RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Sunday , 25 October 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

বাংলাদেশে গুয়াতেমালা ঘাস চাষ: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, চাষপদ্ধতি, রোগবালাই ও ব্যবস্থাপনা।।

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
September 6, 2026 11:03 am

বাংলাদেশে গুয়াতেমালা ঘাস চাষ: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, চাষপদ্ধতি, রোগবালাই ও ব্যবস্থাপনা।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

বাংলাদেশে গবাদিপশু পালনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সারা বছর মানসম্মত সবুজ ঘাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম, বন্যা ও অতিবৃষ্টির সময় খামারিদের ঘাসের সংকটে পড়তে হয়। এ কারণে নেপিয়ার, পাকচং, জার্মান, ভুট্টা, পারা ও সরগম-সুদান ঘাসের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে গুয়াতেমালা ঘাস নিয়ে খামারিদের আগ্রহ বেড়েছে।

গুয়াতেমালা ঘাস দ্রুত বিস্তারকারী বীজের ঘাস নয়; এটি মূলত মোটা কাণ্ড, প্রশস্ত পাতা ও শক্তিশালী গোছাবিশিষ্ট একটি বহুবর্ষজীবী কাটিং-নির্ভর ঘাস। সঠিক জমি, পানি নিষ্কাশন, সার প্রয়োগ এবং কাটার বয়স ঠিক রাখা গেলে এটি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার জন্য নিয়মিত সবুজ খাদ্যের উৎস হতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘাসের ফলন, প্রোটিন ও দুধ বাড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত অনেক দাবির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।


গুয়াতেমালা ঘাসের পরিচয়

সাধারণ নাম: Guatemala grass, Guatemalan gamagrass
প্রচলিত বাংলা নাম: গুয়াতেমালা ঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম: Tripsacum andersonii J. R. Gray
পুরোনো ও বহুল ব্যবহৃত নাম: Tripsacum laxum Nash
পরিবার: Poaceae বা ঘাস পরিবার

বৈজ্ঞানিক নাম নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। পুরোনো গবেষণায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে Tripsacum laxum লেখা হলেও আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে Guatemala grass-এর জন্য Tripsacum andersonii নামটি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার কোনো কোনো উদ্ভিদতাত্ত্বিক উৎস এ দুটিকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে চারা কেনার সময় শুধু “গুয়াতেমালা”, “আমেরিকান গুয়াতেমালা” বা “৫জি গুয়াতেমালা” নামের ওপর নির্ভর না করে উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য ও উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। Feedipedia


উৎপত্তি ও বিশ্বব্যাপী বিস্তার

গুয়াতেমালা ঘাসের আদি নিবাস মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চল। পরবর্তীকালে এটি আফ্রিকা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে পশুখাদ্য, সাইলেজ, মাটিক্ষয় নিয়ন্ত্রণ ও মাল্চ তৈরির জন্য ছড়িয়ে পড়ে। পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া ও তানজানিয়ার ক্ষুদ্র ডেইরি খামারিদের মধ্যে ১৯৭০-এর দশক থেকে উচ্চ উৎপাদনশীল কাটিং ঘাস হিসেবে এটি সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো কোনো অঞ্চলে পাতার রোগ, ধীর প্রতিষ্ঠা এবং ঘন ঘন কাটার পর দুর্বল পুনর্বৃদ্ধির কারণে কৃষকের গ্রহণযোগ্যতা মিশ্র ছিল। Feedipedia


বাংলাদেশে গুয়াতেমালা ঘাস চাষের ইতিহাস

বাংলাদেশে গুয়াতেমালা ঘাস ঠিক কোন সালে, কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির মাধ্যমে প্রথম আনা হয়েছিল—এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি বা গবেষণাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ দলিল এখনো সহজলভ্য নয়। সুতরাং নির্দিষ্ট সাল বা ব্যক্তির নামকে “বাংলাদেশে প্রথম প্রবর্তক” হিসেবে উল্লেখ করা দায়িত্বশীল হবে না। তবে যেসব তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলো থেকে কয়েকটি বিষয় বোঝা যায়—

  • বাংলাদেশের চা-আবাদে গুয়াতেমালা ঘাস মাল্চ হিসেবে ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ এটি দেশে একেবারে নতুন উদ্ভিদ নয়।
  • সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেইরি ও গরু মোটাতাজাকরণ খামারিদের মধ্যে কাটিং-নির্ভর পশুখাদ্য হিসেবে এর প্রচার বেড়েছে।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নার্সারি ব্যবসায়ীরা কখনো “আমেরিকান গুয়াতেমালা”, “হাইব্রিড গুয়াতেমালা” বা “৫জি গুয়াতেমালা” নামে চারা বিক্রি করছেন।
  • এসব বাণিজ্যিক নামের অধিকাংশের জন্য বাংলাদেশে স্বীকৃত জাত-নিবন্ধন, তুলনামূলক ফলন পরীক্ষা কিংবা নির্ভরযোগ্য পুষ্টি বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়নি।

বাংলাদেশের কৃষি তথ্যসেবার চা চাষবিষয়ক নির্দেশনায় গুয়াতেমালা ঘাসকে চা-বাগানের মাল্চ হিসেবে ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু এটি দেশে প্রবেশের সময়কাল নির্দেশ করে না। কৃষি তথ্য সার্ভিস

অতএব বাংলাদেশের ইতিহাসকে বর্তমানে এভাবে বলা অধিক যুক্তিসংগত: গুয়াতেমালা ঘাস বাংলাদেশে আগে থেকেই সীমিতভাবে মাল্চ ও পশুখাদ্য হিসেবে পরিচিত ছিল; সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খামার, নার্সারি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক চাষ ও প্রচার বেড়েছে। তবে দেশে এর প্রথম আগমন ও সম্প্রসারণের নির্ভরযোগ্য কালানুক্রমিক ইতিহাস এখনো নথিভুক্ত হয়নি।


উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য

১. বহুবর্ষজীবী ঘাস

একবার ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে গোড়া ও রাইজোম থেকে বারবার নতুন কুশি বের হয়। উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় একই জমি থেকে কয়েক বছর ঘাস সংগ্রহ করা সম্ভব।

২. বড় ও শক্তিশালী গাছ

গাছ সাধারণত বড় গোছা তৈরি করে। অনুকূল পরিবেশে কাণ্ড প্রায় ৩.৫–৪.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে পশুকে খাওয়ানোর জন্য এত বেশি বয়স পর্যন্ত রাখা উচিত নয়।

৩. প্রশস্ত ও লম্বা পাতা

পাতা প্রায় ৪০–১২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং প্রায় ৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত প্রশস্ত হতে পারে। কচি অবস্থায় পাতা সবুজ, নরম ও পশুর কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য।

৪. শক্ত রাইজোম ও গোছা

গাছের গোড়া ধীরে ধীরে বড় হয় এবং ঘন গোছা তৈরি করে। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণহীন রাখলে গোছা কয়েক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে জমি পরিষ্কার করা কঠিন হতে পারে।

৫. বীজের পরিবর্তে কাটিং

এর ফুল বা বীজ সাধারণত বন্ধ্যা কিংবা অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতাহীন। তাই ৩–৫টি গিঁটযুক্ত কাণ্ডের কাটিং, শিকড়যুক্ত কাণ্ড অথবা গোড়া ভাগ করে বংশবিস্তার করা হয়। Tropical Forages

৬. পানি জমা সহ্য করে না

ভালো আর্দ্রতা পছন্দ করলেও জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা সহ্য করতে পারে না। উঁচু ও পানি নিষ্কাশনযোগ্য জমি সবচেয়ে উপযোগী।

৭. শুষ্কতায় সীমিত সহনশীলতা

স্বল্প সময়ের খরা সহ্য করতে পারে, কিন্তু এর শিকড় তুলনামূলক অগভীর। দীর্ঘ খরায় সেচ না দিলে বৃদ্ধি ও পুনর্বৃদ্ধি কমে যায়।


আবহাওয়া ও মাটি

গুয়াতেমালা ঘাসের জন্য উপযোগী পরিবেশ হলো—

  • তাপমাত্রা: প্রায় ১৮–৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • ভূমির উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ মিটার পর্যন্ত
  • মাটি: বেলে-দোআঁশ থেকে এঁটেল-দোআঁশ
  • মাটির অবস্থা: আর্দ্র কিন্তু পানি নিষ্কাশনযোগ্য
  • আলো: খোলা রোদে ভালো; সীমিত ছায়াও সহ্য করতে পারে
  • মাটির অম্লতা: তুলনামূলক অম্লীয় মাটিতে টিকে থাকতে পারে

বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলের তাপমাত্রা এ ঘাসের উপযোগী। তবে নিচু জমি, হাওর, দীর্ঘদিন প্লাবিত জমি এবং ভারী এঁটেল মাটিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়া চাষ ঝুঁকিপূর্ণ।


চাষের সময়

বাংলাদেশে চারা লাগানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়—

  • ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল: সেচের ব্যবস্থা থাকলে
  • এপ্রিল–জুন: প্রাক্‌-বর্ষা ও বর্ষার শুরুতে সবচেয়ে সুবিধাজনক
  • সেপ্টেম্বর–অক্টোবর: অতিবৃষ্টি শেষ হওয়ার পর, যদি মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে

প্রবল বর্ষার মধ্যে নিচু জমিতে কাটিং লাগালে পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।


জমি নির্বাচন ও প্রস্তুতি

১. উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে।
২. জমিতে পানি জমে থাকলে নালা তৈরি করতে হবে।
৩. ৩–৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হবে।
৪. আগাছা, পুরোনো শিকড় ও শক্ত ঢেলা সরিয়ে ফেলতে হবে।
৫. শেষ চাষের সময় ভালোভাবে পচা গোবর বা কম্পোস্ট মাটির সঙ্গে মেশাতে হবে।
৬. ভারী মাটিতে সমতলভাবে না লাগিয়ে উঁচু বেড বা সারিতে লাগানো ভালো।


কাটিং বা চারা নির্বাচন

  • রোগমুক্ত, পরিচিত উৎসের পরিণত গাছ থেকে কাটিং নিতে হবে।
  • কাণ্ডে অন্তত ৩–৫টি জীবন্ত গিঁট থাকা উচিত।
  • শুকনো, পচা, কালো দাগযুক্ত বা ছত্রাক আক্রান্ত কাটিং ব্যবহার করা যাবে না।
  • সম্ভব হলে গোড়াসহ শিকড়যুক্ত কুশি ব্যবহার করলে প্রতিষ্ঠা দ্রুত হয়।
  • কাটিং সংগ্রহের পর রোদে ফেলে না রেখে ভেজা চট বা ছায়ায় রাখতে হবে।

বাজারে “বীজ” নামে বিক্রি হওয়া পণ্য যাচাই করা জরুরি, কারণ স্বীকৃত Guatemala grass সাধারণত জীবন্ত বীজের মাধ্যমে চাষ করা হয় না।


রোপণ পদ্ধতি

সারিবদ্ধভাবে রোপণ

সাধারণভাবে—

  • সারি থেকে সারি: প্রায় ১ মিটার
  • গাছ থেকে গাছ: প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার
  • আর্দ্র ও উর্বর জমিতে ব্যবধান কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে।

গবেষণাভিত্তিক আন্তর্জাতিক নির্দেশনায় ০.৫ × ১ মিটার ব্যবধান এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় ৮০০–৩,০০০ কেজি কাণ্ড বা রাইজোমজাত রোপণসামগ্রীর উল্লেখ রয়েছে। Tropical Forages

কাটিং বসানো

  • কাটিং কাত করে বা আড়াআড়িভাবে নালায় বসানো যায়।
  • ২টি গিঁট মাটির নিচে এবং অন্তত ১টি গিঁট মাটির ওপরে রাখতে হবে।
  • খুব গভীরে পুঁতলে পচে যেতে পারে।
  • লাগানোর পর মাটি চেপে দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা

গুয়াতেমালা ঘাস বেশি জৈবভর উৎপাদন করে বলে প্রতিবার কাটার সঙ্গে জমি থেকে প্রচুর নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশ বের হয়ে যায়। তাই শুধু প্রথমবার সার দিলেই চলবে না। সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো উপজেলা কৃষি অফিস বা পরীক্ষাগারে মাটি পরীক্ষা করে সার নির্ধারণ করা। সাধারণ ব্যবস্থাপনার নীতি—

  • জমি তৈরির সময় পর্যাপ্ত পচা গোবর বা কম্পোস্ট
  • রোপণের সময় মাটির প্রয়োজন অনুসারে ফসফরাস ও পটাশ
  • গাছ প্রতিষ্ঠার পর ভাগ করে নাইট্রোজেন
  • প্রতিবার কাটার পরে হালকা সেচের সঙ্গে পরবর্তী কিস্তির সার
  • সম্ভব হলে গোবরের স্লারি বা ভালোভাবে পচানো জৈবসার ব্যবহার

মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োগ করলে গাছ বাহ্যিকভাবে দ্রুত বড় হলেও কাণ্ড নরম হতে পারে, রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং পশুখাদ্যে নাইট্রেট জমার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। অনুমান করে সার না দিয়ে স্থানীয় মাটির উর্বরতা অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।


সেচ ও পানি নিষ্কাশন

  • কাটিং লাগানোর পর হালকা সেচ দিতে হবে।
  • গাছ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত মাটি আর্দ্র রাখতে হবে।
  • শুষ্ক মৌসুমে মাটি ও আবহাওয়া অনুযায়ী সেচ দিতে হবে।
  • প্রতিবার কাটার পর সার প্রয়োগ করলে সেচ প্রয়োজন।
  • বর্ষায় জমির চারপাশে এবং সারির মাঝখানে নালা রাখতে হবে।
  • একটানা পানি জমে থাকলে শিকড় পচা ও গোড়া মরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

আগাছা নিয়ন্ত্রণ

রোপণের প্রথম দুই থেকে তিন মাস আগাছা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গুয়াতেমালা ঘাসের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠা নেপিয়ারের তুলনায় কিছুটা ধীর হতে পারে।

  • রোপণের ২০–৩০ দিনের মধ্যে প্রথম নিড়ানি
  • প্রয়োজন অনুযায়ী দ্বিতীয় নিড়ানি
  • গাছ বড় হলে গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া
  • কাটা ঘাসের শুকনো অংশ মাল্চ হিসেবে ব্যবহার
  • আগাছানাশক ব্যবহার করার আগে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ

প্রথম ও পরবর্তী কাটাই

আন্তর্জাতিক নির্দেশনায় প্রথম কাটার জন্য গাছকে ৪–৬ মাস প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের উষ্ণ পরিবেশ ও ভালো ব্যবস্থাপনায় গাছ দ্রুত বাড়লেও কেবল উচ্চতা দেখে খুব আগে প্রথম কাট দেওয়া ঠিক নয়।

কাটার নিয়ম

  • প্রথম কাট: রোপণের প্রায় ৪–৬ মাস পর
  • পরবর্তী কাট: বর্ষায় আনুমানিক ৩০–৪৫ দিন এবং শুষ্ক মৌসুমে ৪২–৬০ দিন পর; বৃদ্ধি দেখে সময় সমন্বয় করতে হবে
  • আদর্শ উচ্চতা: প্রায় ১–১.২ মিটার অবস্থায় কাটা
  • মাটি থেকে কাটার উচ্চতা: কমপক্ষে ১০–২৫ সেন্টিমিটার
  • ধারালো দা বা যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে

একেবারে গোড়া ঘেঁষে কাটলে পুনর্বৃদ্ধির কুঁড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার অতিরিক্ত বয়সে কাটলে কাণ্ড শক্ত, আঁশযুক্ত এবং কম হজমযোগ্য হয়ে যায়। Feedipedia


সম্ভাব্য ফলন

আন্তর্জাতিক তথ্যে ব্যবস্থাপনা, মাটি ও আবহাওয়ার পার্থক্য অনুসারে বার্ষিক শুকনো পদার্থের ফলন সাধারণত প্রায় ১৮–৩০ টন/হেক্টর পাওয়া যেতে পারে। কোনো কোনো গবেষণায় এর চেয়ে কম বা বেশি ফলনও পাওয়া গেছে। Tropical Forages

এ সংখ্যাকে বাংলাদেশের প্রত্যেক জমির নিশ্চিত ফলন হিসেবে ধরা যাবে না। সবুজ ঘাসের ফলন আরও বেশি দেখালেও তার বড় অংশ পানি। বাংলাদেশে অঞ্চলভিত্তিক পরীক্ষার ফল ছাড়া প্রতি বিঘায় নির্দিষ্ট টন ফলনের নিশ্চয়তা দেওয়া বিভ্রান্তিকর।


পুষ্টিমান

গুয়াতেমালা ঘাসের পুষ্টিমান গাছের বয়স, পাতা-কাণ্ডের অনুপাত, সার, মাটি এবং কাটার সময়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।

Feedipedia-র সংকলিত গড় উপাত্ত অনুযায়ী তাজা ঘাসে—

পুষ্টি উপাদানগড় মান
শুকনো পদার্থতাজা ওজনের প্রায় ২২%
অপরিশোধিত প্রোটিনশুকনো পদার্থের প্রায় ৮.৮%
অপরিশোধিত আঁশপ্রায় ৩৭.৪%
NDFপ্রায় ৭২.৪%
ADFপ্রায় ৪৩.৫%
ক্যালসিয়ামপ্রায় ২ গ্রাম/কেজি শুকনো পদার্থ
ফসফরাসপ্রায় ২.১ গ্রাম/কেজি শুকনো পদার্থ

অতএব “গুয়াতেমালা ঘাসে অত্যন্ত বেশি প্রোটিন বা ক্যালসিয়াম রয়েছে”—এ ধরনের প্রচার সর্বক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। সংকলিত তথ্যে অপরিশোধিত প্রোটিনের সীমা প্রায় ৪.৩–১৫.৯ শতাংশ হলেও গড় মাত্রা ৮.৮ শতাংশ। পরিণত ঘাসে প্রোটিন ও হজমযোগ্যতা কমে এবং আঁশ বাড়ে। Feedipedia

২০২২ সালের একটি গবেষণায় ১২০ দিনের ঘাসে প্রোটিন ও হজমযোগ্যতা ১৮০ দিনের ঘাসের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ফলন বাড়লেও খাদ্যমান কমেছে। Tropical and Subtropical Agroecosystems


পশুকে খাওয়ানোর নিয়ম

গুয়াতেমালা ঘাস প্রধানত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার জন্য ব্যবহার করা যায়।

নিরাপদ ব্যবহারের নীতি

  • কচি ও মাঝারি বয়সের ঘাস কুচি করে দিন।
  • নতুন ঘাস প্রথম দিন থেকেই বেশি পরিমাণে দেবেন না।
  • ৭–১০ দিনে ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় যুক্ত করুন।
  • ভেজা বা শিশিরযুক্ত ঘাস একসঙ্গে অতিরিক্ত দেবেন না।
  • পচা, দুর্গন্ধযুক্ত, ছত্রাক পড়া বা কাদাযুক্ত ঘাস দেবেন না।
  • শুধু গুয়াতেমালা ঘাসের ওপর দুধাল গাভীর সম্পূর্ণ খাদ্য নির্ভর করা উচিত নয়।
  • খড়, অন্য ঘাস, ডালজাতীয় সবুজ খাদ্য, প্রয়োজনীয় কনসেনট্রেট ও খনিজ মিশ্রণ দিয়ে সুষম রেশন করতে হবে।
  • খাদ্য পরিবর্তনের সময় রুমেনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

এ ঘাস একা অনেক ক্ষেত্রে পশুর রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ের সম্পূর্ণ শক্তি ও প্রোটিনের চাহিদাও মেটাতে পারে না। তাই লিউসিনা, সেসবানিয়া বা অনুমোদিত ডালজাতীয় পশুখাদ্যের সঙ্গে ব্যবহার করলে খাদ্যের প্রোটিনমান উন্নত হতে পারে।


সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি

গুয়াতেমালা ঘাসে আর্দ্রতা বেশি এবং পানিতে দ্রবণীয় শর্করা তুলনামূলক কম। তাই সদ্য কাটা ভেজা ঘাস সরাসরি সাইলেজ করলে রস বের হওয়া, দুর্গন্ধ এবং দুর্বল ফারমেন্টেশনের ঝুঁকি থাকে।

করণীয়

১. কচি বা প্রায় ৮ সপ্তাহের পুনর্বর্ধিত ঘাস সংগ্রহ করুন।
২. পরিষ্কার জায়গায় কয়েক ঘণ্টা মেলে হালকা শুকিয়ে নিন।
৩. ২–৩ সেন্টিমিটার আকারে কুচি করুন।
৪. প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে উপযুক্ত শর্করার উৎস মেশান।
৫. সাইলো বা ড্রামে স্তরে স্তরে ভরে ভালোভাবে চাপ দিন।
৬. ভেতরের বাতাস যতটা সম্ভব বের করে সম্পূর্ণ বায়ুরোধী করুন।
৭. পানি প্রবেশ করতে দেবেন না।

সাইলেজ করার আগে ঘাস হালকা শুকিয়ে নিলে শুষ্ক পদার্থ বাড়ে এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ রসের অপচয় কমে। Feedipedia


রোগবালাই, পোকামাকড় ও চিকিৎসা

আন্তর্জাতিক forage database-এ গুয়াতেমালা ঘাসের বড় ধরনের নিয়মিত রোগ বা পোকামাকড় সাধারণত উল্লেখ করা হয়নি। তবে “কোনো রোগ হয় না”—এ কথাও সঠিক নয়। পরিবেশ, পরিচর্যা এবং স্থানীয় জীবাণুর কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। Tropical Forages

১. পাতায় দাগ বা ঝলসানো

লক্ষণ:

  • পাতায় বাদামি, ধূসর বা কালচে দাগ
  • দাগ ধীরে ধীরে বড় হওয়া
  • পাতার আগা থেকে শুকানো
  • আর্দ্র আবহাওয়ায় দ্রুত বিস্তার

সম্ভাব্য কারণ:

  • ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া
  • অতিরিক্ত ঘন রোপণ
  • পানি জমা
  • রোগযুক্ত কাটিং
  • অতিরিক্ত নাইট্রোজেন

ব্যবস্থাপনা:

  • আক্রান্ত পাতা ও গাছের অংশ কেটে জমির বাইরে নষ্ট করা
  • পানি নিষ্কাশন উন্নত করা
  • খুব ঘন গোছা পাতলা করা
  • কাটার যন্ত্র জীবাণুমুক্ত করা
  • আক্রান্ত জমির কাটিং অন্যত্র না নেওয়া
  • রোগ শনাক্ত না করে ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করা

পূর্ব আফ্রিকায় পাতার আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত শুকিয়ে গাছ মারা যাওয়ার একটি অশনাক্ত সমস্যার প্রতিবেদন রয়েছে; সেখানে আগে আর্মিওয়ার্ম বা কাণ্ডছিদ্রকারী পোকার আক্রমণও দেখা গিয়েছিল। রোগটির জীবাণু নিশ্চিত করা হয়নি। PestNet

২. গোড়া ও শিকড় পচা

লক্ষণ:

  • গাছ হঠাৎ হলুদ হওয়া
  • গোড়া নরম ও দুর্গন্ধযুক্ত
  • শিকড় কালচে বা পচা
  • কুশি সহজে উঠে আসা

প্রধান কারণ: জলাবদ্ধতা ও দূষিত রোপণসামগ্রী।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ:

  • নালা কেটে দ্রুত পানি বের করা
  • মারাত্মক আক্রান্ত গোছা তুলে নষ্ট করা
  • গর্তের মাটি খোলা রেখে শুকানো
  • সুস্থ ও শিকড়-পচামুক্ত কাটিং ব্যবহার
  • একই স্থানে আক্রান্ত কাটিং পুনরায় না লাগানো
  • পরীক্ষাগারে রোগ শনাক্ত হলে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া

৩. আর্মিওয়ার্ম ও পাতা খেকো শুঁয়োপোকা

লক্ষণ:

  • পাতার কিনারা বা মাঝখান থেকে খাওয়া
  • অল্প সময়ে পাতা প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া
  • রাতে পোকার উপস্থিতি বেশি
  • জমিতে মল ও শুঁয়োপোকা দেখা

সমন্বিত দমন:

  • নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ
  • ডিমের গুচ্ছ ও শুঁয়োপোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস
  • আলো বা ফেরোমন ফাঁদ, যেখানে উপযোগী
  • জমি ও চারপাশের আগাছা পরিষ্কার
  • প্রাথমিক অবস্থায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার
  • বড় আক্রমণে অনুমোদিত বালাইনাশক কেবল কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ব্যবহার

বালাইনাশক প্রয়োগের পর নির্ধারিত waiting period শেষ হওয়ার আগে ঘাস পশুকে খাওয়ানো যাবে না।

৪. কাণ্ডছিদ্রকারী পোকা

লক্ষণ:

  • কাণ্ডে ছোট ছিদ্র
  • ছিদ্রের পাশে গুঁড়ার মতো মল
  • মাঝের পাতা শুকিয়ে যাওয়া
  • কাণ্ড ভেঙে পড়া

ব্যবস্থাপনা:

  • আক্রান্ত কাণ্ড গোড়াসহ কেটে ধ্বংস
  • পুরোনো শুকনো কাণ্ড জমিতে না রাখা
  • সঠিক সময়ে কাটাই
  • একই পরিবারভুক্ত আক্রান্ত ভুট্টা বা ঘাসের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার
  • আক্রমণ নিশ্চিত হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে দমনব্যবস্থা নির্ধারণ

৫. উইপোকা ও কাটুই পোকা

নতুন লাগানো কাটিংয়ে সমস্যা করতে পারে।

করণীয়:

  • সম্পূর্ণ পচা গোবর ব্যবহার
  • কাটিংয়ের চারপাশ পরিষ্কার রাখা
  • সন্ধ্যায় জমি পর্যবেক্ষণ
  • কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত চারা পরিবর্তন
  • আক্রান্ত স্থান চিহ্নিত করে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা

৬. ইঁদুরের উপদ্রব

ঘন ও দীর্ঘদিন না-কাটা গুয়াতেমালা ঘাসের ঝোপে ইঁদুর আশ্রয় নিতে পারে।

প্রতিরোধ:

  • জমির সীমানা পরিষ্কার রাখা
  • সময়মতো কাটাই
  • পরিত্যক্ত গোছা ও শুকনো কাণ্ড সরানো
  • গর্ত শনাক্ত করে নিরাপদ সমন্বিত দমন
  • বিষটোপ ব্যবহার করলে পশু, শিশু ও পাখির নাগালের বাইরে রাখা

কিছু আন্তর্জাতিক উৎসে ঘন Guatemala grass-এর ঝোপে অন্য ঘাসের তুলনায় বেশি ইঁদুর আশ্রয় নেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। Feedipedia


রোগের “চিকিৎসা” সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

ঘাসের পাতায় দাগ দেখলেই ছত্রাকনাশক এবং পাতা কাটা দেখলেই কীটনাশক প্রয়োগ করা ঠিক নয়। একই লক্ষণ পুষ্টির ঘাটতি, খরা, জলাবদ্ধতা, সার পোড়া এবং রোগ—সব ক্ষেত্রেই হতে পারে।

সঠিক পদ্ধতি হলো—

১. আক্রান্ত গাছের পরিষ্কার ছবি ও নমুনা সংগ্রহ;
২. উপজেলা কৃষি অফিস বা উদ্ভিদ রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে শনাক্তকরণ;
৩. কেবল বাংলাদেশে নিবন্ধিত বালাইনাশক ব্যবহার;
৪. লেবেলের মাত্রা ও সুরক্ষা নির্দেশনা অনুসরণ;
৫. স্প্রের পর নির্ধারিত বিরতি না মেনে ঘাস না কাটা;
৬. বিষ প্রয়োগের তারিখ জমির পাশে লিখে রাখা।


সুবিধা

  • বহুবর্ষজীবী এবং গোড়া থেকে পুনরায় জন্মায়
  • অনুকূল পরিবেশে প্রচুর সবুজ জৈবভর উৎপাদন
  • কচি অবস্থায় পশুর কাছে গ্রহণযোগ্য
  • কাটিং ও বহন করে খাওয়ানোর উপযোগী
  • সাইলেজ করা যায়
  • অম্লীয় মাটিতে তুলনামূলক সহনশীল
  • জমির ঢাল ও আইলে মাটিক্ষয় কমাতে সাহায্য করে
  • মাল্চ ও জৈব পদার্থ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য
  • নেপিয়ার ঘাসের বিকল্প বা সম্পূরক উৎস হতে পারে

সীমাবদ্ধতা

  • জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না
  • দীর্ঘ খরায় উৎপাদন কমে
  • বীজের পরিবর্তে কাটিং বহন ও রোপণ শ্রমসাপেক্ষ
  • প্রাথমিক প্রতিষ্ঠা তুলনামূলক ধীর হতে পারে
  • বেশি বয়সে কাণ্ড শক্ত ও অত্যন্ত আঁশযুক্ত হয়
  • প্রোটিন সাধারণত খুব বেশি নয়
  • ঘন ঘন বা গোড়া ঘেঁষে কাটলে পুনর্বৃদ্ধি দুর্বল হয়
  • অব্যবস্থাপনায় বড় গোছা নিয়ন্ত্রণ কঠিন
  • ঘন ঝোপ ইঁদুরের আশ্রয়স্থল হতে পারে
  • বাংলাদেশের অঞ্চলভিত্তিক ফলন ও প্রাণীর উৎপাদন নিয়ে পর্যাপ্ত প্রকাশিত গবেষণা নেই

ড. বায়েজিদ মোড়লের পরামর্শ

১. প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করুন: একসঙ্গে কয়েক বিঘা জমিতে না লাগিয়ে ৫–১০ শতক জমিতে চাষ করে স্থানীয় ফলন, রোগ, পশুর গ্রহণযোগ্যতা ও খরচ যাচাই করুন।

২. ‘৫জি’ বা ‘সুপার হাইব্রিড’ নাম শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন না: বিক্রেতার কাছে স্বীকৃত জাতের নাম, মাতৃগাছের ছবি, উৎস এবং স্থানীয় ফলনের প্রমাণ চান।

৩. বীজ কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকুন: প্রকৃত গুয়াতেমালা ঘাস সাধারণত কাটিং, শিকড়যুক্ত কুশি বা রাইজোম দিয়ে বংশবিস্তার করে।

৪. পানি নিষ্কাশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন: বাংলাদেশের অতিবৃষ্টিপ্রবণ পরিবেশে সফলতা অনেকটাই নালার ওপর নির্ভর করবে।

৫. বেশি বড় হওয়ার অপেক্ষা করবেন না: বড় গাছ মানেই উন্নত পশুখাদ্য নয়। বয়স বাড়লে ফলন বাড়লেও প্রোটিন, হজমযোগ্যতা ও খাদ্যগ্রহণ কমতে পারে।

৬. একেবারে গোড়া থেকে কাটবেন না: ১০–২৫ সেন্টিমিটার অংশ রেখে কাটলে কুশি ও পুনর্বৃদ্ধি ভালো হয়।

৭. শুধু একটি ঘাসের ওপর নির্ভর করবেন না: গুয়াতেমালা ঘাসের পাশাপাশি নেপিয়ার-পাকচং, ভুট্টা, ডালজাতীয় সবুজ খাদ্য, খড় ও সাইলেজের পরিকল্পনা রাখুন।

৮. দুধাল গাভীর সুষম রেশন করুন: এ ঘাসকে উচ্চপ্রোটিন কনসেনট্রেটের বিকল্প মনে করা যাবে না। গাভীর ওজন, দুধ উৎপাদন ও গর্ভাবস্থা অনুযায়ী পুষ্টিবিদের সাহায্যে রেশন তৈরি করুন।

৯. চারা বিক্রেতার দাবির বদলে নমুনা পরীক্ষা করুন: প্রয়োজনে স্থানীয় পরীক্ষাগারে শুকনো পদার্থ, প্রোটিন, NDF, ADF, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পরীক্ষা করান।

১০. রোগ না চিনে ওষুধ নয়: ঘাস পশুর খাদ্য—তাই নির্বিচারে কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহারে দুধ ও মাংসে অবশিষ্টাংশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

১১. শুষ্ক মৌসুমের জন্য সাইলেজ করুন: বর্ষায় অতিরিক্ত ঘাস নষ্ট না করে হালকা শুকিয়ে, কুচি করে বায়ুরোধী সাইলেজ তৈরি করুন।

১২. খামারের হিসাব রাখুন: জমি প্রস্তুতি, কাটিং, শ্রম, সার, সেচ, প্রতিবারের সবুজ ও শুকনো ফলন এবং পশুর দুধ বা ওজনের পরিবর্তন লিখে রাখুন। হিসাব ছাড়া কোনো ঘাসকে “লাভজনক” বলা যায় না।


শেষ কথা

গুয়াতেমালা ঘাস বাংলাদেশের গবাদিপশুর সবুজ খাদ্যের ঘাটতি পূরণে একটি সম্ভাবনাময় সম্পূরক ঘাস। এটি বহুবর্ষজীবী, পাতাবহুল, কাটিংয়ের মাধ্যমে সহজে বিস্তারযোগ্য এবং ভালো ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য জৈবভর উৎপাদন করতে পারে। তবে এটি কোনো জাদুকরী “সুপার ঘাস” নয়। পরিণত অবস্থায় এর আঁশ বেড়ে যায়, গড় প্রোটিন মাঝারি থেকে কম এবং জলাবদ্ধতা ও ভুল কাটাইয়ে উৎপাদন কমে যেতে পারে।

তাই বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলে জাত-পরিচয় নিশ্চিতকরণ, তুলনামূলক ফলন পরীক্ষা, পুষ্টি বিশ্লেষণ, সাইলেজের মান এবং গরু-ছাগলের উৎপাদন প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, পরিচিত উৎসের চারা, সঠিক সময়ে কাটাই এবং সুষম রেশনে ব্যবহার করা হলে গুয়াতেমালা ঘাস খামারিদের সবুজ খাদ্য নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সংক্ষিপ্ত তথ্যসূত্র

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

প্যারাগন গ্রুপ এবং নোভোজেন ঢাকার বনানীর হোটেল শেরাটনে “লেয়ার ইন্ডাস্ট্রির জন্য নোভোজেনের সাম্প্রতিক উন্নয়ন” শীর্ষক একটি কারিগরি সেমিনারের আয়োজন করে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৫ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্স

আফ্রিকার উল্লেখযোগ্য গরুর জাত

খামারী মোফাজ্জল হোসেন বেদন নিজের ভাগ্যের নিজেই নিয়ামক

১৬ বছরেও রপ্তানিমুখী হয়নি ডেইরি ও গো-সম্পদ খাত: সুযোগ ছিল, সমন্বিত উদ্যোগ ছিল না

২০৫০ সালের বাংলাদেশের কৃষি কেমন হবে?

কুমিল্লায় বাড়ছে ভ্যাকসিন উৎপাদন, তিন বছরে লক্ষ্য এক কোটির বেশি ডোজ

আগামীতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে//মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

পরিবেশ মন্ত্রীর সঙ্গে সাউথ এশিয়া কো-অপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

রূপসায় আন্তর্জাতিক মানের মাছবাজার চাই: খুলনার সম্ভাবনায় দেশের সমৃদ্ধি