প্রাণিসম্পদের টিকায় শতভাগ দেশীয় উৎপাদনের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর।।
আমদানিনির্ভরতা কমাতে গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব।।

সাভার (ঢাকা), ২৯ অক্টোবর ২০২৬: প্রাণিসম্পদ খাতের টিকার সম্পূর্ণ চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, টিকা উৎপাদনে শতভাগ সক্ষমতা অর্জন করা গেলে দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও গুরুত্ব পায়।
গবেষণার ফল উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে পৌঁছানোর আহ্বান
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণালব্ধ ফলাফল উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে হবে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রত্যেককে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও আইন মেনে পরিচালিত হবে এবং প্রত্যেকে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারবেন—এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে ধারণ করে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদা পূরণের পর প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ইতিমধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক গবেষণায় গুরুত্ব
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণ, প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিজমির অপচয় না করে বিকল্প জমি ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী বিএলআরআইয়ের ক্যাটল ও ভেড়া গবেষণা খামার এবং সাভারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার পরিদর্শন করেন।
সূত্র: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।






















