খুলনায় ফোয়াবের খামারে ২৪ হাজার অলমেইল গলদা পোনা অবমুক্ত।।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর ও ওয়েসিস চিংড়ি হ্যাচারির সহযোগিতায় ফোয়াবের উদ্যোগ।।

খবর বিজ্ঞপ্তি:
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে খুলনায় ফিস ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব)-এর প্রদর্শনী খামারে প্রায় ২৪ হাজার অলমেইল গলদা চিংড়ির পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ফলইমারীতে অবস্থিত ফোয়াবের প্রদর্শনী খামারে এ পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তর ও ওয়েসিস চিংড়ি হ্যাচারির সহযোগিতায় ফোয়াব এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর গলদা চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ, মানসম্মত পোনার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং খামারিদের কাছে উন্নত চাষপদ্ধতির বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২৪ হাজার অলমেইল গলদা পোনা অবমুক্ত
ফোয়াবের প্রদর্শনী খামারে এদিন প্রায় ২৪ হাজার অলমেইল গলদা চিংড়ির পোনা অবমুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রদর্শনী খামারে এসব পোনার বৃদ্ধি, বেঁচে থাকার হার, উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গলদা চাষিদের জন্য বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে অলমেইল গলদা চাষের উৎপাদন সম্ভাবনা, উপযুক্ত মজুদ ঘনত্ব, খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ফলাফল সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে ধারণা পেতে এ ধরনের প্রদর্শনী কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা
পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফোয়াবের সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহিন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গলদা বিশেষজ্ঞ তছলিম মাহমুদ, জেলা মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার রায়, খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও সাংবাদিক নেতা কে এম জিয়াউস সাদাত, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর খুলনা প্রতিনিধি ও দৈনিক প্রবাহের চিফ রিপোর্টার মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার রাকিব আহমেদ, সিনিয়র সেলস অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ মো. মনিরুজ্জামান, ফোয়াবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শাকিল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্রোজেন হালদার, মো. শাহাজান সিরাজ সাজু, ফোয়াব খুলনা জেলা সভাপতি এম.ডি আবুল হোসেন, সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন খাজা, শহিদুল ইসলামসহ মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও খামারিরা।
প্রদর্শনী খামার হতে পারে প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ক্ষেত্র
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা গলদা চিংড়ির উৎপাদন বাড়াতে মানসম্মত ও রোগমুক্ত পোনা, বিজ্ঞানসম্মত ঘের ব্যবস্থাপনা, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তারা মনে করেন, গবেষণা বা হ্যাচারিতে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সরাসরি খামারির কাছে পৌঁছাতে প্রদর্শনী খামার কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে। একটি প্রযুক্তি বাস্তব খামারে প্রয়োগ করে তার উৎপাদন ও অর্থনৈতিক ফলাফল দেখানো সম্ভব হলে সাধারণ খামারিদের মধ্যে সেটি গ্রহণের আগ্রহও বাড়ে।
গলদা চাষ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে গলদা চিংড়ি চাষের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এ অঞ্চলের বহু মানুষের জীবিকা ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে গলদা চাষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত পোনা সহজলভ্য করা গেলে খামারিদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের চিংড়ি খাতও উপকৃত হতে পারে।
ফোয়াবের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রদর্শনী খামারে অলমেইল গলদা চিংড়ির পোনা অবমুক্ত করার এ উদ্যোগ শুধু পোনা ছাড়ার একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং আধুনিক গলদা চাষের সম্ভাবনা মাঠপর্যায়ে যাচাই ও খামারিদের কাছে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ।
একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান, হ্যাচারি, মৎস্য বিশেষজ্ঞ, খামারি সংগঠন ও মাঠপর্যায়ের চাষিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে গলদা চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই চাষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে ফোয়াবের এ কর্মসূচি দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং চিংড়ি খাতকে আরও উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।






















