RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

একদিন হঠাৎ দেখা হয়ে যায়

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ২:২৮ অপরাহ্ণ

একদিন হঠাৎ দেখা হয়ে যায়
(গল্পটি সত্য। পাত্র পাত্রী এখনো জীবিত তাই ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে)

 

ফাহিমা দুই সন্তানের জননী। স্বামী ওয়ার্কশোপে কাজ করে। মাসে দশ/বারো হাজার টাকা ইনকাম করে। চার জনের সংসার। ফাইমার কোন দিক দিয়ে কোন অভাব অনটন নেই। সুখী একটি ছোট পরিবার। ফাহিমার বড় বোনেব বাড়ী ঢাকা আমিন বাজারস্থ ধোবারই গ্রামে। ফাহিমা একদিন বেড়াতে এল বোনের বাড়ীতে। বড় বোন শিরিনা তার সাধ্যমত আপ্যায়ন করেছে। দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম তারপর বিকাল। বিকালে ফাহিমা চলে যাবে বাড়ীতে। সব কিছু গোছ-গাছ করে রওনা করেছে কিন্তু বড় ছেলেটা সমবয়সী খালাত ভাইয়ের সাথে খেলতে মাঠে গেছে, তাকে খুজে পাচেছনা ফাহিমা। তাই বাড়ীতে যাওয়া হলো না। আসে পাশে মেয়েটাকে সাথে নিয়ে ছেলেটাকে খুজছে। হঠাৎ মুখোমুখি দেখা হলো হুমায়ুন কবীরের সাথে। ফাহিমা কবিরকে চিনতে পারল। কবির পারল কিনা জানিনা। কবির ফাহিমার পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে হেটে চলে গেল। ফাহিমা কবিরের যাওয়াটা দেখতে লাগল।

ফাহিমা অনেকের মুখে শুনেছে হুমায়ুন কবির হিমু হয়েছে। হিমু হচেছ উপন্যাসিক ও নাট্যকার হুমায়ুন আহম্মেদের সৃষ্টি। এই হিমু কবিরকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। আজ হলো। ফাহিমা কাল বিলম্ব না করে বাড়ীর ভিতরে চলে গেল। কারন কবিরকে দেখা মাত্রই ওর ভিতর কেমন একটি শিহরন, একটি স্মিত ভাব জাগ্রত হলো। ওর স্মৃতি পটে ভেসে উঠছে কবিরের জীবন ইতিহাসটি। কবিরতো আগে এরকম ছিল না। ও ছিল দুরন্ত, চঞ্চল। আজ তার এ অবস্থা নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। এক সময় ফাহিমা কবিরের খুব কাছের মানুষ ছিল। ছিল অতি আপন জন। তাইতো ফাহিমা কাঠের কোনায় ভর দিয়ে বসে বসে ভাবছে। ষোল/সতেরো বৎসর আগের কিছু কথা, কিছু ঘটনা। একটি ধারাবাহিক নাটক।

ফাহিমা আমিন বাজারের মফিদ-ই-আম স্কুলের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী। ও দুরন্ত চঞ্চল যুবক কবিরের দৃষ্টিতে পড়ে। এক-দুই-তিন দিন এভাবে ফাহিমা একদিন কবিরের প্রেমে পড়ে যায়। ফাহিমা নিজেকে সামলিয়ে রাখার মত বুদ্ধি তার হয়নি। তাইতো একদিন কাউকে না বলে কবিরের বউ হয়ে চলে গেল কবিরের ঘরে। এক জন চার নম্বর মৌলভীকে ৫০০ টাকা ঘুষ দিয়ে ওদের বিয়ে হয়। দুই পক্ষের স্বাক্ষী ও গার্ডিয়ান হিসেবে কবিরের বন্ধুরা লোকজন ঠিক করে। আরেক জন ৭০ বছরের মুরব্বীকে ফাহিমার বাপ সাজায় তাকেও ১০০ টাকা ঘুষ দেয়। মানে সে ফাহিমাকে পছন্দ করে। ফাহিমাকে তার চাই চাই। তাইতে যে কোন মূল্যে ফাহিমাকে সে আপন করে পেতে চায়। ফাহিমা তার কাছে ধরা দেয়ায় এক মিনিটের মধ্যেই কবির ওর বন্ধুদের সহযোগিতায় সাভারের বাইপাইলে গিয়ে ফাহিমাকে বিয়ে করে। এর পর নতুন বউকে নিয়ে কবিরের আমিন বাজেরর পাশে ফুফু বাড়ীতে এসে ওঠে। ফুফু কবিরকে একটু গালি গালাজ করে কবিরের পিতার কাছে যায়। পিতা কবিরের এই অবাধ্যতা মেনে নিতে চাইল না। তবে ফাহিমাকে গ্রহন করল। মিষ্টি মধুর একটি মুখের হাসি ও আবেদনময়ী চোখের চাহনি দেখে।

যা করবে তাতো করেছে। এখন যদি মেনে না নিই তাহলে ওরা যাবে কোথায়/ সারা জীবনের জন্য এই মিষ্টি মেয়েটার জীবনে যেমন একটি দাগ পড়বে তেমনি কবিরের জীবনেও। কবিরের বড়ভাবী জানু বেগম কবির আর ফাহিমাকে এক ঘরে থাকতে দেয়নি। অনেক চিন্তা ভাবনা করে কবিরের পিতা ওদের বাড়ি থেকে বের করে দিলনা। বাড়িতে থাকতে দিল।

সকালে স্কুলে গেলে পালিয়ে দিকে ওদের বিয়ে হয়। দুপুরে ওরা চলে আসে ফুফুর বাড়ীতে, বিকালে যায় পিতা রহমত আলীর বাড়ীতে। বিকাল থেকে গ্যাঞ্জাম শুরু হয় সন্ধ্যার পর রাত যত ঘনিয়ে আসে ততই গ্যাঞ্জাম শীতল হতে থাকে। রাত হয়ে গেছে এই সহজ সরল মিষ্টি মেয়ে এতো রাতে কোথায় যাবে রহমত আলীর মাথায় এলো এই ভাবনা। তখনই সব গ্যাঞ্জাম শেষ হয়ে গেল। কবিররা নয় ভাই এক মাত্র বোন। এই ৩/৪ মাস হলো বোনটির বিয়ে হয়ে গেছে। ফাহিমার মুখের দিকে তাকালে কবিরের পিতা তার মেয়েকে দেখতে পায়। তাই মা ডেকে ফাহিমাকে আদর করে বুকে টেনে নিল। আনন্দের তারা বাজী ফুটতে লাগলো আকাশে। কবিরের ছোট ভাইগুলো অপেক্ষায় ছিল এই তারা বাজী ফোটানোর জন্য। তাদের আনন্দ উল­াসে বাড়ীটি কাঁপতে লাগলো।

সেই রাতেই খাশি মারা হলো, গরম ভাত রান্না হলো। সবাই আনন্দে পেট পুরে খেতে লাগলো। কবিরের ফুফুর চোখে আনন্দ অশ্র“, চোখের পানি মুছে আর খায়। রহমত আলীতো শেষে ফাহিমাকে নিজের প্লেটে বসিয়ে খাওয়ায়। কবিরের মা হাত পাখা না পেয়ে শাড়ীর আচল দিয়ে বাতাস করতে থাকে।
অনেক রাত হয়ে গেছে কবির অপেক্ষা করছে ফাহিমা আর ওকে এক সাথে এক ঘরে এক বিছানায় শুতে দিবে। কিন্তু তা আর হলোনা কবিরের বড় ভাবী ফাহিমার সাথে কথা বলে কবিরকে এস জানায় যায় ‘নোয়াশা, তোমাকে একা ঘুমাতে হবে। বউ আজ আমাদের ঘরে ঘুমাবে। টা টা বাই বাই।’

কবির কোন কিছু বুঝতে পারেনা। কারন ফাহিমা তখন ছোট ছিল, স্বামীর সাথে এক বিছানায় ঘুমানোর মতো শারীরিক অবকাঠামো তার তখন গড়ে ওঠেনি। নতুন বউ নিয়ে বাড়ীর সবাই আনন্দে আছে। সবাই এসে ফাহিমাকে আদর করে শ্রদ্ধা ভরে যার যা সম্পর্কে হয় সেভাবেই সম্বোধন করছে। ফাহিমা তার পিতা মাতার কথা মনেই আনতে পারছেনা। এ বাড়ীর সবাই তাকে সারাক্ষণ ঘিরে রেখেছে। কেউ এসে বলছে ভাবী আসেন খেলবো। কেউ এসে বলছে মেঝ বউ কাছে এসো গল্প করবো। এক মিনিটের জন্যও ফাহিমা কবিরের সাথে দেখা করতে পারছেনা তিনদিন হয়ে গেল। কবির, ফাহিমার সাথে দেখা করার জন্য কিছু কাচের চুড়ি কিনে নিয়ে আসে। রাতে ফাহিমা বড় ভাবীর বিছানায় ঘুমালে জানালা দিয়ে কবির ফাহিমাকে ডাকে ফাহিমা ঘুমিয়ে যায় ও ওঠেনা। আর ও এ বিষয়টি জানেওনা যে ওর এখন করণীয় কি। এক পর্যায় কবিরের ডাকে বড়ভাবী উঠে কাচের চুড়িগুলো রেখে বলে দিনের বেলা দেখা করতে। রাতের বেলা তাদের সব রকম দেখা নিষেধ।

রহমত আলী সকালে নাস্তা করছে ফাহিমা পাশে বসা। কবির ভাবল যাই নাস্তা করে আসি আর ফাহিমাকে দেখে আসি। সুযোগ বুঝে দু চারটি কথাও বলা যাবে। খাবার ঘরে ঢুকে বড়ভাবীর কাছে নাস্তা চায়। বড়বাবী ইশারা করে ফাহিমা নাস্তা রেডি করে দেয়। কবির প্লেট থেকে রুটি ছিড়ে আলু ভাজি নিতে গেলেই রহমত আলী বলে ওঠে ‘বিয়ে করেছো, খালি নিজে খেলে হবে না। বউকেও খাওয়াতে হবে। আর সেটা নিজে কামাই করে, বুঝলে? এখন সকালের নাস্তা করছো, আগামীকাল সকালের নাস্তা করার আগে একটা কাজ জোগাড় করে আমার কাছে আসবে, তাহলেই নাস্তা পাবে এবং বউএর সাথে কথা বলতে পারবে।’

ফাহিমার সামনে বাবা রহমত আলী এভাবে অপমান করবে কবির কখোনই ভাবিনি। মাথা নিচু করে নাস্তা শেষ করে উঠে আসে। ফাহিমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারিনি কবির। মনে মনে ভাবছে যে কোন একটা কাজ আজ জোগাড় করে রহমত আলীর কথার জবাব দেব।
ফাহিমা বেশ লজ্জ্বা পেল। মনে মনে ভাবলো শ্বশুর বাবা কবিরকে এমনভাবে বলল। ওর কবিরের জন্য অনেক মায়া লাগতে লাগলো। আর আল­ার কাছে কবিরের জন্য দোয়া করতে লাগলো। কবির যেন একটা কাজ জোগাড় করতে পারে।

সত্যি সত্যি কবির হেমায়েতপুরের একটি প্রেট্রোল পাম্পে নাইট শিফটে কাজ জোগাড় করে ফিরছে। সারাদিন ফাহিমা কবিরের জন্য দোয়া করেছে। সন্ধ্যার সময় যখন জানতে পারে তখন মন চাছছিল কবিরের কাছে গিয়ে একটু জড়িয়ে ধরতে কবিরকে। কিন্তু সেটা পারলো না। ভাবছে রাতে খেতে এলে একটু কথা বলবে। কিন্তু না। কবির আগে ভাগেই রাতের খাবার খেয়ে কাজে চলে গেছে ফাহিমা জানেনা। ফাহিমা কবিরকে উইশ করবে বলে অপেক্ষা করছে শেষ পর্যন্ত ঘুমাতে যাওয়ার আগে জানতে পারিনি যে কবির সকালে আসবে।

সকাল ৯ টার দিকে কবির বাসায় আসে গোসল করে নাস্তা করে বাইরের ঘরে গিয়ে ঘুম পড়ে। ফাহিমার মন কবিরের জন্য বেশ আকুলি বিকুলি করতে থাকে। এক পর্যায় ফাহিমা কবিরের ঘুমিয়ে থাকা ঘরে গেল ডেকে কবিরকে তার মনের কথাগুলো বলবে। বিয়ে হয়েছে ৪২ দিন এর মধ্যে একটিবারের জন্যেও তারা কখনোই অন্তরঙ্গভাবে মনের কথা বলতে পারিনি। ফাহিমা গিয়ে কবিরের মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে ‘এই শুনছো’ বলা মাত্রউ কবিরের মা এসে ফাহিমাকে জানায় ‘ সারা রাত জেগে প্রেট্রোল পাম্পে ডিউটি করে এসেছে এখন ঘুমাবে। এখন ডেকোনা মেঝবউ। ঘুম থেকে উঠলে কথা বইলো।’

সকাল থেকে বার বার কবিরের ঘরে যায় আর আসে কখন কবির ঘুম থেকে উঠবে একটু কথা বলবে। কিন্তু কবির ঘুম থেকে জেগে বাইরে চলে যায় ঘুরতে। রাতে এসে মায়ের কাছ থেকে রাতের খাবার খেয়ে কবির ডিউটি করতে চলে যায়। ফাহিমার সাথে আর কথা হয় না। সারা রাত ফাহিমা আর ঘুমাতে পারলোনা। সারা রাত কবিরের কথা ভাবতে লাগলো। মনটা ছটপট করছে কবিরের প্রতি ওর প্রেমাবেগ বাড়তে লাগলো। ফাহিমা সকালে ঘুমিয়ে আছে। কবির ডিউটি শেষ করে আসার সময় ফাহিমার জন্য এক বোতল আমের জুস কিনে নিয়ে আসে। বড়ভাবী কবিরের হাতে আমের জুস দেখে বুঝতে পেরেছে ফাহিমার জন্য এনেছে। ফাহিমা গভির ভাবে ঘুমিয়ে আছে। কবির গিয়ে ফাহিমাকে ডাকে। এক ডাকেই ফাহিমা উঠে কবিরকে জড়িয়ে ধরে। তখন কবিরও ফাহিমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করে মুখে ঠোটে চুমা খায় গভির আলিঙ্গনে। এমন সময় বড়ভাবি এসে হাজির। লজ্জ্বায় দুজন দু দিকে সরে দাড়ায়। বড়ভাবী ফাহিমাকে জানায় ‘ফাহিমা এখনো তোমার সময় হয়নি স্বামীর সোহাগ পাওয়ার। তুমি মেয়ে, সমস্যা তোমার হবে। ছেলেদের কোন সমস্যা হয় না।’

ফাহিমা কবিরের কাছে কম যায়। কাছে পেলে কবির যদি জোর করে সে ভয়ে। কবির ফাহিমার জন্য ছটপট করে একটু দেখা করার জন্য পাশে বসে একটু কথা বলার জন্য কিন্তু পাচ্ছে না। শুক্রবারের রাত আজ প্রেট্রোল পাম্পে যাবেনা কবির। ছোটভাই হোসেনের কাছে জানতে পারে ফাহিমার শরীর খারাপ বিছানায় শুয়ে আছে। মায়ের ঘরে কবির গিয়ে ফাহিমাকে দেখে শুয়ে আছে। কপালে হাত দিয়ে দেখে ফাহিমার গায়ে জ্বর। ও চিন্তায় পড়ে গেল। ও কি করবে? কপালে পানি পাটি দিল। তারপর ডাক্তারের কাছে গিয়ে ওষুধ নিয়ে এলো ফাহিমার জন্য। ফাহিমাকে বিছানা থেকে তুলে যখন ওষুধ খাওয়াতে গেল তখন কবিরের মা এসে দেখে লজ্জ্বায় বাইরে চলে যায় এবং বড়ভাবী এসে দেখে হো হো করে হাসতে থাকে। কবির বড় ভাবীর হাসির রহস্য বুঝতে পারেনা। মেয়েদের প্রথম ঋতুস্রাব হলে অনেক সময় এ ধরনের উপসম দেখা যায়। এর চেয়েও বেশি শরীর খারাপ হতে পারে। বড় ভাবী, মা কেহই আজ ওকে অন্য ঘরে যেতে বলল না। ও সারারাত ফাহিমার ঘরে রইলো এবং না ঘুমিয়ে সারা রাতই ফাহিমার সেবা যতœ করলো। তারপর জানতে পারলো ফাহিমার ঋতুস্রাব হয়েছে ও এখন থেকে স্বামীর সাথে এক সাথে থাকতে পারবে। ৪/৫দিন পর শরীর সুস্থ্য হলে বিয়ের পর থেকে গুনে গুনে ৪৯ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। ওদের দুজনার বাসর হয়। শুরু হয় মিষ্টি মধুর বসবাস ও মেলামেশা। কবির ফাহিমার শরীরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে চুমা খায়নি। আদর করেনি। তেমনি ফাহিমাও। দুজন দুজনকে অনেক ভালবেসেছে ও অনেক আদর সোহাগ নিয়েছে এবং দিয়েছে।

দুই পরিবারের মাঝে সৃষ্ট বিবাদের মিমাংসা হওয়ার পথে, এমনকি মিমাংসা হয়ে গেল। একদিন দুদিন করে দুইটি বৎসর গেল ফাহিমা-কবির উভয় পরিবারে যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়ায় যেন বাঁধা রইল না। কিন্তু বিবাদ কালিন কিছু জিদ মনে মনে পুষে রেখেছে ফাহিমার মা ও বড় বোন শিরিন। তাই ওরা ফাহিমাকে বিভিন্ন ভাবে কু-পরামর্শ দিতে লাগল। বার বার একি কথা শুনতে শুনতে আর পেট্রোল পাম্পে নাইট ডিউটি করা স্বামীর স্পর্শে থাকতে রাজী হলোনা ফাহিমা। তাই কবিরের সাথে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতে লাগল ফাহিমার।

ফাহিমা আর কবিরের ঘরে আসবে না। এ দিকে পেট্রোল পাম্পে নাইট ডিউটি করা কবির নতুন ইনকাম সোর্স খুজছে। কিন্তু কোন কুল কিনারা পাচেছনা। কবিরের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কোথায় ফাহিমাকে বিয়ে দিবে। এটা ফাহিমার মা ও বোন নিশ্চিৎ করে ফেলেছে।

এমন সময় কবিরের মালয়েশিয়া যাবার ভিসা এসে গেল। ফাহিমা তখন পিতৃালয়ে। ফাহিমাকে কবিরের পিতা আনতে গেল কিন্ত এল না।

কবির মালয়েশিয়া চলে গেলে ফাহিমা কবিরের অভাব অনুভাব করতে থাকে। তাই কাউকে কিছু না বলে ছুটে আসলো কবিরের কাছে। কিন্ত কবির তখন মালয়েশিয়ায় পৌছে গেছে। কবিরের পিতা-মাতা ফাহিমাকে বাড়ীর বউ হিসাবে দেখতে লাগল। কিন্তু মালয়েশিয়া থেকে কবির চিঠি লিখে জানায় ফাহিমার সহিত সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবে। ফাহিমা হতাশ ও ভেঙ্গে পড়ল। কাকতি মিনতি করে মাপ/ক্ষমা প্রার্থনা করে কবিরে কাছে চিঠি লিখল। কিন্তু কবির ফাহিমার কোন চিঠির বা কথার উওর দিল না। এভাবে দুই/তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ফাহিমারও কবিরের প্রতি জিদ হলো। ফাহিমা রাগের বশে মা ও বোনকে বলে সে আর কবিরের ঘরে ফিরে যাবেনা।

মা বোন এমনটি চাচছিল হয়ে গেল তা। ভেঙ্গে গেল তাদের প্রেমের সম্পর্ক। ভেঙ্গে নিল সংসার। খুব কষ্ট পেতে লাগলো ফাহিমা। ফাহিমার বোন শিরিন তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে পুনরায় বিবাহে উদ্বুদ্ধ করলো। ১৫-১৬ বছর বয়সের তরুনীর মাথায় যা আসে তাই। মা ও বোনের প্রচেষ্টায় ফাহিমার আবার বিবাহ হয়ে যায়। ডিবোর্চের কথা শুনে কবির দেশে ফিরে আসে। ফাহিমার সাথে কোন ভাবে আর যোগাযোগ করতে পারলো না। ফাহিমাকে এক পলক দেখবে, তাও দেখতে পেল না। পিতা মাতা কবিরকে পূনরায়ে বিবাহ করাবে। বিভিন্ন জায়গায় মেয়ে দেখেছেন, কথা বলছে। কিন্তু কবির আর বিয়ে করল না। হুমায়ুন আহমেদের হিমু সেজে আজও রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজ-কর্ম কোনটার প্রতি তার খেয়াল নেই। কাহারো খোজ খবর রাখে না। কথা বার্তা খুব কম বলে। শান্ত শিষ্ট নম্র ভদ্্র থাকায়। দুরান্তপনার কবিরকে অনেকে আজ এ্যাবনরমাল বলছে।

কবিরের অবস্থার কথা ভাবতে ভাবতে ফাহিমার চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা অশ্র“ গড়িয়ে পড়ল। তখন বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। শিরিন একটি মোমবাতি হাতে ফাহিমার সামনের চৌকির কোনায় রাখল। শিরিনকে উদ্দেশ্য কবে ফাহিমা বলল ‘বু, আমি কবিরকে বুঝতে পারিনি, ও এ রকমভাবে আমাকেই ভালবাসতো।’

কবীর ফাহিমাকে অনেক ভালবাসতো। আর ভালবাসতো বলেই হিমু হতে পেরেছে। সামনে হুমায়ুন কবির কি করবে এটা কারো জানা নেই। মা ও বাবা রহমত আলী মারা গেছে। ইতোমধ্যে কবিরের ছোট তিন ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে। তাদের সবার আলাদা সংসার। ওর সংসার নেই।

**********

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

গরু মোটাতাজাকরণে খাদ্য তালিকা

স্পেনের বার্সেলোনায় গ্লোবাল সীফুড এক্সপো ২০২৩ এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন

Cow Fattening A to Z

জেনেনিন গরু মোটাতাজাকরণের এ টু জেড

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা

বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর

গবেষণাধর্মী পরিকল্পনা নিয়ে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য-কৃষিমন্ত্রী

কৃষকের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে কাজ করছে সরকার-কৃষিমন্ত্রী কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক

গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়ানোর উপায়