অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য মোকাবিলায় ‘কাঠমান্ডু ঘোষণা’ গৃহীত।।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ অভিযান, আর্থিক তদন্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে একমত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো।।
কাঠমান্ডু, নেপাল, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দক্ষিণ এশিয়ায় অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘কাঠমান্ডু ঘোষণা’ গ্রহণ করেছে সাউথ এশিয়া ওয়াইল্ডলাইফ এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (SAWEN) সদস্য দেশগুলো।

শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত SAWEN-এর প্রথম সাধারণ পরিষদের সমাপনী দিনে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের প্রধানরা এ ঘোষণা গ্রহণ করেন। ঘোষণায় অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও দমনে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলার পাশাপাশি SAWEN-এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও নীতিমালার প্রতি সদস্য দেশগুলোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
কাঠমান্ডু ঘোষণাকে দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আর্থিক তদন্ত, অর্থপাচার প্রতিরোধ, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিচারিক সহযোগিতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী পণ্যের চাহিদা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধের ধরন ক্রমেই জটিল হচ্ছে
কাঠমান্ডু ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য এখন আর বিচ্ছিন্ন শিকার বা পাচারের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ক্রমেই জটিল আন্তঃদেশীয় ও সংগঠিত অপরাধে রূপ নিচ্ছে। এসব অপরাধের সঙ্গে দুর্নীতি, অবৈধ অর্থপ্রবাহ, ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার, সীমান্তের দুর্বলতা এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে।
অপরাধী চক্রগুলো দেশের সীমান্ত, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ই-কমার্স, পর্যটন এবং আর্থিক সেবার সুযোগ ব্যবহার করে বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীজাত পণ্য পাচার করছে। ফলে এই অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত আইন প্রয়োগ পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়।
সদস্য দেশগুলো মনে করে, একটি দেশে বন্যপ্রাণী শিকার বা সংগ্রহ করা হলেও তা একাধিক দেশ হয়ে অন্য কোনো দেশের বাজারে পৌঁছাতে পারে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে পারে। তাই একক কোনো দেশের বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা দিয়ে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
গোয়েন্দাভিত্তিক তদন্ত ও যৌথ অভিযান জোরদারের অঙ্গীকার
কাঠমান্ডু ঘোষণায় সদস্য দেশগুলো গুরুতর বন্যপ্রাণী অপরাধ, বিশেষ করে আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো মোকাবিলায় গোয়েন্দাভিত্তিক তদন্ত পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বন্যপ্রাণী বা বন্যপ্রাণীজাত পণ্য জব্দের পর শুধু বহনকারী কিংবা ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা, সংগ্রাহক, পরিবহনকারী, মধ্যস্থতাকারী এবং ক্রেতাদের শনাক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এ জন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সময়োপযোগী তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত নজরদারি, যৌথ তদন্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত আইন প্রয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি বিচার সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আন্তঃদেশীয় অপরাধের প্রমাণ, সাক্ষ্য, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়।
আর্থিক তদন্ত ও অর্থপাচারবিরোধী ব্যবস্থা
অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করার লক্ষ্যে গোয়েন্দা তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক তদন্তের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কাঠমান্ডু ঘোষণায়।
ঘোষণায় সদস্য দেশগুলো গুরুতর বন্যপ্রাণী অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় আইন অনুযায়ী সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধান, অপরাধলব্ধ সম্পদ শনাক্ত, অর্থপাচারবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ থেকে অর্জিত মুনাফা সংগঠিত অপরাধী চক্রের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে। ফলে শুধু পাচারকৃত প্রাণী উদ্ধার কিংবা সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করলেই অপরাধী নেটওয়ার্ক স্থায়ীভাবে ভেঙে দেওয়া কঠিন। তাদের ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক সংযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং অপরাধলব্ধ সম্পদ অনুসন্ধানের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণায় তুলে ধরা হয়।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান
কাঠমান্ডু ঘোষণায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং আঞ্চলিক জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত বন্যপ্রাণী বাণিজ্য শনাক্ত করতে সাইবার নজরদারি, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ভূ-স্থানিক প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে জব্দকৃত প্রাণী বা পণ্যের প্রজাতি, উৎসkahj ও পাচারের সম্ভাব্য পথ নির্ধারণে সদস্য দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াবে।
ঘোষণায় বন্যপ্রাণী অপরাধের পাশাপাশি বায়োপাইরেসি, জীবসম্পদে অবৈধ প্রবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য নতুন করে সৃষ্টি হওয়া হুমকি মোকাবিলায় গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
সম্মুখসারির কর্মীদের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী রেঞ্জার, কাস্টমস কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, প্রসিকিউটর এবং অন্যান্য সম্মুখসারির কর্মীদের দক্ষতা ও নিরাপত্তা জোরদারের অঙ্গীকার করেছে SAWEN-এর সদস্য দেশগুলো। ঘোষণায় বলা হয়, বন্যপ্রাণী অপরাধের কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অপরাধীরা নতুন পরিবহনপথ, প্রযুক্তি, ছদ্মপরিচয় এবং আর্থিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ বিনিময় এবং সফল তদন্ত ও আইন প্রয়োগের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে আঞ্চলিক সক্ষমতা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও ঘোষণায় দেওয়া হয়।
একা কোনো দেশের পক্ষে মোকাবিলা সম্ভব নয়: পরিবেশমন্ত্রী
SAWEN-এর প্রথম সাধারণ পরিষদের সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বন্যপ্রাণী অপরাধ এখন আর কোনো একক দেশের পক্ষে একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এই অপরাধ ক্রমেই সংগঠিত, আন্তঃসীমান্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, পাচারকারীরা যেমন জাতীয় সীমানা মানে না, তেমনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়াও শুধু নিজ নিজ দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। অপরাধী চক্রের আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্ক মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর তদন্ত ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রমও সমন্বিত হতে হবে।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, SAWEN-এর প্রথম সাধারণ পরিষদে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন অঙ্গীকারের যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক উদ্যোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বিশেষভাবে সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত, সমন্বিত অভিযান এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক বন্যপ্রাণী পাচার শনাক্তকরণ ও দমন এবং বন্যপ্রাণী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেন তদন্তে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
জনসচেতনতা ও চাহিদা কমানোর উদ্যোগ
শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা বিবেচনায় কাঠমান্ডু ঘোষণায় জনসচেতনতা, শিক্ষা ও আচরণগত পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অবৈধ বন্যপ্রাণী এবং বন্যপ্রাণীজাত পণ্যের চাহিদা কমাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, তরুণ, নারী এবং গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সদস্য দেশগুলো।
একই সঙ্গে যেসব খাত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বন্যপ্রাণী পাচারে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেসব বেসরকারি খাতকেও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন, লজিস্টিকস, আর্থিক সেবা, ই-কমার্স এবং পর্যটন খাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতের কর্মীরা সন্দেহজনক চালান শনাক্ত করতে পারলে পাচার প্রতিরোধ সহজ হতে পারে। একইভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতে এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অবৈধ বন্যপ্রাণীজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন ও বিক্রি বন্ধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতি বছর ৩০ জানুয়ারি পালিত হবে ‘SAWEN Day’
কাঠমান্ডু ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, এখন থেকে প্রতিবছর ৩০ জানুয়ারি ‘SAWEN Day’ হিসেবে পালন করা হবে। এই দিবস পালনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যপ্রাণী অপরাধের ভয়াবহতা, জীববৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব এবং অপরাধ দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দিবসটি উপলক্ষে সদস্য দেশগুলোতে আলোচনা সভা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক প্রচার, গণমাধ্যম কর্মসূচি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন করা হতে পারে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, তরুণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সীমান্তবর্তী অপরাধ দমনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা
ঘোষণায় সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিস্তৃত স্থল ও সামুদ্রিক সীমান্ত রয়েছে। বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীজাত পণ্য পাচারের ঝুঁকি থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কাস্টমস, পুলিশ এবং বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও চালান সম্পর্কে দ্রুত তথ্য বিনিময়, যৌথ ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পাচারকারী চক্রের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে সদস্য দেশগুলো মত দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ
কাঠমান্ডু ঘোষণায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং অবৈধ বাণিজ্য দমনের সঙ্গে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কনভেনশন, সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর আইন প্রয়োগ ও বিচারিক সক্ষমতা উন্নয়ন, বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।
তবে এই সহযোগিতাকে সদস্য দেশগুলোর জাতীয় অগ্রাধিকার এবং SAWEN-এর আঞ্চলিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়
SAWEN-এর প্রথম সাধারণ পরিষদে গৃহীত কাঠমান্ডু ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ায় অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারকে আরও সুসংহত করেছে। এই ঘোষণা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত, সীমান্ত নজরদারি, আর্থিক অনুসন্ধান, ডিজিটাল অপরাধ দমন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং ফৌজদারি বিচার সহযোগিতায় নতুন গতি আসতে পারে।
কাঠমান্ডু ঘোষণার সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত অঙ্গীকারগুলো কত দ্রুত বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া হয় তার ওপর। নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আস্থা, প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ের সংস্থাগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যপ্রাণী অপরাধী নেটওয়ার্ক দুর্বল করার ক্ষেত্রে এই ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।























