
ছাগল পালন একটি লাভজনক ব্যবসা হতে পারে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি একটি সহজ এবং কম খরচে লাভজনক ব্যবসা, যেখানে অল্প জায়গা এবং অল্প খাদ্য খরচ লাগে। ছাগল পালন করে মাংস, দুধ, চামড়া, পশম এবং মলমূত্রের বহুমুখী ব্যবহার করা যায়।
ছাগল পালনের কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে:

- আঙ্গিনায় বা মাঠে ছেড়ে/বেঁধে পালন:এই পদ্ধতিতে সাধারণত ২-৫টি ছাগল পালন করা হয়, যা পালন করা সহজ এবং খরচ কম। এই পদ্ধতিতে ছাগলকে মাঠে ছেড়ে বা বেঁধে ঘাস খেতে দেওয়া হয়।
- মুক্তভাবে পালন: এই পদ্ধতিতে ছাগলকে উন্মুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তারা নিজেরাই নিজেদের খাদ্য সংগ্রহ করে।
- আধা নিবিড় (সেমি-ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে পালন:এই পদ্ধতিতে ছাগলকে দিনের বেলা মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং রাতে বেধে রাখা হয়।
- নিবিড় (ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে পালন:এই পদ্ধতিতে ছাগলকে আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা হয় এবং তাদের জন্য খাবার সরবরাহ করা হয়।

ছাগল পালনের জন্য কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে:
- প্রজনন ব্যবস্থাপনা:ছাগলকে সঠিক সময়ে পাল দেওয়া (যেমন, গরম হওয়ার ৮-১৮ ঘণ্টার মধ্যে) এবং গর্ভধারণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
- খাদ্য ব্যবস্থাপনা:ছাগল বিভিন্ন ধরণের ঘাস, লতা, পাতা, ফল এবং সবজির উচ্ছিষ্ট খেয়ে থাকে।
- স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা:ছাগলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক টিকা দেওয়া উচিত।
- আবাসন ব্যবস্থাপনা:ছাগলের থাকার জায়গার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং শুকনো খড় বিছিয়ে দেওয়া উচিত।
- জাত নির্বাচন:ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মাংস এবং চামড়ার জন্য বিখ্যাত।

ছাগল পালন করে একদিকে যেমন আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, তেমনি বেকারত্ব দূর করা, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি সরবরাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
























