নিজস্ব সংবাদদাতা// মৎস্য রপ্তানি প্রসারে ই-ট্রেসিবিলিটি প্রকাশনাগ্রন্থ বাণিজ্যমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর।
মাছ উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বিশ্বে তৃতীয়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম এবং স্বাদুপানি ও চাষের মাছ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ প্রথম। এছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে মাছ ও মৎস্য পণ্য রপ্তানি করে।

২০২৪-২৫ অর্থবছর বা সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রায় ৬১৪৫ কোটি টাকার (বা প্রায় $২৯৬-৪০০ মিলিয়ন ডলার) মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। রপ্তানির প্রধান পণ্য হিমায়িত চিংড়ি (৮০% অংশ)। এর বাইরেও বিভিন্ন মাছ কাঁকড়া ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হলো বাংলাদেশি চিংড়ির সবচেয়ে বড় বাজার।
যদিও মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে কিন্তু মাছ রপ্তানিতে বিশ্বের ২১তম অবস্থানে রয়েছে। প্রধানত হিমায়িত চিংড়ির ওপর নির্ভরতা এবং মান নিয়ন্ত্রণ (Quality Control) চ্যালেঞ্জের কারণে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে এখনো কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আরেকটু উল্লেখ করি যে ২০১১ সালে সাদুপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ২য় হয়ে ছিলো, ক্রমাগত চাষীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ নীতিমালা না থাকায় অনেক চাষী হারিয়ে গেছে। অনেক চাষী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বাংলাদেশের মৎস্যচাষীদের সংগঠন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ফোয়াব) মৎস্য রপ্তানি প্রসারে কয়েক বছর ধরে দেশের নির্ধারিত কিছু অঞ্চলে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে একটি রিসার্চ কার্য সম্পাদন করে একটি প্রকাশনপ্রন্থ প্রস্তুত করে যার নাম ই-ট্রেসিবিলিটি প্রকাশনা গ্রন্থ।
আজ ১লা মার্চ রোজ রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপির অফিস কক্ষে বেলা ৩ টায় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও গর্বিত চিংড়ি চাষি এনআরবি ব্যাংকের ফাউন্ডার ও চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ ওবিই ডিবিএ । তখন মাননীয় মন্ত্রীর হাতে মৎস্য রপ্তানী প্রসারে ই-ট্রেসিবিলিটি প্রকাশনাগ্রন্থ হস্তান্তর করেন ফেয়াবের সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন।
দেশের ৩ লক্ষ চিংড়ি ও ৯ লক্ষ মৎস্য চাষীর একমাত্র বাণিজ্যিক সংগঠন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ ( ফোয়াব) । সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপদ উৎপাদন, ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি ও রপ্তানি বৃদ্ধির স্বার্থে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের শর্ত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আইন বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিপিসির অর্থায়নে মৎস্য অধিদপ্তর বাংলাদেশের সহযোগিতায় ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ ( ফোয়াব) এর ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত হয় এই মৎস্য রপ্তানি প্রসারে ই-ট্রেসিবিলি পাইলট প্রকল্পের ক্ষুদ্র অর্জন প্রকাশনা গ্রন্থ । বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপির হাতে মন্ত্রনালয়ের অফিস কক্ষে হস্তান্তর করা হলে মন্ত্রী ফোয়াব প্রতিনিধিগণকে আশ্বাস্থ করে যে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন, চাষী পর্যায়ে মাছের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি ও রপ্তানি বৃদ্ধির স্বার্থে বর্তমান সরকার কাজ করবে ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট চিংড়ি চাষি এনআরবি ব্যাংকের ফাউন্ডার ও চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, তিনি কথপোসঙ্গে মন্ত্রী মহদয়কে অবহিত করেন যে গত ২০২৩ সালে কক্সবাজারে তিনি হেক্টর প্রতি ১৮ টণ পর্যন্ত উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। তার ইচ্ছা তার প্রযুক্তি দেশের উপকুলীয় অঞ্চলে সম্প্রসারন করা গেলে চিংড়ি চাষে একটা বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে।
তখন ফোয়াব সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন সবাইকে অবহিত করেন যে দেশে চাষীদের মাঝে দক্ষজনগোষ্টি বৃদ্ধি করা গেলে এই এ্যাকুয়া কালচার সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন । এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ড. বায়েজিদ মোড়ল, কক্সবাজার জেলা আঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক খলিল উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।।

























