জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আসছে নতুন ধানের জাত: হাওরের জন্য ব্রি ধান-১১৮, আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাত।।
গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে জোর; কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানি, ল্যান্ডিং স্টেশন ও প্রাণিসম্পদে ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের ঘোষণা।।
নিজস্ব প্রতিবেদক | AgricultureNews24.com
কুমিল্লা | ১ আগস্ট ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদনের ওপর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। জলবায়ু সহনশীল নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমেই হাওর অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান-১১৮ অবমুক্ত করা হবে। শীত সহনশীল এই ধানের জাত আগাম রোপণ ও আগাম কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে পারবেন এবং হাওর অঞ্চলের ফসলহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
শনিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী বছর আসছে লবণাক্ততা সহনশীল নতুন ধান
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল আরও একটি নতুন ধানের জাত অবমুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনা
মাছ রপ্তানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রপ্তানির নতুন পথ উন্মুক্ত হলে দেশের মৎস্যখাতের উদ্যোক্তা ও চাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
কুমিল্লায় হতে পারে আধুনিক মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন
মৎস্য বিপণন অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, কুমিল্লা অঞ্চলে আধুনিক মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তা সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা হবে। উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভোক্তারা সাধারণত মিঠাপানির মাছ টাটকা অবস্থায় কিনতে পছন্দ করেন। তাই আধুনিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশেই বাড়বে প্রাণিসম্পদের ভ্যাকসিন উৎপাদন
প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও দেশে অধিক পরিসরে উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
খাল পুনঃখনন চলবে, লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশাবাদ
খাল পুনঃখনন কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আওতায় চলমান পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী বছরও শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বন্যাকবলিত কৃষক ও খামারিদের সহায়তা
সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ইতোমধ্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মূল তথ্য এক নজরে
- হাওর অঞ্চলের জন্য আসছে ব্রি ধান-১১৮
- আগামী বছর অবমুক্ত হবে লবণাক্ততা সহনশীল নতুন ধানের জাত
- কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই
- কুমিল্লায় আধুনিক মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ
- দেশেই গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়াতে বড় প্রকল্প
- খাল পুনঃখনন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে
- বন্যাদুর্গত কৃষক ও খামারিদের সহায়তা কার্যক্রম জোরদার























