RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Thursday , 13 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬: পদক পাচ্ছেন ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—কে কোন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।।

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 13, 2026 9:54 pm

জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬: পদক পাচ্ছেন ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—কে কোন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের বিশেষ প্রতিবেদন।।

বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, মাছ ও চিংড়ি উৎপাদন, পোনা উৎপাদন, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সমবায়ভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্যবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬ পাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

মৎস্য অধিদপ্তরের পাঠানো সরকারি আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট ২০২৬ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতায় জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচিতদের হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হবে। আমন্ত্রণপত্রে তাঁদের মৎস্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬-এর জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এবারের তালিকাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এতে মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তার পাশাপাশি হ্যাচারি, গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদন, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, মৎস্যজীবী সমবায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরাও স্থান পেয়েছেন।

১. মো. মনিরুজ্জামান সুমন — নাটোর

নাম: মো. মনিরুজ্জামান সুমন
ঠিকানা: গ্রাম মাদারীপুর, ডাকঘর শিমুলপুরদিয়া, উপজেলা নাটোর সদর, জেলা নাটোর, বিভাগ রাজশাহী।

অবদানের ক্ষেত্র:
মাঠপর্যায়ে মৎস্য উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিগত উদ্যোক্তাদের অবদানও জাতীয়ভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।


২. জি এম মৎস্য খামার — বগুড়া

প্রতিষ্ঠান: জি এম মৎস্য খামার
স্বত্বাধিকারী: মো. আব্দুল মতিন তালুকদার
খামারের অবস্থান: কালাইকুড়ি, আদমদীঘি, বগুড়া।

অবদানের ক্ষেত্র:
বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ মাছের সরবরাহ বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রয়েছে। এ ধরনের বাণিজ্যিক খামার স্থানীয় পর্যায়ে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মৎস্যচাষকে লাভজনক কৃষিভিত্তিক উদ্যোগে রূপ দিতে সহায়তা করছে।


৩. ন্যাশনাল ফিশ হ্যাচারি — যশোর

প্রতিষ্ঠান: ন্যাশনাল ফিশ হ্যাচারি
স্বত্বাধিকারী: মো. আমিনুল হক
হ্যাচারির অবস্থান: চাঁচড়া, যশোর সদর, যশোর।
ঠিকানা: চাঁচড়া ডালমিলের পশ্চিম অংশ, ডাকঘর চাঁচড়া, উপজেলা যশোর সদর, জেলা যশোর, বিভাগ খুলনা।

অবদানের ক্ষেত্র:
মানসম্মত মাছের পোনা উৎপাদন ও মৎস্যচাষিদের কাছে পোনা সরবরাহ মৎস্য উৎপাদনের অন্যতম ভিত্তি। হ্যাচারিভিত্তিক পোনা উৎপাদনে ন্যাশনাল ফিশ হ্যাচারির কার্যক্রম দেশের মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।


৪. টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড — খুলনা

প্রতিষ্ঠান: টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড
প্রতিষ্ঠানের অবস্থান: রূপসা ব্রিজ অ্যাপ্রোচ রোড, রূপসা, খুলনা
স্বত্বাধিকারী/প্রতিনিধি: মোহাম্মদ রেজাউর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক
ঢাকার ঠিকানা: বাড়ি নং ২৬, বি-এম, রাস্তা ৮, সেক্টর ৩, উত্তরা, ঢাকা।

অবদানের ক্ষেত্র:
মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণে প্রতিষ্ঠানটির কাজ মৎস্যের value addition-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। উৎপাদিত মাছকে শুধু কাঁচা পণ্য হিসেবে বিক্রির পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত ও বাজারোপযোগী পণ্যে রূপান্তর মৎস্য খাতের মূল্য সংযোজন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


৫. মিতু মৎস্য খামার — সাতক্ষীরা

প্রতিষ্ঠান: মিতু মৎস্য খামার
খামারের অবস্থান: নেহালপুর, সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা
স্বত্বাধিকারী: কাজী আফসার হোসেন
ঠিকানা: গ্রাম কুলটিয়া, ডাকঘর দক্ষিণ শ্রীপুর, উপজেলা কালিগঞ্জ, জেলা সাতক্ষীরা, বিভাগ খুলনা।

অবদানের ক্ষেত্র:
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য উৎপাদন ব্যবস্থায় বেসরকারি খামারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিতু মৎস্য খামার বাণিজ্যিক মাছ উৎপাদন ও স্থানীয় মৎস্য অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।


৬. কুসুম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড — নীলফামারী

প্রতিষ্ঠান: কুসুম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড
প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা: গ্রাম কুসুম পশ্চিমপাড়া, ডাকঘর সৈয়দপুর, উপজেলা সৈয়দপুর, জেলা নীলফামারী, বিভাগ রংপুর।

অবদানের ক্ষেত্র:
মৎস্যজীবীদের সংগঠিত করা, সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সমবায় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এবারের পদকে সমবায়ভিত্তিক মৎস্য উন্নয়নকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


৭. অ্যাকুয়াম্যাক্স লিমিটেড — সাতক্ষীরা/খুলনা

প্রতিষ্ঠান: অ্যাকুয়াম্যাক্স লিমিটেড
প্রতিষ্ঠানের অবস্থান: দাতিনাখালী, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
স্বত্বাধিকারী/প্রতিনিধি: মো. সহিদুল ইসলাম জুয়েল
অফিস: নিরালা আবাসিক এলাকা, খুলনা সদর, খুলনা।

অবদানের ক্ষেত্র:
উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য ও জলজসম্পদভিত্তিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সাতক্ষীরা-খুলনা অঞ্চল দেশের চিংড়ি ও জলজসম্পদ অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র; এ অঞ্চলে বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন ও বাজারসংযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির কাজ জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে।


৮. প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার — বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

নাম: প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার
পেশাগত পরিচয়: প্রফেসর, ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগ, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
ঠিকানা: মঙ্গলকোট, কেশবপুর, যশোর।

অবদানের ক্ষেত্র:
মাৎস্যবিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা, মাছের জীববিজ্ঞান ও জেনেটিক্স এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে দীর্ঘদিনের একাডেমিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় মৎস্য পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার অবদান যে উৎপাদনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর অন্তর্ভুক্তি সেটিই তুলে ধরে।


৯. মো. শাহজাহান — চট্টগ্রাম

নাম: মো. শাহজাহান
ঠিকানা: গ্রাম মুসলিম পাড়া, কবাখালী; ডাকঘর দীঘিনালা; উপজেলা দীঘিনালা; জেলা খাগড়াছড়ি; বিভাগ চট্টগ্রাম।

অবদানের ক্ষেত্র:
পার্বত্য অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ও মাঠপর্যায়ের উৎপাদন কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। পাহাড়ি এলাকার জলাশয় ও স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মাছ উৎপাদন সম্প্রসারণ দেশের মৎস্য খাতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাড়াতে সহায়ক।


১০. ড. আশরাফ ফিশারিজ — ফেনী

প্রতিষ্ঠান: ড. আশরাফ ফিশারিজ
খামারের অবস্থান: চণ্ডিপুর, দাগনভূঞা, ফেনী
স্বত্বাধিকারী: মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম
ঠিকানা: চণ্ডিপুর, দাগনভূঞা, ফেনী, বিভাগ চট্টগ্রাম।

অবদানের ক্ষেত্র:
বাণিজ্যিক মাছ চাষ, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহ বৃদ্ধিতে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে পরিকল্পিত খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছ উৎপাদনকে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তরের একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি পেয়েছে।


১১. অধ্যাপক ড. মো. জহির আহমেদ — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নাম: অধ্যাপক ড. মো. জহির আহমেদ
বর্তমান পরিচয়: প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক; ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির সাবেক মহাপরিচালক
স্থায়ী ঠিকানা: শিমরাইল, কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বিভাগ চট্টগ্রাম।

অবদানের ক্ষেত্র:
প্রাণিবিদ্যা, জীবপ্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট গবেষণায় তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের বৈজ্ঞানিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা-গবেষণা এবং জাতীয় পর্যায়ের জীবপ্রযুক্তি গবেষণা ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে এবারের পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষ অবস্থান দিয়েছে।


১২. আলা উদ্দিন ফিশারিজ — নোয়াখালী

প্রতিষ্ঠান: আলা উদ্দিন ফিশারিজ
খামারের অবস্থান: বদরপুর, নোয়াখালী সদর ও চরকাঁকড়া, সুবর্ণচর, নোয়াখালী
স্বত্বাধিকারী: আলা উদ্দিন
ঠিকানা: বদরপুর, নোয়াখালী সদর, নোয়াখালী।

অবদানের ক্ষেত্র:
উপকূলীয় নোয়াখালী অঞ্চলে বাণিজ্যিক মাছ চাষ ও মৎস্য উৎপাদন সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রেখেছে। উপকূলের জমি ও জলসম্পদের উৎপাদনশীল ব্যবহার, বাণিজ্যিক মৎস্যচাষ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ সরাসরি সম্পর্কিত।


১৩. ফিশটেক গলদা হ্যাচারি — পটুয়াখালী

প্রতিষ্ঠান: ফিশটেক গলদা হ্যাচারি
হ্যাচারির অবস্থান: মনোহরপুর, কলাপাড়া, পটুয়াখালী
স্বত্বাধিকারী: মোহাম্মদ তারেক সরকার
ঠিকানা: গ্রাম মনোহরপুর, ডাকঘর মহিপুর, উপজেলা কলাপাড়া, জেলা পটুয়াখালী, বিভাগ বরিশাল।

অবদানের ক্ষেত্র:
গলদা চিংড়ি চাষের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য পোনা। গলদা হ্যাচারি পরিচালনা এবং চাষিদের জন্য পোনা সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি চিংড়ি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ upstream segment-এ কাজ করছে। দেশে হ্যাচারিভিত্তিক মানসম্মত পোনা সরবরাহ বাড়ানো প্রাকৃতিক উৎসের ওপর চাপ কমাতেও সহায়ক।


১৪. এম আর হাসান এগ্রো ফার্ম — নেত্রকোনা

প্রতিষ্ঠান: এম আর হাসান এগ্রো ফার্ম
খামারের অবস্থান: হাপানিয়া, কলমাকান্দা, নেত্রকোনা
স্বত্বাধিকারী: মো. মানিক আজাদ
ঠিকানা: গ্রাম হাপানিয়া, ডাকঘর পানারপাড়ুয়া, উপজেলা কলমাকান্দা, জেলা নেত্রকোনা, বিভাগ ময়মনসিংহ।

অবদানের ক্ষেত্র:
হাওর ও জলাভূমিসমৃদ্ধ নেত্রকোনা অঞ্চলে বাণিজ্যিক মৎস্য উৎপাদন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয় জলসম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার এবং বাজারমুখী মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতিই এ পদকের অন্যতম তাৎপর্য।


এবারের পদক তালিকা যে বার্তা দিচ্ছে

জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬-এর ১৪ পদকপ্রাপ্তের তালিকা বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়। এখানে শুধু বড় মাছচাষি নেই; আছেন মৎস্যচাষি, হ্যাচারি উদ্যোক্তা, গলদা পোনা উৎপাদক, মৎস্যজীবী সমবায়, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক।

অর্থাৎ একটি মাছ পুকুরে উৎপাদনের আগের ধাপ—গবেষণা, প্রযুক্তি ও পোনা উৎপাদন—থেকে শুরু করে উৎপাদন, সংগঠিত মৎস্যজীবী ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনের পরের ধাপ—processing ও value addition—পর্যন্ত পুরো value chain-এর বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব এবারের পদকে রয়েছে।

বিশেষ করে ন্যাশনাল ফিশ হ্যাচারি ও ফিশটেক গলদা হ্যাচারির মতো প্রতিষ্ঠান মানসম্মত পোনা উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরছে। জি এম মৎস্য খামার, মিতু মৎস্য খামার, ড. আশরাফ ফিশারিজ, আলা উদ্দিন ফিশারিজ ও এম আর হাসান এগ্রো ফার্মের মতো উদ্যোগগুলো বাণিজ্যিক মাছ উৎপাদনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী অবস্থান নির্দেশ করে।

অন্যদিকে টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের স্বীকৃতি দেখায়—শুধু মাছ উৎপাদন করলেই হবে না; processing, quality control, value addition, cold-chain এবং বাজারজাতকরণ ক্রমেই বাংলাদেশের মৎস্য অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

একইভাবে অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার ও অধ্যাপক ড. মো. জহির আহমেদের অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা বহন করে। দেশের মৎস্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন শুধু উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল নয়; এর সঙ্গে বিজ্ঞান, genetics, biotechnology, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

উৎপাদন থেকে বিজ্ঞান—একই মঞ্চে স্বীকৃতি

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ। কিন্তু ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন মানসম্মত পোনা, উৎপাদন দক্ষতা, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, রোগ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, traceability, processing, value addition এবং আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী মান নিশ্চিত করা।

সে বিবেচনায় জাতীয় মৎস্য পদক শুধু ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান নয়; এটি দেশের মৎস্য খাত কোন ধরনের উদ্যোগকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে—তারও একটি প্রতিফলন।

মাঠের মাছচাষি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, হ্যাচারি থেকে processing plant এবং ব্যক্তি উদ্যোক্তা থেকে মৎস্যজীবী সমবায়—জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬-এর ১৪ পদকপ্রাপ্ত যেন বাংলাদেশের মৎস্য value chain-এর ১৪টি আলাদা মুখ।

তাঁদের স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মের মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র

মৎস্য অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার—জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদানসংক্রান্ত নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সরকারি আমন্ত্রণপত্র; এবং জাতীয় মৎস্য পদক নীতিমালা-২০২৬।

সর্বশেষ - ছাগল পালন