RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Wednesday , 12 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 12, 2026 3:26 pm

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: গড়ে ওঠার ইতিহাস, শিক্ষা–গবেষণায় ৬৫ বছরের অবদান, বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।। বাংলাদেশের আধুনিক কৃষির ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (Bangladesh Agricultural University—BAU/বাকৃবি)-এর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িত। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মেরও এক দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের সঙ্গে দেশের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, কৃষি প্রকৌশল, কৃষি অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৬ সালে ৬৫ বছরের পথ অতিক্রম করছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রায় ১,২০০ একরের ক্যাম্পাসে বর্তমানে ৬টি অনুষদ ও ৪৪টি বিভাগ রয়েছে। একই ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI)—দুটি জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানও অবস্থান করছে।

কিন্তু বাকৃবির গুরুত্ব শুধু তার আয়তন, অনুষদ বা বিভাগের সংখ্যায় নয়। বাংলাদেশের কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, পশুচিকিৎসক, পশুপালনবিদ, মৎস্যবিজ্ঞানী, কৃষি প্রকৌশলী, কৃষি অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক ও গবেষকের কয়েক প্রজন্ম তৈরিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা বাংলাদেশের কৃষির প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

১. কেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হয়েছিল?

পূর্ব বাংলার অর্থনীতি ঐতিহাসিকভাবেই কৃষিনির্ভর। কিন্তু কৃষিনির্ভর জনপদ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কৃষি ছিল প্রধানত অভিজ্ঞতানির্ভর। আধুনিক crop science, veterinary medicine, animal production, fisheries, irrigation, agricultural engineering এবং agricultural economics-এর জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চশিক্ষিত জনবল ছিল সীমিত।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানো, ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পশুর রোগ নিয়ন্ত্রণ, দুধ-মাংস-ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, সেচ ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে একটি বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন ছিল যেখানে একই সঙ্গে তিনটি কাজ হবে—শিক্ষা → গবেষণা → সম্প্রসারণ।

এই দর্শনই পরবর্তীকালে বাকৃবির প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্রের ভিত্তি হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ব্যবস্থার নিজস্ব ইতিহাসেও বলা হয়েছে, ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল agricultural sciences-এর বিভিন্ন শাখায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করা।

২. বাকৃবির শিকড়ে Veterinary Science

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়ে ওঠার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় কম আলোচিত বিষয় হলো—এর প্রাতিষ্ঠানিক শিকড়ের সঙ্গে Veterinary Science and Animal Husbandry-এর গভীর সম্পর্ক।

বাকৃবির Faculty of Veterinary Science-এর অফিসিয়াল ইতিহাস অনুযায়ী, East Pakistan College of Veterinary Science & Animal Husbandry নতুন East Pakistan Agricultural University প্রতিষ্ঠার nucleus বা মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম Syndicate সভায় Veterinary Science-কে foundation faculty হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং Professor S. M. Ali ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা ডিন।

অর্থাৎ বাকৃবির জন্মের ইতিহাস শুধু ফসল উৎপাদনের উচ্চশিক্ষার ইতিহাস নয়; এর শুরুতেই কৃষি, পশুচিকিৎসা ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের সমন্বিত ধারণা উপস্থিত ছিল।

এটি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের veterinary education ও livestock development-এ বাকৃবির শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করে।

৩. ১৯৬১: আনুষ্ঠানিক যাত্রা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন East Pakistan Agricultural University হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা ব্যবস্থার ইতিহাসেও সেপ্টেম্বর ১৯৬১-কে প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল শুধু স্নাতক তৈরি নয়; agricultural sciences-এর বিভিন্ন ক্ষেত্রে higher education, research এবং extension-কে একই বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।

স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম হয় Bangladesh Agricultural University—বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

স্বাধীন বাংলাদেশে এর দায়িত্বও আরও বিস্তৃত হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও খাদ্যঘাটতিতে আক্রান্ত একটি দেশের কৃষি পুনর্গঠন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিবিষয়ক দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্ব দ্রুত বাড়তে থাকে।

৪. ধাপে ধাপে ছয় অনুষদের বিকাশ

বাকৃবির বর্তমান ছয়টি অনুষদ একদিনে তৈরি হয়নি। দেশের কৃষির প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে এর academic structure বিস্তৃত হয়েছে।

Faculty of Agriculture — ১৯৬১

Faculty of Agriculture প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে। বর্তমানে Agronomy, Soil Science, Entomology, Horticulture, Plant Pathology, Crop Botany, Genetics and Plant Breeding, Agricultural Extension Education, Agricultural Chemistry, Biochemistry & Molecular Biology, Agroforestry, Seed Science and Technology এবং Agrometeorology-সহ বিস্তৃত বিষয় এর আওতায় রয়েছে।

Faculty of Animal Husbandry — ১৯৬২

প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের জন্য বিশেষায়িত দক্ষ জনবল তৈরির উদ্দেশ্যে ১৯৬২ সালে Faculty of Animal Husbandry প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে Animal Breeding & Genetics, Animal Science, Animal Nutrition, Dairy Science এবং Poultry Science—এই পাঁচটি বিভাগ রয়েছে।

Faculty of Agricultural Economics & Rural Sociology — ১৯৬৩

কৃষি শুধু biological production নয়; এর সঙ্গে বাজার, মূল্য, ঋণ, বিনিয়োগ, কৃষকের আয় এবং গ্রামীণ সমাজও যুক্ত। এই বাস্তবতায় ১৯৬৩ সালে Faculty of Agricultural Economics & Rural Sociology প্রতিষ্ঠিত হয়। বাকৃবির প্রকাশিত প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে এ প্রতিষ্ঠাবর্ষ নিশ্চিত করা হয়েছে।

Faculty of Agricultural Engineering & Technology — ১৯৬৪

কৃষিতে যন্ত্র, সেচ, পানি ব্যবস্থাপনা, post-harvest processing এবং engineering technology-এর গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৬৪ সালে Faculty of Agricultural Engineering & Technology যাত্রা শুরু করে। শুরুতে চারটি বিভাগ ছিল। বর্তমান কাঠামোয় Farm Structure and Environmental Engineering, Farm Power and Machinery, Irrigation and Water Management, Food Engineering and Technology, Computer Science and Mathematics এবং Physics রয়েছে।

Faculty of Fisheries — ১৯৬৭

বাংলাদেশের নদী, হাওর, বিল, পুকুর ও প্লাবনভূমির বিপুল মৎস্যসম্পদকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে ১৯৬৭ সালে Faculty of Fisheries প্রতিষ্ঠিত হয়। বাকৃবির তথ্য অনুযায়ী এটি উপমহাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ fisheries education faculty। ১৮ এপ্রিল ১৯৬৭-এর Syndicate Resolution No. 16-এর মাধ্যমে অনুষদটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই ধারাবাহিক বিকাশের ফলে বাকৃবি একটি পূর্ণাঙ্গ multidisciplinary agricultural university-তে পরিণত হয়।

৫. কৃষি অনুষদ: উৎপাদন থেকে Climate-smart Agriculture

একসময় বাংলাদেশের কৃষির প্রধান প্রশ্ন ছিল—“কীভাবে বেশি খাদ্য উৎপাদন করা যায়?”

আজ প্রশ্নটি অনেক বেশি জটিল। এখন জানতে হচ্ছে—কম জমিতে, কম পানি ব্যবহার করে, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে, পরিবর্তিত জলবায়ু ও নতুন রোগবালাই মোকাবিলা করে কীভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন করা যাবে এবং একই সঙ্গে কৃষককে লাভবান রাখা যাবে?

এই পরিবর্তনের সঙ্গে বাকৃবির Agriculture Faculty-এর গবেষণাও বিস্তৃত হয়েছে। Agronomy ও Soil Science থেকে Genetics & Plant Breeding, Horticulture, Entomology, Plant Pathology, Seed Science, Agroforestry এবং Agrometeorology—পুরো crop production system-কে সমন্বিতভাবে দেখার সুযোগ এখানে রয়েছে।

ভবিষ্যতে drought, salinity, flood এবং heat-tolerant variety; soil health; precision nutrient management; molecular breeding; safe pest management এবং climate-smart cropping system আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

৬. Veterinary Science: পশুর চিকিৎসা থেকে One Health

Veterinary Science-এর ভূমিকা এখন আর শুধু অসুস্থ গরু, ছাগল বা পোল্ট্রির চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক veterinary education-এর সঙ্গে animal disease diagnosis, pathology, microbiology, parasitology, pharmacology, surgery, epidemiology, zoonotic disease, public health এবং food safety যুক্ত।

বাকৃবির Veterinary Faculty বর্তমানে আটটি বিভাগ এবং একটি Teaching Veterinary Clinic-এর মাধ্যমে practical diagnosis, surgical intervention, clinical management, animal health care ও welfare বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হবে One Health

কারণ মানুষের অনেক সংক্রামক রোগ প্রাণী বা পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে livestock ও poultry-তে antibiotic-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার Antimicrobial Resistance—AMR সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে একটি সমন্বিত কাঠামোয় দেখার গবেষণায় বাকৃবির বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

৭. Animal Husbandry: জাত উন্নয়ন থেকে Precision Livestock Farming

Faculty of Animal Husbandry প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষ animal-production graduate, scientist ও researcher তৈরি করে দেশের livestock production বৃদ্ধি করা। এই অনুষদের পাঁচটি বিভাগ আসলে একটি পূর্ণাঙ্গ livestock production chain তৈরি করে—Genetics → Nutrition → Management → Dairy/Poultry Production → Productivity।

বাংলাদেশে গবাদিপশুর genetic improvement, feed formulation, dairy production, meat production, poultry nutrition ও management এবং livestock farming-এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে এই ক্ষেত্রগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে ভবিষ্যতের livestock science আরও data-driven হবে।

Animal identification, digital pedigree, genomic selection, automated milk recording, precision feeding, reproductive monitoring, heat-stress management এবং sensor-based animal health monitoring—এসব বিষয় আগামী দিনের গবেষণায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৮. Fisheries: উৎপাদনের পাশাপাশি quality ও value addition

বাংলাদেশে মৎস্য খাতের দ্রুত অগ্রগতি দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাকৃবির Fisheries Faculty ১৯৬৭ সালে তিনটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে এর কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রথম ব্যাচের ১১ জন শিক্ষার্থী B.Sc. (Hons) Fisheries ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। আজ fisheries science-এর প্রশ্ন শুধু পুকুরে কত মাছ উৎপাদন করা যাবে—এতে সীমাবদ্ধ নয়।

এখন প্রয়োজন—genetics + nutrition + disease management + water quality + processing + food safety + value addition + traceability। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মৎস্য রপ্তানির জন্য উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান, processing, cold chain ও traceability-ভিত্তিক গবেষণাও গুরুত্বপূর্ণ।

৯. Agricultural Engineering: যান্ত্রিকীকরণ থেকে AI

১৯৬৪ সালে Agricultural Engineering Faculty প্রতিষ্ঠার সময় বাংলাদেশের কৃষির বড় প্রয়োজন ছিল irrigation, farm machinery এবং post-harvest technology। বর্তমানেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রযুক্তির ধরন বদলে যাচ্ছে।

বর্তমানে এই অনুষদের academic structure-এর মধ্যে Agricultural Engineering-এর পাশাপাশি Food Engineering এবং Bioinformatics Engineering-এর মতো programme রয়েছে। সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় নথিতে ছয়টি বিভাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে agricultural engineering-এর বড় ক্ষেত্র হতে পারে—Drone, Robotics, Sensor, Artificial Intelligence, GIS, Remote Sensing, Solar Irrigation এবং Precision Agriculture।

২০২৬ সালেও বাকৃবির Farm Power and Machinery বিভাগ solar irrigation-এর surplus energy এবং digital innovation নিয়ে SMART-SIP+ কর্মশালা আয়োজন করেছে—যা গবেষণার এই পরিবর্তিত দিকটি নির্দেশ করে।

১০. Agricultural Economics: উৎপাদন নয়, লাভও দেখতে হবে

কৃষকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সবসময় “ফলন কত?” নয়। প্রশ্ন হলো—খরচ বাদ দিয়ে লাভ কত?

একজন কৃষক প্রতি বিঘায় বেশি ধান উৎপাদন করেও লোকসান করতে পারেন, যদি উৎপাদন ব্যয় বেশি হয় বা farm-gate price কমে যায়। এই জায়গাতেই Agricultural Economics & Rural Sociology-এর গুরুত্ব।

কৃষিপণ্যের cost of production, agricultural marketing, credit, finance, price formation, value chain, agribusiness এবং rural sociology—এসব বিষয় ছাড়া আধুনিক কৃষিনীতি অসম্পূর্ণ। ভবিষ্যতের গবেষণায় তাই প্রযুক্তির biological performance-এর পাশাপাশি economic performance মূল্যায়ন জরুরি।

১১. গবেষণায় নতুন অধ্যায়: BAURES

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বাকৃবিতে Master’s ও Doctoral degree-oriented research এবং project-based research চলছিল। প্রথম দিকে উভয় ধরনের গবেষণা পরিচালনার দায়িত্ব ছিল Committee for Advanced Studies and Research—CASR-এর ওপর।

কিন্তু গবেষণা শিক্ষার্থী, প্রকল্প ও অর্থায়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলাদা research-management structure প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬১তম Syndicate সভায় ৩০ আগস্ট ১৯৮৪ অনুমোদিত Ordinance-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় Bangladesh Agricultural University Research System—BAURES। Degree research CASR-এর অধীনে থাকলেও project-based non-degree research BAURES-এর সরাসরি ব্যবস্থাপনায় আসে। এটি বাকৃবির গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগঠিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

১২. BAURES কী করে?

BAURES fundamental এবং applied—দুই ধরনের agricultural research programme পরিচালনা ও সমন্বয় করে। শিক্ষকদের research proposal reviewer-এর মাধ্যমে যাচাই, faculty-wise technical evaluation এবং পরে Research Advisory Committee-এর অনুমোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। BAURES-এর ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে গবেষণা সমন্বয়, monitoring ও evaluation, symposium ও policy dialogue আয়োজন এবং journal, bulletin ও research report প্রকাশ।

গবেষণার monitoring-এ BARC ও অন্যান্য জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থাও রয়েছে। এই ব্যবস্থাটি আরও শক্তিশালী হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে দেশের বাস্তব কৃষি সমস্যার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা সম্ভব।

১৩. গবেষণাগার থেকে কৃষকের মাঠে: BAUEC

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে একটি প্রযুক্তি সফল হলেই কৃষকের লাভ হয় না। প্রযুক্তিটি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে, কৃষকের পরিবেশে পরীক্ষা করতে হবে এবং কৃষক সেটি ব্যবহার করতে পারছেন কি না—তা দেখতে হবে। এই উপলব্ধি থেকেই ১৯৭৬ সালে Agri-varsity Extension Project প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮৯ সালে এর নাম হয় Bangladesh Agricultural University Extension Centre—BAUEC। BAUEC crops, horticulture, fisheries ও livestock-এর ক্ষেত্রে research demonstration, farmer/entrepreneur training এবং GO-NGO collaboration-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষকের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে।

এটি বাকৃবির মূল দর্শনকে বাস্তব রূপ দেয়— Teaching → Research → Extension → Farmer।

১৪. গবেষণার জন্য Central Laboratory

আধুনিক agricultural science ক্রমেই laboratory-intensive হয়ে উঠছে। Genomics, molecular biology, biotechnology, disease diagnosis, food safety, soil chemistry কিংবা environmental analysis-এর জন্য sophisticated equipment প্রয়োজন।

কিন্তু প্রতিটি বিভাগে একই ব্যয়বহুল যন্ত্র স্থাপন অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়।এই ধারণা থেকেই বাকৃবিতে Professor Muhammed Hussain Central Laboratory প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গবেষকরা common sophisticated laboratory facilities ব্যবহার করতে পারেন। এ ধরনের shared research infrastructure ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

১৫. বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট: নতুন সমস্যার নতুন সমাধান

বর্তমানে বাকৃবির কাঠামোয় BAUEC ছাড়াও Graduate Training Institute, Haor & Char Development Institute, Institute of Agribusiness & Development Studies, Institutional Quality Assurance Cell, Interdisciplinary Institute for Food Security এবং PGD-in-ICT-এর মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য Haor & Char Development Institute। বাংলাদেশের হাওর ও চরাঞ্চলের স্বতন্ত্র কৃষি, মৎস্য, জীবিকা ও পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে গবেষণা ও sustainable technology development-এর লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। এর foundation stone স্থাপিত হয় ২২ জুলাই ২০১৮।

অন্যদিকে Institute of Agribusiness and Development Studies ২০১৩ সাল থেকে MBA in Agribusiness programme চালুর তথ্য দিয়েছে। এগুলো দেখায়, বাকৃবির কাজ এখন traditional agriculture-এর সীমানা ছাড়িয়ে agribusiness, food security, ICT, quality assurance এবং climate-vulnerable ecosystem পর্যন্ত বিস্তৃত।

১৬. বাকৃবির সবচেয়ে বড় অর্জন—মানুষ তৈরি

একটি agricultural university-এর অবদান শুধু কতটি crop variety বা technology উদ্ভাবিত হয়েছে তা দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। বাকৃবির সম্ভবত সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি অবদান হলো মানবসম্পদ সৃষ্টি

এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিয়ে কয়েক প্রজন্মের কৃষিবিদ, veterinarian, animal husbandry graduate, fisheries graduate, agricultural engineer, agricultural economist, শিক্ষক ও গবেষক দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, extension service এবং agribusiness sector-এ কাজ করেছেন। একটি প্রযুক্তির কার্যকাল হয়তো ১০ বা ২০ বছর। কিন্তু একজন দক্ষ বিজ্ঞানী তাঁর কর্মজীবনে বহু প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেন এবং আবার নতুন বিজ্ঞানী তৈরি করতে পারেন। এটাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের multiplier effect

১৭. বাংলাদেশের কৃষি রূপান্তরে বাকৃবির অবস্থান

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে খাদ্যঘাটতি, দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যার চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে। পরবর্তী কয়েক দশকে বাংলাদেশের কৃষিতে বড় পরিবর্তন ঘটে—উন্নত জাত, irrigation, fertilizer, mechanization, poultry, dairy, aquaculture এবং agricultural extension-এর ব্যাপক বিস্তার ঘটে।

এই সাফল্য কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। BARI, BRRI, BINA, BLRI, BFRI, BARC, DAE, DLS, DoF, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষক এবং private sector—সবাই এর অংশীদার। কিন্তু এই পুরো national agricultural system-এর জন্য প্রয়োজনীয় scientific manpower তৈরিতে বাকৃবির ঐতিহাসিক ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

১৮. বর্তমান বাকৃবি: ২০২৬

২০২৬ সালের আগস্টে বাকৃবির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন Professor Dr. A K Fazlul Haque Bhuiyan। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ১,২০০ একরের ক্যাম্পাসে ৬টি অনুষদ ও ৪৪টি বিভাগ রয়েছে। ২০২৬ সালেও আন্তর্জাতিক academic collaboration সম্প্রসারণের উদ্যোগ চলছে। উদাহরণ হিসেবে জুলাই ২০২৬-এ দক্ষিণ কোরিয়ার Yeungnam University-এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে joint research, academic cooperation এবং faculty/student exchange নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

একই সময়ে curriculum quality ও Bangladesh National Qualifications Framework বাস্তবায়নের জন্য IQAC শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালাও আয়োজন করেছে। অর্থাৎ বর্তমান বাকৃবির কাজ শুধু classroom teaching নয়; research, international collaboration, curriculum modernization, technology development এবং extension—সবগুলো ক্ষেত্রেই কার্যক্রম চলছে।

১৯. ভবিষ্যতের গবেষণায় কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত?

১৯৬১ সালের বাংলাদেশের কৃষির সঙ্গে ২০২৬ সালের কৃষির পার্থক্য বিশাল। আগামী দিনে বাকৃবিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে climate-smart agriculture, drought-flood-salinity-heat tolerant crops, genomics ও molecular breeding, precision agriculture, Artificial Intelligence, agricultural robotics, digital livestock identification, genomic selection, precision feeding, One Health, antimicrobial resistance, smart aquaculture, food safety ও traceability, post-harvest technology, renewable energy এবং agribusiness ও value-chain development-এ।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্র হওয়া উচিত smallholder-friendly technology। প্রযুক্তি যদি শুধু বড় commercial farm-এর জন্য অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর হয়, তাহলে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র কৃষক তার সুবিধা পাবেন না। তাই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সময়ই affordability, scalability এবং farmer adoption বিবেচনায় নিতে হবে।

২০. গবেষণার সাফল্য মাপার পদ্ধতি বদলানো দরকার

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মূল্যায়নে publication, citation, research project, patent এবং postgraduate degree অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু agricultural research-এর ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—

প্রযুক্তিটি কতজন কৃষক ব্যবহার করছেন? উৎপাদন কত বাড়িয়েছে? উৎপাদন ব্যয় কত কমিয়েছে? রোগ বা mortality কত কমিয়েছে? পানি, সার বা feed কত সাশ্রয় করেছে? কৃষকের নিট আয় কত বেড়েছে? এবং প্রযুক্তিটি পাঁচ বা দশ বছর পরও মাঠে টিকে আছে কি না?

এগুলোকে research impact indicator হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার প্রকৃত সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদান আরও পরিষ্কারভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

২১. University–Research–Extension–Industry সংযোগ শক্তিশালী করতে হবে

বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ব্যবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। কিন্তু গবেষণা, প্রযুক্তি validation, extension এবং commercial scaling-এর মধ্যে এখনও আরও শক্তিশালী সংযোগের সুযোগ রয়েছে।

ভবিষ্যতে প্রয়োজন—BAU + BARI + BRRI + BINA + BLRI + BFRI + BARC + DAE + DLS + DoF + Private Sector + Farmer —এই পুরো ব্যবস্থাকে একটি National Agricultural Innovation Network হিসেবে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি knowledge ও human resource; গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শক্তি long-term applied research; extension agency-এর শক্তি farmer network; আর private sector-এর শক্তি technology scaling ও commercialization। এই চার শক্তির কার্যকর সমন্বয় কৃষি গবেষণার ফল দ্রুত মাঠে পৌঁছে দিতে পারে।

২২. ৬৫ বছরের পথচলার মূল্যায়ন

১৯৬১ থেকে ২০২৬—বাকৃবির ৬৫ বছরের ইতিহাসকে কয়েকটি বড় পর্যায়ে দেখা যায়। প্রথম পর্যায়ে ছিল বিশেষায়িত কৃষি উচ্চশিক্ষার ভিত্তি নির্মাণ। এরপর Agriculture, Veterinary Science, Animal Husbandry, Agricultural Economics, Agricultural Engineering এবং Fisheries-এর সমন্বয়ে multidisciplinary structure তৈরি হয়।

পরবর্তী পর্যায়ে postgraduate education ও research বিস্তৃত হয়। ১৯৮৪ সালে BAURES প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে project-based research management প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। অন্যদিকে ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া extension project এবং ১৯৮৯ সালে BAUEC প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষকের সংযোগকে কাঠামোগত রূপ দেওয়া হয়।

এরপর biotechnology, molecular research, food security, climate change, agribusiness, ICT এবং interdisciplinary research-এর নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বর্তমান পর্যায়ে বাকৃবি প্রবেশ করছে AI, genomics, precision agriculture, digital technology এবং globally connected agricultural research-এর যুগে।

২৩. ড. বায়েজিদ মোড়লের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ বছরের অর্জন মূল্যায়ন করতে হলে শুধু কতজন graduate তৈরি হয়েছে, কতটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বা কতটি research project পরিচালিত হয়েছে—এই সংখ্যাগুলো দেখা যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে বাকৃবির প্রতিটি বড় applied research project-এর সঙ্গে Research Impact Assessment যুক্ত করা যেতে পারে।

গবেষণাগার থেকে প্রযুক্তি বের হওয়ার পর সেটি কোথায় গেল, কতজন কৃষক গ্রহণ করলেন, উৎপাদন কত বাড়ল, ব্যয় কত কমল, কৃষকের আয় কত বাড়ল এবং পাঁচ বছর পর প্রযুক্তিটি মাঠে টিকে আছে কি না—এসব তথ্য digital database-এ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির বাজারের জন্য তৈরি না করে agri-entrepreneur, innovator এবং technology developer হিসেবেও প্রস্তুত করতে হবে।

AI, robotics, biotechnology, genomics, precision farming, climate science এবং digital market intelligence-কে traditional agricultural science-এর সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করা প্রয়োজন। সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে কৃষককে রাখা। কারণ agricultural science-এর চূড়ান্ত পরীক্ষাগার শুধু university laboratory নয়; কৃষকের মাঠও।

শেষ কথা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ বছরের ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের কৃষিকে বিজ্ঞানভিত্তিক, গবেষণানির্ভর ও প্রযুক্তিমুখী করার দীর্ঘ যাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। Veterinary Science-এর ঐতিহাসিক ভিত্তি থেকে ১৯৬১ সালে Agriculture Faculty, ১৯৬২ সালে Animal Husbandry, ১৯৬৩ সালে Agricultural Economics & Rural Sociology, ১৯৬৪ সালে Agricultural Engineering & Technology এবং ১৯৬৭ সালে Fisheries Faculty—ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা এই কাঠামোই বাকৃবিকে একটি পূর্ণাঙ্গ agricultural university-তে রূপ দিয়েছে। ১৯৬১ সালে প্রশ্ন ছিল—ক্রমবর্ধমান মানুষের জন্য কীভাবে বেশি খাদ্য উৎপাদন করা যাবে? ২০২৬ সালে প্রশ্নটি আরও বিস্তৃত—

কম জমি, সীমিত পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর মধ্যে কীভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন করা যাবে, কৃষকের আয় বাড়ানো যাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কৃষিকে টেকসই রাখা যাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাকৃবির সামনে আবারও নেতৃত্ব দেওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।

“একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু কতজন গ্র্যাজুয়েট তৈরি হলো কিংবা কতটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হলো—তা দিয়ে বিচার করলে হবে না; সেই শিক্ষা ও গবেষণা একজন কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কতটা কমাল, উৎপাদন ও আয় কতটা বাড়াল এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তাকে কতটা শক্তিশালী করল—সেটিই হওয়া উচিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।”

— ড. বায়েজিদ মোড়ল
কৃষি সাংবাদিক, গবেষক, নির্বাহী সম্পাদক

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU), BAURES, BAUEC, সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের অফিসিয়াল প্রকাশনা, BARC এবং প্রাসঙ্গিক peer-reviewed গবেষণাপত্র।

সর্বশেষ - ছাগল পালন