নির্মল বায়ু নিশ্চিতে গবেষণাভিত্তিক নীতি ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।।
ব্ল্যাক কার্বনসহ স্বল্পস্থায়ী জলবায়ু দূষক কমাতে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সংযোগ জোরদারের আহ্বান।।

ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০২৬: নির্মল বায়ু ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ব্ল্যাক কার্বন ও অন্যান্য দূষক কমাতে গবেষণালব্ধ তথ্যকে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ব্ল্যাক কার্বন ও অন্যান্য স্বল্পস্থায়ী জলবায়ু দূষক’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। আয়োজনে সহায়তা দেয় ক্লিন এয়ার ফান্ড।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গবেষণা, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সংযোগ সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
নির্মল বায়ু ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণালব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান এগিয়ে নিতে হবে। নীতিগত উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সংলাপে বায়ুদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষভাবে ব্ল্যাক কার্বন ও অন্যান্য স্বল্পস্থায়ী জলবায়ু দূষকের নিঃসরণ কমিয়ে বায়ুর মান উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমনের বিষয়টি উঠে আসে।
আলোচনায় গবেষণালব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন ও কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
নির্মল বায়ু নিশ্চিত করার উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য ও জলবায়ু সুরক্ষার বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতিগত ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতাকে কার্যকরভাবে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুল আউয়াল এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সংলাপে সভাপতিত্ব করেন। এতে স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওরিয়ান গুস্তাফসনসহ নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
তথ্যসূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ১ নভেম্বর ২০২৬। প্রেরক: তোফাজ্জল হোসেন, জনসংযোগ কর্মকর্তা।






















