RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Monday , 14 September 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যা ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
September 13, 2026 7:36 pm

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যা ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর।।

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে একটি টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, শুধু বিপুলসংখ্যক চারা রোপণ করলেই প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না; প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা এবং টিকে থাকার হার নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সহায়ক টাস্কফোর্সের তৃতীয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এখন আর শুধু একটি মৌসুমি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। এটিকে দীর্ঘমেয়াদি, অংশগ্রহণমূলক এবং টেকসই সামাজিক উদ্যোগে পরিণত করতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া লক্ষ্য অর্জন কঠিন

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোন এলাকায় কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে, কারা সেই গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করবে এবং রোপিত চারার অগ্রগতি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা বিচ্ছিন্নভাবে বৃক্ষরোপণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। একই এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে চারা রোপণ, স্থানীয় পরিবেশের অনুপযোগী প্রজাতি নির্বাচন কিংবা রোপণের পর পরিচর্যার অভাবে অনেক চারা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে চারা উৎপাদন, সংগ্রহ, রোপণ, পরিচর্যা, তথ্য সংরক্ষণ এবং মূল্যায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, বৃক্ষরোপণের সাফল্য শুধু কতটি চারা লাগানো হয়েছে সেই সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। নির্দিষ্ট সময় পর কতটি গাছ জীবিত আছে, কতটি গাছ সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে এবং পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী কতটা উপকৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ও মূল্যায়নের আওতায় আনতে হবে।

২০২৬ সালে ৫ কোটি ১৪ লাখের বেশি চারা রোপণের পরিকল্পনা

সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালে সারা দেশে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থা নিজ নিজ পরিকল্পনা অনুযায়ী চারা রোপণ করছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্বভাবে উৎপাদিত চারা ব্যবহার করে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ চারা রোপণ করা হবে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি সংস্থা তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। এর বাইরে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করেছে।

তবে এসব চারার রোপণস্থল-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ স্থানিক তথ্য পাওয়া গেলে তা জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মূল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কতটি চারা রোপণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী—সে বিষয়ে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

ডিসেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ রোপণ

সভায় জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বরে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপকভাবে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ সালের নির্ধারিত বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনায়ন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা এবং নদী ও সমুদ্রের তীরভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় উপযুক্ত ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণ জলবায়ু অভিযোজন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দেশীয় প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ, পানির প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিবেশগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করতে হবে। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

তিনি বলেন, সব জায়গায় একই ধরনের গাছ রোপণ করা বাস্তবসম্মত নয়। উপকূলীয় অঞ্চল, বরেন্দ্র এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল, হাওর, চরাঞ্চল ও শহরের পরিবেশ এক নয়। তাই অঞ্চলভেদে বৈজ্ঞানিকভাবে উপযোগী প্রজাতি নির্বাচন করতে হবে।

দেশীয় গাছ সাধারণত স্থানীয় মাটি ও জলবায়ুর সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব গাছ স্থানীয় পাখি, পতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য ও আশ্রয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। ফলদ গাছ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও আয়ের সুযোগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে বনজ ও ঔষধি গাছ পরিবেশগত সুবিধার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফলও দিতে পারে।

সড়ক, রেলপথ, নদী ও বেড়িবাঁধের পাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশের উপযোগী জমিতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। তবে এসব স্থানে গাছ লাগানোর আগে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা, জনসাধারণের চলাচল, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় প্রতিবেশ বিবেচনা করতে হবে।

সড়ক ও রেলপথের পাশে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে এমন প্রজাতি নির্বাচন করা প্রয়োজন, যার শিকড় সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর ক্ষতি করবে না এবং ডালপালা যানবাহন বা ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করবে না। একইভাবে নদী ও বেড়িবাঁধের পাশে উপযুক্ত প্রজাতির গাছ রোপণ মাটিক্ষয় কমাতে এবং বাঁধ সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

রোপিত চারা যাতে গবাদিপ্রাণির বিচরণ, মানুষের অসচেতনতা, অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা অথবা খরার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

চার বছর পরিচর্যার পরিকল্পনা করতে হবে

সভায় বৃক্ষরোপণের পরবর্তী চার বছর প্রতিটি চারার পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিকল্পনা প্রস্তুত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য চার বছর মেয়াদি পরিচর্যা পরিকল্পনা তৈরি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চারা রোপণের পর প্রথম কয়েক বছর গাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে নিয়মিত পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ, গাছের গোড়ার মাটি ঠিক রাখা, রোগবালাই পর্যবেক্ষণ এবং বেড়া বা খুঁটির মাধ্যমে সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দুর্যোগ, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, অগ্নিকাণ্ড, রোগবালাই অথবা অন্য কোনো কারণে কোনো চারা নষ্ট হলে দ্রুত সেই স্থানে নতুন চারা রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিস্থাপন কার্যক্রম যথাসময়ে না হলে নির্ধারিত এলাকার সবুজায়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রোপিত চারার তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারি জরুরি

বৃহৎ পরিসরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজের গুরুত্বও সভায় উঠে আসে। কোথায়, কখন, কোন প্রজাতির এবং কতটি চারা রোপণ করা হয়েছে—এ-সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও হালনাগাদ করা হলে কর্মসূচির প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়ন সহজ হবে।

স্থানিক তথ্যের ভিত্তিতে ডাটাবেজ প্রস্তুত করা গেলে একই স্থানের তথ্য একাধিকবার গণনা হওয়ার ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম বৃক্ষরোপণ হয়েছে কিংবা রোপিত চারার মৃত্যুহার বেশি, সেসব এলাকায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

বৃক্ষরোপণের সংখ্যার পাশাপাশি চারা টিকে থাকার হার, গাছের বৃদ্ধি, প্রজাতিগত বৈচিত্র্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততাকে সাফল্য মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সামাজিক অংশগ্রহণই হতে পারে সাফল্যের ভিত্তি

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে মালিকানাবোধ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সরকারি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিল্পাঞ্চল, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষকে পরিচর্যার দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা গেলে চারার টিকে থাকার হার বাড়তে পারে।

বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় যুক্ত করা হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা বাড়বে। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, কৃষক, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণও কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদি রূপ দিতে পারে।

বৃক্ষরোপণকে উৎসব বা নির্দিষ্ট দিবসকেন্দ্রিক কার্যক্রম হিসেবে না দেখে বছরব্যাপী দায়িত্বশীল কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটি গাছ লাগানোর পর সেটি বড় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই বৃক্ষরোপণ প্রকৃত সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অংশগ্রহণ

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ এবং বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো. জামাইল বশীর জেবি, প্রকৌশলী শাহ আদনান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা।

গাছ লাগানোর সঙ্গে বাঁচানোর অঙ্গীকারও জরুরি

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, নদীভাঙন এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার মতো দুর্যোগ দেশের মানুষের জীবন, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

তবে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য অর্জন শুধু সংখ্যার সাফল্য হিসেবে দেখলে চলবে না। রোপিত চারাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত করা, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করা, শহর ও গ্রামের সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানো এবং জনগণের মধ্যে গাছের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এই কর্মসূচির প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া প্রয়োজন।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যেও তাই চারা রোপণের পাশাপাশি পরিচর্যা, সুরক্ষা, প্রতিস্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি দেশের পরিবেশ রক্ষায় একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।

সর্বশেষ - ছাগল পালন