RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Sunday , 11 October 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

রূপসায় আন্তর্জাতিক মানের মাছবাজার চাই: খুলনার সম্ভাবনায় দেশের সমৃদ্ধি

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
October 10, 2026 10:48 pm

রূপসায় আন্তর্জাতিক মানের মাছবাজার চাই: খুলনার সম্ভাবনায় দেশের সমৃদ্ধি।।

মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও কুচিয়ার বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে মডেল ফিস মার্কেট—প্রয়োজন সরকারি জমি, আধুনিক সংরক্ষণ, রপ্তানি মান নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বিত উদ্যোগ।।

খুলনা সংবাদদাতার তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন কৃষি সাংবাদিক ড. বায়েজিদ মোড়ল।

খুলনার সম্ভাবনার কথা বলতে গেলে নদী, সুন্দরবন, মাছ ও চিংড়ির কথা আসে। এই অঞ্চলের ঘের, পুকুর, নদী, খাল ও উপকূলকে ঘিরে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছে। কেউ মাছ চাষ করেন, কেউ মাছ ধরেন, কেউ কাঁকড়া সংগ্রহ বা চাষ করেন। আবার কেউ বরফ সরবরাহ, পরিবহন, আড়তদারি, প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে খুলনায় আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক পাইকারি মাছবাজার প্রয়োজন।

ঐতিহ্যবাহী রূপসা পাইকারি মাছ বাজারকে কেন্দ্র করে সেই সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। পরিকল্পিত অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসম্মত বেচাকেনা, উপযুক্ত সংরক্ষণ, স্বচ্ছ লেনদেন এবং রপ্তানির মান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে রূপসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এই উদ্যোগের কেন্দ্রে থাকতে হবে উৎপাদক। যিনি ঘেরে বিনিয়োগ করেন, পুকুরে মাছ চাষ করেন কিংবা নদীতে মাছ ধরতে যান, তাঁর হাতে ন্যায্য দাম পৌঁছাতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তা পাবেন নিরাপদ মাছ, ব্যবসায়ী পাবেন উন্নত সেবা এবং রপ্তানিকারক পাবেন মানসম্মত পণ্য।

খুলনার উন্নয়ন হলে দেশেরও উন্নয়ন হবে। তাই রূপসায় মডেল ফিস মার্কেট প্রতিষ্ঠার দাবিকে দলমতের ঊর্ধ্বে রেখে সম্মিলিত উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

সম্ভাবনা আছে, বাজারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মাছ ও চিংড়ি উৎপাদনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বড় অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। বাগদা ও গলদার পাশাপাশি বিভিন্ন মাছ, কাঁকড়া এবং কুচিয়াও এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব পণ্য দেশের বাজারে সরবরাহ হয়, আবার বিদেশেও যায়।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে খুলনা থেকে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার মাছ ও মৎস্যপণ্য রপ্তানির তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে কাঁকড়া ও কুচিয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই রপ্তানি কার্যক্রম দেখায়, খুলনার মৎস্যসম্পদ জাতীয় অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেই শেষ পর্যন্ত ভালো দাম পাওয়া যায় না। মাছ বাজারে পৌঁছাতে দেরি হলে, পর্যাপ্ত বরফ না থাকলে কিংবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা হলে গুণগত মান কমে যায়। চিংড়ির মান নষ্ট হলে রপ্তানিযোগ্য পণ্যও প্রত্যাশিত মূল্য হারাতে পারে। জীবিত কাঁকড়া ও কুচিয়া পরিবহনের সময় মারা গেলে ক্ষতির বোঝা পড়ে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীর ওপর।

এ কারণে উৎপাদনের সঙ্গে বাজার, সংরক্ষণ ও পরিবহনকে একই পরিকল্পনায় যুক্ত করতে হবে। রূপসার আধুনিকায়ন সেই কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

সুন্দরবনের অপার সম্ভাবনা, সংরক্ষণের দায়িত্বও বড়

খুলনার মৎস্য অর্থনীতি সুন্দরবন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সুন্দরবনের নদী, খাল ও মোহনা বিভিন্ন মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়ার জীবনচক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই বন ও জলজ পরিবেশ সুন্দরবনসংলগ্ন মানুষের জীবিকা এবং উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রূপসায় আধুনিক বাজার গড়ে উঠলে সুন্দরবন ও সংলগ্ন উপকূল থেকে বৈধভাবে আহরিত মৎস্যপণ্য বাছাই, সংরক্ষণ ও বাজারজাত করার উন্নত সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংগ্রহের উৎস, সময় এবং সরবরাহকারীর তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে ক্রেতার কাছে পণ্যের পরিচয় স্পষ্ট হবে। মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণের ব্যবস্থায় জেলে ও সংগ্রহকারীরাও উপকৃত হতে পারেন।

তবে সুন্দরবনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর অর্থ নির্বিচারে সম্পদ আহরণ নয়। প্রযোজ্য অনুমতি, মৌসুম ও নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ এবং কাঁকড়া সংগ্রহ করতে হবে। বিষ দিয়ে মাছ ধরা, ধ্বংসাত্মক আহরণ ও অবৈধ সংগ্রহ প্রতিরোধে বাজারপর্যায়েও দায়িত্ব নিতে হবে। অবৈধ উৎসের পণ্য গ্রহণ বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকলে আধুনিক বাজার সংরক্ষণ কার্যক্রমের সহায়ক হতে পারে।

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশসম্মত চাষ, প্রশিক্ষণ ও বিকল্প জীবিকার সুযোগ বাড়ানোও জরুরি। প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমিয়ে মানুষের আয় বাড়ানোর পথ খুঁজতে হবে। সুন্দরবন সুস্থ থাকলে খুলনার মৎস্য অর্থনীতির ভিত্তিও শক্তিশালী থাকবে।

কাঁকড়া ও কুচিয়ার জন্য পৃথক ব্যবস্থা চাই

মৎস্য বাণিজ্যের পরিকল্পনায় কাঁকড়া ও কুচিয়াকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। খুলনা অঞ্চলে এসব পণ্যের সংগ্রহ, চাষ ও বাণিজ্যের সুযোগ রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের রপ্তানিপণ্যের তালিকাতেও কাঁকড়া ও কুচিয়াজাতীয় মাছ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খুলনার ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিক কাঁকড়া চাষ কৃষকের আয় ও রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রস্তাবিত বাজারে জীবিত কাঁকড়া ও কুচিয়ার জন্য পৃথক গ্রহণ, বাছাই, অস্থায়ী সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং অঞ্চল রাখা প্রয়োজন। তাজা মাছ, হিমায়িত পণ্য এবং জীবিত মৎস্যপণ্য একই পদ্ধতিতে রাখা যাবে না। প্রজাতি ও ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী উপযোগী পরিবেশ এবং দ্রুত পরিবহনব্যবস্থা থাকতে হবে।

রপ্তানিকারকের সঙ্গে উৎপাদক ও সরবরাহকারীর যোগাযোগ বাড়ানো গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য প্রস্তুত করা সহজ হবে। এ জন্য বাজারে প্রশিক্ষণ ও তথ্যসেবার ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।

যোগাযোগের সুবিধা খুলনাকে এগিয়ে রাখে

আধুনিক মৎস্য বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খুলনার বড় শক্তি হলো বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগের সুযোগ। সড়কপথে উৎপাদন এলাকা ও দেশের বড় বাজারের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। রেল যোগাযোগের পাশাপাশি নদীপথও কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। কাছাকাছি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং যশোর বিমানবন্দরের মাধ্যমে যথাক্রমে সমুদ্র ও আকাশপথের সংযোগ পাওয়া যায়।

খুলনা–মোংলা রেল অবকাঠামো বন্দরকেন্দ্রিক যোগাযোগে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এই প্রকল্পে রূপসা নদীর ওপর রেলসেতু এবং মোংলা পর্যন্ত সংযোগ গড়ে উঠেছে।

তবে মাছ পরিবহনের জন্য যোগাযোগের সঙ্গে বিশেষ সেবাও প্রয়োজন। বাজার থেকে কারখানা বা বন্দরে যাওয়ার পুরো পথে পণ্যের উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখতে হবে। হিমায়িত পণ্যের জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন শীতল পরিবহন। জীবিত কাঁকড়া ও কুচিয়ার ক্ষেত্রে দরকার আলাদা পরিচর্যা ও পরিবহন পদ্ধতি।

বিমানযোগে পণ্য পাঠানোর পরিকল্পনায় কার্গো সুবিধা, উপযোগী প্যাকেজিং, অনুমোদন এবং রপ্তানি বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ যাচাই করতে হবে। একইভাবে সমুদ্রপথে রপ্তানির ক্ষেত্রে জাহাজের সংযোগ, কনটেইনার সুবিধা, সময় ও খরচ মূল্যায়ন জরুরি।

এসব ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানো গেলে খুলনার যোগাযোগ সুবিধা মৎস্য বাণিজ্যের বড় শক্তিতে পরিণত হবে।

রূপসার আধুনিকায়নে জমি চেয়েছে ফোয়াব

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—বিএফএফইএ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল রূপসা পাইকারি মাছ বাজারকে আধুনিক মডেল ফিস মার্কেটে রূপান্তরের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ফিস ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ—ফোয়াব ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদনে ঢাকার কেন্দ্রীয় ফিস মার্কেট ও চট্টগ্রামের নতুন ফিশারী ঘাটের পাশাপাশি খুলনার রূপসায় আন্তর্জাতিক মানের মডেল ফিস মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি খাসজমি বরাদ্দ চেয়েছে।

ফোয়াবের সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান—শাহীন মনে করেন, পরিকল্পিত বাজার অবকাঠামো ও সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠলে চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। সরকার জমি, নীতিগত সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিশ্চিত করলে সংগঠনটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব অথবা উপযুক্ত যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন ও পরিচালনায় অংশ নিতে আগ্রহী।

এই আগ্রহকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে প্রয়োজন দায়িত্ব, বিনিয়োগ, পরিচালনা এবং জবাবদিহির স্পষ্ট কাঠামো।

সরকারি জমির সুযোগ যাচাই করে উদ্যোগ

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ফোয়াবের প্রস্তাবকে সময়োপযোগী ও আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান রূপসা পাইকারি মৎস্যবাজারের আশপাশে সরকারি জমি রয়েছে। উপযুক্ত জমি ব্যবহার করা গেলে নতুন করে অধিগ্রহণ ছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব বাজার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।

এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর যৌথ পরিদর্শনের মাধ্যমে জমির মালিকানা, পরিমাণ, দখল, বিদ্যমান ব্যবহার ও উপযোগিতা যাচাই করতে হবে। নদীর সীমানা, পানি নিষ্কাশন এবং পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশপথ বিবেচনায় নিয়েই স্থান নির্বাচন করা প্রয়োজন।

উন্নত বিশ্বের বাজার থেকে শেখার সুযোগ

জাপানের টোকিওর টয়োসু বাজার আধুনিক মৎস্যবাজার পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। টোকিও মহানগর সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার বদ্ধ অবকাঠামো পণ্যের সতেজতা রক্ষায় সহায়তা করে। পণ্য ওঠানো-নামানো, বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের সুবিধাও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ফিশ মার্কেটে নিলামের পাশাপাশি অনলাইন বাণিজ্যব্যবস্থা রয়েছে। মাছের উৎস শনাক্ত করা এবং ঠান্ডা অবস্থায় পণ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

খুলনার জন্য এসব অভিজ্ঞতার শিক্ষা হলো—অবকাঠামোর সঙ্গে ব্যবস্থাপনাও উন্নত করতে হবে। স্থানীয় মাছের ধরন, আবহাওয়া, ব্যবসার পরিমাণ, বিদ্যুৎ খরচ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা বেছে নিতে হবে।

রপ্তানি মান নিয়ন্ত্রণ হবে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সেবা

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠাতে হলে মান ও নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই রূপসার মডেল ফিস মার্কেটে মৎস্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা রাখা অপরিহার্য।

খুলনায় মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এবং পরীক্ষাগার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যে জীবাণু, অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ, ভারী ধাতু, কীটনাশক ও অন্যান্য উপাদান পরীক্ষার কার্যক্রমের উল্লেখ আছে। বিদ্যমান এই সক্ষমতার সঙ্গে বাজারের সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।

বাজারে পণ্য গ্রহণের সময় মাছের অবস্থা, উৎস, সংগ্রহের সময় এবং পরিবহনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। নমুনা সংগ্রহ ও অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। সন্দেহজনক চালান পরীক্ষার ফল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত পৃথক রাখার সুযোগও দরকার।

মাছের পাশাপাশি বরফ ও পানির মান পরীক্ষা করতে হবে। পাত্র, মেঝে, কর্মীদের পরিচ্ছন্নতা এবং সংরক্ষণের তাপমাত্রাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

একটি রপ্তানি সহায়তা ডেস্ক আমদানিকারক দেশের শর্ত, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, নথিপত্র ও সনদ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের তথ্য দিতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা, অনুমোদন ও সনদ সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।

চাষির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা প্রয়োজন

আধুনিক বাজারের সুফল চাষির হাতে পৌঁছাতে হলে সঠিক ওজন এবং স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে। প্রজাতি, আকার ও মান অনুযায়ী দৈনিক বাজারদর প্রকাশ করা প্রয়োজন। কমিশন, বরফ, সংরক্ষণ ও অন্যান্য সেবার খরচ প্রকাশ্য থাকতে হবে।

প্রতিটি লেনদেনের রসিদ এবং সময়মতো পাওনা পরিশোধের নিয়ম উৎপাদকের আস্থা বাড়াবে। ছোট চাষিরা যেন যৌথভাবে মাছ পাঠাতে পারেন এবং একাধিক ক্রেতার কাছে পণ্য উপস্থাপন করতে পারেন, সেই সুযোগ রাখতে হবে।

স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা থাকলে বাজারে পৌঁছেই কম দামে বিক্রির চাপ কিছুটা কমতে পারে। পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল নিলাম চালু করা যেতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তার জন্য ছোট ব্যবসায়ী ও চাষিদের সেবাকেন্দ্রও প্রয়োজন।

বিদ্যমান আড়তদারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাঁদের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার অংশ করতে হবে।

পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও বর্তমান জীবিকা

বাজারে মাছের বর্জ্য ও ধোয়ার পানি সরাসরি নদীতে ফেলার সুযোগ রাখা যাবে না। বর্জ্য সংগ্রহ, কার্যকর পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বর্জ্যপানি শোধনের ব্যবস্থা শুরু থেকেই পরিকল্পনায় রাখতে হবে।

কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শৌচাগার এবং নারী শ্রমিকদের উপযোগী সুবিধা প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতিও গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক বাজারে মাছ বাছাই, বরফ সরবরাহ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, পরিবহন, মান পরীক্ষা ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে। কাঁকড়া ও কুচিয়ার বিশেষ সেবা নতুন উদ্যোগের সুযোগ তৈরি করবে। তবে কর্মসংস্থানের সংখ্যা সমীক্ষার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

বর্তমান বাজারের শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের জীবিকা রক্ষা করে আধুনিকায়ন করতে হবে। নির্মাণকালে বিকল্প বেচাকেনার ব্যবস্থা এবং নতুন বাজারে তাঁদের অংশগ্রহণের নীতিমালা আগেই ঠিক করা প্রয়োজন।

খুলনার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ চাই

রূপসায় মডেল ফিস মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে জমি যাচাই, যৌথ স্থান পরিদর্শন এবং বাজারের বাস্তব চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। প্রতিদিন কত পণ্য আসে, কতটা সংরক্ষণ প্রয়োজন, কী ধরনের পরিবহন লাগে এবং পরিচালনার খরচ কত হবে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা দরকার।

জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, ফোয়াব, বিএফএফইএ, ব্যবসায়ী, চাষি, জেলে, শ্রমিক ও নাগরিক সমাজকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে খুলনাবাসীর অংশগ্রহণ উদ্যোগটিকে শক্তিশালী করবে।

বড় প্রকল্পের প্রস্তুতির পাশাপাশি বর্তমান বাজারে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ও বরফ, সঠিক ওজন এবং প্রকাশ্য বাজারদর নিশ্চিত করার কাজ শুরু করা যায়।

রূপসার আধুনিকায়নের সাফল্য দেখা যাবে চাষির প্রাপ্ত দামে, মাছের অপচয় কমায়, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান উন্নয়নে। সুন্দরবনের সুরক্ষা ও মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া-কুচিয়ার সম্ভাবনাকে একই পরিকল্পনায় যুক্ত করতে পারলে খুলনা দেশের মৎস্য বাণিজ্যে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে। এখন প্রয়োজন এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ।

তথ্যসূত্র: খুলনা সংবাদদাতার সংগৃহীত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য; ফোয়াবের জমি বরাদ্দের আবেদন; মৎস্য অধিদপ্তর ও খুলনার মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর; বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস); টোকিওর টয়োসু বাজার ও সিডনি ফিশ মার্কেটের প্রকাশিত তথ্য।

সর্বশেষ - ছাগল পালন