RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Wednesday , 23 September 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

রোমে এফএও সম্মেলন//পিপিআর–এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
September 22, 2026 9:50 pm

রোমে এফএও সম্মেলন//পিপিআর–এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি।।

পিপিআর–এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ আশ্বিন (২২ সেপ্টেম্বর): ছাগল ও ভেড়ার প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ পিপিআর এবং গবাদিপ্রাণির ক্ষুরারোগ বা এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। তবে সীমান্ত অতিক্রমকারী এসব রোগের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সমন্বিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উন্নয়ন সহযোগী এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে টেকসই অর্থায়ন, কারিগরি সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও শক্তিশালী আঞ্চলিক অংশীদারত্ব অত্যন্ত জরুরি।

ইতালির রোমে মঙ্গলবার এফএও আয়োজিত ‘FAO Global Conference for Actions on One Health in Agrifood Systems’ সম্মেলনের একটি সাইড ইভেন্টে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাইড ইভেন্টটির আলোচ্য বিষয় ছিল—‘ওয়ান হেলথ এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর।’

২০৩০ সালের মধ্যে পিপিআরমুক্ত হওয়ার লক্ষ্য

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অধিকতর জোরালো টিকাদান এবং সক্রিয় রোগ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেছে ডব্লিউওএএইচ। বাংলাদেশ সেই সুপারিশ অনুসরণ করে ২০৩০ সালের মধ্যে পিপিআরমুক্ত দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিনি জানান, ডব্লিউওএএইচের বৈশ্বিক কৌশল এবং বাংলাদেশের ২০২৪–২০২৮ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় দেশব্যাপী ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নজরদারি কার্যক্রমে পিপিআরের কোনো প্রাদুর্ভাব শনাক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডব্লিউওএএইচের কাছে পিপিআর নির্মূল কর্মসূচিসংক্রান্ত ডসিয়ার জমা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশে পিপিআর নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষ প্রকল্পও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সপ্তম ধাপের টিকাদান চলছে

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ কন্ট্রোল পাথওয়ে অনুসরণ করে ২০২৫–২০২৮ মেয়াদের জন্য জাতীয় এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় লক্ষ্যভিত্তিক এফএমডি টিকাদানের ছয়টি ধাপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে সপ্তম ধাপের কার্যক্রম চলছে।

দেশে নিরাপদ ও টেকসই মাংস উৎপাদন ও রপ্তানির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এফএমডিমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এফএওর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ এফএমডির জন্য একটি ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন এবং প্রাণীরোগের প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও প্রতিক্রিয়াবিষয়ক একটি ফিল্ড ম্যানুয়াল প্রণয়ন করেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জাতীয় এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল ২০২৫–২০২৮ এবং পিপিআর নির্মূলের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪–২০২৮ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে।

এসএটি-১ সেরোটাইপ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

এফএমডির এসএটি-১ (SAT-1) সেরোটাইপের বিস্তার নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এ সেরোটাইপ শনাক্ত হয়নি। তবে এতে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই।

আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপার, গবাদিপ্রাণির আন্তদেশীয় চলাচল, প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত উপকরণ আমদানি এবং ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গবাদিপ্রাণির ব্যাপক চলাচলের মাধ্যমে বাংলাদেশে এ সেরোটাইপ প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে।

এ কারণে সীমান্ত এলাকায় জৈবনিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত আঞ্চলিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

ওয়ান হেলথভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণীর স্বাস্থ্য, মানুষের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই পিপিআর, এফএমডিসহ সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণীরোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকাদান যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে সক্রিয় নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, গবেষণাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খামার পর্যায়ে জৈবনিরাপত্তা এবং আন্তদেশীয় তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করতে হবে।

এসব রোগের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ গবাদিপ্রাণির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খামারির আর্থিক ক্ষতি হ্রাস, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

প্যানেল আলোচনায় তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুইগুলু লামেক নচেম্বা, চাদের প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদেরাহিম আওয়াত আবেইথ, ক্যামেরুনের প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও প্রাণী শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী তাইগা এবং নাইজেরিয়ার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ইদি মুখতার মাইহা অংশগ্রহণ করেন।

এ ছাড়া মঙ্গোলিয়ার খাদ্য, কৃষি ও হালকা শিল্প মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি জামবালসেরেন তুমুর-উয়া, আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের ড. ওয়ার্কনেহ গেবেয়েহু এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মার্টিন সেলমায়ারসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ - ছাগল পালন