ভারতের সবচেয়ে বড় ও উল্লেখযোগ্য ১০টি পোলট্রি ফার্ম, হ্যাচারি ও কোম্পানি।।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, উদ্যোক্তা, ব্রিডার-হ্যাচারি, ফিড, চুক্তিভিত্তিক খামার, প্রক্রিয়াজাত মাংস, সাফল্য ও বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা।।
ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিম ও পোলট্রি মাংস উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির পোলট্রি শিল্পের বড় শক্তি হলো—ব্রিডার ও হ্যাচারি থেকে খাদ্য, ওষুধ, চুক্তিভিত্তিক ব্রয়লার উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত মাংস, খুচরা বিক্রয় এবং গবেষণা পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিয়ে আসা।
তবে “ভারতের সবচেয়ে বড় ১০টি পোলট্রি কোম্পানি” নির্ধারণের কোনো একক সরকারি তালিকা নেই। অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং সবাই একই বছরের আয়, ব্রিডার সংখ্যা, হ্যাচিং সক্ষমতা, দৈনিক খাদ্য উৎপাদন কিংবা বার্ষিক ব্রয়লার উৎপাদন প্রকাশ করে না। তাই এই তালিকা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবসার পরিমাণ, ব্রিডার ও হ্যাচারি সক্ষমতা, খাদ্য উৎপাদন, চুক্তিবদ্ধ খামারির সংখ্যা, বিভিন্ন রাজ্যে কার্যক্রম, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ড এবং প্রকাশিত আর্থিক তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে।
এক নজরে নির্বাচিত ১০ প্রতিষ্ঠান
| অবস্থান | প্রতিষ্ঠান | প্রধান কার্যালয় | প্রতিষ্ঠা | প্রধান শক্তি |
|---|---|---|---|---|
| ১ | সুগুনা ফুডস | কোয়েম্বাটুর, তামিলনাড়ু | ১৯৮৪ | ভারতের বৃহত্তম ব্রয়লার ইন্টিগ্রেটর |
| ২ | আইবি গ্রুপ | রাজনন্দগাঁও, ছত্তিশগড় | ১৯৮৫ | বৃহৎ পোলট্রি, খাদ্য ও হ্যাচারি নেটওয়ার্ক |
| ৩ | ভিএইচ গ্রুপ–ভেঙ্কিস | পুনে, মহারাষ্ট্র | ১৯৭১ | ব্রিডিং, জেনেটিকস, হ্যাচারি ও প্রাণিস্বাস্থ্য |
| ৪ | স্নেহা গ্রুপ | হায়দরাবাদকেন্দ্রিক | ১৯৯০-এর দশক | দক্ষিণ ভারতের বৃহৎ সমন্বিত পোলট্রি প্রতিষ্ঠান |
| ৫ | শ্রীনিবাসা ফার্মস | হায়দরাবাদ, তেলেঙ্গানা | ১৯৬৫ | ব্রিডার, হ্যাচারি ও পোলট্রি প্রজনন |
| ৬ | স্কাইলার্ক গ্রুপ | জিন্দ, হরিয়ানা | ১৯৮৫ | উত্তর ভারতের বৃহৎ ব্রয়লার ও হ্যাচারি নেটওয়ার্ক |
| ৭ | সিপি ইন্ডিয়া | ভারতীয় কার্যক্রম—১৯৯০-এর দশক | ১৯৯০-এর দশক | আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও সম্পূর্ণ সমন্বিত উৎপাদন |
| ৮ | গোদরেজ ফুডস/গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট | মুম্বাই, মহারাষ্ট্র | যৌথ উদ্যোগ ২০০৮ | ব্র্যান্ডেড ও প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংস |
| ৯ | শান্তি ফিডস | কোয়েম্বাটুর, তামিলনাড়ু | ১৯৮৮ | ফিড, ব্রিডার, হ্যাচারি ও চুক্তিভিত্তিক ব্রয়লার |
| ১০ | সিমরান ফার্মস | ইন্দোর, মধ্যপ্রদেশ | ১৯৮০-এর দশক | মধ্য ও পশ্চিম ভারতে চুক্তিভিত্তিক পোলট্রি |
১. সুগুনা ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড
ভারতের সবচেয়ে বড় সমন্বিত ব্রয়লার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুগুনা ফুডসের নাম সর্বাগ্রে আসে। ১৯৮৪ সালে তামিলনাড়ুর উদুমালপেটে দুই ভাই—বি. সুন্দররাজন ও জি.বি. সুন্দররাজন—মাত্র অল্পসংখ্যক মুরগি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় কোয়েম্বাটুরে স্থাপিত হয়।
সুগুনার সবচেয়ে বড় সাফল্য চুক্তিভিত্তিক পোলট্রি উৎপাদনের কার্যকর মডেল তৈরি করা। কোম্পানি খামারিকে বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধ, টিকা, কারিগরি পরামর্শ ও বাজারসুবিধা দেয়। খামারি জমি, শেড, শ্রম, বিদ্যুৎ ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা দেন। নির্ধারিত সময় শেষে কোম্পানি মুরগি সংগ্রহ করে এবং উৎপাদন দক্ষতার ভিত্তিতে খামারিকে পারিশ্রমিক দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বর্তমানে তাদের বার্ষিক টার্নওভার ৯,৩৮০ কোটি রুপির বেশি। ভারতের ১৮টি রাজ্যের ১৫ হাজারের বেশি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি খামারি তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ব্রয়লার ও ব্রিডার খামার, আধুনিক হ্যাচারি, খাদ্য কারখানা, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, পোলট্রি স্বাস্থ্যপণ্য ও পুষ্টি উপকরণ—সবই তাদের সমন্বিত ব্যবস্থার অংশ। সুগুনা চিকেন, ডেলফ্রেজ, মাদার্স ডিলাইট ও সুগুনা ফিডস তাদের পরিচিত ব্র্যান্ড। সুগুনা ফুডসের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য
কেন প্রথম: বৃহৎ ব্রয়লার উৎপাদন, দেশব্যাপী চুক্তিবদ্ধ খামারি, টার্নওভার, হ্যাচারি, খাদ্য, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং শক্তিশালী বাজারব্যবস্থার সম্মিলিত বিচারে সুগুনাকে প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে।
২. আইবি গ্রুপ
১৯৮৫ সালে ছত্তিশগড়ের রাজনন্দগাঁও অঞ্চলে বাহাদুর আলীর উদ্যোগে আইবি গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়। ছোট পোলট্রি ব্যবসা থেকে প্রতিষ্ঠানটি এখন ভারতের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত পোলট্রি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। পোলট্রি, ব্রয়লার ও লেয়ার ব্রিডিং, হ্যাচারি, পশু ও মাছের খাদ্য, সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোজ্যতেল এবং প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংস প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত।
কোম্পানির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আইবি গ্রুপের সামগ্রিক টার্নওভার প্রায় ১৬ হাজার কোটি রুপি। তাদের রয়েছে ১০টি খাদ্য কারখানা, বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা, ২০টি ব্রিডার খামার, ২৭টি হ্যাচারি এবং ৩০ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক ব্রয়লার খামার। বিভিন্ন সময়ে তাদের পোলট্রি ইন্টিগ্রেশন কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ হাজারের বেশি খামারি উপকৃত হয়েছেন। উত্তর প্রদেশের আমেঠিতে ১৬০ কোটি রুপি বিনিয়োগে স্থাপিত একটি ইউনিটে দৈনিক ৬০০ টন পোলট্রি খাদ্য এবং তিন লাখ ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনের ঘোষিত সক্ষমতা রয়েছে। আইবি গ্রুপ, আমেঠি ফিড মিল ও হ্যাচারি
তাদের “পরিবর্তন” কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত শেড, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে খামারিদের আধুনিক উৎপাদনে যুক্ত করা হচ্ছে।
কেন দ্বিতীয়: সামগ্রিক টার্নওভার সুগুনার চেয়েও বড় হলেও আইবি গ্রুপের আয় পোলট্রির পাশাপাশি মাছের খাদ্য, সয়াবিন ও ভোজ্যতেল থেকেও আসে। বিশুদ্ধ ব্রয়লার উৎপাদন ও দেশব্যাপী পরিচিতিতে সুগুনাকে এগিয়ে রেখে আইবি গ্রুপকে দ্বিতীয় করা হয়েছে।
৩. ভেঙ্কটেশ্বরা হ্যাচারিজ বা ভিএইচ গ্রুপ–ভেঙ্কিস
ভারতের আধুনিক পোলট্রি প্রজনন, হ্যাচারি এবং পোলট্রি স্বাস্থ্যশিল্পের ইতিহাসে ভেঙ্কটেশ্বরা হ্যাচারিজ বা ভিএইচ গ্রুপের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. বি.ভি. রাওয়ের উদ্যোগে ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে পুনেভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি “ভেঙ্কিস” নামে বেশি পরিচিত।
ভিএইচ গ্রুপের কার্যক্রম শুধু ব্রয়লার উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। গ্র্যান্ডপ্যারেন্ট ও প্যারেন্ট স্টক, ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চা, নির্দিষ্ট রোগজীবাণুমুক্ত বা SPF ডিম, পোলট্রি ভ্যাকসিন, ওষুধ, রোগ নির্ণয়, খাদ্য ও পুষ্টি, ডিমের গুঁড়া, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং জেনেটিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটির বিস্তৃত কার্যক্রম রয়েছে। ভারতের পোলট্রি শিল্পকে বৈজ্ঞানিক ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে ড. বি.ভি. রাওকে অনেকেই ভারতের আধুনিক পোলট্রি শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করেন।
গ্রুপের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান Venky’s (India) Limited-এর ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল প্রায় ১১৬.৬২ কোটি রুপি। প্রতিষ্ঠানটি বাচ্চা, ব্রয়লার, পোলট্রি স্বাস্থ্যপণ্য ও খাদ্য উপকরণ বিক্রি করে। ভেঙ্কিসের বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০২৬ সালের ক্রেডিট রেটিং প্রতিবেদন
কেন তৃতীয়: হ্যাচারি, প্রজনন, ভ্যাকসিন, SPF ডিম এবং পোলট্রি গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী নামগুলোর একটি। তবে ব্রয়লার ইন্টিগ্রেশনের সামগ্রিক পরিমাণে সুগুনা ও আইবি গ্রুপকে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
৪. স্নেহা গ্রুপ
দক্ষিণ ভারতের বৃহৎ সমন্বিত পোলট্রি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্নেহা গ্রুপ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হায়দরাবাদকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যক্রম তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে বিস্তৃত। স্নেহা ফার্মস প্রাইভেট লিমিটেড ১৯৯০-এর দশকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং পরে ব্রিডার খামার থেকে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলে।
প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে প্যারেন্ট স্টক খামার, হ্যাচারি, খাদ্য কারখানা, ব্রয়লার ও লেয়ার খামার, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, সয়াবিন ও রাইস ব্র্যান প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আধুনিক মুরগির মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা। “স্নেহা ফ্রেশ চিকেন” দক্ষিণ ভারতের পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব খাদ্য ও কারিগরি তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে বাচ্চা থেকে বাজারজাত মুরগি পর্যন্ত মান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
২০২৫ সালের একটি ক্রেডিট রেটিং প্রতিবেদনে স্নেহা ফার্মসের সামগ্রিক আয় প্রায় দুই হাজার কোটি রুপির কাছাকাছি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রযুক্তির একক পর্যায়ের ইনকিউবেটর ও উন্নত হ্যাচারি সম্প্রসারণেও বিনিয়োগ করছে। স্নেহা গ্রুপ, স্নেহা ফার্মসের রেটিং প্রতিবেদন
কেন চতুর্থ: দক্ষিণ ভারতে বড় উৎপাদনভিত্তি, নিজস্ব খাদ্য, হ্যাচারি, চুক্তিভিত্তিক খামার, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শক্তিশালী খুচরা ব্র্যান্ড থাকার কারণে স্নেহা গ্রুপকে চতুর্থ স্থানে রাখা হয়েছে।
৫. শ্রীনিবাসা ফার্মস
১৯৬৫ সালে সি. জগপতি রাও হায়দরাবাদে বাণিজ্যিক পোলট্রি পালন ও প্রজনন কার্যক্রম শুরু করেন। সেই উদ্যোগই পরে শ্রীনিবাসা ফার্মসে রূপ নেয়। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি ভারতের পোলট্রি ব্রিডিং ও হ্যাচারি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শ্রীনিবাসা ফার্মসের প্রধান শক্তি হলো উন্নত ব্রিডার ও মানসম্মত একদিন বয়সী বাচ্চা উৎপাদন। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পোলট্রি প্রজনন, হ্যাচারি, ব্রয়লার ইন্টিগ্রেশন, খাদ্য উৎপাদন, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং খুচরা খাদ্য বিপণন। তাদের কার্যক্রম ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও অসংখ্য খামারির সঙ্গে যুক্ত।
কোম্পানিটি “ফার্ম থেকে ভোক্তা” পর্যন্ত একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলছে। এই ব্যবস্থায় প্যারেন্ট স্টকের স্বাস্থ্য, হ্যাচিং ডিমের মান, বাচ্চার রোগপ্রতিরোধ, সুষম খাদ্য এবং খামার পর্যায়ের কারিগরি ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শ্রীনিবাসা ফার্মস
কেন পঞ্চম: ইতিহাস, প্রজনন দক্ষতা, হ্যাচারির গ্রহণযোগ্যতা এবং ভারতজুড়ে কার্যক্রমের কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পাঁচটির মধ্যে রয়েছে। তবে সুগুনা, আইবি ও স্নেহার মতো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় শ্রীনিবাসার সাম্প্রতিক উৎপাদন ও আর্থিক পরিসংখ্যান কম প্রকাশিত।
৬. স্কাইলার্ক গ্রুপ
১৯৮৫ সালে হরিয়ানার জিন্দ জেলায় জগবীর সিং ধুল ও জসবীর সিং দেশওয়াল মাত্র এক হাজার ব্রয়লার ব্রিডার দিয়ে স্কাইলার্ক হ্যাচারিজ শুরু করেন। পরে এটি উত্তর ভারতের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত পোলট্রি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
স্কাইলার্কের কার্যক্রমের মধ্যে গ্র্যান্ডপ্যারেন্ট ও প্যারেন্ট স্টক, ব্রিডার খামার, হ্যাচারি, পোলট্রি খাদ্য, চুক্তিভিত্তিক ব্রয়লার, যান্ত্রিক বাণিজ্যিক খামার, প্রক্রিয়াজাত মাংস, রোগ নির্ণয় এবং পোলট্রি যন্ত্রপাতি রয়েছে। তাদের “Nutrich” নামে খাদ্য ও পোলট্রি পণ্য বাজারজাত হয়।
প্রকাশিত পুরোনো শিল্পতথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ১৪টি ব্রিডিং ফার্ম, আটটি হ্যাচারি এবং পাঁচটি খাদ্য কারখানা ছিল। মাসে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি বাচ্চা ফোটানো এবং দৈনিক ২,৪০০ টন খাদ্য উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতার তথ্যও পাওয়া যায়। তবে এগুলো ২০১৫ সালের তথ্য; বর্তমান সক্ষমতা এর চেয়ে পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে। ২০২৫ সালের ক্রিসিল প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির সূচনা, প্রতিষ্ঠাতা এবং বৃহৎ সমন্বিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্কাইলার্ক গ্রুপ, ক্রিসিল রেটিং প্রতিবেদন
কেন ষষ্ঠ: উত্তর ভারতে ব্রিডার, হ্যাচারি, খাদ্য ও ব্রয়লার উৎপাদনে স্কাইলার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে সাম্প্রতিক সমন্বিত আয় ও উৎপাদনসংখ্যা সীমিতভাবে প্রকাশিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ষষ্ঠ স্থানে রাখা হয়েছে।
৭. চ্যারোয়েন পকফ্যান্ড ইন্ডিয়া—সিপি ইন্ডিয়া
সিপি ইন্ডিয়া থাইল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক চ্যারোয়েন পকফ্যান্ড বা সিপি গ্রুপের ভারতীয় প্রতিষ্ঠান। ১৯৯০-এর দশকে ভারতে তাদের আধুনিক পোলট্রি কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি, উন্নত ব্রিড, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের সমন্বয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করছে।
সিপির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে পোলট্রি খাদ্য, ব্রিডার ও বাচ্চা, চুক্তিভিত্তিক ব্রয়লার, মুরগির মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, জলজ প্রাণীর খাদ্য এবং প্রস্তুত খাবার রয়েছে। বেঙ্গালুরু, চিত্তুর, হায়দরাবাদ, আহমেদনগর ও কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম রয়েছে। “Five Star Chicken” ব্র্যান্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রক্রিয়াজাত ও প্রস্তুত মুরগির খাবার সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
সিপির চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থায় খামারিকে বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হয়। এতে খামারির বাজারঝুঁকি কিছুটা কমে, যদিও উৎপাদন চুক্তির শর্ত, পারিশ্রমিক ও কোম্পানির ওপর নির্ভরতা নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। সিপি গ্রুপের আন্তর্জাতিক ব্যবসা খাদ্য উৎপাদন থেকে প্রাণী পালন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ সমন্বিত। সিপি গ্রুপের ব্যবসা
কেন সপ্তম: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি, খাদ্য ও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালী। কিন্তু শুধু ভারতীয় পোলট্রি কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান প্রকাশিত না থাকায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরে রাখা হয়েছে।
৮. গোদরেজ ফুডস লিমিটেড—সাবেক গোদরেজ টাইসন ফুডস
গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট ও যুক্তরাষ্ট্রের টাইসন ফুডসের যৌথ উদ্যোগে ২০০৮ সালে Godrej Tyson Foods গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে এর নাম ও মালিকানা কাঠামোয় পরিবর্তন এসে প্রতিষ্ঠানটি গোদরেজ ফুডস হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ভারতের প্রক্রিয়াজাত ও ব্র্যান্ডেড মুরগির মাংসের বাজারে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
“Real Good Chicken” ব্র্যান্ডে পরিষ্কার ও প্যাকেটজাত তাজা মুরগির মাংস এবং “Yummiez” ব্র্যান্ডে নাগেট, সসেজ, কাবাব ও বিভিন্ন প্রস্তুত বা আধা-প্রস্তুত খাবার বাজারজাত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দশটি আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা রয়েছে বলে গোদরেজ জানিয়েছে।
২০২২–২৩ অর্থবছরে গোদরেজ টাইসন ফুডস প্রথমবারের মতো এক হাজার কোটি রুপির বেশি আয় অতিক্রম করে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির ব্র্যান্ডেড পণ্যের অংশ প্রায় ৮১ শতাংশে উন্নীত এবং পোলট্রি ব্যবসার পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বাড়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গোদরেজের ফুডস ব্যবসা, ২০২৫–২৬ তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন
কেন অষ্টম: প্রক্রিয়াজাত ও মূল্য সংযোজিত মুরগির পণ্যে প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষ পর্যায়ে। কিন্তু নিজস্ব হ্যাচারি ও বৃহৎ চুক্তিভিত্তিক জীবন্ত ব্রয়লার উৎপাদনের তুলনায় এর মূল শক্তি ব্র্যান্ডেড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার—তাই অষ্টম স্থান।
৯. শান্তি ফিডস প্রাইভেট লিমিটেড
১৯৮৮ সালে আর. লক্ষ্মণনের উদ্যোগে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে শান্তি ফিডসের যাত্রা শুরু হয়। এটি দক্ষিণ ভারতের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত পোলট্রি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। খাদ্য উৎপাদন দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে ব্রিডার খামার, হ্যাচারি, চুক্তিভিত্তিক ব্রয়লার, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং শক্তি উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তার লাভ করে।
২০২২ সালের ক্রেডিট রেটিং তথ্য অনুযায়ী, শান্তি ফিডসের মালিকানায় সাড়ে চার লাখের বেশি প্যারেন্ট বাচ্চা ও পূর্ণবয়স্ক পাখি ছিল। তাদের দৈনিক ৪৪০ টন ম্যাশ ফিড এবং ১,৬০০ টন পেলেট ফিড উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ছিল। কোম্পানির ১৭টি বায়ুবিদ্যুৎ ইউনিট সম্মিলিতভাবে ১৫.৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা তাদের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ করে।
পাপ্পামপট্টির একটি আধুনিক হ্যাচারির প্রথম ধাপে বছরে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ডিম সেট ও বাচ্চা ফোটানোর সক্ষমতা তৈরি করা হয়। এখানে একক পর্যায়ের ইনকিউবেশন, স্বয়ংক্রিয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। শান্তি হ্যাচারিজ, ক্রেডিট রেটিং তথ্য
কেন নবম: দক্ষিণ ভারতে খাদ্য, ব্রিডার, হ্যাচারি ও ব্রয়লার উৎপাদনে বড় প্রতিষ্ঠান হলেও এর কার্যক্রম সুগুনার মতো সর্বভারতীয় নয়। এজন্য নবম স্থানে রাখা হয়েছে।
১০. সিমরান ফার্মস লিমিটেড
ইন্দোরভিত্তিক সিমরান ফার্মস মধ্য ও পশ্চিম ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য তালিকাভুক্ত পোলট্রি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ব্রিডার, হ্যাচারি, নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন এবং চুক্তিভিত্তিক ব্রয়লার পালনের সঙ্গে যুক্ত।
সিমরানের হ্যাচারি ও চুক্তিভিত্তিক খামার মধ্যপ্রদেশের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, গুজরাট, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব ও জম্মু অঞ্চলে বিস্তৃত। কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ খামারিদের বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধ ও কারিগরি সহায়তা দেয় এবং উৎপাদিত ব্রয়লার বাজারজাত করে।
পুরোনো রেটিং তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৮৫ লাখ বাণিজ্যিক ব্রয়লার এবং তিন লাখ প্যারেন্ট পাখি ধারণের সম্মিলিত সক্ষমতা ছিল। সাম্প্রতিক আর্থিক তথ্যসূত্রে কোম্পানির বার্ষিক আয় প্রায় ৮৮৪ কোটি রুপির কাছাকাছি দেখা যায়। তবে পোলট্রি বাজারের মূল্য ওঠানামা, খাদ্য উপকরণের দাম এবং তুলনামূলক কম মুনাফার মার্জিন প্রতিষ্ঠানটির বড় চ্যালেঞ্জ। সিমরান ফার্মস, সিমরানের আর্থিক তথ্য
কেন দশম: বহু রাজ্যে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, ব্রিডার, হ্যাচারি ও নিজস্ব খাদ্য উৎপাদনের কারণে সিমরান প্রথম দশে স্থান পেয়েছে। তবে টার্নওভার ও উৎপাদন পরিসরে ওপরের প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় এটি ছোট।
ভারতের পোলট্রি শিল্পের সাফল্যের প্রধান কারণ
সম্পূর্ণ সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা
বড় ভারতীয় কোম্পানিগুলো শুধু মুরগি পালন করে না। তারা ব্রিডার, হ্যাচিং ডিম, বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধ, টিকা, খামার ব্যবস্থাপনা, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ—পুরো শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ করে। এতে উৎপাদন খরচ, রোগ এবং বাজারঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
চুক্তিভিত্তিক খামার
সুগুনা, আইবি, সিপি, স্কাইলার্ক, শান্তি ও সিমরানের মতো প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার ছোট ও মাঝারি খামারিকে তাদের উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে কোম্পানিকে সব জমি ও শেড নিজে নির্মাণ করতে হয়নি; আবার খামারিও তুলনামূলক নিশ্চিত বাজার পেয়েছেন।
খাদ্য ও বাচ্চার ওপর নিয়ন্ত্রণ
ব্রয়লার উৎপাদন খরচের সবচেয়ে বড় অংশ খাদ্য। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব খাদ্য কারখানা ও ব্রিডার-হ্যাচারি গড়ে তোলায় খাদ্যের মান, বাচ্চার স্বাস্থ্য এবং উৎপাদনের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত ও ব্র্যান্ডেড পণ্য
শুধু জীবন্ত মুরগির ওপর নির্ভর না করে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার মাংস, নির্দিষ্ট কাট, নাগেট, সসেজ, কাবাব ও রান্নার উপযোগী পণ্য তৈরি করেছে। এতে একদিকে মূল্য সংযোজন হয়, অন্যদিকে বাজারে জীবন্ত মুরগির দাম কমলেও প্রক্রিয়াজাত পণ্য থেকে আয় ধরে রাখা যায়।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা
ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—পোলট্রি শিল্পের উন্নয়ন শুধু বড় খামার নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না। মানসম্পন্ন বাচ্চা, সুষম খাদ্য, রোগ নির্ণয়, জৈবনিরাপত্তা, প্রশিক্ষিত খামারি, ন্যায্য চুক্তি, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নিশ্চিত বাজারকে একসঙ্গে গড়ে তুলতে হয়।
তবে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন সম্প্রসারণের আগে খামারির পারিশ্রমিক, মুরগি মারা যাওয়ার দায়, খাদ্যের মান, উৎপাদন সূচক, চুক্তি বাতিল এবং পাওনা পরিশোধের বিষয়গুলো লিখিত ও আইনগতভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। বড় কোম্পানির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ছোট খামারির স্বার্থ রক্ষা না হলে সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
গবেষণার চূড়ান্ত মূল্যায়ন
ভারতের বৃহৎ পোলট্রি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের মূল রহস্য বিশাল শেড কিংবা লাখ লাখ মুরগি নয়; বরং ব্রিডার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি নিয়ন্ত্রিত ও সমন্বিত ব্যবস্থা তৈরি করা। সুগুনা চুক্তিভিত্তিক ব্রয়লার উৎপাদনে, আইবি গ্রুপ বৃহৎ অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে, ভেঙ্কিস প্রজনন ও প্রাণিস্বাস্থ্যে এবং গোদরেজ প্রক্রিয়াজাত পণ্যে পৃথক শক্তি তৈরি করেছে।
বাংলাদেশকে ভারতের অনুকরণে শুধু বড় কোম্পানি তৈরির দিকে না গিয়ে খামারির ন্যায্য আয়, মানসম্পন্ন বাচ্চা ও খাদ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা, নিরাপদ মাংস এবং মূল্য সংযোজিত পণ্যের সমন্বিত শিল্পনীতি গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যসূত্র
১. Suguna Foods—প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, টার্নওভার ও চুক্তিবদ্ধ খামারি।
২. IB Group India—হ্যাচারি, ব্রিডার খামার, ফিড মিল ও টার্নওভার।
৩. Venky’s (India) Limited—বার্ষিক প্রতিবেদন ও পোলট্রি কার্যক্রম।
৪. Sneha Group ও ICRA—হ্যাচারি, ফিড, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আর্থিক তথ্য।
৫. Srinivasa Farms—প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও সমন্বিত কার্যক্রম।
৬. Skylark Group ও CRISIL Ratings—ব্রিডার, হ্যাচারি ও ফিড উৎপাদন।
৭. Charoen Pokphand Group—সিপি ইন্ডিয়ার সমন্বিত কৃষি ও খাদ্য ব্যবসা।
৮. Godrej Agrovet—গোদরেজ ফুডসের বার্ষিক ও প্রান্তিক প্রতিবেদন।
৯. Shanthi Hatcheries ও CARE Ratings—হ্যাচারি, প্যারেন্ট স্টক ও ফিড সক্ষমতা।
১০. Simran Farms—বার্ষিক প্রতিবেদন, হ্যাচারি ও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন।
তথ্য হালনাগাদ: আগস্ট ২০২৬। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সব তথ্য একই বছরের না হওয়ায় তালিকার ক্রম আনুমানিক।






















