নবান হলেন। যত্ন বান হলেন বাছুরের প্রতি। তিনি মনে করলেন তার ছেলে দুধ না পেয়ে যখন কাঁদতো তখন তার স্ত্রীও কাঁদতো। ছোট্ট ছেলে আর ছেলের মায়ের কান্না দেখে তিনিও কেঁদে ফেলেছেন। তাই গাভীর দুধ তার বাচ্চার প্রাপ্য । এমদাদুল গাভী বাচ্চা প্রসবের পর প্রথম ৫দিন কোন দুধ দোহন করেন নাই। কেবল বাছুরকে খাওয়াতেন।বাছুর যখন দুধ খেত তখন সুন্দর করে লেজ নাড়াতো। লেজ নাড়িয়ে খেলা করতো তারপর মায়ের পাশে শুয়ে ঘুম পড়তো। ঘুম থেকে উঠে একটু দৌড়াদৌড়ি ছুটাছুটি করে ক্লান্ত হয়ে আবার এসে মায়ের দুধ খেত।এরপর বাছুর আটকিয়ে উনি দুধ দোহন করলেন। তারপর বাছুরকে ছাড়লেন দুধ খেতে। বাছুর দুধ না পেয়ে মুখ আর মাথা দিয়ে গাভীর পেটে বারবার গুতা মারতে থাকে। বাছুর দুধ কেয়ে মায়ের কাছে গিয়ে ঘুমায়না। বাছুরের চঞ্চলতা কমে যায়। ছুটাছুটি কমে যায়। এমদাদুল চিন্তা করলো একদম নিজের সন্তানের মতো করে।এরপর তিনি লক্ষ্য করলেন বাছুর কতোটুক দুধ খেতে পারে।এবার কিন্তু গাভীর দুধ বেড়েছে ৬ লিটার থেকে ৮ লিটারে এসেছে। তিনি মনে মনে ভাবলেন দুধ বেড়েছে এই বাড়তী দুধটুকু যদি আমি বাছুরকে খেতে দিই তাহলেতো বাছুর পর্যাপ্ত দুধ পাবে।ভেবে তিনি আগে বাছুরকে দুধ খেতে দিলেন বাছুর পেট পুরে দুধ খেয়ে সরে আসলেন। তারপর তিনি দুধ দোহন করতে গেলেন দেখলেন ৬ লিটার দুধ তিনি পাচ্ছেন। মনে মনে নিজে খুশি হলেন। আর বাছুরকে পুরো তিন মাস আগে দুধ কাওয়ান তারপর দুধ দোহন করেন। এক বছর পরে এই বাছুরটি এতো বড় হলো যে যাট হাজার টাকার উপরে দাম উঠলো। ১৬ মাস বয়সে এসে বাছুর গরম হলো।এই বাছুর প্রসব করলো একটি ষাড় বাছুর আর তখন এই গাভীটির দুধ হলো ১৪ লিটার।

এমদাদুল সেদিন আনন্দে চিৎকার করে বললেন বাছুরকে দুধ খাওয়াইয়ে ভুল করিনি। দুধ বেড়েছে গাভী অনেক বড় হয়েছে। মাকে কিনেছিলেন ১৪ হাজার টাকা দিয়ে তার বাছুরের দাম হয়েছে এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা। মানে দশগুন বৃদ্ধি পেয়ে।তিনি এই ষাড় বাছুরটিকে ঠিক ওর মায়ের মতো বেশি দুধ খাওয়াতেন। একটি পূর্ণাঙ্গ ষাড় হওয়ার পরে যখন কোরবানীর সময় হাটে উঠালেন বিক্রির জন্য হাটের প্রতিটি মানুষ এসে একবার তার ষাড়টি দেখে গেছে।দুই লাখ টাকা বিক্রি হয়েছিলো আর ১১মন মাংশ হয়েছিলো ষাড়টির গায়ে। তখন তার গোয়ালে গাভী আর বাছুর দিয়ে ৭টি হয়েছে।

এরপর বাড়ীর আড়াই কানি জমির উপর আর একটি বেড় শেড তুললেন। আর ব্যবসা থেকে কিছু টাকা এখানে এনে একসাথে আরো দশটি গাভী কিনে ডেইরি খামার শুরু করলেন। এর মধ্যে এমদাদুলের আরো দুটি কন্যা সন্তান হয়। ছেলেমেয়েদের সাথে সাথে ডেইরি খামারের গাভীও বাছুরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০০০ সালে এসে বড় মেয়ে মেয়ে সামিয়া জন্মগ্রহণ করলে তখন আদরের নাতির নামে কামারের নামকরণ করেন সামিয়া ডেইরি খামার।

১ টি গরু দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে এই ফার্মে বাছুর-ষাঁড় ও গাভী মিলে মোট গরু আছে ১১৫টি। এখানে ৪ বংশের জাত রয়েছে। প্রায় সবগুলো গরুই হলেস্ট্রেইন ফ্রিজিয়ান জাতের।
গাভী তার গুণগতমান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে। কিন্তু গাভীর বংশানুক্রমিক গুণগতমান যতই ভাল হোক এর ব্যবস্থাপনা সমন্ধে বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। দৈনন্দিন পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, বিজ্ঞান সম্মত বাসস্থান, সুষম খাদ্য সরবরাহ, সঠিক প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইত্যাদি উন্নত গাভী পালনের মৌলিক বিষয়। আর এমদাদুল এসব বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার চেষ্টা করেন।সামিয়া ডেইরি খামার নামকরণের সময় তিনি চট্টগ্রাম প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এসে প্রশিক্ষন গ্রহণ করে। যেগুলো তিনি জানতেন। খামারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন ঠিক সেগুলোই তিনি প্রশিক্ষন নিতে এসে এখন শিখছেন।এই প্রশিক্ষণ গহনের পর তার আত্নবিশ্বাস আরো বেড়ে যায় যে সে এতোদিন ধরে যে কষ্ট আর পরিশ্রম করে এসেছে সে ভুল করিনি। সে খামারে নিজ ঠেকে ঠেকে শিখেছে। প্রশিক্ষন থাকলে তার আরো ভালো হতো। সে নিজে গাভীর পেটে হাত দিয়ে চেকাপ করতে পারে। গাভী গরম হলে ইনজেকশন দিতে পারে। তিনি খামারে যাতে রোগ ব্যাধি আসতে না পারে সেজন্য আগে থেকেই নিয়মিত ভ্যাকসিন দিয়ে থাকেন।তিনি এখন বয়স বেধে পাচটি শেডে গাভী হিপার ও বাছুরগুলোকে রাখেন। এখন খামারে তার ১০-১২জন কর্মচারী আছে। আবার মুদি ব্যবসায়ও অনেক বড় হয়েছে সেখানেও ৪জন কর্মচারী আছে। মেয়ে ৩ জনকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। ছেলে এলএলবি পাশ করে চট্টগ্রাম কোর্টে প্রাকটিস করছে।খামারের ভিতরে তিনি টিন শেড বাড়ী থেকে তিনতলা বাড়ী করেছেন।ছেলের একটি ছেলে হয়েছে।এমদাদুলের ছেলেটি বড় ভালো সে অনেক ছোটবেলা থেকে বাছুরের সাথে খেলতে খেলতে বড় হয়েছে বলে এমদাদুলের পাশাপাশী তার ছেলেও খামারের গাভী বাছুর আর ষাড়দের দেখাশুনা করেন। এখনো কোরবানীর সময় এলে অনেকদুর থেকে মানুষ গাড়ী নিয়ে আসে এমদাদুলে ইসলামের ষাড় দেখতে। তার খামারের এমন কোন ষাড় হয়নি যার ১০ মনের নিচে মাংশ হয়েছে। সেই সাড়ে তিন লিটার দুধের গাভী দিয়ে শুরু আজ ত্রিশ লিটার দুধ দয়ে এমন গাভীও তৈরী করেছেন তার খামারে। তিনি বলেন একটি বাছুরকে পেট পুরে দুধ খাওয়ালে বাছুরের সারা জীবনে মোট পুজি বিনিয়োগ হয় (প্রতিদিন গড়ে ৪ লিটার করে দুধ খেলে তিন মাসে দুধ খাবে ৪*৯০=৩৬০লিটার *৭০টাকা দরে=২৫,২০০/= এরপর অল্প করে দুধ খায়ালে চলবে) ৩০,০০০/= টাকা। নরমাল এক বছরের একটি বাছুরের দাম ৩০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হয়। কিন্তু তার খামারের বাছুরের দাম এক লাখ টাকার উপরে। তার খামার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার নিচে কোন ষাড় এখনো পর্যন্ত বিক্রি হয়নি। তার মানে তিনি ধরে নেন বাছুরকে তিনি দুধ খাওয়াচ্ছেন আর বিনিয়োগ করছেন যেটা কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে।

গরুকে কাঁচা ঘাস দেবার জন্য আরো ছয় বিঘা জমি কিনেছেন যেখানে তিনি গাস উৎপাদন করেন।পাশপাশি পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহের জন্য দৈনিক খড় সরবরাহ করেন। এখানে অল্প জায়গায় বেশী গরু পালনের জন্য এক সারি ও দুই সারি বিশিষ্ট গোশালা বা গরুর থাকার ঘর আছে। এই খামারটির দু’চালা ঘরটি বাহির মুখ পদ্ধতির। পদ্ধতিটির সুবিধা হলো-একই সাথে দুই সারি গরুকে সহজে খাবার ও পানি সরবরাহ করা যায়, দুধ দোহনের জন্য অধিকতর আলো পাওয়া যায়, পশু নিজ জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, পরিচর্যাকারী সহজে চলাফেরা করতে পারে।গাভী যত বেশি জাবর কাটবে খাবারের সাথে বেশি লালা মিশ্রিত হবে এতে খাবার বেশি হজম হবে। গাভী জাবর কাটার সময় না পেলে খাবার হজম হবে না। তাই খাবার হজমের জন্য গাভীকে কমপক্ষে আট ঘণ্টা জাবর কাটার সময় দিতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আর কোনো খাবার দেয়া ঠিক হবে না। খামারটিতে বর্তমানে দুধ দেয়া গাভী আছে ৭০ টি। এগুলো থেকে প্রতিদিন ৮৫০ লিটার করে দুধ উৎপাদন হচ্ছে। গাভী পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য দুধ উৎদন। দুধে আশি ভাগের বেশি পানি থাকে। এক লিটার দুধ উৎদনের জন্য গাভীর প্রায় চার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। অথচ অধিকাংশ সময় গাভীকে পর্যাপ্ত পানি দেয়া হয় না। যেমন- রাতের বেলা পিপাসা লাগলেও গাভী পানি পান করতে পারে না। এমদাদুল পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, গাভীকে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি দিলে দুধের উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। তিনি আসলে গাভী আর বাছুর নিয়ে এতো বেশি পরীক্ষা নিরিক্ষা করেন যে গাভী এমদাদ নামে পরিচিত হয়ে গেছেন।

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

প্রধান প্রধান ফসলের চাষাবাদ পদ্ধতি

প্রাণিসম্পদ সেবাকে জরুরি সেবার আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা ও ফসলি জমি রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষিমন্ত্রী

প্রাণিজ পুষ্টিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারীরা অপরিহার্য

খামার করার পরিকল্পনা

কোহেলীর ৩ স্বামী

ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকার সব রকমের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে -কৃষিমন্ত্রী

মানলে খামার করে লোকসান নয় লাভ হবে

ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার মূলত: ক্লাইমেট ধ্বংসকারী অ্যাগ্রিকালচারঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

ব্যবসায়ীক অংশীদারগণের স্বাস্থ্য সেবায় – এসিআই সীড