অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটেছে, এবার মৎস্য রপ্তানি বাড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী//জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে রপ্তানি সম্প্রসারণ, প্রান্তিক অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, জনসেবা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব।।
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট):

দেশের মানুষের মাছের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই অর্জনকে আরও অর্থবহ করতে এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক মৎস্যচাষি ও জেলেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
মঙ্গলবার মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মৎস্য খাত দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত উদ্যোগ, মৎস্যচাষিদের শ্রম, জেলেদের অবদান, প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে আজ এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ মাছের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এখন এই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, “দেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।”
মৎস্য খাতকে রপ্তানিমুখী করার সময় এসেছে
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের মৎস্য খাতের আগামী দিনের অগ্রাধিকারের একটি সুস্পষ্ট দিক উঠে আসে। অভ্যন্তরীণ খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্য খাতকে আরও বেশি রপ্তানিমুখী ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী খাতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপদ, মানসম্মত ও রপ্তানিযোগ্য মৎস্যপণ্য উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে উৎপাদন থেকে আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের প্রতিটি ধাপে মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
দেশের চিংড়ি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় মাছ এবং মৎস্যজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর সুফল সরাসরি প্রান্তিক মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
হাওরাঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী

এবার জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে করার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের মিঠাপানির মাছের একটি বড় অংশ হাওরাঞ্চল থেকে আসে। তাই জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে মৎস্য উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি, জেলে এবং মৎস্য খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের কাছে জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এবার কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে করা হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন মাঠপর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্য খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও অর্জন জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মৎস্য ও কৃষির উন্নয়নে অতীতের উদ্যোগের কথা স্মরণ
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে নদী খনন, খাল সংস্কারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। এসব উদ্যোগ দেশের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কৃষি ও মৎস্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে বড় আয়োজন
জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর আয়োজনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এবারের বড় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের কারণে আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “এবার আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বড় আয়োজন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে এই কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে।”
জাতীয় পর্যায়ের এমন কর্মসূচি রাজধানীর বাইরে আয়োজনের ফলে স্থানীয় মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্য উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাওরাঞ্চলে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছেছে বলে তিনি মনে করেন।
‘সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বড় কাজ সফল করতে পারে’
জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজন সফল করতে মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। সম্মিলিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, “হাতের পাঁচটি আঙুলের মতো আমাদের সবার দায়িত্ব আলাদা হতে পারে, কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো শক্তি তৈরি হয়। এবারের আয়োজনও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়েছে।”
তিনি বলেন, কোনো বড় জাতীয় কর্মসূচি একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়। পরিকল্পনা, সমন্বয়, মাঠপর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা থাকলেই বড় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
সরকারি দায়িত্বে অবহেলা নয়
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কঠোর বার্তা দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা কিংবা কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে রাষ্ট্র এবং জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মৎস্যচাষি, জেলে ও সাধারণ মানুষ যেন সরকারি দপ্তরে এসে প্রয়োজনীয় সেবা সহজে পান, সেটি নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বলে অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়।
‘রাষ্ট্রের মালিক জনগণ’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনা ও সরকারি কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণকে রাখতে হবে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের মালিক জনগণ।” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই নীতিতে বিশ্বাস করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশেষ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের মতো সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত খাতে মাঠপর্যায়ের মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একজন ব্যক্তি একা বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দক্ষ, আন্তরিক ও দায়িত্বশীল টিম থাকলে কঠিন কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
এ জন্য তিনি মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জনগণের কল্যাণে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
মৎস্য খাতে নতুন প্রকল্পের নির্দেশনা
মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ খাতের উন্নয়নে কয়েকটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের মৎস্য উৎপাদন, মৎস্যচাষিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদপ্তরের ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত মাছের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, প্রান্তিক উৎপাদককে সহায়তা দেওয়া এবং রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সেবা নিতে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন: সচিব
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
সচিব বলেন, যার যে দায়িত্ব রয়েছে, তাকে সেটি যথাযথভাবে পালন করতে হবে। জনগণকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না।
তিনি বলেন, সরকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
মাঠপর্যায়ের একজন মৎস্যচাষি বা জেলে যখন কোনো সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসেন, তখন সহজে ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য—তার বক্তব্যে এমন গুরুত্বই উঠে আসে।
২৩ বছর পর ঢাকার বাইরে কেন্দ্রীয় আয়োজন
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকার বাইরে সর্বশেষ ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি এবং মৎস্য খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কারণে এবারের আয়োজন আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। এতে মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে মাঠের সফল মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে অন্য মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তারাও উৎসাহিত হবেন এবং মৎস্য খাতের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উৎপাদন থেকে রপ্তানি—নতুন লক্ষ্য
জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দেশের মৎস্য খাতের জন্য আগামী দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে—শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, উৎপাদিত মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের অর্থনৈতিক মূল্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জনের পর এখন প্রয়োজন মানসম্মত উৎপাদন, নিরাপদ মৎস্যপণ্য, উন্নত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানির নতুন বাজার তৈরির মাধ্যমে এই খাতকে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
একই সঙ্গে এ উন্নয়নের সুফল যেন প্রান্তিক মৎস্যচাষি ও জেলেদের কাছে পৌঁছায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি মাঠের মানুষ। তাদের উৎপাদন সক্ষমতা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে মৎস্য খাত গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
মৎস্য খাতের সামনে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশের মৎস্য খাত এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে অভ্যন্তরীণ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় অবদান রাখার পাশাপাশি রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি গুণগত মান, খাদ্য নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড চেইন, ট্রেসেবিলিটি এবং বাজার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আগামী দিনের পরিকল্পনায় আরও গুরুত্ব পাবে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের এবারের আয়োজনও সেই পরিবর্তিত লক্ষ্যকেই সামনে নিয়ে এসেছে—দেশের মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের অর্জন ধরে রেখে এবার বাংলাদেশের মৎস্য খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি, জেলে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






















