WPSA-BB-এর কর্মশালায় নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধের আহ্বান//সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব।।

বরিশাল, ২৬ সেপ্টেম্বর: নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্রয়লার খামারে সঠিক ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত খাদ্য ও পানি এবং কার্যকর রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পোল্ট্রি খাতের বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করতে খামারিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার বরিশালের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন–বাংলাদেশ শাখা (WPSA-BB) আয়োজিত বিভাগীয় কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। দিনব্যাপী কর্মশালায় নিরাপদ ও আদর্শ ব্রয়লার উৎপাদনের ব্যবস্থাপনা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এস এম হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, WPSA-BB-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সিরাজুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন WPSA-BB-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ডা. মো. রাকিবুর রহমান। তিনি কর্মশালার উদ্দেশ্য ও সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
‘নিরাপদ ও আদর্শ ব্রয়লার খামার তৈরিতে ব্যবস্থাপনা ও পুষ্টির গুরুত্ব’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব হামিম। তিনি খাদ্য ও পানির গুণগত মান, বায়োসিকিউরিটি, খামারের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণ এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন। সঠিক ব্যবস্থাপনা রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বাড়াতে সহায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘নিরাপদ ও আদর্শ ব্রয়লার খামার তৈরিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব’ বিষয়ে আলোচনা করেন বরিশালের আঞ্চলিক প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের পিএসও ড. মো. নূরুল আলম। তিনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত, খামারে জীবাণু নিয়ন্ত্রণ, বায়োসিকিউরিটি এবং যথাযথ চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেন। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধেও খামারিদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
WPSA-BB-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের টেকসই বিকাশে খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। বিভাগীয় কর্মশালার মাধ্যমে তাঁরা ব্যবহারিক জ্ঞান পাচ্ছেন; পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সমস্যা বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সিরাজুল হক বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করতে হবে খামার পর্যায়েই। এ জন্য খামারিদের দক্ষতা বাড়ানো এবং মানসম্মত উৎপাদনব্যবস্থা অনুসরণ করা প্রয়োজন। তিনি পোল্ট্রি খাতে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে খামারিদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক উৎপাদনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মো. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ভোক্তার অধিকার এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। পোল্ট্রি খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই রোগ প্রতিরোধ ও সঠিক রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহারে খামারিদের দায়িত্বশীল হতে হবে।

দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে পোল্ট্রি খাতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতের উৎপাদনশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খামারি, গবেষক, শিক্ষক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে WPSA-BB-এর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং বরিশাল বিভাগীয় কর্মশালা কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, আদর্শ পোল্ট্রি উৎপাদনে উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিস্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও খামারির অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে। মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সমাধানের পথ খোঁজাই এ ধরনের কর্মশালার উদ্দেশ্য।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, কর্মশালায় বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের প্রায় দেড় শ খামারিসহ শিক্ষক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ ও পোল্ট্রি শিল্পসংশ্লিষ্ট দুই শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন। আয়োজকেরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খামারিদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন অব্যাহত থাকবে।






















