RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Wednesday , 5 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

বাছুরকে দুধ কম খাওয়ালে কী হয়?

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 5, 2026 8:45 pm

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষনাধর্মী প্রতিবেদন,

বাছুরকে দুধ কম খাওয়ালে কী হয়? ( সুস্থ বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব।)

জন্মের পর একটি বাছুরের জীবনের প্রথম ২–৩ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে দুধই তার প্রধান খাদ্য। অনেক খামারি দুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে বা খরচ কমানোর জন্য বাছুরকে প্রয়োজনের তুলনায় কম দুধ খাওয়ান। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে কিছু দুধ বাঁচালেও দীর্ঘমেয়াদে খামারের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

১. শারীরিক বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়

জন্মের পর বাছুরের জীবনের প্রথম ২–৩ মাসকে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির (Rapid Growth Phase) সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ে শরীরের পেশি, হাড়, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্কের দ্রুত বিকাশ ঘটে। এই বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত শক্তি (Energy), উচ্চমানের প্রোটিন, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান অপরিহার্য। দুধ হলো এসব পুষ্টি উপাদানের প্রধান ও সহজপাচ্য উৎস।

যখন একটি বাছুরকে তার চাহিদার তুলনায় কম দুধ খাওয়ানো হয়, তখন শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালরি ও পুষ্টি সরবরাহ হয় না। ফলে শরীর প্রথমে স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমিয়ে দিয়ে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলোর কাজ সচল রাখার চেষ্টা করে। এর ফলে নতুন পেশি তৈরি, হাড়ের বৃদ্ধি এবং দেহের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে বাছুর অপুষ্টিতে ভুগতে শুরু করে এবং তার সামগ্রিক শারীরিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বাছুর পর্যাপ্ত দুধ পায় তারা প্রতিদিন গড়ে ৭০০–৯০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধি করতে পারে (জাত, ব্যবস্থাপনা ও খাদ্যের মান অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে)। কিন্তু কম দুধ পাওয়া বাছুরের দৈনিক ওজন বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে একই বয়সের অন্য বাছুরের তুলনায় তারা ছোট, দুর্বল ও কম বিকশিত থাকে।

দুধ কম খাওয়ানোর ফলে যে শারীরিক সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে—

  • দৈনিক ওজন বৃদ্ধি (Average Daily Gain) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
  • পেশির সঠিক বিকাশ না হওয়ায় শরীর রোগা ও দুর্বল দেখায়।
  • হাড়ের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উচ্চতা ও দৈহিক গঠন স্বাভাবিক হয় না।
  • বুক, কোমর ও পশ্চাৎ অংশের বিকাশ অপর্যাপ্ত থাকে।
  • বয়স অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জন করতে পারে না।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বৃদ্ধি আরও ব্যাহত হয়।
  • ভবিষ্যতে পূর্ণবয়স্ক গরুর আকার ও উৎপাদনক্ষমতা প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে।

অতএব, জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে বাছুরকে পর্যাপ্ত দুধ খাওয়ানো শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়; বরং একটি সুস্থ, সবল ও উচ্চ উৎপাদনশীল গরু গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে। এই সময়ে পুষ্টির ঘাটতি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই সারাজীবন বহন করতে হয়।


২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়

জন্মের পর প্রথম ২–৪ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়ানো কলোস্ট্রাম (শালদুধ) বাছুরকে মাতৃদেহের অ্যান্টিবডি সরবরাহ করে, যা প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। এরপর নিয়মিত পর্যাপ্ত দুধ শরীরের শক্তি, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখে। কিন্তু বাছুরকে পর্যাপ্ত দুধ না খাওয়ালে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, নাভির সংক্রমণ, জ্বর, কৃমি ও অন্যান্য পরজীবীজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার কারণে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়।


৩. মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়

বাছুরের জীবনের প্রথম এক মাসকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ে পর্যাপ্ত দুধ না পেলে শরীরে শক্তির ঘাটতি তৈরি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমে যায়। ফলে বাছুর সহজেই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, নাভির সংক্রমণ, সেপটিসেমিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যেসব বাছুর নিয়মিত কম দুধ পায়, তারা সাধারণত দুর্বল হয়ে পড়ে, ওজন বাড়ে না, বারবার অসুস্থ হয় এবং শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতেও সমস্যা হয়। অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার কারণে অনেক সময় তাদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো চিকিৎসা দিলেও সব বাছুরকে সুস্থ করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে অপর্যাপ্ত কলোস্ট্রাম গ্রহণ এবং পরবর্তীতে কম দুধ খাওয়ানোর ফলে মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই বাছুরের জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহে পর্যাপ্ত দুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা শুধু দ্রুত বৃদ্ধি নয়, তার জীবন রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


৪. খাবার গ্রহণে সমস্যা হয়

অনেক খামারি মনে করেন, বাছুরকে কম দুধ খাওয়ালে সে দ্রুত ঘাস, খড় বা কনসেনট্রেট খেতে শিখবে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এই ধারণা সঠিক নয়। জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে দুধই বাছুরের প্রধান এবং সবচেয়ে সহজপাচ্য শক্তির উৎস। এই সময়ে দুধের পরিমাণ অযথা কমিয়ে দিলে শরীরে শক্তি ও পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়, ফলে বাছুর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত শক্তি না থাকায় বাছুরের রুমেন (Rumen) বা জাবর কাটার পাকস্থলীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। ফলে রুমেনে উপকারী অণুজীবের বিকাশও ধীর হয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে কঠিন খাদ্য হজমের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কম দুধ পাওয়া বাছুর প্রত্যাশার বিপরীতে কনসেনট্রেট বা ঘাসও কম খায় এবং ওজন বৃদ্ধিও সন্তোষজনক হয় না। তাই দুধ কমিয়ে নয়, বরং পর্যাপ্ত দুধের পাশাপাশি ধীরে ধীরে ক্যালফ স্টার্টার ও উন্নতমানের শুকনো ঘাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই বাছুরের সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার সর্বোত্তম পদ্ধতি।


৫. ভবিষ্যতে দুধ উৎপাদন কম হতে পারে

অনেক খামারি মনে করেন, বাছুর অবস্থায় দুধ কম খাওয়ানোর সঙ্গে ভবিষ্যতের দুধ উৎপাদনের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া বকনা বাছুরের স্তনগ্রন্থি (Mammary Gland) স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় এবং প্রথম ল্যাকটেশনে তারা তুলনামূলক বেশি দুধ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। বিপরীতে, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত দুধ না পেলে শরীরের সামগ্রিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্তনগ্রন্থির বিকাশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে বকনা বাছুর নির্ধারিত সময়ে প্রজননের উপযোগী ওজন অর্জন করতে দেরি করে, প্রথম বাচ্চা দিতে বেশি সময় লাগে এবং প্রথম দুধ উৎপাদনের পরিমাণও প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী ল্যাকটেশনগুলোর উৎপাদনক্ষমতার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বাছুরের জীবনের প্রথম কয়েক মাসে পর্যাপ্ত দুধ ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা ভবিষ্যতে একটি উচ্চ উৎপাদনশীল দুগ্ধ গাভী গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

৬. প্রজনন বয়স পিছিয়ে যায়

যেসব বাছুর জন্মের পর পর্যাপ্ত দুধ ও সুষম পুষ্টি পায় না, তারা নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত ওজন ও শারীরিক পরিপক্বতা অর্জন করতে পারে না। এর ফলে তাদের প্রজনন অঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হতে পারে। ফলস্বরূপ প্রথম হিট (Estrus) দেরিতে আসে, প্রথম প্রজনন পিছিয়ে যায় এবং প্রথম বাচ্চা দিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগে। এতে গাভী উৎপাদন চক্রে দেরিতে প্রবেশ করে, খামারের আয় কমে যায় এবং প্রতিদিনের খাদ্য, পরিচর্যা ও চিকিৎসা ব্যয় বাড়তে থাকে। তাই পর্যাপ্ত দুধ ও পুষ্টি নিশ্চিত করা বাছুরের সময়মতো প্রজনন সক্ষমতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


৭. শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়

দুধ বাছুরের জন্য সবচেয়ে সহজপাচ্য, উচ্চশক্তিসম্পন্ন ও পূর্ণাঙ্গ খাদ্য। এতে থাকা চর্বি, ল্যাকটোজ, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বৃদ্ধি, তাপ উৎপাদন এবং দৈনন্দিন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম দুধ খাওয়ালে শরীরে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে বাছুর দুর্বল হয়ে পড়ে, সারাক্ষণ ক্ষুধার্ত থাকে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি অলস আচরণ করে। খেলাধুলা ও চলাফেরা কমে যায়, ফলে পেশির স্বাভাবিক বিকাশও ব্যাহত হয়। এছাড়া শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখার সক্ষমতা কমে যাওয়ায় শীতের সময় ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে বাছুরের সামগ্রিক বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


৮. মানসিক চাপ (Stress) বৃদ্ধি পায়

বাছুরকে প্রয়োজনের তুলনায় কম দুধ খাওয়ানো হলে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ক্ষুধা ও অপূর্ণ পুষ্টির কারণে বাছুরের মধ্যে মানসিক চাপ (Stress) তৈরি হয়, যা তার স্বাভাবিক আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আনতে পারে। পর্যাপ্ত দুধ না পেলে অনেক বাছুর বারবার ডাকতে থাকে, মায়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং অস্থিরভাবে এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা অন্য বাছুরের কান, লেজ বা শরীর চোষে, এমনকি কাঠ, বাঁশ, দড়ি, খুঁটি বা বেড়া চিবাতে শুরু করে। এসব আচরণকে পুষ্টির ঘাটতি ও মানসিক চাপের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাছুরের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ও সামাজিক আচরণেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তারা সহজেই বিরক্ত, ভীত বা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে এবং স্বাভাবিক খেলাধুলা ও চলাফেরাও কমে যায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল (Stress Hormone)-এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেয়। তাই বাছুরের শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি তার মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও পর্যাপ্ত দুধ, আরামদায়ক পরিবেশ, পরিষ্কার আবাসন এবং সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


৯. অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ে

অনেক খামারি মনে করেন, বাছুরকে কম দুধ খাওয়ালে বেশি দুধ বিক্রি করা যাবে এবং এতে লাভ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল প্রমাণিত হয়। কারণ, শুরুতে কিছু দুধ সাশ্রয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক ক্ষতি অনেক বেশি হয়। পর্যাপ্ত দুধ না পাওয়ায় বাছুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। একই সঙ্গে বাছুরের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়, কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জন করতে বেশি সময় লাগে এবং প্রজনন বয়স পিছিয়ে যায়। এর ফলে প্রথম বাচ্চা পেতে দেরি হয় এবং উৎপাদন চক্র দীর্ঘ হয়।

এছাড়া অপুষ্টিজনিত কারণে ভবিষ্যতে গাভীর দুধ উৎপাদনও কমে যেতে পারে, যা খামারের আয়ের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গুরুতর ক্ষেত্রে বাছুরের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়, যা একটি খামারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। অর্থাৎ, যে পরিমাণ দুধ বিক্রির জন্য বাঁচানো হয়, তার তুলনায় চিকিৎসা ব্যয়, অতিরিক্ত খাদ্য খরচ, দীর্ঘ প্রতিপালনকাল, কম উৎপাদনশীলতা এবং সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণে অনেক বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। তাই দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হতে হলে বাছুরকে বয়স ও ওজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত দুধ খাওয়ানোই সবচেয়ে লাভজনক ও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত।


১০. সারাজীবনের উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে

বাছুরের জন্মের পর প্রথম ৬০–৯০ দিনকে অনেক প্রাণিপুষ্টি বিশেষজ্ঞ “Golden Growth Period” বা স্বর্ণালী বৃদ্ধিকাল হিসেবে উল্লেখ করেন। এই সময়ে শরীরের পেশি, হাড়, রুমেন, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন অঙ্গের দ্রুত বিকাশ ঘটে। তাই এ সময়ে পর্যাপ্ত দুধ ও সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাছুর অপুষ্টিতে ভোগে, তবে তার শারীরিক ও শারীরবৃত্তীয় বিকাশে যে ক্ষতি হয়, তা পরবর্তীতে উন্নত খাদ্য দিলেও অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।

এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে বাছুর পূর্ণবয়স্ক হলেও কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জন করতে পারে না, দুধ উৎপাদনক্ষমতা কমে যায়, মাংস উৎপাদনও প্রত্যাশার তুলনায় কম হয় এবং প্রজনন ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম বাচ্চা দিতে দেরি হয়, উৎপাদনকাল ছোট হয়ে যায় এবং গরুর কর্মক্ষমতা ও আয়ুষ্কালও হ্রাস পেতে পারে। ফলে একটি সম্ভাবনাময় বাছুর কখনোই তার প্রকৃত জিনগত সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন দিতে পারে না। তাই জীবনের প্রথম কয়েক মাসে পর্যাপ্ত দুধ, সুষম খাদ্য ও সঠিক পরিচর্যায় বিনিয়োগ করাই ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, দীর্ঘজীবী ও উচ্চ উৎপাদনশীল গরু গড়ে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।


১১. বাছুরকে কতটা দুধ খাওয়ানো উচিত?

সাধারণভাবে সুস্থ বাছুরের ক্ষেত্রে:

  • জন্মের প্রথম ২ ঘণ্টার মধ্যে পর্যাপ্ত কলোস্ট্রাম (শরীরের ওজনের প্রায় ১০%) খাওয়াতে হবে।
  • এরপর প্রতিদিন শরীরের ওজনের প্রায় ১০–১৫% পরিমাণ দুধ বা মানসম্মত মিল্ক রিপ্লেসার দেওয়া যেতে পারে।
  • দুধ ২–৩ ভাগে ভাগ করে খাওয়ানো ভালো।
  • পরিষ্কার পানি সবসময় সহজলভ্য রাখতে হবে।
  • ১–২ সপ্তাহ বয়স থেকেই অল্প করে ক্যালফ স্টার্টার ও উন্নতমানের শুকনো ঘাস পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।

১২. কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন বাছুর পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে না?

বাছুর পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সহজেই অনেক ক্ষেত্রে বোঝা যায়। যদি নিচের একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা যায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় যে বাছুরের খাদ্য ও দুধের পরিমাণ পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো বয়স অনুযায়ী ওজন না বাড়া বা প্রত্যাশিত হারে বৃদ্ধি না হওয়া। এছাড়া শরীর রোগা হয়ে যাওয়া, পাঁজরের হাড় স্পষ্ট দেখা যাওয়া এবং শরীরের পেশি কমে যাওয়াও অপুষ্টির ইঙ্গিত দেয়। অনেক বাছুর ক্ষুধার কারণে বারবার ডাকতে থাকে, অন্য বাছুরের কান, লেজ বা শরীর চোষে এবং কাঠ, দড়ি বা বাঁশ চিবানোর মতো অস্বাভাবিক আচরণ করে। পর্যাপ্ত দুধ না পেলে তারা দুর্বল, অলস ও কম চঞ্চল হয়ে পড়ে এবং খেলাধুলা বা স্বাভাবিক চলাফেরা কমে যায়। একই সঙ্গে ঘন ঘন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং লোমের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে রুক্ষ ও নিস্তেজ হয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বা পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দুধের পরিমাণ, খাওয়ানোর পদ্ধতি এবং সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা উচিত।


শেষ কথা

বাছুরকে প্রয়োজনের তুলনায় কম দুধ খাওয়ানো কখনোই লাভজনক বা বৈজ্ঞানিক কৌশল নয়। সাময়িকভাবে কিছু দুধ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব হলেও, এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি। পর্যাপ্ত দুধ না পেলে বাছুরের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, প্রজনন বয়স পিছিয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে দুধ ও মাংস উৎপাদনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। ফলে চিকিৎসা ব্যয়, প্রতিপালন ব্যয় এবং উৎপাদন ক্ষতি মিলিয়ে খামারির আর্থিক লোকসান বেড়ে যায়। তাই জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে কলোস্ট্রাম (শালদুধ) খাওয়ানো, বয়স ও ওজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত দুধ সরবরাহ, পরিষ্কার পানি, উন্নতমানের ক্যালফ স্টার্টার এবং ধাপে ধাপে শক্ত খাদ্যে অভ্যস্ত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সবল, উচ্চ উৎপাদনশীল ও লাভজনক গবাদিপশু গড়ে তোলা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, বাছুরের জীবনের প্রথম কয়েক মাসে সঠিক পুষ্টিতে যে বিনিয়োগ করা হয়, সেটিই ভবিষ্যতের সফল ও টেকসই খামারের সবচেয়ে মূল্যবান ভিত্তি।

“বাছুরের জন্য আজ যে এক লিটার দুধ বাঁচাতে চান, ভবিষ্যতে সেই সিদ্ধান্তই আপনাকে বহু লিটার দুধের উৎপাদন থেকে বঞ্চিত করতে পারে। তাই বাছুরের পুষ্টিতে ব্যয় নয়, এটিকে আগামী দিনের লাভজনক খামারের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখুন।”ড. বায়েজিদ মোড়ল

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

আলু রপ্তানির জন্য রাশিয়ার সাথে চুক্তি স্বাক্ষর// রাশিয়ায় আগামী বছর দেড় থেকে দুই লাখ টন আলু রপ্তানি হবে- কৃষিমন্ত্রী

অপরিকল্পিত রাস্তা ও উন্নয়ন জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী

করচ ও হিজলের মতো দেশীয় জলজ বৃক্ষ নির্বিচারে কেটে ফেলার ফলে হাওড়ের স্বাভাবিক চরিত্র ও মাছের আবাস ধ্বংস হচ্ছে।

গৃহিনীরা কিভাবে ছাদ কৃষি করবেন?

নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ

নতুন খামারিদের জন্য ভালো গরু চিনে কিনার ৫০ টি টিপস

ছোট গল্প : প্রিয়তমার উপহার

২০২৪ সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন ও বন্যা পরবর্তী করণীয়

আহকাব এর নির্বাচন, ২২তম এজিএম এবং অভিষেক অনুষ্ঠান

আম রপ্তানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন