RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Thursday , 20 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উট খামার দুবাইয়ের ক্যামেলিসিয়াস গড়ে ওঠার ইতিহাস

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 20, 2026 11:22 am

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উট খামার দুবাইয়ের ক্যামেলিসিয়াস গড়ে ওঠার ইতিহাস//মরুভূমির ঐতিহ্য থেকে আধুনিক দুগ্ধশিল্প—গড়ে ওঠার ইতিহাস, প্রযুক্তি, উৎপাদন ও বর্তমান অবস্থান।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

একসময় আরবের মরুভূমিতে উট ছিল মূলত যাতায়াত, বোঝা বহন, মাংস ও পরিবারের প্রয়োজনীয় দুধের উৎস। বেদুইন জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে উট এতটাই নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল যে, এটিকে আধুনিক বাণিজ্যিক দুগ্ধশিল্পের প্রাণী হিসেবে কল্পনা করাও সহজ ছিল না। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সেই ধারণাই বদলে দিয়েছে।

দুবাইয়ের Camelicious, যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম Emirates Industry for Camel Milk & Products (EICMP), আজ ঐতিহ্যবাহী উট পালনকে বিজ্ঞান, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, যান্ত্রিক দোহন, খাদ্যনিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিপণন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উদাহরণ।

Camelicious-এর বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, তাদের খামারে প্রায় ৭,০০০ উট, বছরে প্রায় ৩০ লাখ লিটার উটের দুধ উৎপাদন, ১০টি পণ্যশ্রেণিতে ৬০টির বেশি SKU এবং বিশ্বের বিভিন্ন বড় বাজারে উপস্থিতি রয়েছে।

Camelicious-এর ইতিহাস সরাসরি একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শুরু হয়নি। এর পেছনে ছিল দীর্ঘ গবেষণা।Camelicious-এর প্রকাশিত ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম ঐতিহ্যবাহী আরবীয় উটকে আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় যুক্ত করার একটি ধারণা সামনে আনেন।

এরপর ১৯৯৮ সালে দুবাইয়ের Central Veterinary Research Laboratory—CVRL উটের দুধ উৎপাদন, দোহন পদ্ধতি এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা শুরু করে।

গবেষণার মূল প্রশ্ন ছিল—উটের দুধকে কি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মাননিয়ন্ত্রিতভাবে বড় পরিসরে উৎপাদন করে আধুনিক বাজারে আনা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠে Camelicious।

আজ যেখানে হাজার হাজার উট, সেখানে সূচনাটা ছিল খুব ছোট। Camelicious-এর সাম্প্রতিক তথ্যে বলা হয়েছে, খামারটির যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ২৩টি উট নিয়ে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকারে শুরুর গবেষণা বা বাণিজ্যিক পর্যায়ে ২৫টি উটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে উৎসভেদে প্রাথমিক সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।

এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ Camelicious প্রমাণ করেছে, একটি বড় livestock industry সবসময় হাজার হাজার প্রাণী দিয়ে শুরু করতে হয় না। প্রথমে দরকার—গবেষণা → পরীক্ষামূলক উৎপাদন → তথ্য সংগ্রহ → প্রযুক্তি উন্নয়ন → মান নিয়ন্ত্রণ → তারপর সম্প্রসারণ। Camelicious মূলত এই পথেই এগিয়েছে।

দীর্ঘ গবেষণার পর ২০০৩ সালে Emirates Industry for Camel Milk & Products—EICMP প্রতিষ্ঠিত হয়।প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ছিল ঐতিহ্যবাহী উটের দুধকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ ও বাণিজ্যিক খাদ্যপণ্যে রূপান্তর করা। এখানেই Camelicious-এর বিশেষত্ব। এটি কেবল একটি উটের খামার নয়; বরং একই ব্যবস্থার মধ্যে—উট পালন + প্রজনন + স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা + দুধ উৎপাদন + প্রক্রিয়াজাতকরণ + পণ্য উন্নয়ন + প্যাকেজিং + বিপণন + রপ্তানি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি একটি integrated camel dairy value chain

Camelicious-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে কঠোর ইউরোপীয় স্বাস্থ্যমান বিবেচনায় তৈরি camel-milk production facility প্রতিষ্ঠিত হয়।এরপর ২০০৬ সালে Camelicious ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারে আসে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময় নাগাদ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় এবং একই বছরের আগস্টে প্রথম বাণিজ্যিক Camelicious পণ্য UAE-এর বাজারে পৌঁছায়। এই সময় থেকেই উটের দুধ বেদুইন পরিবারের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের সীমা ছাড়িয়ে আধুনিক সুপারমার্কেটের পণ্যে পরিণত হতে শুরু করে।

Camelicious-এর খামার দুবাই–আল আইন সড়কের Madinat Hind 3/Umm Nahad এলাকায় অবস্থিত।সাম্প্রতিক Dubai Media Office-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্যে খামারটির আয়তন প্রায় ৩০০ হেক্টর এবং উটের সংখ্যা প্রায় ৭,০০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ প্রায় ৭৪০ একর এলাকার সমপরিমাণ একটি বৃহৎ ব্যবস্থার মধ্যে উট পালন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে Camelicious-এর বিভিন্ন সময়ের ওয়েবপেজে ৬,০০০+, ৮,০০০, ৯,০০০ কিংবা ১০,০০০ উটের উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলো ভিন্ন সময়ের herd size বা ভিন্ন গণনার প্রতিফলন হতে পারে। বর্তমান অফিসিয়াল কর্পোরেট পেজ এবং সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রায় ৭,০০০ উট সংখ্যাটিই বর্তমান অবস্থার জন্য বেশি গ্রহণযোগ্য।

Camelicious-কে শুধু ‘বিশাল উটের খামার’ বললে এর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যাবে না।এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো integrated production system। একটি উটের জন্ম থেকে শুরু করে তার—

  • পরিচিতি ও রেকর্ড,
  • বংশ ও প্রজনন,
  • খাদ্য,
  • স্বাস্থ্য,
  • দুধ উৎপাদন,
  • দুধের গুণগত মান,
  • প্রক্রিয়াজাতকরণ,
  • প্যাকেজিং,
  • বাজারজাতকরণ

পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এই মডেলই Camelicious-কে ঐতিহ্যবাহী camel keeping থেকে আধুনিক precision-oriented camel dairy farming-এর দিকে নিয়ে গেছে।

গরুর বাণিজ্যিক dairy farming শত বছরের বেশি সময় ধরে উন্নত হলেও উটের mechanised dairy farming তুলনামূলকভাবে নতুন।কারণ উটের আচরণ, বাচ্চার উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা, milk let-down এবং udder structure গরুর তুলনায় আলাদা। Camelicious-এর অন্যতম বড় অর্জন হলো—এই প্রাণীকে বৃহৎ পরিসরের সংগঠিত dairy production system-এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো।খামারে নিয়মিত milking schedule, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচ্ছন্নতা, milk handling এবং দ্রুত processing-এর সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।ফলে মরুভূমিতে হাতে দোহন করা ঐতিহ্যবাহী উটের দুধ এখন আধুনিক dairy-processing chain-এর কাঁচামাল।

বড় খামারে শুধু উটের সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিটি প্রাণীর উৎপাদন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য রাখা। Camelicious তাদের farm management ব্যবস্থায় herd management, breeding, animal welfare এবং দৈনিক veterinary supervision-কে পৃথক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রকাশনাতেও এসব ব্যবস্থার ওপর আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে বড় dairy herd পরিচালনায় জানতে হয়—কোন উট কত দুধ দিচ্ছে, কোনটি গর্ভবতী, কোনটির বাচ্চা হয়েছে, কোনটির চিকিৎসা চলছে, কোনটির প্রজননক্ষমতা ভালো এবং কোন bloodline ভবিষ্যৎ breeding programme-এর জন্য উপযোগী।এই তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনাই বৃহৎ খামারের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখার অন্যতম শর্ত।

Camel dairy industry-তে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ শুধু জমি বা processing plant নয়—উচ্চ উৎপাদনক্ষম genetics।তাই Camelicious-এ breeding management একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘমেয়াদে যেসব উট—

  • বেশি দুধ দেয়,
  • দীর্ঘ lactation ধরে রাখতে পারে,
  • সুস্থ থাকে,
  • প্রজননে ভালো,
  • স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজিত,
  • ভালো offspring দেয়,

সেসব বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করে herd improvement করা যায়। এই selective breeding পদ্ধতিই ভবিষ্যৎ camel dairy industry-এর অন্যতম ভিত্তি।

হাজার হাজার উট একসঙ্গে পালন করলে disease prevention সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।তাই Camelicious-এর ব্যবস্থায় veterinary supervision, herd health এবং animal welfare গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বড় commercial herd-এ চিকিৎসার চেয়ে prevention বেশি গুরুত্বপূর্ণ।কারণ একটি সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শুধু প্রাণীর ক্ষতি নয়, milk supply, processing এবং export market—পুরো value chain ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমান Camelicious corporate তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির processing facility বছরে প্রায় ৩ মিলিয়ন বা ৩০ লাখ লিটার উটের দুধ উৎপাদন/প্রক্রিয়াজাত করে। সাম্প্রতিক Dubai Media Office-সংক্রান্ত তথ্যেও প্রায় ৩০ লাখ লিটার বার্ষিক উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো কিছু প্রকাশনায় বছরে চার মিলিয়ন লিটারের বেশি উৎপাদনের কথাও পাওয়া যায়। তাই উৎপাদন বছর, lactating herd এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত।

Camelicious-এর ব্যবসায়িক সাফল্যের বড় কারণ হলো তারা কাঁচা বা pasteurised milk বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ১০টি product category-তে ৬০টির বেশি SKU উৎপাদনের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—Fresh Camel Milk, Flavoured Milk, Long-Life Milk, Camel Milk Powder, Fortified Camel Milk Powder, Ice Cream, Ghee, Milk Tablets, 2-in-1 Coffee, Protein Bars এবং Camel Milk Chocolate-জাতীয় পণ্য। অর্থাৎ একটি প্রাণীভিত্তিক কাঁচামালকে কীভাবে value addition-এর মাধ্যমে বহু বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া যায়—Camelicious তার বাস্তব উদাহরণ।

তাজা উটের দুধের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরিতে বড় সমস্যা হলো shelf life এবং cold chain। Camelicious এই সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ সমাধান করেছে camel milk powder উৎপাদনের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তথ্যে বলা হয়েছে, তাদের camel milk powder production facility-এর দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ১৩ মেট্রিক টন। Powder তৈরি হলে—পরিবহন সহজ হয়, shelf life বাড়ে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ হয় এবং chocolate, nutritional supplement, formulated foodসহ বিভিন্ন শিল্পে ingredient হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

Camelicious-এর বর্তমান processing facility FSSC 22000 certified বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এ ধরনের certification আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ camel milk একটি niche product হলেও বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে হলে অন্যান্য dairy product-এর মতোই—microbiological safety, residue control, hygiene, traceability, processing standard এবং cold-chain management নিশ্চিত করতে হয়।

Camelicious-এর সাফল্যের বড় শিক্ষা এখানেই—বিশ্ববাজারে প্রাণিসম্পদ পণ্য বিক্রি করতে হলে শুধু উৎপাদন নয়, standardisation-ই আসল শক্তি।

Camelicious এবং UAE camel dairy industry-এর ইতিহাসে ২০১৩ সাল একটি মাইলফলক। ইউরোপীয় কমিশন ২০১৩ সালে প্রয়োজনীয় animal ও public health control পর্যালোচনার পর দুবাই থেকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াজাত dromedary camel milk products ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমদানির আইনি পথ তৈরি করে। সংশ্লিষ্ট EU Regulation ১ এপ্রিল ২০১৩ থেকে কার্যকর হয়।

এরপর Camelicious ইউরোপীয় বাজারে camel milk এবং camel milk powder পাঠানোর সুযোগ পায়। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে Denmark ও Netherlands-এ প্রাথমিক চালান পাঠানোর খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। এটি শুধু একটি কোম্পানির রপ্তানি সাফল্য ছিল না। এটি ছিল camel milk-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বর্তমান Camelicious তথ্য অনুযায়ী তাদের পণ্য—USA, China, GCC, Southeast Asia, European Union, UKসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিত। সাম্প্রতিক Dubai Media Office-সংক্রান্ত তথ্যে ১৫টির বেশি দেশে রপ্তানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ দুবাইয়ের মরুভূমির একটি ঐতিহ্যবাহী খাদ্য এখন international functional dairy market-এর অংশ।

Camelicious-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো solar energy ব্যবহার।TotalEnergies-এর তথ্যমতে, ২০২১ সালে চালু হওয়া solar project-এ প্রায় ৯,২০০ photovoltaic panel স্থাপন করা হয়েছে।এর উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩.68 MWp এবং বছরে প্রায় ৭,০০০ MWh renewable electricity উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

TotalEnergies জানিয়েছে, এই solar system Camelicious-এর বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করতে পারে।প্রকল্পটির ফলে বছরে আনুমানিক ৩,০০০ টন CO₂ emission এড়ানো সম্ভব বলে হিসাব করা হয়েছে। এটি প্রায় ৮০ হাজার গাছ লাগানোর সমতুল্য carbon-saving impact হিসেবে তুলনা করা হয়েছে। ফলে Camelicious শুধু camel dairy farming নয়, renewable-energy-based livestock production-এরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

দুবাইয়ের মতো অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশে হাজার হাজার প্রাণীর খামার পরিচালনা সহজ নয়। উট তাপসহিষ্ণু প্রাণী হলেও commercial dairy production-এ পর্যাপ্ত পানি, খাদ্য, বিশ্রাম, ছায়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখতে হবে—মরুভূমিতে বেঁচে থাকতে পারা আর সর্বোচ্চ দুধ উৎপাদন করা এক বিষয় নয়।উৎপাদনশীল dairy camel-এর জন্যও বিজ্ঞানভিত্তিক nutrition, water supply, reproduction এবং welfare management প্রয়োজন।

Camelicious-এর জন্মই গবেষণা থেকে। CVRL-এর গবেষণা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে commercial herd management, milk processing, breeding এবং product development—সব ক্ষেত্রেই গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। Camel dairy sector নিয়ে Camelicious-এর Peter Nagy-এর সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক আলোচনাতেও intensive farming, good production practices, international standards এবং food safety-কে ভবিষ্যৎ camel milk industry-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানেই Camelicious মডেলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা—Research first, commercialisation second.

Camelicious-এর সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত উৎপাদনের পরিমাণ নয়।তাদের বড় অবদান হলো উট সম্পর্কে ব্যবসায়িক ধারণা পরিবর্তন করা।একসময় উটকে দেখা হতো—মরুভূমির বাহন, মাংসের প্রাণী, ঐতিহ্যবাহী দুধের উৎস এবং আরব সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে।

Camelicious দেখিয়েছে—উট একই সঙ্গে হতে পারে—commercial dairy animal, export commodity, premium food source, value-added processing industry এবং agritourism-এর অংশ।


Camelicious-এর মডেল বিশেষ করে শুষ্ক ও semi-arid অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।Climate change-এর কারণে বিশ্বের বহু অঞ্চলে পানির সংকট ও heat stress বাড়ছে। প্রচলিত dairy cattle production অনেক অঞ্চলে ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। সেখানে camel dairy production একটি বিকল্প livestock system হিসেবে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।তবে Camelicious-এর অভিজ্ঞতা এটিও দেখায়—উট শুধু মরুভূমির প্রাণী বলেই commercial farming স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাভজনক হবে না। প্রয়োজন—উন্নত genetics, পুষ্টি, veterinary care, milk hygiene, processing technology, cold chain, product development এবং শক্তিশালী বাজার।

বাংলাদেশে Camelicious-এর মতো হাজার হাজার উটের খামার সরাসরি অনুকরণ করা বাস্তবসম্মত নয়। বাংলাদেশের জলবায়ু, খাদ্যব্যবস্থা, বাজার এবং প্রাণিস্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু এর business model থেকে অনেক কিছু শেখা সম্ভব।

প্রথমত, বড় বিনিয়োগের আগে গবেষণা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, শুধু প্রাণী আমদানি করলেই শিল্প তৈরি হয় না।

তৃতীয়ত, উৎপাদনের সঙ্গে processing এবং marketing যুক্ত করতে হয়।

চতুর্থত, traceability ও food safety ছাড়া premium market তৈরি কঠিন।

পঞ্চমত, দুধের পাশাপাশি powder, ice cream, chocolate ও অন্যান্য value-added products তৈরি করতে হয়।

সবশেষে, বাংলাদেশের পরিবেশে উটের adaptation, reproduction, disease pattern এবং economics নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ছাড়া বড় commercial camel project নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমান প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে Camelicious-এর অবস্থান সংক্ষেপে—

প্রতিষ্ঠান: Emirates Industry for Camel Milk & Products (EICMP)
ব্র্যান্ড: Camelicious
অবস্থান: Dubai, UAE
প্রতিষ্ঠা: ২০০৩
বাণিজ্যিক পণ্য বাজারজাত: ২০০৬
বর্তমান উট: প্রায় ৭,০০০
খামারের আয়তন: প্রায় ৩০০ হেক্টর
বার্ষিক দুধ: প্রায় ৩০ লাখ লিটার
পণ্য: ১০টি category-তে ৬০টির বেশি SKU
Milk powder capacity: দৈনিক প্রায় ১৩ মেট্রিক টন
আন্তর্জাতিক বাজার: USA, China, GCC, Southeast Asia, EU, UKসহ বিভিন্ন অঞ্চল
Solar capacity: প্রায় ৩.68 MWp
Solar panels: প্রায় ৯,২০০টি
বিদ্যুৎ চাহিদার solar coverage: প্রায় ৮০%
আনুমানিক CO₂ reduction: বছরে প্রায় ৩,০০০ টন।

Camelicious-এর প্রায় তিন দশকের গবেষণা ও দুই দশকের বাণিজ্যিক যাত্রাকে বিশ্লেষণ করলে এর সাফল্যের কয়েকটি ভিত্তি স্পষ্ট হয়—ঐতিহ্য + গবেষণা + উন্নত genetics + herd management + veterinary supervision + mechanised milking + food safety + processing + value addition + export market + renewable energy। এই পূর্ণাঙ্গ value chain-ই Camelicious-কে সাধারণ উট খামার থেকে আন্তর্জাতিক camel dairy brand-এ পরিণত করেছে।

Camelicious-এর গল্প আসলে একটি উট খামারের গল্পের চেয়েও বড়।এটি দেখিয়েছে—হাজার বছরের একটি ঐতিহ্যকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করলে নতুন শিল্প তৈরি করা সম্ভব। মাত্র কয়েক ডজন উট নিয়ে গবেষণামূলক যাত্রা শুরু করে আজ প্রায় ৭,০০০ উটের বিশাল herd, বছরে প্রায় ৩০ লাখ লিটার দুধ, ৬০টির বেশি পণ্য, আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজার এবং সৌরবিদ্যুৎনির্ভর আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা—এই দীর্ঘ যাত্রাই Camelicious-কে বিশ্ব camel dairy industry-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মডেলে পরিণত করেছে।

সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—উটের সংখ্যা দিয়ে নয়, একটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক value chain গড়ে তোলার মাধ্যমেই সফল বাণিজ্যিক উটশিল্প তৈরি হয়।

বাংলাদেশে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক উট পালন নিয়ে চিন্তা করা হলে তাই Camelicious-এর বিশাল খামার অনুকরণ করার চেয়ে তাদের গবেষণা → পরীক্ষামূলক উৎপাদন → তথ্যভিত্তিক সম্প্রসারণ → প্রক্রিয়াজাতকরণ → পণ্য বৈচিত্র্য → আন্তর্জাতিক মান ও বাজার—এই উন্নয়ন মডেলটি অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

তথ্যসূত্র

১. Camelicious—Official Website — ইতিহাস, বর্তমান herd, উৎপাদন ও পণ্য।
২. Camelicious—About Us — প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, ৭,০০০ উট, ৩০ লাখ লিটার দুধ ও processing capacity।
৩. European Union—Regulation 300/2013 — Dubai camel milk-এর EU market access।
৪. TotalEnergies—Camelicious Solar Project — solar energy, ৯,২০০ panels ও carbon reduction।
৫. The National—Camelicious ও ইউরোপে camel milk export সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

ডালের উৎপাদন বেড়েছে ৪ গুণ, লক্ষ্য এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া

সবুজ বাংলার উপস্থাপিকা

মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল অর্জন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

হারিয়ে যাচ্ছে ছোট লেয়ার খামারি

সমুদ্রে ৫৮ দিনে জেলেদের মাঝে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ প্রদান

মহিষ পালনের জন্য যা যা জানা দরকার

ইলিশের উৎপাদন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

অর্থ, উন্নয়ন ও অগ্রগতির চূড়ান্ত হিসাব শেষ পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যেই নিহিত

দেশের নদ-নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জলাশয় পুনরুজ্জীবনে মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল নিরাপদ করতে হবে ।ফ্যাব

মৎস্য খাতে অবদান: ১৪ উদ্যোক্তাকে গোল্ড মেডেল দেবেন প্রধানমন্ত্রী