শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম ‘সবুজ বিপ্লব’-এর ডাক দিয়েছিলেন: পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৬ আগস্ট ২০২৬:

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম ‘সবুজ বিপ্লব’-এর ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, খাল খনন কর্মসূচি এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রকৃতিকে ভালোবেসে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরার নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ঢাকা-১৮ আসনে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা আজও দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে গাজীপুরের শালনায় নিজ হাতে মেহগনির চারা রোপণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তাঁর উদ্যোগেই জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা হয়, যা দেশে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্ত্রী দেশের প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ সমাজ এবং যুব সংগঠনকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়; এটি পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এমপি বলেন, গাছ টিকিয়ে রাখতে না পারলে মানুষের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে। তিনি ঢাকা-১৮ আসনের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, উন্মুক্ত স্থান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জনবহুল এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী এক মাসে ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়, সড়ক এবং উন্মুক্ত স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে মাসব্যাপী এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন বক্তারা।























