যেসব ব্যক্তিদের খামার করা উচিত এবং যেসব ব্যক্তিদের খামার করা উচিত নয় আজকে এ বিষয় নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরবো…![]()
বর্তমান সময়ে পুরাতন খামারীদের অবস্থা কঠিন হুমকির মুখে সেখানে নতুন খামারিরা তো বিলাসিতা মাত্র…….
ফার্ম করার শুরুতে’ই আমরা কিন্তু পই পই করে হিসাব করি…..
২৫/৩০ লাখ টাকা ইনভেস্ট করব, বছরে দানাদার খাবার মেডিসিন ও লেবার খরচ সহ ১০/১১ লাখ টাকা খরচ করব,
বছর শেষে ১০/১২ লক্ষ টাকা লাভ হবে।
এভাবে কিন্তু আমরা সবাই হিসাব করি। কিন্তু সেট নির্মাণ করা শুরু থেকে গরু ক্রয় করে ফার্মে তোলার আগেই কিন্তু আমাদের বড় একটা এমাউন্ট চলে যায়, সেই সাথে আমরা ধৈর্য হারা হয়ে যাই এবং মাথার মধ্যে সারাক্ষণ চিন্তা বাড়তেই থাকে।

এরপরে গরু ফার্মে তোলার সময় হাট বাজার থেকে গুরু ক্রয় করা অনেক কষ্ট এখানে চিটার বাটপারের অভাব নেই। এখান থেকে কিন্তু আমরা বড় বড় বাঁশ খেতে খেতে সামান্য কিছু শিখতে পারি।
গরু ফার্মে তোলার পর খাবার ম্যানেজমেন্ট, নিজস্ব ঘাসের জমি না থাকায় দানাদার খাবার কিনতে কিন্তু অতিষ্ঠ, এবং রাখালের দুর্ব্যবহার, গবাদি পশুর LSD ও FMD সহ বিভিন্ন রোগবালাই তো আছেই। এক বছর লালন পালন করার পর গরু বিক্রি করার সময় দেখবেন আপনার কোন প্রফিট নাই। উল্টো আরো ২-৪ লক্ষ টাকা লস হয়েছে।
সেজন্য বলতেছি যেসব ব্যক্তিদের খামার করা উচিত নয়:——
১. আপনি যদি কোন ভালো পজিশনে কর্মরত থাকেন হতে পারে সেটা কোম্পানির অথবা সরকারি কোন চাকুরি করেন তাহলে ভুলেও খামার করার চিন্তা ভাবনা করবেন না।
২. যদি আপনি প্রবাসী হন কিংবা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকেন। অনেকেই কিন্তু দীর্ঘদিন প্রবাসী থাকার ফলে তার আয় রোজগার অনেক বৃদ্ধি পায় এবং ভালো পজিশনে কর্মরত থাকে কিংবা কোন ব্যবসা-বাণিজ্য থাকে তাহলে সেই সমস্ত প্রবাসী ভাইদের বারতি টেনশন নেওয়া উচিত নয়।
৩. ধরুন আপনি লেখাপড়া শেষ করছেন কিন্তু এখনো বেকার তাই আপনার ইচ্ছা হচ্ছে ফার্ম করার কিন্তু আপনার কাজ করার কোন সামর্থ্য নাই। আপনি পশুপাখি অত্যন্ত ভালবাসেন কিন্তু আপনি কাজ করতে পারবেন না। এখানে শুধু ভালোবাসা দেখলে চলবে না। এই সেক্টরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক কাজকর্ম এবং পরিচর্যা করতে হয়।
৪. অনেকের ফ্যামিলিতে বাড়তি কোন লোক নেই ছোট ভাই অথবা বাবা কিংবা পরিবারের অন্যান্য লোকজন যার কারণে নিজেই সমস্ত কাজকর্ম এবং প্রাথমিক চিকিৎসা খাবার ম্যানেজমেন্ট সবকিছু নিজেকেই করতে হয় কিন্তু আপনার ফার্মের গরু ২০/২৫ টি তাহলে আপনার দাঁড়াও ফার্ম টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।
৫. অনেকে প্রবাসী থাকা অবস্থায় কিংবা বিভিন্ন কর্মরত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ইউটিউবে অথবা ফেসবুকে সফলতার গল্প দেখে ফার্ম করার প্রবল ইচ্ছা এবং আগ্রহ জাগে, তাই তারা শুধুমাত্র রাখালের উপর নির্ভর করে ফার্ম শুরু করে। কিন্তু এই সমস্ত লোকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৬. আবেগ দিয়ে নয় বিবেক দিয়ে কাজ করতে হবে তার জন্য খামার শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে কোথাও থেকে ট্রেনিং নিতে হবে অথবা পুরাতন খামারীদের সাথে দীর্ঘদিন পরামর্শ এবং বিভিন্ন খামার পরিদর্শন করতে হবে, তা না হলে আপনি এখান থেকে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
তাই বলতেছি এখন দেশে প্রতিদিন শত শত ফার্ম তৈরি হইতেছে এবং অনেক ফার্ম কিন্তু বন্ধ হইতেছে
এরকম ব্যবসায় রিক্স নিয়ে কোন লাভ হবে না যে ব্যবসার আপনার নূন্যতম ধারনা নেই।
#NEXT![]()
যেসব ব্যক্তিরা খামার করে অল্পতেই ভালো প্রফিট অর্জন করতে পারবে। তাদের বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো:–
১. যারা শুরুতেই ৫/১০ গরু দিয়ে শুরু করছেন। সারাদিন গরুর পিছনে অনেক শ্রম দিয়েছেন। গবাদি পশুর ভালো মন্দ বিচার করার এবং গরুর দিকে তাকালেই তার অনুভূতি বুঝতে পারেন ইনশাল্লাহ খেয়াল করুন আপনারা আসে পাশে তারা কিন্তু অল্পতেই ভালো একটা প্রফিট অর্জন করছে।
কারণ প্রতিদিন ফার্মে শ্রম দিলে যে জ্ঞান অর্জন হবে সেটা কিন্তু দীর্ঘদিন ট্রেনিং করার পরেও হবে না।
২. খামার টিকিয়ে রাখার জন্য ঘাসের কোন বিকল্প নাই। ঘাস হচ্ছে ফার্মের মেরুদন্ড, তাই যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘাস চাষ করে এবং যাদের নিজস্ব জমি আছে তাদের ফার্মে লাভবান হওয়ার আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।
৩. ধরুন আপনি প্রবাসে আছেন অথবা কোন জায়গায় কর্ম অবস্থায় আছেন, পাশাপাশি আপনার পরিবারের ছোট ভাই অথবা অন্যান্য লোকজন দিয়ে খামার পরিচালনা করতেছেন। এবং প্রতিমাসে সেখান থেকে আপনার কিছু খরচের টাকা এবং লেবার কস্টিং খরচ আপনার ওখান থেকে পরিবহন করতেছেন। তাহলে আপনার জন্য অনেক ভালো একটা দিক। এভাবে অন্য দিক থেকে সাপোর্ট দিলে ফার্মে সফল হওয়া চান্স বেড়ে যায়।
৪. আপনার কাজ করার সামর্থ্য আছে তাই আপনি ছোট আকারে শুরু করুন, নিজে যে কয়টা গুরু লালন পালন করার সামর্থ্য আছে সেই কয়েকটা লালন পালন করুন। ইনশাআল্লাহ বছর শেষে দশ টাকা প্রফিট হলেও সেটা শুধু আপনারই থাকবে।
৫. প্রাথমিক চিকিৎসা গুলো থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজকর্ম, এবং গবাদিপশু বেচাকেনা সবকিছু নিজেরই করতে হবে তাহলে এখানে ঠকে যাওয়ার কোন চান্স নাই।
আশা করি এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করলে আমরা সহজেই বুঝতে পারবো আমাদের কি করা উচিত। আমরা অনেকেই কিন্তু মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। আমাদের যদি সারা জীবন বসে খাওয়ার ওইরকম অর্থ থাকতো তাহলে কিন্তু আমরা এই Cattle সেক্টরে আসতাম না।
লেখাগুলো নিয়ে সবার মতামত আশা করছি, দোয়া এবং ভালোবাসা রইলো ভালো থাকুক সকল খামারীরা
শেয়ার করে অবশ্যই অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন
ধন্যবাদ সবাইকে…..
























