হাঁসের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রান্তিক খামারিদের সমৃদ্ধ করতে চায় সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন; গুরুত্ব পেল তরুণ উদ্যোক্তা, ঋণসুবিধা ও খামারের উন্নয়ন

খুলনা সংবাদদাতা// ৮ অক্টোবর ২০২৬: হাঁসের উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রান্তিক খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার দৌলতপুরে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় হাঁস পালন খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তরুণদের খামার স্থাপনে উৎসাহিত করার বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
উৎপাদন বাড়ানো ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যেই হ্যাচিং ডিম নাইজেরিয়ায় রপ্তানি করেছি। আমরা এর উৎপাদন বাড়াতে চাই। এই খাতটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বিক নজরদারি করছেন। আশা করছি প্রান্তিক পর্যায়ে খামারির সংখ্যা বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।”
হ্যাচিং ডিম বা বাচ্চা ফোটানোর উপযোগী ডিমের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি খামারভিত্তিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের প্রত্যাশা জানান।
তরুণ খামারিদের ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা
তরুণদের হাঁস পালনসহ প্রাণিসম্পদ খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক তরুণ ইতোমধ্যে খামার করে সফলতা পেয়েছেন। আরও তরুণ যাতে এই খাতে যুক্ত হন, সে জন্য তাঁদের অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের ঋণ সুবিধাসহ সার্বিক সুবিধা দিচ্ছি। এই সেক্টরে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সব খামারিকে কৃষক কার্ডের আওতায় নিয়ে এসেছেন। প্রান্তিক খামারিদের অবস্থার আরও উন্নয়ন এবং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কার্যক্রম চলছে।
দৌলতপুরের হাঁস প্রজনন খামারের উন্নয়নে প্রকল্প
খুলনার দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, খামারটির উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে খুলনার মানুষ যথাযথ সেবা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























