রাশিয়ার আরখানগেলস্কোয়ে ডেইরি ফার্মের এক বছরে গড়ে ওঠা ইউরোপের আলোচিত মেগা ডেইরি কমপ্লেক্স।।
নিজস্ব দুধ, বিশেষ জাত, স্বয়ংক্রিয় দোহন ও পূর্ণাঙ্গ ভ্যালু চেইনের সমন্বয়ে রাশিয়ার দুগ্ধশিল্পে নতুন দৃষ্টান্ত।।
ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।
রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের আনিনস্কি জেলার আরখানগেলস্কোয়ে গ্রামে অবস্থিত Arkhangelskoye Dairy Farm দেশটির বৃহৎ ও প্রযুক্তিনির্ভর দুগ্ধ খামারগুলোর অন্যতম। এটি স্বতন্ত্র কোনো ছোট পারিবারিক খামার নয়; বরং রাশিয়ার বড় দুগ্ধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান Molvest Group-এর সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থার অংশ। খামারটি আইনগতভাবে LLC Agricultural Enterprise “Moloko Chernozemya” নামে পরিচালিত হয়।
প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন হয় ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু এবং মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপ উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার দুধেল গাভীর জন্য নির্মিত এই খামারে বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০টির বেশি দুধেল গাভী রয়েছে বলে মোলভেস্ট জানিয়েছে। দৈনিক দুধ উৎপাদন প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার লিটার এবং খামারের নিয়ন্ত্রণাধীন কৃষিজমি প্রায় ১২ হাজার ৬০০ হেক্টর। Molvest, RIA Voronezh

নাম নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন
“Arkhangelskoye” নাম দেখে অনেকে খামারটিকে রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় Arkhangelsk Oblast বা আরখানগেলস্ক প্রদেশের প্রতিষ্ঠান মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে আলোচিত খামারটি সেখানে নয়। এটি অবস্থিত—
- গ্রাম: আরখানগেলস্কোয়ে
- জেলা: আনিনস্কি
- অঞ্চল: ভোরোনেজ
- পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান: Moloko Chernozemya
- মূল গ্রুপ: Molvest
অর্থাৎ গ্রামের নাম থেকেই এর পরিচিত নাম Arkhangelskoye Dairy Farm হয়েছে।
গড়ে ওঠার পটভূমি
মোলভেস্ট প্রথমে মূলত দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু বড় প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাইরের খামার থেকে নিয়মিত একই মানের কাঁচা দুধ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। দুধের চর্বি ও প্রোটিনের তারতম্য, ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি, পরিবহন বিলম্ব এবং বাজারে কাঁচা দুধের সরবরাহ ঘাটতি কোম্পানিটিকে নিজস্ব উৎপাদনভিত্তি তৈরির দিকে নিয়ে যায়। মোলভেস্ট বুঝতে পারে—শুধু কারখানা বড় করলেই দুগ্ধ ব্যবসা টেকসই হবে না। প্রয়োজন হবে—
- নিজস্ব গাভী;
- নিজস্ব খাদ্য উৎপাদনের জমি;
- জাতভিত্তিক দুধ সংগ্রহ;
- আধুনিক দোহন ও শীতলীকরণ;
- প্রজনন ও বাছুর ব্যবস্থাপনা;
- দুধ থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন;
- খামার থেকে বাজার পর্যন্ত মান নিয়ন্ত্রণ।
এই চিন্তা থেকে কোম্পানিটি ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত দুগ্ধ ভ্যালু চেইন নির্মাণ করে। আরখানগেলস্কোয়ে মেগা ফার্ম ছিল সেই কৌশলের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প।
ছোট থেকে বড় হওয়ার পর্যায়ক্রম
প্রথম ধাপ: নিজস্ব কাঁচা দুধ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত
২০১১–১৩ সালের দিকে মোলভেস্ট সাধারণ তরল দুধের পাশাপাশি পনির, মাখন, দই এবং উচ্চমূল্যের দুগ্ধপণ্য উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এসব পণ্যের জন্য শুধু বেশি দুধ নয়, বেশি চর্বি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ দুধ প্রয়োজন।
এই কারণে কোম্পানি প্রচলিত উচ্চ দুধদানকারী হলস্টেইনের পাশাপাশি জার্সি ও মন্টবেলিয়ার্ড জাতের প্রতি আগ্রহী হয়।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প প্রস্তুতি
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে Moloko Chernozemya নিবন্ধিত হয়। এরপর আরখানগেলস্কোয়ে গ্রামের কাছে জমি, খাদ্য উৎপাদনের এলাকা, পানি, বিদ্যুৎ, সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দুধ পরিবহনের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে মেগা কমপ্লেক্সের পরিকল্পনা করা হয়।
প্রকল্পের প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় ছিল প্রায় ৪ বিলিয়ন রুবল। নির্মাণ শেষে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন রুবল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অর্থায়নে উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধনের পাশাপাশি কৃষিঋণ ও রাষ্ট্রীয় কৃষি সহায়তা কাঠামোর ভূমিকা ছিল।
তৃতীয় ধাপ: নির্মাণ শুরু
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল—এক বছরের মধ্যে ৫ হাজার দুধেল গাভীর উপযোগী কমপ্লেক্স নির্মাণ। প্রকল্পে তৈরি করা হয়—
- আটটি বড় গবাদিপ্রাণির শেড;
- দুটি রোটারি বা “ক্যারোসেল” মিল্কিং পার্লার;
- একটি “হেরিংবোন” দোহনকেন্দ্র;
- খাদ্য সংরক্ষণ ও মিশ্রণের এলাকা;
- গাভীর চলাচলের পথ;
- প্রসব ও চিকিৎসা বিভাগ;
- দুধ দ্রুত শীতল করার ব্যবস্থা;
- গোবর ও তরল বর্জ্য অপসারণ কাঠামো;
- প্রশাসনিক ও কর্মী ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো।
চতুর্থ ধাপ: গাভী সংগ্রহ ও খামার চালু
২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি জার্সি ও মন্টবেলিয়ার্ড গাভী খামারে আনা হয়। একই মাসে আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০টি গবাদিপ্রাণি আনার পরিকল্পনা ছিল।
২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপ উদ্বোধন করা হয়। একই বছরের জুন নাগাদ খামারে প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি গাভী ছিল এবং পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছিল। দ্বিতীয় ধাপ চালু হওয়ার পর দুধেল গাভীর সংখ্যা ৫ হাজারে উন্নীত হয়। Milknews, RIA Voronezh
পঞ্চম ধাপ: উৎপাদন ও বাজারের সংযোগ
পূর্ণ সক্ষমতায় খামারটির বার্ষিক দুধ উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল প্রায় ৪০ হাজার টন। পরবর্তী সময়ে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৭ হাজার লিটারে পৌঁছে।
এই দুধ আলাদা কোনো পাইকারি বাজারে ছেড়ে না দিয়ে প্রধানত মোলভেস্টের নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে তরল দুধ, দই, মাখন, পনির, কটেজ চিজ, শিশুখাদ্য উপকরণসহ দুই শতাধিক ধরনের দুগ্ধপণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমান পরিসরের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| সূচক | প্রকাশিত তথ্য |
|---|---|
| দুধেল গাভী | ৫,৫০০টির বেশি |
| দৈনিক দুধ | প্রায় ১,০৭,০০০ লিটার |
| বার্ষিক সম্ভাব্য উৎপাদন | প্রায় ৩৯–৪০ হাজার টন |
| কৃষিজমি | প্রায় ১২,৬০০ হেক্টর |
| প্রাথমিক ধারণক্ষমতা | ৫,০০০ দুধেল গাভী |
| বড় শেড | ৮টি |
| প্রধান দোহনব্যবস্থা | দুটি ৬০-স্টল ক্যারোসেল |
| অতিরিক্ত দোহনব্যবস্থা | হেরিংবোন পার্লার |
| প্রধান জাত | জার্সি ও মন্টবেলিয়ার্ড |
| প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবহৃত আরেকটি জাত | হলস্টেইন |
| নির্মাণকাল | প্রায় এক বছর |
| বিনিয়োগ | প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন রুবল |
| প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান | শুরুতে প্রায় ১৫০; সাম্প্রতিক নিবন্ধিত হিসাবে গড়ে প্রায় ২০৫ কর্মী |
তিন জাত নির্বাচনের কৌশল
জার্সি
জার্সি আকারে ছোট এবং তুলনামূলকভাবে কম খাদ্য গ্রহণ করলেও এর দুধে চর্বি ও প্রোটিন বেশি। ফলে মাখন, পনির, ক্রিম ও ঘন দুগ্ধপণ্য উৎপাদনে এ দুধের অর্থনৈতিক মূল্য বেশি।
একটি প্রকাশিত খামার প্রতিবেদনে জার্সির দুধে গড়ে প্রায় ৬.৩ শতাংশ চর্বি এবং ৪.৬ শতাংশ প্রোটিনের কথা বলা হয়েছে। তবে এগুলো নির্দিষ্ট পাল ও সময়ের ফলাফল; সব জার্সি গাভীর জন্য স্থির মান নয়।
মন্টবেলিয়ার্ড
ফ্রান্সের এই জাতটি দুধ, স্বাস্থ্য, দীর্ঘ উৎপাদনজীবন এবং পনির তৈরির উপযোগী দুধের জন্য পরিচিত। খামারের প্রকাশিত তথ্যে মন্টবেলিয়ার্ডের দুধে প্রায় ৪.৪ শতাংশ চর্বি ও ৩.৬ শতাংশ প্রোটিন পাওয়া গেছে।
হলস্টেইন
হলস্টেইন মূলত বেশি পরিমাণ দুধ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রকল্পের প্রাথমিক নকশায় তিনটি জাত থাকলেও বর্তমান কোম্পানি পরিচিতিতে জার্সি ও মন্টবেলিয়ার্ডকে প্রধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর অর্থ, খামারটি শুধু লিটারের পরিমাণের বদলে দুধের সলিডস—বিশেষ করে ফ্যাট ও প্রোটিনের অর্থনৈতিক মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
ক্যারোসেল দোহনব্যবস্থা
খামারটির দুটি ক্যারোসেল দোহনকেন্দ্রের প্রতিটিতে প্রায় ৬০টি স্থান রয়েছে। গাভী একটি বড় বৃত্তাকার প্ল্যাটফর্মে ওঠে। প্ল্যাটফর্মটি ধীরে ধীরে ঘোরে এবং একই সময়ে—
- গাভীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়;
- ওলান পরিষ্কার করা হয়;
- দোহন ইউনিট লাগানো হয়;
- দুধের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়;
- দোহন শেষে ইউনিট খুলে যায়;
- গাভী প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে যায়।
জাতভেদে দুধের চর্বি ও প্রোটিন আলাদা হওয়ায় দুধ পৃথকভাবে সংগ্রহের ব্যবস্থাও রয়েছে। এর ফলে কোন দুধ তরল হিসেবে এবং কোনটি পনির বা মাখনের জন্য ব্যবহার করা হবে—তা পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
তবে প্রযুক্তি কখনোই দক্ষ জনবলের বিকল্প নয়। ক্যারোসেল ঠিকভাবে চালাতে গাভীর চলাচল, ওলান প্রস্তুতি, যন্ত্রের ভ্যাকুয়াম চাপ, জীবাণুমুক্তকরণ এবং ম্যাস্টাইটিস শনাক্তকরণ একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
খাদ্য উৎপাদনে নিজস্ব জমি
১২ হাজার ৬০০ হেক্টর কৃষিজমি খামারটির বড় শক্তি। এত বড় পালকে সম্পূর্ণ বাজারনির্ভর খাদ্যে চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জমিতে ভুট্টা, শস্য, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান উৎপাদন করে সাইলেজ, হে ও দানাদার খাদ্যের কাঁচামাল নিশ্চিত করা হয়।
এই ব্যবস্থা তিনটি সুবিধা দেয়—
১. খাদ্যের খরচ তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকে;
২. কাঁচামালের মান ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা যায়;
৩. খরা, মূল্যবৃদ্ধি বা বাজারে খাদ্য ঘাটতির অভিঘাত কিছুটা মোকাবিলা করা যায়।
আরখানগেলস্কোয়ের সাফল্যকে তাই শুধু ৫ হাজার ৫০০ গাভীর সাফল্য বলা যাবে না। এর পেছনে প্রতি দুধেল গাভীর বিপরীতে পর্যাপ্ত জমি, খাদ্য সংরক্ষণ, যন্ত্রপাতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ফসল পরিকল্পনা রয়েছে।
বাছুর, প্রজনন ও জেনেটিক ব্যবস্থাপনা
মোলভেস্ট গ্রুপের পৃথক Selection and Genetics Centre রয়েছে। সেখানে জার্সি, মন্টবেলিয়ার্ড, হলস্টেইন এবং মাংসের জাত Belgian Blue নিয়ে নির্বাচন ও প্রজননের কাজ করা হয়। খামারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় রিপ্লেসমেন্ট হিফার তৈরিও এই ব্যবস্থার অংশ। Molvest Genetics Centre
বড় খামারের জন্য শুধু ভালো জাত আমদানি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন—
- প্রতিটি গাভীর বংশতথ্য;
- দুধ, ফ্যাট ও প্রোটিনের রেকর্ড;
- প্রজনন ব্যবধান;
- গর্ভধারণ হার;
- রোগ ও চিকিৎসার ইতিহাস;
- খুর ও ওলানের স্বাস্থ্য;
- উৎপাদনজীবনের দৈর্ঘ্য;
- বাছুরের জন্ম ও বৃদ্ধির তথ্য।
এই তথ্যের ভিত্তিতে দুর্বল গাভী বাদ দেওয়া এবং দীর্ঘজীবী, সুস্থ ও লাভজনক গাভীর বংশ বিস্তার করা হয়।
বড় হওয়ার পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা
বিপুল মূলধনের প্রয়োজন
দুধের খামারে বিনিয়োগ করার পর সঙ্গে সঙ্গে আয় আসে না। শেড, দোহনযন্ত্র, গাভী, খাদ্য, বিদ্যুৎ, পানি ও জনবল—সবকিছুতে আগে ব্যয় করতে হয়। প্রকল্পটির জন্য ৩.৪ বিলিয়ন রুবলের মতো বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়েছিল।
মোলভেস্ট নিজেই একসময় জানিয়েছিল, দুগ্ধ খাতের জন্য কম সুদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তুকি কমে যাওয়ায় গ্রুপটির অন্য একটি খামারের নির্মাণ সাময়িক স্থগিতও হয়েছিল। ফলে আর্থিক ঝুঁকি এই মডেলের বড় দুর্বলতা।
বিদেশি জাতের অভিযোজন
জার্সি, মন্টবেলিয়ার্ড ও হলস্টেইনের উৎপাদনক্ষমতা বেশি হলেও নতুন জলবায়ু, খাদ্য ও ব্যবস্থাপনায় অভিযোজন করানো সহজ নয়। পরিবহনজনিত চাপ, রোগ, প্রজনন সমস্যা এবং খাদ্যের পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়।
খাদ্য সরবরাহ
৫ হাজারের বেশি দুধেল গাভী এবং সঙ্গে বাছুর, হিফার ও শুকনা গাভীর জন্য প্রতিদিন বিপুল খাদ্য প্রয়োজন। সাইলেজের মান নষ্ট হলে বা ফসল উৎপাদন কমে গেলে পুরো খামারের উৎপাদন ও প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রোগ ও বায়োসিকিউরিটি
এক জায়গায় কয়েক হাজার গবাদিপ্রাণি থাকলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নতুন গবাদিপ্রাণির কোয়ারেন্টিন, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন জীবাণুমুক্তকরণ, মৃতদেহ অপসারণ এবং রোগভিত্তিক পৃথকীকরণ তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন
আধুনিক খামারে সাধারণ শ্রমিকের পাশাপাশি প্রয়োজন হয়—
- পশুচিকিৎসক;
- পুষ্টিবিদ;
- প্রজনন বিশেষজ্ঞ;
- দোহনযন্ত্র প্রকৌশলী;
- তথ্য বিশ্লেষক;
- ফসল ও সাইলেজ বিশেষজ্ঞ;
- বর্জ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপক।
মাত্র গাভীর সংখ্যা বাড়িয়ে এসব দক্ষতা ছাড়া মেগা ফার্ম চালানো সম্ভব নয়।
দুধের বাজারমূল্য
বৃহৎ উৎপাদন খামারকে প্রতিদিন দুধ বিক্রি করতেই হবে। দাম কমে গেলে বা কারখানা দুধ নিতে না পারলে বড় লোকসান হয়। আরখানগেলস্কোয়ের বড় সুবিধা হলো—এর মালিকের নিজস্ব প্রক্রিয়াজাত কারখানা ও ব্র্যান্ড রয়েছে।
খামারটির প্রধান বৈশিষ্ট্য
১. উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সমন্বয়
খাদ্য উৎপাদন থেকে গাভী পালন, দোহন, শীতলীকরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ—সবকিছু একই গ্রুপের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।
২. লিটারের চেয়ে মিল্ক সলিডসকে গুরুত্ব
খামারটি কেবল বেশি লিটার দুধের পেছনে ছুটেনি। বেশি ফ্যাট ও প্রোটিনযুক্ত দুধের জন্য জার্সি ও মন্টবেলিয়ার্ড নির্বাচন করেছে। পনির, মাখন ও উচ্চমূল্যের উপকরণে এটি বেশি লাভজনক হতে পারে।
৩. জাতভিত্তিক দুধ পৃথকীকরণ
ভিন্ন জাতের দুধ আলাদাভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করার ফলে পণ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী কাঁচামাল নির্বাচন করা সম্ভব।
৪. বৃহৎ পরিসরে স্বয়ংক্রিয়তা
ক্যারোসেল দোহন, পরিচয় শনাক্তকরণ, দুধের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জনবলনির্ভরতা কমিয়ে ধারাবাহিকতা বাড়িয়েছে।
৫. নিজস্ব খাদ্যভিত্তি
বড় কৃষিজমি খামারটিকে খাদ্যের দিক থেকে তুলনামূলক নিরাপত্তা দিয়েছে।
৬. পণ্য বৈচিত্র্যের সঙ্গে সংযোগ
খামারের দুধ থেকে গ্রুপটি দুই শতাধিক ধরনের পণ্য উৎপাদন করে। অর্থাৎ কাঁচা দুধের চেয়ে বেশি মূল্য সংযোজনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
“ইউরোপের বৃহত্তম” দাবিটি কতটা গ্রহণযোগ্য?
মোলভেস্ট নিজস্ব ওয়েবসাইটে আরখানগেলস্কোয়েকে ইউরোপের বৃহত্তম ডেইরি ফার্ম হিসেবে পরিচয় দেয়। ২০১৬–১৮ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে একে রাশিয়া ও ইউরোপীয় অংশের অন্যতম বৃহৎ একক দুগ্ধ কমপ্লেক্স বলা হয়েছে।
তবে “বর্তমানে ইউরোপের এক নম্বর বৃহত্তম”—এই দাবিটি সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। কারণ—
- কোথাও শুধু দুধেল গাভী গণনা করা হয়;
- কোথাও মোট গবাদিপ্রাণির সংখ্যা ধরা হয়;
- কোথাও একটি সাইট, আবার কোথাও পুরো কোম্পানির একাধিক সাইট একত্রে গণনা করা হয়;
- নতুন খামার ও সম্প্রসারণের কারণে র্যাংকিং পরিবর্তিত হয়।
সুতরাং প্রতিবেদনে সবচেয়ে নিরাপদ ভাষা হবে:
“মোলভেস্টের ভাষ্য অনুযায়ী ইউরোপের বৃহত্তম এবং স্বাধীনভাবে বললে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ একক ডেইরি কমপ্লেক্স।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আরখানগেলস্কোয়ে খামারের আলাদা নতুন সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিস্তারিত সর্বসাম্প্রতিক প্রকাশ্য তথ্য সীমিত। তবে মোলভেস্ট গ্রুপের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ কৌশল থেকে কয়েকটি দিক স্পষ্ট।
গভীর দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ
গ্রুপটি তরল দুধের বাইরে মিল্ক ও হুই প্রোটিন কনসেনট্রেট, কেসিন, ল্যাকটোজ বা পারমিয়েট এবং শিশুখাদ্য ও বিশেষ পুষ্টির উপাদান উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন রুবল ব্যয়ে দৈনিক ১ হাজার ২০০ টন দুধ বা হুই প্রক্রিয়াকরণের নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। Agroinvestor
২০২৬ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণসহ গ্রুপটির গভীর প্রক্রিয়াজাতকরণে মোট বিনিয়োগ ১০ বিলিয়ন রুবলের বেশি হওয়ার পরিকল্পনাও প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে আরখানগেলস্কোয়ের মতো নিজস্ব খামারের উচ্চমানের দুধের চাহিদা আরও বাড়বে।
জেনেটিক উন্নয়ন
শুধু বিদেশ থেকে গাভী আনার পরিবর্তে নিজস্ব নির্বাচিত পাল, রিপ্লেসমেন্ট হিফার এবং দীর্ঘ উৎপাদনজীবনের গাভী তৈরির দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা
গাভীপ্রতি দুধ, খাদ্য গ্রহণ, প্রজনন, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল বিশ্লেষণের ব্যবহার বাড়ানো মোলভেস্টের ঘোষিত কৌশলের অংশ।
রপ্তানি বৃদ্ধি
গ্রুপটি দুধের গুঁড়া, হুই ও মিল্ক প্রোটিনজাত উপকরণ চীন, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়াতে চায়। ফলে খামারটি ভবিষ্যতে শুধু দেশীয় তরল দুধের উৎস নয়, রপ্তানিমুখী উচ্চমূল্যের উপাদানেরও কাঁচামালভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়
১. আগে খাদ্যের জমি, পরে গাভী
বাংলাদেশে অনেক উদ্যোক্তা প্রথমে গাভী কিনে পরে খাদ্যের উৎস খোঁজেন। আরখানগেলস্কোয়ে দেখিয়েছে, বড় খামারের ভিত্তি হলো দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য পরিকল্পনা।
খামারের নকশা তৈরির আগেই নির্ধারণ করতে হবে—
- বছরে কত টন সবুজ ঘাস প্রয়োজন;
- কত টন ভুট্টা বা ঘাসের সাইলেজ লাগবে;
- কোথা থেকে খড় আসবে;
- কত দিনের খাদ্য মজুত থাকবে;
- খরা, বন্যা বা বাজার সংকটে বিকল্প কী হবে।
২. শুধু বেশি দুধ নয়, ফ্যাট ও প্রোটিনের দাম দিতে হবে
বাংলাদেশে দুধ সাধারণত লিটার হিসাবে কেনাবেচা হয়। এতে বেশি ফ্যাট ও প্রোটিন উৎপাদনকারী খামারি যথাযথ মূল্য পান না। পনির, মাখন, ঘি ও মিল্ক পাউডার শিল্প গড়ে তুলতে ফ্যাট ও প্রোটিনভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ জরুরি।
৩. জাত নির্বাচন বাজার অনুযায়ী হতে হবে
শুধু সর্বোচ্চ দুধদানকারী জাত সবার জন্য উপযুক্ত নয়। যে প্রতিষ্ঠান পনির বা মাখন তৈরি করবে, তার জন্য মিল্ক সলিডসসমৃদ্ধ জাত বা ক্রসব্রিড বেশি অর্থনৈতিক হতে পারে।
তবে রাশিয়ার জার্সি বা মন্টবেলিয়ার্ডকে সরাসরি নকল করে বাংলাদেশে আমদানি করা উচিত নয়। আমাদের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, রোগচাপ ও খাদ্যের মান বিবেচনায় পরীক্ষামূলক পাল দিয়ে শুরু করতে হবে।
৪. মেগা ফার্মের আগে দক্ষ ব্যবস্থাপনা
হাজার গাভীর প্রকল্প ঘোষণা সহজ, কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা কঠিন। বাংলাদেশে প্রথমে ২০০–৫০০ গাভীর কার্যকর ইউনিট চালিয়ে—
- খাদ্য ব্যয়;
- গর্ভধারণ হার;
- বাছুর মৃত্যুহার;
- ম্যাস্টাইটিস;
- প্রতি লিটার উৎপাদন ব্যয়;
- শ্রমিকপ্রতি গাভীর সংখ্যা—
নিয়ন্ত্রণে আনার পর পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা নিরাপদ।
৫. খামার ও কারখানাকে যুক্ত করতে হবে
কাঁচা দুধের বাজার অনিশ্চিত রেখে মেগা ফার্ম স্থাপন ঝুঁকিপূর্ণ। বড় খামারের সঙ্গে পাস্তুরিত দুধ, দই, ঘি, মাখন, পনির, আইসক্রিম বা গুঁড়া দুধ উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তা সম্ভব না হলে নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়াজাতকারীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তি প্রয়োজন।
৬. প্রতিটি গাভীর ডিজিটাল পরিচয়
কানের ট্যাগ বা RFID ব্যবহার করে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত—
- দুধ উৎপাদন;
- রোগ;
- চিকিৎসা;
- অ্যান্টিবায়োটিক;
- টিকা;
- কৃত্রিম প্রজনন;
- গর্ভধারণ;
- বাছুর উৎপাদন;
- খাদ্য ব্যয়—
রেকর্ড করতে হবে। অনুমাননির্ভর খামার কখনো শিল্পে পরিণত হয় না।
৭. বায়োসিকিউরিটি বাধ্যতামূলক
বড় পাল মানেই বড় রোগঝুঁকি। বাংলাদেশের মেগা ফার্মগুলোতে আলাদা কোয়ারেন্টিন শেড, অসুস্থ গবাদিপ্রাণির হাসপাতাল শেড, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, গাড়ির চাকা জীবাণুমুক্তকরণ এবং মৃতদেহ নিষ্পত্তির বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
৮. বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর
হাজার হাজার গবাদিপ্রাণির গোবর অব্যবস্থাপনায় রাখা হলে দুর্গন্ধ, মাছি, ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়। বাংলাদেশের বড় খামারে গোবর থেকে—
- বায়োগ্যাস;
- বিদ্যুৎ বা তাপ;
- কম্পোস্ট;
- তরল জৈবসার;
- পৃথক করা বেডিং উপাদান—
উৎপাদনের ব্যবস্থা রাখা উচিত।
৯. রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন
মেগা ডেইরি প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পসুদের ঋণ দরকার। তবে ঋণ দেওয়ার আগে জমি, খাদ্য, বাজার, ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ এবং নগদ প্রবাহ যাচাই করতে হবে। শুধু শেড ও গাভী কেনার জন্য ঋণ দিলে প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রস্তাবিত মডেল
আরখানগেলস্কোয়ের হুবহু অনুকরণ নয়; বাংলাদেশের জন্য অভিযোজিত ক্লাস্টার মডেল অধিক কার্যকর হতে পারে—
- কেন্দ্রীয়ভাবে ৫০০–১,০০০ দুধেল গাভীর একটি আধুনিক খামার;
- আশপাশে ১০০–৩০০ চুক্তিবদ্ধ পারিবারিক খামারি;
- কেন্দ্রীয় সাইলেজ ও খাদ্য প্রস্তুতকেন্দ্র;
- বাছুর ও রিপ্লেসমেন্ট হিফার উৎপাদনকেন্দ্র;
- ভ্রাম্যমাণ পশুচিকিৎসা ও প্রজনন দল;
- দুধ শীতলীকরণ ও পরীক্ষাগার;
- ফ্যাট-প্রোটিনভিত্তিক মূল্য;
- নিজস্ব প্রক্রিয়াজাত কারখানা;
- ব্যাচভিত্তিক ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি।
এতে একদিকে বৃহৎ খামারের প্রযুক্তিগত সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
পরামর্শ
আরখানগেলস্কোয়ে ডেইরি ফার্মের সবচেয়ে বড় শিক্ষা তার ৫ হাজার ৫০০ গাভী নয়; বরং খাদ্য, জাত, প্রযুক্তি, অর্থায়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারকে একটি পরিকল্পনার অধীনে আনা।
বাংলাদেশে বড় ডেইরি খামার গড়তে চাইলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়—“কতটি গাভী কিনব?” প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—
কত বছর খাদ্য নিশ্চিত করতে পারব, প্রতি লিটার দুধের প্রকৃত ব্যয় কত হবে এবং সেই দুধ কার কাছে কোন মূল্যে বিক্রি করব?
বিদেশি জাত আমদানি, দামি শেড বা স্বয়ংক্রিয় দোহনযন্ত্র দিয়ে খামার আধুনিক দেখানো যায়; কিন্তু লাভজনক করা যায় না, যদি গাভী সময়মতো গর্ভধারণ না করে, বাছুর মারা যায়, ম্যাস্টাইটিস বাড়ে, সাইলেজ নষ্ট হয় বা দুধের নিশ্চিত বাজার না থাকে।
তাই বাংলাদেশের জন্য করণীয় হলো—ছোট কার্যকর ইউনিট দিয়ে শুরু, প্রমাণিত ফলাফলের ভিত্তিতে সম্প্রসারণ, নিজস্ব খাদ্যভিত্তি, দক্ষ জনবল, ডিজিটাল হিসাব, কঠোর বায়োসিকিউরিটি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিশ্চিত সংযোগ।
শেষ কথা
আরখানগেলস্কোয়ে ডেইরি ফার্ম আধুনিক দুগ্ধশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। মাত্র এক বছরের মধ্যে নির্মিত হলেও এর পেছনে ছিল দীর্ঘমেয়াদি শিল্পকৌশল—নিজস্ব কাঁচা দুধ উৎপাদন, বেশি ফ্যাট ও প্রোটিনের জাত নির্বাচন, বিশাল খাদ্যভিত্তি, স্বয়ংক্রিয় দোহন এবং নিজস্ব কারখানায় মূল্য সংযোজন।
তবে এর সাফল্যকে শুধু বিশাল বিনিয়োগ বা গাভীর সংখ্যা দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। প্রকৃত শক্তি হলো—খামার থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত একটি নিয়ন্ত্রিত ভ্যালু চেইন।
বাংলাদেশ যদি এই মডেল থেকে খাদ্যনিরাপত্তা, তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, মানভিত্তিক দুধের মূল্য এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের শিক্ষা গ্রহণ করে, তাহলে দেশীয় ডেইরি শিল্পকে আরও উৎপাদনশীল, নিরাপদ ও লাভজনক করা সম্ভব। আর যাচাই ছাড়া শুধু বড় আকারের অনুকরণ করলে একই মডেল বড় ঋণ, রোগঝুঁকি ও লোকসানের কারণও হতে পারে।

তথ্যসূত্র
- Molvest Group — Our Farms: Arkhangelskoye Dairy Farm molvest.ru
- Molvest Group — Selection and Genetics Centre molvest.ru
- RIA Voronezh — Launch of the Arkhangelskoye Dairy Complex, 2016 riavrn.ru
- Milknews — Opening of a Mega Dairy Farm for 5,000 Cows in Voronezh milknews.ru
- RBC — How Molvest Developed Its Own Milk and Cheese Production rbc.ru
- Agroinvestor — Molvest’s Investment in Deep Milk Processing agroinvestor.ru





















