RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Sunday , 30 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য ১০টি ডেইরি ফার্ম

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
August 30, 2026 12:23 am

পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য ১০টি ডেইরি ফার্ম।।

গড়ে ওঠার ইতিহাস, খামারের আকার, গরুর জাত, উৎপাদনব্যবস্থা, প্রযুক্তি, সাফল্য ও বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুধ উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির দুগ্ধশিল্পের মূল ভিত্তি এখনো গ্রামীণ ক্ষুদ্র খামারি—অধিকাংশ পরিবার মাত্র দুই থেকে পাঁচটি গরু বা মহিষ পালন করে। তবে ২০০৫ সালের পর পাকিস্তানে বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, টেক্সটাইল কোম্পানি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে আধুনিক করপোরেট ডেইরি ফার্ম দ্রুত গড়ে উঠতে শুরু করে।

এসব খামারে প্রধানত অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে আমদানি করা উচ্চ উৎপাদনশীল হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান গাভী, স্বয়ংক্রিয় মিল্কিং পার্লার, টোটাল মিক্সড রেশন বা TMR, সাইলেজ, ডিজিটাল হার্ড ম্যানেজমেন্ট, কুলিং সিস্টেম এবং কঠোর জৈবনিরাপত্তা ব্যবহার করা হয়।

তালিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

পাকিস্তানে সরকারিভাবে নিয়মিত হালনাগাদ করা কোনো পূর্ণাঙ্গ “শীর্ষ ১০ ডেইরি ফার্ম” তালিকা নেই। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমান পশুসংখ্যা ও দৈনিক দুধ উৎপাদন প্রকাশ করে না। তাই নিচের অবস্থানগুলো সর্বশেষ প্রকাশিত পশুসংখ্যা, উৎপাদন, জমি, প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষমতা এবং দুগ্ধশিল্পে প্রভাব—সবকিছু বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক সরকারি র‌্যাঙ্কিং নয়।


১. ইন্টারলুপ ডেইরিজ লিমিটেড—ফয়সালাবাদ, পাঞ্জাব

গড়ে ওঠার ইতিহাস

পাকিস্তানের বিশ্বখ্যাত টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানিকারক ইন্টারলুপ গ্রুপ কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার সম্ভাবনা বিবেচনা করে ডেইরি খাতে বিনিয়োগ করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালের শেষদিকে প্রথম আমদানি করা গাভী সংগ্রহ করে এবং ২০১৩ সালে প্রায় ১,২০০টি হিফার দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে।

প্রথমদিকে খামারটির লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ কাঁচা দুধ উৎপাদন। পরে এটি ধাপে ধাপে গাভীর সংখ্যা, শেড, মিল্কিং ব্যবস্থা ও পশুখাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের পাকিস্তানের বৃহত্তম করপোরেট ডেইরি ফার্ম হিসেবে উল্লেখ করে।

বর্তমান পরিধি ও বৈশিষ্ট্য

ইন্টারলুপের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—

  • খামারের আয়তন প্রায় ১৬০ একর
  • মোট পশু ৯,৫০০টির বেশি
  • দুধ দিচ্ছে এমন গাভী ৫,২৫০টির বেশি
  • বার্ষিক দুধ উৎপাদন ৫ কোটি লিটারের বেশি
  • প্রধান জাত উচ্চ উৎপাদনশীল হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান
  • দুটি সমন্বিত উৎপাদন ইউনিট রয়েছে

খামারটিতে গাভীর আরাম নিশ্চিত করতে আধুনিক শেড, বায়ু চলাচল, ফ্যান ও কুলিং, স্বয়ংক্রিয় মিল্কিং পার্লার, ডিজিটাল পরিচিতি, প্রজনন রেকর্ড, বাছুর ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত দুধের মান পরীক্ষা করা হয়।

বিশেষত্ব

ইন্টারলুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—বড় পশুপালনকে তথ্যপ্রযুক্তি, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা। খামারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং গোবর ও বর্জ্যের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হয়েছে। দুধের পাশাপাশি উন্নত মানের মোজারেলা চিজসহ মূল্য সংযোজিত পণ্যের দিকেও প্রতিষ্ঠানটি এগিয়েছে। Interloop Dairies, খামারের পরিসংখ্যান


২. নিশাত ডেইরি প্রাইভেট লিমিটেড—সুখেকে মান্ডি, পাঞ্জাব

প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ

পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী নিশাত গ্রুপ ২০১১ সালে ডেইরি খাতে প্রবেশ করে। টেক্সটাইল, ব্যাংকিং, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ ও আবাসন ব্যবসায় সফলতার পর নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগের অংশ হিসেবে নিশাত ডেইরি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

খামারটি লাহোর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাবের সুখেকে মান্ডিতে স্থাপন করা হয়। উন্নত জেনেটিকসের গাভী, পর্যাপ্ত পশুখাদ্যের জমি এবং শহরের বাজারে দ্রুত দুধ সরবরাহের সুবিধা বিবেচনা করে স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছিল।

পরিধি ও অবকাঠামো

নিশাত গ্রুপের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—

  • খামারের আয়তন প্রায় ১৬৫ একর
  • একপর্যায়ে মোট পশু ছিল প্রায় ৬,২০০টি
  • গাভী প্রধানত অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের উন্নত জাতের
  • স্বয়ংক্রিয় মিল্কিং, কুলিং ও পশুখাদ্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে

এখানে গাভীর দুধ উৎপাদন, খাবার গ্রহণ, শারীরিক অবস্থা, প্রজননচক্র ও রোগের তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়। নিজস্ব জমিতে ভুট্টা ও অন্যান্য সবুজ ঘাস উৎপাদন করে সাইলেজ তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে।

নিশাত–সুতাশ অংশীদারত্ব

২০১৯ সালে নিশাত গ্রুপ তুরস্কের বৃহৎ দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান সুতাশের সঙ্গে যৌথভাবে নিশাত সুতাশ ডেইরি লিমিটেড গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে খামারভিত্তিক দুধ উৎপাদনের পাশাপাশি দই, চিজ, মাখন ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরির জ্ঞান পাকিস্তানে আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

নিশাতের বড় শক্তি হলো—নিজস্ব মূলধন, জমি, প্রযুক্তি এবং কাঁচা দুধকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের সক্ষমতা। Nishat Group milestones, Nishat Sütas


৩. স্যাফায়ার ডেইরিজ বা রিভায়াত ফার্মস—পাঞ্জাব

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

পাকিস্তানের বৃহৎ টেক্সটাইল ও বিদ্যুৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী স্যাফায়ার গ্রুপ ২০০৮ সালে ডেইরি খাতে বিনিয়োগ করে। লক্ষ্য ছিল করপোরেট ব্যবস্থাপনায় উচ্চমানের কাঁচা দুধ উৎপাদন এবং পরবর্তীকালে নিজস্ব ব্র্যান্ডে দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাত করা।

শুরু থেকেই খামারটিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা উচ্চ উৎপাদনশীল হলস্টেইন গাভী ব্যবহার করা হয়। পাকিস্তানের গরম আবহাওয়া এসব গাভীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় শেডে ফ্যান, স্প্রিংকলার, মিস্টিং এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

পশুসংখ্যা ও উৎপাদন

বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানের তথ্যে—

  • মোট গাভী প্রায় ৪,০০০–৫,০০০
  • দুধ দিচ্ছে এমন গাভী প্রায় ২,৫০০
  • দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৪০ টন
  • সাম্প্রতিক শিল্পপ্রদর্শনীর তথ্যে বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ লিটার

বৈশিষ্ট্য

প্রতিটি গাভীর আলাদা পরিচিতি, দুধ উৎপাদনের রেকর্ড, প্রজনন ইতিহাস এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য রাখা হয়। দুধের ব্যাকটেরিয়া, ফ্যাট, প্রোটিন এবং সোমাটিক সেল কাউন্ট পরীক্ষা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি কাঁচা দুধ সরবরাহের পাশাপাশি নিজস্ব প্যাকেটজাত দুধ, দই ও অন্যান্য পণ্য বাজারজাত করছে।

স্যাফায়ার দেখিয়েছে, তৈরি পোশাক বা টেক্সটাইলের মতো খাত থেকে আসা বড় শিল্পগোষ্ঠীও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সফল ডেইরি ব্যবসা গড়ে তুলতে পারে। Sapphire Dairies, Gulfood company profile


৪. ডেইরিল্যান্ড—ডে-ফ্রেশ, ধাবেজি, সিন্ধু

যাত্রার শুরু

আখতার গ্রুপ ২০০৯ সালে ডেইরিল্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে। সিন্ধু প্রদেশের ধাবেজিতে মাত্র ৩০ একর জমি ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা প্রায় ৫০০টি হিফার দিয়ে খামারটির যাত্রা শুরু হয়।

পরে খামারটি প্রায় ৭০ একরে সম্প্রসারিত হয়। খামারের পাশেই দুধ প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করার কারখানা নির্মাণ করা হয়। ফলে দোহনের পর মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়াই পাইপের মাধ্যমে দুধ সরাসরি চিলার ও কারখানায় পৌঁছে যায়।

বর্তমান বৈশিষ্ট্য

প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে খামারে—

  • ৪,০০০টির বেশি অস্ট্রেলিয়ান গাভী
  • নিজস্ব ডেইরি ফার্ম ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা
  • পাস্তুরিত দুধ, দই, লাচ্ছি, রাইতা ও ফ্লেভারড মিল্ক
  • পাকিস্তানের প্রথম বাণিজ্যিক ল্যাকটোজমুক্ত দুধ
  • একাধিক অঞ্চলে নিজস্ব সরবরাহব্যবস্থা রয়েছে

প্রতিটি গাভীর শরীরে ইলেকট্রনিক পরিচিতি চিপ ব্যবহার করা হয়। মিল্কিং পার্লার থেকে প্রতিটি গাভীর দুধের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হয়। গোবর থেকে পানি আলাদা করে সেই পানি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে পুনর্ব্যবহার করা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

ডেইরিল্যান্ডের “ঘাস থেকে গ্লাস” মডেলটি পাকিস্তানে বিশেষভাবে আলোচিত। পশুখাদ্য উৎপাদন, গাভী পালন, দোহন, পরীক্ষা, পাস্তুরিতকরণ, প্যাকেজিং এবং বাজারজাতকরণ—সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া একই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। Dairyland, Dawn-এর খামার প্রতিবেদন


৫. আত-তাহুর লিমিটেড—প্রেমা ডেইরি, কাসুর, পাঞ্জাব

প্রতিষ্ঠা থেকে শেয়ারবাজারে প্রবেশ

আত-তাহুর ২০০৭ সালের মার্চে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে এটি আনলিস্টেড পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয় এবং ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়।

প্রতিষ্ঠানটির খামার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট পাঞ্জাবের কাসুরে অবস্থিত। নিজস্ব খামারে উৎপাদিত দুধ “Premá” ব্র্যান্ডে সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া এর ব্যবসায়িক মডেলের মূল ভিত্তি।

উৎপাদন ও পণ্য

ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির খামারে দুই হাজারের বেশি দুধ উৎপাদনকারী পশুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭–১৮ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৯৪ লাখ ৯৪ হাজার লিটার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি করেছিল।

এর প্রধান পণ্য—

  • পাস্তুরিত তরল দুধ
  • দই ও চাংকি ইয়োগার্ট
  • চকলেট দুধ
  • স্মুদি
  • রাইতা
  • অন্যান্য রেফ্রিজারেটেড দুগ্ধপণ্য

বিশেষ বৈশিষ্ট্য

আত-তাহুর UHT দুধের পরিবর্তে ঠান্ডা শৃঙ্খলনির্ভর পাস্তুরিত দুধের বাজার গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খামার থেকে শহরের দোকান পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন কোল্ড চেইন নিয়ন্ত্রণ এর বড় শক্তি। At-Tahur-এর আর্থিক প্রতিবেদন


৬. ঘানি ডেইরিজ লিমিটেড—নূরপুর থাল, খুশাব

নতুন প্রজন্মের দ্রুত বর্ধনশীল খামার

ঘানি গ্রুপের ব্যবসায়িক ইতিহাস ১৯৫৯ সাল থেকে শুরু হলেও ঘানি ডেইরিজ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে। পাঞ্জাবের খুশাব জেলার নূরপুর থালের রাহদারিতে খামারটি স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২১০টি উচ্চ উৎপাদনশীল ফ্রিজিয়ান হিফার আমদানির মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরের বছর আরও ৪৯৯টি হিফার যুক্ত করা হয়।

প্রবৃদ্ধি

প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—

  • ২০২২ সালে দুধ বিক্রি প্রায় ১৫ লাখ লিটার
  • ২০২৩ সালে উৎপাদন প্রায় ৬৭ লাখ লিটার
  • ২০২৪ সালে উৎপাদন প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ লিটার
  • ২০২৫ সালে মোট পশু ২,৪৮৭টি
  • দুধ উৎপাদনকারী গাভী ১,৩৭৭টি
  • ২০২৫ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর

২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি আরও এক হাজার দুধেল গাভীর আবাসনের উপযোগী তিনটি আধুনিক শেড নির্মাণ সম্পন্ন করেছে।

প্রযুক্তি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা

ঘানি ডেইরিতে স্বয়ংক্রিয় মিল্কিং, জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত শেড, ডিজিটাল হার্ড ম্যানেজমেন্ট, TMR খাদ্য, দুধের মান পরীক্ষা এবং প্রায় ১.৬ মেগাওয়াট অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ISO 9001 ও ISO 22000 মান অনুসরণের কথাও জানিয়েছে।

খুব অল্প সময়ে বড় খামারে পরিণত হওয়ায় ঘানি ডেইরিজ বর্তমানে পাকিস্তানের সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল ডেইরি প্রকল্পগুলোর একটি। Ghani Dairies profile, Ghani Group


৭. শরিফ ডেইরি ফার্মস—পাঞ্জাব

শরিফ গ্রুপ ২০০৮ সালের ১৭ নভেম্বর শরিফ ডেইরি ফার্মস প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে। পাকিস্তানের দ্রুত বর্ধমান জনসংখ্যার জন্য নিরাপদ দুধ উৎপাদন এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনার উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

খামারটিতে করপোরেট ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের গাভী, যান্ত্রিক দোহন, পরিকল্পিত প্রজনন, সাইলেজ ও সুষম রেশন ব্যবহার করা হয়। পশুর আরাম, শেডের পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধকে উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ করা হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক মোট পশুসংখ্যা ও দৈনিক দুধ উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেনি। এ কারণে সুনির্দিষ্ট সংখ্যার পরিবর্তে ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিনিয়োগের পরিধি এবং পাকিস্তানের করপোরেট ডেইরি আন্দোলনে ভূমিকার ভিত্তিতে তালিকায় রাখা হয়েছে। Sharif Dairy Farms


৮. দাদা ডেইরিজ প্রাইভেট লিমিটেড—কাসুর, পাঞ্জাব

দাদা ডেইরিজ পাকিস্তানের করপোরেট ডেইরি চাষের অগ্রণী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। কাসুর অঞ্চলে গড়ে ওঠা এই খামার উচ্চ উৎপাদনশীল বিদেশি গাভী, আধুনিক মিল্কিং পার্লার, সাইলেজভিত্তিক খাদ্য এবং তথ্যনির্ভর প্রজনন ব্যবস্থাপনা চালু করে পরিচিতি পায়।

প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে বিদেশি গাভীর গর্ভধারণের হার ছিল বড় সমস্যা। একটি শিল্পগবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে খামারটির conception rate প্রায় ২০ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। উন্নত হিট ডিটেকশন, সময়মতো কৃত্রিম প্রজনন, আলট্রাসনোগ্রাফি, পুষ্টি ও পশুচিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা প্রায় ৪৯ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়।

দাদা ডেইরিজের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে—শুধু বেশি দুধের গাভী আমদানি করলেই সফলতা আসে না; প্রজনন, খাদ্য, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ জনবল সমান গুরুত্বপূর্ণ।


৯. বাহাদুরনগর লাইভস্টক প্রোডাকশন রিসার্চ ইনস্টিটিউট—ওকারা

ওকারার বাহাদুরনগরে অবস্থিত সরকারি Livestock Production Research Institute পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহাসিক পশুসম্পদ গবেষণা খামার। এটি শুধু বাণিজ্যিক দুধ উৎপাদন করে না; পাকিস্তানের দেশীয় গরু-মহিষের জাত উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রজনন গবেষণা এবং সরকারি খামারের জন্য উন্নত প্রজনন উপকরণ তৈরিতে কাজ করে।

এখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়—

  • সাহিওয়াল গরু
  • নিলি-রাভি মহিষ
  • রেড সিন্ধি ও অন্যান্য দেশীয় জাত
  • নির্বাচিত প্রজনন
  • ষাঁড় নির্বাচন ও বংশপরীক্ষা
  • খাদ্য ও দুধ উৎপাদন গবেষণা
  • কৃষক ও কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ

করপোরেট খামারগুলো যেখানে প্রধানত হলস্টেইন দিয়ে বেশি দুধ উৎপাদনে জোর দেয়, সেখানে বাহাদুরনগরের গুরুত্ব দেশীয় জাতের জেনেটিক সম্পদ রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায়। এ কারণে এটি পাকিস্তানের ডেইরি খাতের একটি ভিত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান।


১০. ওকারা মিলিটারি ডেইরি ফার্মস কমপ্লেক্স—পাঞ্জাব

ওকারার সামরিক খামারগুলোর ইতিহাস ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় সেনাবাহিনীর জন্য দুধ, ঘি, মাখন, পশুখাদ্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে এসব খামার প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৩ সালের দিকে ওকারার সামরিক কৃষি ও ডেইরি কার্যক্রম সুসংগঠিত রূপ পায়।

দেশভাগের পর খামারগুলো পাকিস্তান সামরিক প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হতে থাকে। বৃহৎ কৃষিজমিতে পশুখাদ্য উৎপাদন, গরু-মহিষ পালন এবং সামরিক স্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ ছিল এর প্রধান কার্যক্রম।

বর্তমান পশুসংখ্যা ও পৃথক ডেইরি ইউনিটের উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য সাধারণভাবে প্রকাশিত না হলেও ঐতিহাসিক আয়তন, জমি, পশুপালন ও রাষ্ট্রীয় খাদ্য সরবরাহে ভূমিকার কারণে ওকারা মিলিটারি ফার্মস পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহ্যবাহী ডেইরি ও কৃষি কমপ্লেক্স হিসেবে বিবেচিত।


বিশেষ উল্লেখ: লান্ধি বা ভেঁস কলোনি—করাচি

লান্ধি ডেইরি কলোনি কোনো একক মালিকানাধীন খামার নয়; এটি প্রায় ১,৫০০টি ছোট-বড় খামারের বিশাল সমষ্টি। ১৯৫৮ সালে করাচি শহর থেকে অপরিকল্পিত গবাদিপশুর খামার সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ৭৫২ একর জমিতে ১৫ হাজার পশুর জন্য এটি স্থাপন করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে এটি প্রায় ১,৬০০ একরে সম্প্রসারিত হয়। বিভিন্ন সময়ের হিসাবে এখানে কয়েক লাখ গরু-মহিষ ছিল এবং করাচির দুধের বড় অংশ এখান থেকে সরবরাহ করা হতো। পশুর প্রায় ৯৫ শতাংশই মহিষ—বিশেষত কুন্ডি ও নিলি-রাভি ধরনের।

তবে অতিরিক্ত ঘনত্ব, গোবর ও বর্জ্য, দূষণ, দুর্বল প্রজননব্যবস্থা এবং একটি দুধদানকাল শেষে পশু বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা এখানকার বড় সমস্যা। একক খামার না হওয়ায় মূল শীর্ষ দশে রাখা হয়নি; কিন্তু প্রাণিসংখ্যা ও নগর দুধ সরবরাহের বিচারে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ডেইরি কলোনিগুলোর একটি।


পাকিস্তানের বড় ডেইরি ফার্মগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য

১. টেক্সটাইল ও শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ

ইন্টারলুপ, নিশাত, স্যাফায়ার ও ডেইরিল্যান্ড—প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই প্রথমে টেক্সটাইল বা অন্য শিল্পে সফল হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি মূলধন, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং জমির সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা ডেইরিতে প্রবেশ করেছে।

২. বিদেশি হলস্টেইন গাভীর ব্যবহার

বেশির ভাগ করপোরেট খামার অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বা নেদারল্যান্ডস থেকে হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান হিফার আমদানি করেছে। এগুলোর দুধ উৎপাদন বেশি হলেও পাকিস্তানের গরম আবহাওয়ায় তাপজনিত চাপ, খুরের রোগ, মাস্টাইটিস ও প্রজনন সমস্যা দেখা দেয়।

৩. নিজস্ব পশুখাদ্য উৎপাদন

বড় খামারগুলো নিজস্ব বা চুক্তিভিত্তিক জমিতে ভুট্টা, আলফালফা ও অন্যান্য ঘাস উৎপাদন করে। সাইলেজ ও TMR ব্যবস্থার কারণে সারা বছর একই মানের খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

৪. গরম মোকাবিলায় বিশেষ অবকাঠামো

ফ্যান, মিস্টিং, স্প্রিংকলার, ছায়াযুক্ত উঁচু শেড, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত বায়ু চলাচল ছাড়া আমদানি করা গাভীর প্রত্যাশিত উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হয় না।

৫. তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা

ইলেকট্রনিক ইয়ার ট্যাগ বা RFID-এর মাধ্যমে প্রতিটি গাভীর দুধ, খাদ্য, প্রজনন, রোগ, চিকিৎসা এবং চলাফেরার রেকর্ড রাখা হয়। ফলে অসুস্থতা ও হিট দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

৬. খামার থেকে বাজার পর্যন্ত সমন্বয়

ডেইরিল্যান্ড, আত-তাহুর, নিশাত-সুতাশ ও স্যাফায়ার শুধু কাঁচা দুধ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নেই। তারা দুধ প্রক্রিয়াজাত করে দই, চিজ, মাখন, লাচ্ছি ও অন্যান্য পণ্য বাজারজাত করছে। এতে কাঁচা দুধের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি কমে।


বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়

পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের ডেইরি উদ্যোক্তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারেন।

প্রথমত, বড় খামার মানে শুধু অনেক গরু নয়। পর্যাপ্ত জমি, নিশ্চিত পশুখাদ্য, দক্ষ ব্যবস্থাপক, পশুচিকিৎসক, প্রজনন বিশেষজ্ঞ, তথ্যভিত্তিক রেকর্ড এবং নিশ্চিত দুধের বাজার না থাকলে বড় বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে।

দ্বিতীয়ত, বিদেশি হলস্টেইন গাভী আমদানি করলেই আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের আর্দ্র ও উষ্ণ আবহাওয়ার জন্য কুলিং, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং তাপসহনশীল ক্রসব্রিড উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

তৃতীয়ত, খামারকে শুধু কাঁচা দুধ বিক্রির ওপর নির্ভরশীল রাখা উচিত নয়। পাস্তুরিত দুধ, দই, ঘি, মাখন, পনির, মোজারেলা এবং ফ্লেভারড মিল্ক উৎপাদন করলে লাভের সুযোগ বাড়ে।

চতুর্থত, দেশীয় জাত সংরক্ষণকে উপেক্ষা করা যাবে না। পাকিস্তানের সাহিওয়াল ও নিলি-রাভির মতো বাংলাদেশের রেড চিটাগাং ক্যাটল, পাবনা ও উত্তরবঙ্গের দেশীয় গরুর নির্বাচিত প্রজনন প্রয়োজন।

পাকিস্তানের ১০টি বৃহৎ ডেইরি ফার্ম থেকে ড. বায়েজিদ মোড়লের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন

পাকিস্তানের ইন্টারলুপ, নিশাত, স্যাফায়ার, ডেইরিল্যান্ড, আত-তাহুর, ঘানি, শরিফ, দাদা ডেইরিজ, বাহাদুরনগর গবেষণা খামার এবং ওকারা মিলিটারি ডেইরি ফার্মের ইতিহাস ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি যেসব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি—

১. বড় খামার শুধু বেশি গরুর সমষ্টি নয়: হাজার হাজার গরু থাকলেই কোনো খামার সফল হয় না। পশুখাদ্য, দক্ষ জনবল, চিকিৎসা, প্রজনন, উৎপাদন রেকর্ড, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিশ্চিত বাজার—সবকিছুর সমন্বয়েই একটি বড় খামার টেকসই হয়।

২. ছোট পরিসরে শুরু করে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ নিরাপদ: ইন্টারলুপ ১,২০০টি হিফার, ডেইরিল্যান্ড প্রায় ৫০০টি এবং ঘানি ডেইরিজ ২১০টি হিফার দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের পর তারা পশুসংখ্যা বাড়িয়েছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গরু কিনে ফেলাই উন্নতির পথ নয়।

৩. নিজস্ব পশুখাদ্যের ব্যবস্থা অপরিহার্য: বড় ডেইরি ফার্মের সবচেয়ে বড় ব্যয় খাদ্য। ভুট্টা, আলফালফা ও সবুজ ঘাস উৎপাদন, সাইলেজ তৈরি এবং বিজ্ঞানসম্মত TMR সরবরাহ ছাড়া লাভজনকভাবে হাজার হাজার গরু পালন করা কঠিন।

৪. বিদেশি গাভী আমদানিই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়: হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান বেশি দুধ দিলেও দক্ষিণ এশিয়ার গরম ও আর্দ্র পরিবেশে সহজে তাপজনিত চাপে পড়ে। তাই ফ্যান, স্প্রিংকলার, মিস্টিং, পর্যাপ্ত পানি এবং বাতাস চলাচলের উপযোগী শেড অপরিহার্য।

৫. গাভীর আরাম সরাসরি দুধ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত: আরামদায়ক শেড, শুকনো বিছানা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের জায়গা, পরিষ্কার পানি এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করলে রোগ কমে, খাদ্য গ্রহণ বাড়ে এবং দুধ উৎপাদন স্থিতিশীল থাকে।

৬. প্রতিটি পশুর আলাদা তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে: ইলেকট্রনিক ইয়ার ট্যাগ বা নির্ভুল রেজিস্টারের মাধ্যমে জন্ম, বংশপরিচয়, দুধ, খাদ্য, হিট, প্রজনন, গর্ভধারণ, টিকা ও চিকিৎসার তথ্য রাখা প্রয়োজন। অনুমানের ওপর বড় খামার পরিচালনা করা যায় না।

৭. প্রজনন দক্ষতা লাভ-লোকসান নির্ধারণ করে: দাদা ডেইরিজের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, গর্ভধারণের হার কম হলে উন্নত গাভীও অর্থনৈতিক বোঝায় পরিণত হয়। সময়মতো হিট শনাক্তকরণ, কৃত্রিম প্রজনন, পুষ্টি ও দ্রুত গর্ভপরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৮. বাছুরই খামারের ভবিষ্যৎ: ভালো জাতের বকনা বাছুর সঠিকভাবে পালন করতে পারলে বারবার বিদেশ থেকে গাভী আমদানির প্রয়োজন কমে। জন্মের পর দ্রুত শালদুধ খাওয়ানো, আলাদা পরিচর্যা, টিকা এবং নিয়মিত ওজন নেওয়া জরুরি।

৯. দুধের পরিমাণের চেয়ে মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ: ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ, ফ্যাট, প্রোটিন ও সোমাটিক সেল কাউন্ট নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। নিম্নমানের বেশি দুধের তুলনায় নিরাপদ ও মানসম্পন্ন দুধ দীর্ঘমেয়াদে বেশি মূল্যবান।

১০. দোহন থেকে শীতলীকরণ পর্যন্ত মানুষের স্পর্শ কমাতে হবে: স্বয়ংক্রিয় মিল্কিং পার্লার, বন্ধ পাইপলাইন এবং দ্রুত চিলিং ব্যবস্থায় দুধের দূষণ ও অপচয় কমে। পরিষ্কার দুধ উৎপাদনে এটি পাকিস্তানের আধুনিক খামারগুলোর বড় শিক্ষা।

১১. শুধু কাঁচা দুধ বিক্রির ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ: দুধের বাজারদর কমলে খামার লোকসানে পড়ে। পাস্তুরিত দুধ, দই, ঘি, মাখন, পনির, মোজারেলা ও ফ্লেভারড মিল্ক উৎপাদন করলে মূল্য সংযোজন এবং আয়ের বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

১২. বর্জ্যকেও সম্পদে পরিণত করতে হবে: গোবর থেকে জৈবসার, কম্পোস্ট, বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ব্যবহৃত পানি পরিশোধন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে পুনর্ব্যবহার করলে খরচ ও পরিবেশদূষণ কমে।

১৩. দক্ষ কর্মী ও প্রশিক্ষণ প্রযুক্তির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ: দামি যন্ত্রপাতি কিনলেই আধুনিক খামার হয় না। সেগুলো পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের জন্য প্রশিক্ষিত ব্যবস্থাপক ও কর্মী প্রয়োজন।

১৪. দেশীয় জাত সংরক্ষণ করতে হবে: পাকিস্তানের বাহাদুরনগর খামার সাহিওয়াল ও নিলি-রাভি সংরক্ষণ করছে। বাংলাদেশেও রেড চিটাগাং ক্যাটল, পাবনা ও উত্তরাঞ্চলের দেশীয় গরুর নির্বাচিত প্রজনন ও সংরক্ষণ জরুরি।

১৫. বাংলাদেশকে নিজস্ব মডেল তৈরি করতে হবে: পাকিস্তানের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়, কিন্তু হুবহু অনুকরণ করা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের জলবায়ু, জমি, খাদ্যের প্রাপ্যতা, গরুর জাত, ভোক্তার চাহিদা এবং খামারিদের আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই ডেইরি মডেল গড়ে তুলতে হবে।

আমার চূড়ান্ত শিক্ষা হলো—ডেইরি খামারের উন্নয়ন শুধু বেশি গরু বা বেশি দুধ নয়; বরং উন্নত ব্যবস্থাপনা, প্রাণিকল্যাণ, নিরাপদ খাদ্য, দক্ষ প্রজনন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং লাভজনক বাজারব্যবস্থার সমন্বিত রূপ।

শেষ কথা

পাকিস্তানের আধুনিক ডেইরি খাতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—পারিবারিক পশুপালনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর করপোরেট খামারের উত্থান। ইন্টারলুপ, নিশাত, স্যাফায়ার, ডেইরিল্যান্ড, আত-তাহুর ও ঘানি ডেইরিজ দেখিয়েছে যে পর্যাপ্ত মূলধন, নিজস্ব পশুখাদ্য, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং নিশ্চিত বাজার থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার কঠিন জলবায়ুতেও বড় ডেইরি ফার্ম পরিচালনা করা সম্ভব।

তবে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে সতর্ক করে—অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা, উচ্চ খাদ্যব্যয়, গরমে উৎপাদন হ্রাস, দুর্বল প্রজনন এবং কাঁচা দুধের অস্থিতিশীল মূল্য বড় খামারকেও লোকসানের মুখে ফেলতে পারে। অতএব বাংলাদেশের জন্য সঠিক পথ হবে—বিদেশি প্রযুক্তি গ্রহণ, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে অভিযোজন এবং দেশীয় জাত ও ক্ষুদ্র খামারিকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত দুগ্ধশিল্প গড়ে তোলা।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট ডেইরি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও বার্ষিক প্রতিবেদন; Pakistan Journal of Agricultural Sciences; FAO; Punjab Government Livestock Department; Pakistan Stock Exchange এবং Dawn

সর্বশেষ - ছাগল পালন