
একটি গাভীর সুষম খাদ্য তালিকা তার শারীরিক অবস্থা, ওজন, এবং দুধ উৎপাদনের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে, গাভীর খাদ্য তালিকায় শুকনো খড়, সবুজ ঘাস, দানাদার খাদ্য, এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি থাকা উচিত। এছাড়াও, কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার যোগ করা যেতে পারে।
একটি আদর্শ গাভীর খাদ্য তালিকা:
- শুকনো খড়:দৈনিক ৩-৪ কেজি শুকনো খড় সরবরাহ করতে হবে। খড় কাটার পর ১ রাত চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখলে পুষ্টিগুণ বাড়ে।
- সবুজ ঘাস:দেশী গাভীর জন্য ১০-১২ কেজি এবং সংকর জাতের গাভীর জন্য ১২-১৫ কেজি সবুজ ঘাস সরবরাহ করা উচিত। দুগ্ধবতী গাভীকে আরও ৫-৭ কেজি বেশি ঘাস দিতে হবে।
- দানাদার খাদ্য:দানাদার খাদ্য দুধ উৎপাদনের উপর ভিত্তি করে সরবরাহ করতে হবে। যেমন, প্রথম ৩ কেজি দুধ এবং শরীরের ক্ষয়পূরণের জন্য ৩ কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে। এরপর, প্রতি ৩ কেজি দুধ উৎপাদনের জন্য ১ কেজি করে দানাদার খাদ্য যোগ করতে হবে।
- পানি:গাভীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে হবে।
- অন্যান্য:গাভীকে ৪০-৫০ গ্রাম হাড়ের গুঁড়া এবং ১০০-১২০ গ্রাম খাদ্য লবণ সরবরাহ করা যেতে পারে, Palli Karma-Sahayak Foundation (PKSF)।
একটি উদাহরণ:
- যদি একটি গাভীর ওজন ২৫০-৩০০ কেজি হয় এবং সে দৈনিক ১৩ লিটার দুধ দেয়, তবে তাকে দৈনিক ৩-৪ কেজি শুকনো খড়, ৪-৭ কেজি দানাদার খাদ্য এবং ১৫-২০ কেজি সবুজ ঘাস সরবরাহ করতে হবে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংবাদ।
খাদ্য নির্বাচনে সতর্কতা:
- খাদ্য যেন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- খাদ্যে যেন কোনো প্রকার ময়লা, কাঁকর, পাথর বা দুর্গন্ধ না থাকে।
বিশেষ টিপস:
- দানাদার খাদ্য তৈরীর জন্য গম, ভুট্টা, চাল, গমের ভূষি, খৈল ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।
- দানাদার খাদ্যের সাথে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান যোগ করা যেতে পারে।
- গাভীকে ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করার জন্য ভিটামিন ও খনিজ মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
























