RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

পোল্ট্রি অ্যান্ড সয়া ফুড ফেস্ট ২০২৫

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
আগস্ট ২৮, ২০২৫ ১০:২৪ অপরাহ্ণ

পোল্ট্রি অ্যান্ড সয়া ফুড ফেস্ট ২০২৫ ছিল বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC) এবং ইউ এস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (USSEC) এর যৌথ আয়োজনে একটি দুই দিনব্যাপী খাদ্য উৎসব, যা ২৬ আগস্ট থেকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (KIB) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল পোল্ট্রি ও সয়া খাদ্য সম্পর্কে প্রোটিন সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং খাদ্যদ্রব্যের উন্নয়ন ও প্রচার করা। 

উৎসবের মূল উদ্দেশ্য 

  • সচেতনতা বৃদ্ধি:পোল্ট্রি এবং সয়া পণ্যের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।
  • প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনপোল্ট্রি ও সয়া শিল্পের সাথে সম্পর্কিত নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং খাদ্যপণ্যের প্রদর্শন করা।
  • বাজার সম্প্রসারণ: পোল্ট্রি ও সয়া শিল্পের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করা এবং এর ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

আয়োজক ও অংশীদার বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (BPICC):

পোল্ট্রি খাতের একটি প্রধান সংগঠন। ইউ এস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (USSEC):

সয়াবিন শিল্পের উন্নয়নে কাজ করা একটি সংস্থা।

এই ধরনের উৎসব পোল্ট্রি ও সয়া পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পোল্ট্রি অ্যান্ড সয়া ফুড ফেস্ট ২০২৫। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে। উৎসবের উদ্বোধন করেন বিপিআইসিসি সভাপতি শামসুল আরেফীন খালেদ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে শামসুল আরেফীন খালেদ বলেন, “বাংলাদেশ আজকে যে জায়গায় এসেছে, সামনে এগোতে হলে প্রোটিনের কোনো বিকল্প নেই। কারণ পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। একটি দেশ এক স্তর থেকে আরেক স্তরে ওঠে মানবসম্পদের উপর ভর করে। যেসব দেশের মানুষ যত বেশি দক্ষ, তাদের মানবসম্পদ তত শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান। কিন্তু প্রোটিন ছাড়া কোনো মানুষ শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান হতে পারে না।”

তিনি আরো বলেন, “আমাদের খাদ্যঝুড়ি একসময় ভাত-ডালের উপর নির্ভরশীল ছিল। ভাত-ডালে কিছু প্রোটিন থাকলেও তা তেমন কাজে লাগে না। আমাদের প্রয়োজন প্রাণিজ উৎস থেকে প্রোটিন এবং তার পাশাপাশি সয়াবিনের মতো উদ্ভিজ্জ উৎস, যা অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের যোগান দেয়। বিশেষ করে ডিম হচ্ছে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই ডিম ও মুরগির মাংসকে আরও সহজলভ্য করা। একই সঙ্গে সয়াবিনকে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে সুস্বাদু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা।”

ওয়াপসা-বিবি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সিরাজুল হক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “পোল্ট্রি শিল্প শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতেও বিশেষ অবদান রাখছে। আজকের ফুড ফেস্টে তরুণ প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণ আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও আশাবাদী করে তুলছে।”

ইউসেক (USSEC) -এর বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড খাবিবুর রহমান (কাঞ্চন) বলেন, “আমরা সবসময় বিশ্বের ৯২টি দেশে কাজ করে আসছি। প্রোটিন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং মানুষকে বেশি প্রোটিন গ্রহণে উৎসাহিত করতে এই ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক পরিসরে আমরা চাই, জনগণ যেন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সিইও জিম স্যাফোর্ড সবসময় একটি কথা বলেন, যা আমার কাছে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক – ‘আপনাদের মধ্যে কতজন সহজ, স্বাস্থ্যকর এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের খোঁজ করেন? আপনি যদি মাংসপেশি গঠন করতে চান, স্বাস্থ্যকরভাবে খেতে চান, অথবা বাইরের খাবারে খরচ বাঁচাতে চান—তাহলে মুরগি ও সয়াবিন আপনার রান্নাঘরের সেরা উপাদান হতে পারে।’ তাই আমি সবাইকে আহ্বান জানাই—বেশি প্রোটিন গ্রহণ করুন, বেশি মাংস খান, বেশি ডিম খান।”

ইউসেক (USSEC) এর সাউথ এশিয়ার হিউম্যান ইউটিলাইজেশন রিজিওনাল হেড ক্রিস্টেল করদাহী (MS, RD) ভিডিও বার্তায় বলেন, “সয়া মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, যা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবার জন্য প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশে সয়া খাবারের ব্যবহার বাড়লে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং খাদ্যাভ্যাস হবে আরও পুষ্টিকর।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়াপসা-বিবি’র সাধারণ সম্পাদক ডা. বিপ্লব কুমার প্রামাণিক।

প্রথম দিনে প্রসেসড ও ফারদার প্রসেসড ফুড প্রদর্শনীর পাশাপাশি মুরগির মাংস ও সয়াবিন দিয়ে মোট ১০টি নতুন রেসিপি তৈরি করে সরাসরি 

প্রদর্শন করা হয়। কালিনারি ইনস্টিটিউট প্রধান ডেনিয়েল সি গোমেজের নেতৃত্বে এই রেসিপি তৈরিতে অংশ নেন ফ্রাঞ্চিজ গোমেজ ও ফাহমিদা নাজিম। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৪০০ প্রশিক্ষণার্থী সরাসরি রান্নার কৌশল শিখেন এবং উৎসব শেষে বিপিআইসিসি ও ইউএসএসইসি’র পক্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করা হবে। দর্শনার্থীরাও এসব রেসিপির স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পান।

উল্লেখ্য, বুধবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ২০ জন রন্ধনবিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন রন্ধন প্রতিযোগিতায়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে “আগামী দিনের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, সাশ্রয়ীমূল্যে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ও পুষ্টিকর খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা” শীর্ষক সেমিনার। সেখানে পুষ্টিবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও শিল্প প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরবেন।

ফেস্টে অংশ নেওয়া বিভিন্ন কোম্পানি ফ্রোজেন ফুড ও প্রসেসড ফুডের স্টল স্থাপন করেছে। এসব স্টলে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদিত পোল্ট্রি ও সয়া পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি পোস্টার, ফেস্টুন, পুস্তিকা, ছবি ও ভিডিও ক্লিপিংয়ের মাধ্যমে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরছে।

বিপিআইসিসি ও ইউএসএসইসি আয়োজক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের পোল্ট্রি শিল্প ও সয়া পণ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপদ, পুষ্টিকর খাদ্যের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আলোচনায় অংশ নেন ইসরাত জাহান, পুষ্টিবিদ ও ডায়েটিশিয়ান, সাজিদা ফাউন্ডেশন, ঢাকা, যিনি সয়াবিনকে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যাখ্যা করেন “দ্য রাইট প্রোটিন” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শামসুন নাহার নাহিদ (মহুয়া), প্রধান পুষ্টিবিদ (পুষ্টি বিভাগ), বারডেম জেনারেল হাসপাতাল। আলোচনার পর্বে অংশগ্রহণকারীরা প্রোটিন নিরাপত্তা, খাদ্যাভ্যাস ও জনসচেতনতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মুরগির মাংস ও সয়াবিন দিয়ে ১০টি নতুন রেসিপি প্রদর্শনী। কালিনারি ইনস্টিটিউট প্রধান ডেনিয়েল সি গোমেজের নেতৃত্বে অংশ নেন ফ্রাঞ্চিজ গোমেজ ও ফাহমিদা নাজিম। প্রায় ৪০০ প্রশিক্ষণার্থী সরাসরি রান্নার কৌশল শিখে সনদপত্র পাওয়ার সুযোগ পান এবং দর্শনার্থীরাও এসব রেসিপির স্বাদ গ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি ফ্রোজেন ও প্রসেসড ফুডের স্টল স্থাপন করে নিজেদের পণ্য প্রদর্শন করে।

দ্বিতীয় দিনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল জাতীয় পর্যায়ের রন্ধন প্রতিযোগিতা। সারাদেশ থেকে আগত ২০ জন কুকিং এক্সপার্টের মধ্যে পুরস্কৃত হন ৫ জন। চ্যাম্পিয়ন ফারমিন আজাদ (৫০,০০০ টাকা), প্রথম রানারআপ রাফিদা চৌধুরী (৩০,০০০ টাকা), দ্বিতীয় রানারআপ ইলা ফারজানা (২০,০০০ টাকা), চতুর্থ স্থান মারুফা (৭,০০০ টাকা) এবং পঞ্চম স্থান অর্জন করেন মিরাজুল (৫,০০০ টাকা)।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, “পোল্ট্রি এন্ড সয়া ফুড ফেস্ট ২০২৫” দেশের জনগণকে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাদ্য গ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে এবং আগামী দিনের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত