RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Tuesday , 4 August 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

থাই পুটি মাছ চাষের ইতিহাস

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
August 3, 2026 12:09 pm

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন

থাই পুটি (Thai Puti) মাছ চাষের ইতিহাস: উৎপত্তি, বাংলাদেশে আগমন ও বর্তমান অবস্থা।।

বাংলাদেশে স্বাদু পানির মাছ চাষে যে কয়েকটি বিদেশি প্রজাতি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে, তার মধ্যে থাই পুটি অন্যতম। দ্রুত বৃদ্ধি, কম খরচে উৎপাদন, সহজ প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উচ্চ উৎপাদনশীলতার কারণে এটি অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের ছোট-বড় খামারিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বাংলাদেশের বহু জেলা ও উপজেলায় পুকুর, ডোবা, জলাশয় এবং ধানক্ষেতেও থাই পুটি চাষ করা হচ্ছে।


থাই পুটি কী?

থাই পুটি মূলত থাইল্যান্ডে উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারিত একটি টিলাপিয়া-জাতীয় ক্ষুদ্র মাছ নয়, বরং এটি জাভানিজ পুটি বা সিলভার বার্ব (Silver Barb)-এর উন্নত চাষযোগ্য একটি স্ট্রেইন হিসেবে পরিচিত।

বৈজ্ঞানিক নাম: Barbonymus gonionotus
ইংরেজি নাম: Silver Barb, Java Barb
বাংলাদেশে পরিচিত নাম: থাই পুটি

বাংলাদেশের দেশীয় পুটি (Puntius sophore) থেকে এটি আকারে অনেক বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় সাধারণ মানুষ একে “থাই পুটি” নামে চেনে।


উৎপত্তির ইতিহাস

থাই পুটির আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

প্রাকৃতিকভাবে এটি পাওয়া যায়—

  • থাইল্যান্ড
  • কম্বোডিয়া
  • লাওস
  • ভিয়েতনাম
  • মালয়েশিয়া
  • ইন্দোনেশিয়া

বিশেষ করে মেকং নদী অববাহিকা এবং চাও প্রয়া নদী ব্যবস্থা এই মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল।


থাইল্যান্ডে বাণিজ্যিক উন্নয়ন

১৯৬০-এর দশক থেকে থাইল্যান্ডের মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই মাছের—

  • দ্রুত বৃদ্ধি,
  • উন্নত প্রজনন,
  • উচ্চ উৎপাদন,
  • রোগ সহনশীলতা

বাড়ানোর জন্য নির্বাচিত প্রজনন (Selective Breeding) শুরু করে।

পরবর্তীতে এটি “Thai Silver Barb” নামে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে।


বিশ্বে বিস্তার

১৯৭০–১৯৯০ সালের মধ্যে FAO এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ মাছ ছড়িয়ে পড়ে—

  • বাংলাদেশ
  • ভারত
  • নেপাল
  • শ্রীলঙ্কা
  • মিয়ানমার
  • ফিলিপাইন
  • আফ্রিকার কয়েকটি দেশ

বাংলাদেশে আগমন

বাংলাদেশে থাই পুটি আসে মূলত ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে

মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) এবং বেসরকারি হ্যাচারিগুলোর উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে এর চাষ শুরু হয়।

প্রথমদিকে এটি ছিল সীমিত পরিসরে।

পরে সফলতা পাওয়ায় দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।


জনপ্রিয় হওয়ার কারণ

খামারিদের কাছে থাই পুটি জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ—

১. দ্রুত বৃদ্ধি

৪–৬ মাসেই বাজারজাত করা যায়।

২. কম খরচ

খাদ্য ব্যয় তুলনামূলক কম।

৩. উচ্চ উৎপাদন

একই পুকুরে দেশীয় পুটির তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদন হয়।

৪. সহজ প্রজনন

হ্যাচারিতে সহজেই পোনা উৎপাদন করা যায়।

৫. রোগ কম

সঠিক ব্যবস্থাপনায় রোগের প্রকোপ তুলনামূলক কম।

৬. মিশ্র চাষে উপযোগী

রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্পসহ অন্যান্য মাছের সঙ্গে সহজেই চাষ করা যায়।


বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান

বর্তমানে থাই পুটি—

  • গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।
  • ক্ষুদ্র খামারিদের আয় বাড়াচ্ছে।
  • পারিবারিক পুষ্টিতে অবদান রাখছে।
  • দেশীয় মাছের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করছে।
  • হ্যাচারি শিল্পের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।

চাষ পদ্ধতির আধুনিকায়ন

বর্তমানে বাংলাদেশে—

  • উন্নত মানের পোনা
  • ভাসমান ফিড
  • আধুনিক হ্যাচারি
  • পানি ব্যবস্থাপনা
  • বায়োসিকিউরিটি
  • বৈজ্ঞানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ব্যবহার করে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে।


বর্তমান চ্যালেঞ্জ

থাই পুটি চাষে কয়েকটি সমস্যা এখনো রয়েছে—

  • নিম্নমানের পোনা
  • ইনব্রিডিং সমস্যা
  • কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  • পানিদূষণ
  • খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি
  • বাজারদরের ওঠানামা

এসব সমস্যা সমাধানে উন্নত ব্রুডস্টক সংরক্ষণ, মানসম্মত হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।


ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশে থাই পুটির ভবিষ্যৎ যথেষ্ট উজ্জ্বল। বিশেষ করে—

  • নিবিড় চাষ (Intensive Culture)
  • বায়োফ্লক প্রযুক্তি
  • খাঁচায় মাছ চাষ (Cage Culture)
  • ধানক্ষেতে সমন্বিত মাছ চাষ
  • রপ্তানিযোগ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদন

ক্ষেত্রে এ মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


শেষ কথা

থাই পুটি বাংলাদেশের মৎস্য খাতে একটি সফল বিদেশি প্রজাতির উদাহরণ। থাইল্যান্ডে উন্নয়ন লাভ করা এই দ্রুত বর্ধনশীল মাছটি আজ বাংলাদেশের হাজারো মৎস্যচাষির আয়ের উৎস। উন্নত মানের পোনা, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, সুষম খাদ্য এবং বাজারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা গেলে থাই পুটি দেশের মাছ উৎপাদন, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

তথ্যসূত্র (প্রস্তাবিত):

  • বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI)
  • মৎস্য অধিদপ্তর (DoF), বাংলাদেশ
  • FAO Fisheries & Aquaculture
  • WorldFish
  • FishBase (Barbonymus gonionotus)
  • Southeast Asian Fisheries Development Center (SEAFDEC)

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত