
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃষি প্রযুক্তির প্রদর্শনী ১৩তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মোল-২০২৫’ অনুষ্ঠিত: স্মার্ট এগ্রিকালচারে গুরুত্বারোপ

২০ নভেম্বর ২০২৫: বিগত ১৬ বছরের ধারাবাহিকতায় এবং আধুনিক কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ’বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃষি প্রযুক্তির প্রদর্শনী- ১৩তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৫।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া ও লিমরা ট্রেড ফেয়ার এন্ড এক্সিবিশনস লিঃ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক মেলাটি গত ২০ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ থেকে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা, জোয়ার সাহারা, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ২২ নভেম্বর পর্যন্ত চলে।

১৪টি দেশের ৪ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, তুরস্ক, জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন-এর কৃষিসংশ্লিষ্ট দেশীয় কোম্পানী, উদ্যোক্তা, গবেষক, প্রস্তুতকারক এবং আমদানিকারকদের চার শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তারা আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শন ও সম্প্রসারণে এগিয়ে এসেছেন। মেলায় রাইস মিল, ফিডমিল, অয়েলমিল, ফ্লাওয়ার মিল মেশিনারিজ, ফুড এন্ড বেভারেজ প্রসেসিং এন্ড প্যাকিং, পাওয়ারটিলার, ড্রায়ার, কুলার, চিলার এবং অত্যাধুনিক সাইলো সংক্রান্ত প্রযুক্তি বিশেষ ভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও অতিথিদের বক্তব্য
গত ২০ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মুনিমা হাফিজ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বাজেট)। বিশেষঅতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন HE Paulo Fernando Dias Feres, Ambassador of Brazil. Dhaka, Bangladesh; প্রফেসর ড. আব্দুররব, উপাচার্য, আইইউবিএটি-ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. এ. কে.এম অলি উল্যা, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি হলেও আর্থ-সামাজিক কারণে এখনও এর সকল স্তরে আধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তন আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি এবং খামার যান্ত্রিকী করণের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাতীয় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রচলিত সনাতন ধারার কৃষিপ্রযুক্তির পরির্বতনে এই মেলা খামার আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

স্মার্ট কৃষি ও ডিজিটাল রূপান্তরের ডাক
বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে কৃষির বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জগুলো এখন বহুমুখী: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, হ্রাসমান আবাদি জমি এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই প্রেক্ষাপটে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’বিনির্মাণে কৃষিপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল রূপান্তর (Digital Transformation) অপরিহার্য।”
তিনি কৃষিখাতকে প্রকৃতি নির্ভরতা কমিয়ে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার ওপর জোর দেন। এর জন্য তিনি IoT (Internet of Things) ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থাপনা, ড্রোন প্রযুক্তি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(AI) ব্যবহার, এবং ফসলোত্তর ক্ষতি হ্রাস করে পণ্যের মূল্য সংযোজন (Value Addition) এর মাধ্যমে কৃষি বাণিজ্যের প্রসার (Agribusiness) এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি সরকার, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের(Academia-Research-Industry) মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির আহ্বান জানান।






সেমিনার ও জ্ঞান বিনিময়
আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীর পাশাপাশি মেলায় ”Reimagining Bangladesh’s Agriculture: A Smart Transformation through Innovation” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ মঞ্জুরুল আলম।
এই মেলার মাধ্যমে কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট গবেষক, প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ও দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের কৃষিপ্রযুক্তি খাতকে সমৃদ্ধ করতে এবং কৃষক সমাজকে কৃষি আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণে উৎসাহিত করবে।
























