RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Saturday , 29 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

মুরগির ডিমের রং ভিন্ন হয় কেন? রং ভিন্ন হলে কি পুষ্টিমানও ভিন্ন হয়?

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
August 28, 2026 11:28 pm

মুরগির ডিমের রং ভিন্ন হয় কেন? রং ভিন্ন হলে কি পুষ্টিমানও ভিন্ন হয়?

সাদা, বাদামি, নীল, সবুজ ও ছোপযুক্ত ডিমের বৈজ্ঞানিক কারণ এবং পুষ্টিগুণের প্রকৃত সত্য।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী ও জনসচেতনতামূলক প্রতিবেদন।।

বাজারে সাধারণত সাদা ও বাদামি রঙের মুরগির ডিম বেশি দেখা যায়। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নীল, সবুজ, হালকা গোলাপি, ক্রিম, চকলেট-বাদামি এবং ছোপযুক্ত খোসার ডিমও পাওয়া যায়। এই বৈচিত্র্য দেখে অনেকেই মনে করেন, বাদামি বা গাঢ় রঙের ডিমে বেশি পুষ্টি থাকে, দেশি মুরগির ডিম সব সময় বেশি শক্তিশালী কিংবা নীল-সবুজ ডিমে বিশেষ ঔষধি গুণ রয়েছে।

বৈজ্ঞানিকভাবে এসব ধারণার অধিকাংশই সঠিক নয়। ডিমের খোসার রং প্রধানত মুরগির জাত ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে ডিমের প্রকৃত পুষ্টিমান নির্ভর করে মুরগির খাদ্য, বয়স, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, ডিমের আকার এবং উৎপাদনব্যবস্থার ওপর। একই আকার ও একই ধরনের খাদ্য খাওয়া মুরগির সাদা ও বাদামি ডিমের পুষ্টিমানে সাধারণত উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে না।

ডিমের খোসা কীভাবে তৈরি হয়?

একটি পূর্ণাঙ্গ ডিম তৈরি হতে সাধারণত প্রায় ২৪–২৬ ঘণ্টা সময় লাগে। মুরগির ডিম্বাশয় থেকে কুসুম বের হওয়ার পর ডিম্বনালির বিভিন্ন অংশ অতিক্রম করে। এই সময় পর্যায়ক্রমে কুসুমের চারপাশে ডিমের সাদা অংশ, ঝিল্লি এবং সবশেষে খোসা তৈরি হয়।

ডিমটি প্রায় ১৮–২০ ঘণ্টা মুরগির শেল গ্ল্যান্ড বা জরায়ু অংশে থাকে। এখানেই প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমে শক্ত খোসা তৈরি করে। খোসা গঠনের শেষ পর্যায়ে মুরগির জাত অনুযায়ী বিভিন্ন প্রাকৃতিক রঞ্জক খোসার মধ্যে বা ওপরের অংশে জমা হয়। এই রঞ্জকের ধরন ও পরিমাণই ডিমকে সাদা, বাদামি, নীল বা সবুজ করে।

ডিম পাড়ার ঠিক আগে খোসার ওপর “কিউটিকল” বা “ব্লুম” নামে অত্যন্ত পাতলা একটি প্রাকৃতিক আবরণ তৈরি হয়। এটি খোসার ক্ষুদ্র ছিদ্র আংশিকভাবে বন্ধ করে জীবাণু প্রবেশ ও আর্দ্রতা বেরিয়ে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে।

সাদা ডিম কেন হয়?

সাদা ডিমের খোসায় উল্লেখযোগ্য রঙিন রঞ্জক জমা হয় না। খোসার মূল উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট স্বাভাবিকভাবে সাদাটে হওয়ায় ডিমটিও সাদা দেখা যায়।

হোয়াইট লেগহর্নসহ অনেক হালকা দেহের বাণিজ্যিক লেয়ার মুরগি সাদা ডিম দেয়। এসব মুরগি তুলনামূলক কম খাদ্য খেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করতে পারে। ফলে পৃথিবীর অনেক দেশে সাদা ডিম উৎপাদনের খরচ তুলনামূলক কম।

সাদা ডিম মানেই কৃত্রিম, ফার্মের বা পুষ্টিহীন ডিম—এ ধারণা ভুল। মুরগির জাত ও উৎপাদনব্যবস্থার কারণে এর খোসা সাদা হয়।

বাদামি ডিম কেন হয়?

বাদামি ডিমের প্রধান রঞ্জকের নাম প্রোটোপোরফাইরিন-৯। মুরগির শরীরে হিমোগ্লোবিন সংশ্লিষ্ট স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়া থেকে এই রঞ্জক তৈরি হয়। ডিমের খোসা তৈরির শেষ পর্যায়ে এটি প্রধানত খোসার বাইরের অংশে জমা হয়।

রোড আইল্যান্ড রেড, প্লাইমাউথ রক, অস্ট্রালর্প, অরপিংটন এবং বিভিন্ন বাদামি ডিম উৎপাদনকারী বাণিজ্যিক হাইব্রিড মুরগি বাদামি ডিম দেয়। রঞ্জকের পরিমাণ কম হলে ডিম হালকা বাদামি এবং বেশি হলে গাঢ় বাদামি বা চকলেট রঙের হতে পারে।

বাদামি ডিমের খোসা ভেঙে দেখলে ভেতরের অংশ অনেক সময় সাদা বা হালকা রঙের দেখা যায়। কারণ বাদামি রঞ্জক প্রধানত খোসা তৈরির শেষ দিকে বাইরের স্তরে জমা হয়। গবেষণায় প্রোটোপোরফাইরিন-৯-কে বাদামি খোসার প্রধান রঞ্জক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাদামি ডিমের খোসার রংবিষয়ক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা

নীল ডিম কেন হয়?

নীল ডিমের প্রধান রঞ্জক বিলিভারডিন। এই রঞ্জক খোসা তৈরির সময় ক্যালসিয়ামের স্তরের ভেতর পর্যন্ত মিশে যেতে পারে। ফলে নীল ডিমের খোসা ভাঙলে এর ভেতরের দিকেও নীলাভ বা সবুজাভ আভা দেখা যেতে পারে।

আরাউকানা, আমেরাউকানা, ক্রিম লেগবার এবং কয়েকটি বিশেষ জাতের মুরগি নীল ডিম দেয়। এটি কোনো ওষুধ, রং মেশানো খাদ্য বা কৃত্রিম প্রক্রিয়ার ফল নয়; বরং মুরগির নির্দিষ্ট বংশগত বৈশিষ্ট্য।

সবুজ ডিম কীভাবে তৈরি হয়?

সবুজ ডিমকে সহজভাবে বলা যায়—নীল ভিত্তির ওপর বাদামি রঞ্জকের আবরণ। প্রথমে বিলিভারডিনের কারণে খোসা নীলাভ হয়। পরে খোসার বাইরের অংশে প্রোটোপোরফাইরিন জমলে ডিমটি সবুজ বা জলপাই রঙের দেখা যায়।

বাদামি রঞ্জক কতটা জমছে তার ওপর নির্ভর করে ডিম হালকা সবুজ, জলপাই সবুজ কিংবা গাঢ় অলিভ রঙের হতে পারে। এ কারণেই একই বংশের ভিন্ন মুরগির ডিমে সবুজ রঙের বিভিন্ন মাত্রা দেখা যায়।

ছোপযুক্ত ডিম কেন হয়?

ডিমের খোসায় রঞ্জক সমানভাবে জমা না হলে ছোট ছোট দাগ বা ছোপ তৈরি হয়। খোসা তৈরির শেষ দিকে প্রোটোপোরফাইরিনের অসম জমা, ডিম জরায়ুতে কিছুটা বেশি সময় থাকা বা খোসা তৈরির প্রক্রিয়ায় সাময়িক পরিবর্তনের কারণে এমন হতে পারে।

কিছু জাতের ক্ষেত্রে ছোপযুক্ত ডিম স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু একটি মুরগি নিয়মিত সমান রঙের ডিম দেওয়ার পর হঠাৎ অস্বাভাবিক ছোপ, খসখসে খোসা বা বিবর্ণ ডিম দিতে শুরু করলে খাদ্য, ক্যালসিয়াম, রোগ, তাপমাত্রা ও মানসিক চাপ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

একই মুরগির ডিমের রং কি পরিবর্তিত হতে পারে?

একটি মুরগির ডিমের মৌলিক রং সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। সাদা ডিম দেওয়া মুরগি হঠাৎ বাদামি ডিম বা বাদামি ডিম দেওয়া মুরগি নীল ডিম দিতে শুরু করে না। কারণ মৌলিক রং বংশগতভাবে নিয়ন্ত্রিত।

তবে একই মুরগির ডিমের রঙের গাঢ়ত্ব কম-বেশি হতে পারে। এর কয়েকটি কারণ হলো—

মুরগির বয়স

কম বয়সে ডিম উৎপাদন শুরু করার পর অনেক মুরগির ডিমের রং তুলনামূলক গাঢ় থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিমের আকার বড় হয়, কিন্তু প্রতিটি ডিমে জমা রঞ্জকের পরিমাণ সমান হারে না বাড়লে রং হালকা দেখায়।

ডিম উৎপাদনের হার

একটি মুরগি অল্প সময়ের ব্যবধানে বেশি ডিম দিলে প্রতিটি ডিমে রঞ্জক জমার সুযোগ কম হতে পারে। বিরতির পর দেওয়া ডিম কিছুটা গাঢ় হতে পারে।

অতিরিক্ত গরম

তীব্র গরমে মুরগির খাদ্য গ্রহণ কমে যায় এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে চাপ পড়ে। ফলে ডিমের খোসা পাতলা এবং রং হালকা হতে পারে।

ভয় ও মানসিক চাপ

অতিরিক্ত শব্দ, খামারে হঠাৎ লোক প্রবেশ, শিকারি প্রাণীর উপস্থিতি, স্থানান্তর, ঘনবসতি এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ খোসা তৈরি ও রঞ্জক জমার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

রোগ ও ওষুধ

ইনফেকশাস ব্রঙ্কাইটিসসহ কয়েকটি রোগ ডিমের খোসাকে পাতলা, কুঁচকানো, বিকৃত বা বিবর্ণ করতে পারে। কিছু ওষুধ ও খামার ব্যবস্থাপনার সমস্যাও খোসার গুণমানকে প্রভাবিত করতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি

ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ডি এবং প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতিতে খোসা পাতলা, নরম বা দুর্বল হতে পারে। তবে শুধু খাদ্যে ক্যালসিয়াম বাড়ালেই ডিমের জাতগত রং বদলে যাবে না।

খোসার রং ভিন্ন হলে কি পুষ্টিমানও ভিন্ন হয়?

এর সরাসরি উত্তর—না, শুধু খোসার রং ভিন্ন হওয়ার কারণে ডিমের পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যায় না।

একই আকারের এবং একই ধরনের খাবার খাওয়া সুস্থ মুরগির সাদা ও বাদামি ডিমে প্রোটিন, চর্বি, শক্তি, ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ প্রায় সমান। নীল বা সবুজ খোসার ডিমও শুধুমাত্র রঙের কারণে বেশি পুষ্টিকর হয়ে যায় না।

পেন স্টেট এক্সটেনশনের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের খোসার রং মুরগির জাতের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় এবং এটি ডিমের পুষ্টিমান বা স্বাদে নিজে থেকে পার্থক্য সৃষ্টি করে না। পেন স্টেট এক্সটেনশন

অবশ্য ভিন্ন জাতের মুরগির ডিমের আকার, কুসুমের অনুপাত বা কিছু পুষ্টি উপাদানে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু সেটি খোসার রঙের জন্য নয়; জাত, খাদ্য, বয়স ও ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত প্রভাব।

বাদামি ডিম কি সাদা ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর?

না। বাদামি ডিম দেখতে প্রাকৃতিক বা দেশি মনে হওয়ায় অনেক ভোক্তা একে বেশি পুষ্টিকর মনে করেন। বাস্তবে একই ওজন ও একই খাদ্যব্যবস্থার ডিম হলে বাদামি ও সাদা ডিমের পুষ্টিগত পার্থক্য খুবই সামান্য বা গুরুত্বহীন।

বাদামি ডিমের দাম অনেক ক্ষেত্রে বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো, বাদামি ডিম দেওয়া অনেক জাতের মুরগি আকারে বড় এবং তুলনামূলক বেশি খাদ্য খায়। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ডিমের দামও বাড়তে পারে। বেশি দাম মানেই বেশি পুষ্টি নয়।

দেশি মুরগির ডিম কি বেশি পুষ্টিকর?

দেশি মুরগির ডিম সাধারণত আকারে ছোট হলেও কুসুমের অনুপাত তুলনামূলক বেশি মনে হতে পারে। একটি বড় বাণিজ্যিক ডিমের তুলনায় একটি ছোট দেশি ডিমে মোট প্রোটিন ও শক্তি কমও হতে পারে, কারণ ডিমটির মোট ওজন কম।

তবে দেশি মুরগি যদি মাঠে ঘুরে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, শাকপাতা, বীজ ও প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণ করে, তাহলে তার ডিমের কিছু ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যারোটিনয়েড বা ভিটামিনে পার্থক্য হতে পারে। কিন্তু সব দেশি ডিম সব বাণিজ্যিক ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর—এমন সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়।

তুলনা করতে হলে একই ওজনের ডিম এবং মুরগির খাদ্য ও পালনব্যবস্থার তথ্য বিবেচনা করতে হবে।

ডিমের কুসুমের রং কেন ভিন্ন হয়?

খোসার রং ও কুসুমের রং দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। কুসুম হালকা হলুদ, গাঢ় হলুদ বা কমলা হওয়ার প্রধান কারণ হলো মুরগির খাদ্যে উপস্থিত ক্যারোটিনয়েড ও জ্যান্থোফিল রঞ্জক

ভুট্টা, গাঁদাফুলের নির্যাস, সবুজ ঘাস, লুসার্ন, কিছু শাকপাতা এবং নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক বা অনুমোদিত খাদ্য উপাদান কুসুমকে গাঢ় করতে পারে। গম বা কম রঞ্জকযুক্ত খাদ্য বেশি দিলে কুসুম তুলনামূলক হালকা হয়।

গাঢ় কমলা কুসুম মানেই ডিমে সব পুষ্টি অনেক বেশি—এ ধারণাও ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ বেশি হতে পারে, কিন্তু শুধু চোখে দেখা রং দিয়ে প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ওমেগা-৩ বা অন্যান্য পুষ্টি নিশ্চিত করা যায় না।

কোন কারণে ডিমের পুষ্টিমান সত্যিই পরিবর্তিত হয়?

মুরগির খাদ্য

মুরগির খাদ্যে তিসি, মাছের তেল বা ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ উপাদান যোগ করলে ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বাড়ানো সম্ভব। একইভাবে খাদ্য ও আলোর মাধ্যমে ভিটামিন ডি এবং নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি বাড়ানো যায়। এটি খোসার রঙের কারণে নয়, খাদ্য ব্যবস্থাপনার ফল।

ডিমের আকার

বড় ডিমে সাধারণত মোট সাদা অংশ, কুসুম, প্রোটিন, চর্বি ও শক্তির পরিমাণ ছোট ডিমের তুলনায় বেশি থাকে। তাই দুটি ডিম তুলনা করার সময় শুধু রং নয়, ওজনও দেখতে হবে।

মুরগির জাত ও বয়স

জাতভেদে ডিমের আকার, সাদা অংশ ও কুসুমের অনুপাত এবং কিছু পুষ্টি উপাদানে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে মুরগি সাধারণত বড় ডিম দেয়।

পালনব্যবস্থা ও সূর্যালোক

বাইরে বিচরণকারী মুরগি সূর্যালোক ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যের সুযোগ পেলে কিছু ক্ষেত্রে ডিমের ভিটামিন ডি ও ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রায় পার্থক্য হতে পারে। তবে শুধু “ফ্রি-রেঞ্জ” লেখা থাকলেই প্রতিটি ডিম নিশ্চিতভাবে বেশি পুষ্টিকর হবে—এমন নয়।

ডিমের সতেজতা

সতেজতা সাধারণত মোট প্রোটিনের পরিমাণ দ্রুত বদলে দেয় না, কিন্তু ডিমের সাদা অংশের ঘনত্ব, কুসুমের দৃঢ়তা, স্বাদ ও রান্নার গুণমানকে প্রভাবিত করে। সময়ের সঙ্গে ডিমের ভেতর থেকে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড বেরিয়ে যায় এবং বাতাসের থলি বড় হয়।

খোসা গাঢ় হলে কি বেশি শক্ত হয়?

সব ক্ষেত্রে নয়। খোসার শক্তি প্রধানত নির্ভর করে—

  • খোসায় জমা ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ও গঠন
  • মুরগির বয়স
  • ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি গ্রহণ
  • অতিরিক্ত গরম
  • রোগ ও মানসিক চাপ
  • ডিম জরায়ুতে অবস্থানের সময়
  • মুরগির জাত ও বংশগত বৈশিষ্ট্য

গাঢ় বাদামি ডিম কখনো শক্ত হতে পারে, আবার সাদা ডিমও অত্যন্ত শক্ত খোসার হতে পারে। তাই শুধু রং দেখে খোসার শক্তি নির্ধারণ করা যায় না।

ডিম কেনার সময় কী দেখবেন?

খোসার রঙের চেয়ে নিচের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ—

১. ডিমে ফাটল আছে কি না।
২. খোসা পরিষ্কার ও শুকনা কি না।
৩. দুর্গন্ধ বা পচনের লক্ষণ আছে কি না।
৪. উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ।
৫. যথাযথ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না।
৬. বিক্রেতা ও উৎপাদনকারীর নির্ভরযোগ্যতা।
৭. পুষ্টিসমৃদ্ধ বিশেষ ডিম হলে তার লেবেল ও দাবির প্রমাণ।
৮. ডিমের আকার ও ওজন।

ফাটা, অতিরিক্ত ময়লা বা দুর্গন্ধযুক্ত ডিম গ্রহণ না করাই নিরাপদ। কাঁচা বা আধাসেদ্ধ ডিমে জীবাণুঝুঁকি থাকতে পারে; শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম ব্যক্তিদের ভালোভাবে রান্না করা ডিম খাওয়া উচিত।

প্রচলিত ধারণা ও বৈজ্ঞানিক সত্য

প্রচলিত ধারণাবৈজ্ঞানিক সত্য
বাদামি ডিম বেশি পুষ্টিকরশুধু বাদামি রঙের কারণে পুষ্টি বাড়ে না
সাদা ডিম কৃত্রিমএটি মুরগির জাতগত বৈশিষ্ট্য
নীল ডিমে ঔষধি গুণ আছেরং মূলত বিলিভারডিন ও বংশগত বৈশিষ্ট্যের ফল
গাঢ় কুসুম মানেই সব পুষ্টি বেশিকুসুমের রং প্রধানত খাদ্যের রঞ্জকের ওপর নির্ভরশীল
দেশি ডিম সব সময় বেশি পুষ্টিকরআকার, খাদ্য ও পালনব্যবস্থা বিবেচনা না করে বলা যায় না
দামি ডিম মানেই বেশি পুষ্টিউৎপাদন খরচ, জাত, ব্র্যান্ড ও বাজারও দাম নির্ধারণ করে
গাঢ় খোসা মানেই শক্ত খোসাখোসার শক্তি ক্যালসিয়াম, বয়স, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে

খামারিদের জন্য করণীয়

একই জাতের মুরগির ডিমের রং হঠাৎ হালকা হয়ে গেলে বা খোসা বিকৃত হলে শুধু রঙের বাজারমূল্য নিয়ে চিন্তা না করে মূল কারণ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। খামারিকে দেখতে হবে—

  • মুরগির খাদ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি ঠিক আছে কি না
  • পানির মান ও প্রাপ্যতা যথেষ্ট কি না
  • শেডে অতিরিক্ত তাপ বা ঘনবসতি রয়েছে কি না
  • ইনফেকশাস ব্রঙ্কাইটিসসহ কোনো রোগের লক্ষণ আছে কি না
  • মুরগি ভয়, শব্দ বা স্থানান্তরজনিত চাপে আছে কি না
  • লেয়ার মুরগির বয়স ও উৎপাদনের পর্যায়
  • খাদ্যে ছত্রাক বা পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা আছে কি না

খোসার রঙের পরিবর্তনের সঙ্গে ডিমের উৎপাদন কমা, পাতলা খোসা, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বিকৃত ডিম দেখা দিলে দ্রুত পোলট্রি চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শেষ কথা

মুরগির ডিমের সাদা, বাদামি, নীল, সবুজ কিংবা ছোপযুক্ত রং প্রকৃতির স্বাভাবিক বৈচিত্র্য। এই রং প্রধানত মুরগির জাত, বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং খোসায় প্রোটোপোরফাইরিন ও বিলিভারডিনের মতো প্রাকৃতিক রঞ্জক জমার কারণে তৈরি হয়।

খোসার রং ডিমের পুষ্টিমানের নির্ভরযোগ্য নির্দেশক নয়। একই আকার, খাদ্য ও ব্যবস্থাপনার সাদা, বাদামি বা নীল ডিমে পুষ্টিগত পার্থক্য সাধারণত খুবই সামান্য। পুষ্টিমান বিচার করতে হলে মুরগির খাদ্য, ডিমের আকার, উৎপাদনপদ্ধতি, সতেজতা এবং বিশেষ পুষ্টি সংযোজনের তথ্য দেখতে হবে।

অতএব, শুধু বাদামি, দেশি বা গাঢ় রঙের বলে বেশি দাম দিয়ে ডিম কেনার আগে উৎপাদনের উৎস ও পুষ্টির দাবি যাচাই করা প্রয়োজন। ডিমের রঙের চেয়ে এর নিরাপত্তা, সতেজতা, সঠিক সংরক্ষণ এবং উৎপাদনকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ - ছাগল পালন