RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Monday , 26 October 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে নদী, হাওর পেরিয়ে খাবারের পাতে: বাংলাদেশে সাকার মাছের বিস্তারের অনুসন্ধান।।

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
October 26, 2026 12:10 am


অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে নদী, হাওর পেরিয়ে খাবারের পাতে: বাংলাদেশে সাকার মাছের বিস্তারের অনুসন্ধান।।

বুড়িগঙ্গা–তুরাগে বিপুল উপস্থিতি, হাকালুকি–টাঙ্গুয়ারেও শনাক্তের খবর; কিন্তু কোন জলাশয়ে কত সাকার মাছ, সেই তুলনামূলক হিসাব কোথায়?

কৃষি সাংবাদিক ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।

একসময় যে মাছ রাখা হতো অ্যাকুয়ারিয়ামের কাচে জমে থাকা শেওলা পরিষ্কার করতে, সেই মাছ এখন বাংলাদেশের নদীতে জেলেদের জাল ভরাচ্ছে। কোথাও মাছটি ছাড়াতে গিয়ে জাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কোথাও অন্য মাছের স্তূপ থেকে বিক্রিযোগ্য মাছ আলাদা করতেই বাড়ছে শ্রম। আবার যে সাকার মাছ অনেকে নদীর পাড়ে ফেলে দেন, সেটিই কোথাও কোথাও মানুষের খাবারের জন্য বিক্রি হচ্ছে। প্রকাশিত গবেষণা ও সংবাদে এই তিন ধরনের চিত্রই পাওয়া যায়।

এখন প্রশ্ন শুধু সাকার মাছ ক্ষতিকর কি না, তা নয়। আরও জরুরি প্রশ্ন হলো—বিদেশি এই মাছ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জলাশয়ে ঢুকল কীভাবে? কোন নদীতে এর উপস্থিতি উদ্বেগজনক? দেশের বিখ্যাত বিল–হাওরগুলো কতটা আক্রান্ত? আর মানুষের খাবারের বাজারে মাছটি পৌঁছাচ্ছে কোন পথে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে: সাকার মাছের বিস্তারের প্রমাণ আছে, কিন্তু দেশজুড়ে একই পদ্ধতিতে করা সাম্প্রতিক ঘনত্বের হিসাব পাওয়া যায়নি। ফলে একটি মাছ ধরা পড়া, বারবার পাওয়া যাওয়া এবং একটি জলাশয়ে প্রাধান্য বিস্তার করা—এই তিনটি অবস্থাকে আলাদা করেই বিচার করতে হবে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সংবাদ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উদ্ধৃত বক্তব্য ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। এখানে নতুন সরেজমিন জরিপ বা পরীক্ষাগার পরীক্ষা সম্পন্ন করার দাবি করা হয়নি। তথ্য পর্যালোচনার সময়সীমা ২৫ অক্টোবর ২০২৬।

বিদেশি মাছ বাংলাদেশের নদীতে এলো কীভাবে?

সাকার মাছ বাংলাদেশের স্থানীয় মাছ নয়। দক্ষিণ আমেরিকার উৎসভূমি থেকে শৌখিন মাছের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে এ ধরনের মাছ বিভিন্ন দেশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া সাকার মাছের মধ্যে Pterygoplichthys গণের একাধিক প্রজাতি ও মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যের মাছ গবেষণায় শনাক্ত হয়েছে। তাই সব সাকার মাছকে একটি বৈজ্ঞানিক নাম দিয়ে চিহ্নিত করা যথাযথ নয়।

বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে অ্যাকুয়ারিয়াম ব্যবসার যোগসূত্রের কথা গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এসেছে। তবে প্রথম কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাছটি প্রাকৃতিক জলাশয়ে ছেড়েছিল, তার প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস পাওয়া যায় না। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাও উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট পথ অজানা থাকার কথা জানিয়েছিলেন।

বিস্তার বোঝার জন্য সম্ভাব্য প্রবেশপথগুলো হলো—অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ বাইরে ছেড়ে দেওয়া, শৌখিন মাছ পালনের স্থাপনা থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত জলপথে ছড়িয়ে পড়া। বাংলাদেশের বর্ষা ও বন্যায় নদী–খাল–প্লাবনভূমির সংযোগ বিস্তারকে সহজ করেছে বলে গবেষকেরা ব্যাখ্যা করেছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট নদীর ক্ষেত্রে কোন পথটি কার্যকর হয়েছে, সেটি আলাদা অনুসন্ধানের বিষয়।

হালদার ক্ষেত্রে স্থানীয় একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক মনজুরুল কিবরিয়া বিডিনিউজকে জানিয়েছিলেন, সংলগ্ন নালা–খাল–বিল হয়ে মাছটি নদীতে প্রবেশ করেছে বলে তাঁদের ধারণা। কাটাখালী ও খন্দকিয়া খালে আগেও মাছটি দেখা গিয়েছিল। এটি স্থানীয় বিস্তারের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা; পরীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ যাত্রাপথ নয়।

বিস্তার কত দূর: বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়িয়ে বহু নদীতে উপস্থিতি

২০২৪ সালে প্রকাশিত Aquatic Invasions–এর একটি গবেষণায় ২০১৪–২০২১ সালের সংবাদ ও যোগাযোগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ৩৪টি জেলায় সাকার মাছ পাওয়ার রেকর্ড সংকলন করা হয়। এটি ওই সময়ের নথিভুক্ত ঘটনার চিত্র—২০২৬ সালের সম্পূর্ণ বিস্তারমানচিত্র নয়। একই গবেষণায় মানুষের খাওয়া ও রাস্তায় বিক্রির ঘটনাও উঠে এসেছে।

অন্য একটি গবেষণায় বাংলাদেশের ১৭টি নদীতে Pterygoplichthys disjunctivus শনাক্ত এবং চারটি স্থানে প্রতিষ্ঠিত প্রজননশীল জনগোষ্ঠীর তথ্য পাওয়া যায়। এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোথাও একটি মাছ ধরা পড়া এবং সেখানে বংশবিস্তারকারী জনগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত হওয়া এক বিষয় নয়।

অর্থাৎ সাকার মাছকে এখন কেবল ‘অদ্ভুত মাছ ধরা পড়েছে’ ধরনের বিচ্ছিন্ন খবর হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা যাবে না।

কোন নদীতে ব্যাপক হারে বেড়েছে?

প্রকাশিত মাঠবর্ণনা অনুযায়ী বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ সবচেয়ে স্পষ্ট উদ্বেগের উদাহরণ।

২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে তুরাগের ঢাকা উদ্যান এলাকার এক জেলে জানিয়েছেন, কোনো কোনো দিনে মোট ২০ কেজি ধরা মাছের মধ্যে ১৫ কেজিই সাকার হয়। বুড়িগঙ্গার জেলের বক্তব্যেও মাছ ছাড়াতে বাড়তি শ্রম ও সময় ব্যয়ের চিত্র এসেছে। এটি নির্দিষ্ট জেলের অভিজ্ঞতা; পুরো নদীর গড় হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

এর আগেও বিডিনিউজের আলোকচিত্র প্রতিবেদনে মিরপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন তুরাগে ঝাঁকে ঝাঁকে সাকার মাছ ধরা পড়ার দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে একই নদীতে বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদনে বিপুল উপস্থিতির ধারাবাহিক চিত্র পাওয়া যায়।

মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরীতেও ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ার সংবাদ আছে। সেই মাছ স্থানীয়ভাবে বিক্রির ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ধলেশ্বরীর সর্বত্র একই ঘনত্ব রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তের জন্য নদীর বিভিন্ন অংশে নমুনা সংগ্রহ দরকার।

অতএব, প্রকাশযোগ্য মূল্যায়ন হবে: বুড়িগঙ্গা–তুরাগের কিছু অংশে বিপুল উপস্থিতির শক্ত সংবাদপ্রমাণ রয়েছে; ধলেশ্বরীতেও বেশি ধরা পড়ার স্থানীয় তথ্য আছে। এগুলো দিয়ে দেশের সব নদীর ক্রমতালিকা করা যায় না।

আর কোন কোন নদীতে পাওয়া গেছে?

Bangladesh Journal of Zoology–এ প্রকাশিত পর্যালোচনার সংবাদরেকর্ডে নিচের নদীগুলোর উল্লেখ রয়েছে। তালিকাটি উপস্থিতির রেকর্ড, ঘনত্বের তালিকা নয়।

অঞ্চলনথিতে উল্লেখিত নদী
ঢাকা ও আশপাশবুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী
মধ্যাঞ্চলপদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র
উত্তরাঞ্চলযমুনা, তিস্তা, ধরলা
সিলেট অঞ্চলসুরমা, বিলাস
চট্টগ্রাম অঞ্চলহালদা, সাঙ্গু, কর্ণফুলী
দক্ষিণ–দক্ষিণ-পশ্চিমচিত্রা, বলেশ্বর, বিষখালী, ভৈরব

একই সংকলনে হাকালুকি হাওর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের একটি স্থানীয় বিল, রাজশাহীর দুর্গাপুরের বিল এবং মেহেরপুরের তেঘরিয়া, চাঁদ ও টুপলার বিলের সংবাদরেকর্ড রয়েছে। এসবের অনেক তথ্য পুরোনো; বর্তমান অবস্থা পুনরায় যাচাই প্রয়োজন।

কোন নদীতে কম আছে?

এই প্রশ্নের সরাসরি, নির্ভরযোগ্য জাতীয় উত্তর এখন দেওয়া যাচ্ছে না।

কারণ ‘কম’ বলার জন্য জানতে হবে—একই মৌসুমে, একই ধরনের জাল দিয়ে, সমান সময় মাছ ধরলে কোন নদীতে কত সাকার উঠছে। একটি নদীতে একটি মাছের সংবাদ পাওয়া আর অন্য নদীতে শত শত মাছের ছবি পাওয়া তুলনার সূত্র হতে পারে; কিন্তু তা সমমানের জরিপ নয়।

যে নদী নিয়ে সংবাদ কম, সেখানে মাছও কম—এ ধারণা ভুল হতে পারে। সেখানে সংবাদকর্মীর উপস্থিতি কম থাকতে পারে, জেলেরা মাছটি চিনতে না-ও পারেন কিংবা ধরা পড়ার ঘটনা প্রকাশিত না-ও হতে পারে।

সুতরাং হালদা, তিস্তা, ধরলা বা সাঙ্গুকে শুধু কম সংবাদ থাকার কারণে ‘সাকার কম আছে’ বলা ঠিক হবে না। এই অনুসন্ধানে এসব নদীর জন্য সাম্প্রতিক তুলনামূলক ঘনত্বের তথ্য মেলেনি।

তথ্যের ঘাটতি মানে মাছের অনুপস্থিতি নয়।

কোন কোন বিল সাকার মাছে ভরে গেছে?

‘ভরে গেছে’ কথাটি পাঠকের মনে প্রায় সম্পূর্ণ দখলের ধারণা তৈরি করে। এমন দাবি করতে হলে বিলের বিভিন্ন অংশে নিয়মিত নমুনা নিয়ে মোট মাছের মধ্যে সাকারের অনুপাত জানতে হবে।

এই অনুসন্ধানে বাংলাদেশের বিখ্যাত বিলগুলোর জন্য এমন সমন্বিত পরিমাপ পাওয়া যায়নি। ফলে নির্দিষ্ট বিলের নাম দিয়ে সেগুলো সাকার মাছে ভরে গেছে বলা প্রমাণের সীমা অতিক্রম করবে।

তবে স্থানীয় জলাশয়ে ব্যাপক বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে ময়মনসিংহের ভালুকার খাল–বিল, নদী–নালা ও মৎস্য খামারে মাছটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কথা বলা হয়। এটি উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ের সমস্যা নির্দেশ করে; কোনো একটি নামযুক্ত বিলের পরিমাণগত জরিপ নয়।

২০২৫ সালের মার্চে বাসস নেত্রকোনার বিভিন্ন নদী, জলাশয় ও পুকুরে সাকার মাছ পাওয়ার সংবাদ প্রকাশ করে। কিন্তু নেত্রকোনা হাওরবেষ্টিত জেলা বলেই জেলার প্রতিটি হাওর বা বিল আক্রান্ত—এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

বিখ্যাত হাওরগুলোতে কী পাওয়া যাচ্ছে?

এখানে কয়েকটি স্থানের তথ্য আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

হাওর বা জলাশয়প্রকাশিত তথ্যতথ্য থেকে যা বলা যায়
হাকালুকি হাওরগবেষণা পর্যালোচনায় ২০১৭ সালের উপস্থিতির সংবাদ অন্তর্ভুক্তঐতিহাসিক উপস্থিতির রেকর্ড আছে; বর্তমান ঘনত্ব অজানা
টাঙ্গুয়ার হাওর২০২৬ সালের সংবাদে একাধিকবার পাওয়ার তথ্য ও ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্টদের উদ্বেগউপস্থিতির সংবাদ আছে; ব্যাপক দখলের পরিমাপ নেই
চাপতির হাওর, দিরাই২০২৬ সালের জুলাইয়ে জালে ধরা পড়ার ঘটনাস্থানীয় উপস্থিতির সংবাদ
দেখার হাওরসংলগ্ন বারোঘর জলাশয়বড়দই বিলের কাছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ধরা পড়ার ঘটনানির্দিষ্ট স্থানের রেকর্ড; পুরো হাওরের হিসাব নয়

হাকালুকির তথ্য গবেষণা পর্যালোচনা থেকে; বাকি ঘটনাগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত সিলেট ভয়েসের প্রতিবেদনে বর্ণিত। ওই সংবাদে টাঙ্গুয়ারের উপস্থিতির বিষয়টি একটি মতবিনিময়সভায় উত্থাপন এবং সিএনআরএসের উদ্বেগের কথাও রয়েছে।

টাঙ্গুয়ারের ক্ষেত্রে তাই যথাযথ ভাষা হবে—‘সাকার মাছ পাওয়ার খবর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে’। এখনই ‘সাকারে ভরে গেছে টাঙ্গুয়ার’ বলা সমর্থনযোগ্য নয়।

অন্যদিকে চলনবিল, হাইল হাওরের বাইক্কা বিল, আড়িয়ল বিল ও গোপালগঞ্জের বিলাঞ্চলের নির্দিষ্ট জলাশয়ে উপস্থিতি বা আধিক্য নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য তথ্য এই অনুসন্ধানে মেলেনি। এগুলোকে সাকারমুক্তও বলা হচ্ছে না; এগুলো সরেজমিন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

কোথায় মানুষ সাকার মাছ খাচ্ছে ও খাবারের জন্য বিক্রি করছে?

এই প্রশ্নে সবচেয়ে নির্দিষ্ট স্থানভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে।

ঢাকার খিলগাঁও–শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি: ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জাগোনিউজের প্রতিবেদক সেখানে দুজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের একজন বুড়িগঙ্গা থেকে মাছ এনে বিক্রির কথা জানান। প্রতিবেদনে প্রতি কেজি ২০০ টাকা দাম এবং আগে খেয়েছেন বা প্রথমবার কিনেছেন—এমন ক্রেতার বক্তব্য রয়েছে। দামটি ২০২১ সালের; বর্তমান বাজারদর নয়।

মুন্সীগঞ্জের হাটলক্ষীগঞ্জ: প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিবেদনে ধলেশ্বরীর সাকার মাছ এলাকায় ফেরি করে বিক্রি এবং ‘সামুদ্রিক মাছ’ বলে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। সেখানেও ২০০ টাকা কেজির উল্লেখ ছিল। মাছটির পরিচয় না জেনে কেনার ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে।

গবেষণায় খাওয়ার তথ্য: Aquatic Invasions–এর গবেষণায় দরিদ্র মানুষের নিজে খাওয়া ও রাস্তায় বিক্রির ঘটনা এবং কিছু জেলে ও নৌকায় কর্মরত উত্তরদাতার রান্না করে খাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সীমিত উত্তরদাতার অভিজ্ঞতা দিয়ে সারা দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা যাবে না।

খুলনা, যশোর, বরিশাল বা সিলেটের কোন নির্দিষ্ট বাজারে বর্তমানে নিয়মিত খাবারের জন্য সাকার বিক্রি হচ্ছে—তার যথেষ্ট যাচাইকৃত তালিকা এখানে পাওয়া যায়নি। ফলে সেসব অঞ্চলের নাম অনুমান করে যোগ করা হয়নি।

মানুষ খাচ্ছে বলেই কি মাছটি নিরাপদ?

খাওয়ার ঘটনা খাদ্যনিরাপত্তার সনদ নয়। আবার পরিবেশের জন্য আগ্রাসী হলেই কোনো মাছ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিষাক্ত হয়ে যায় না।

নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য মাছের উৎসজলাশয়, দূষণ এবং ভক্ষণযোগ্য অংশের পরীক্ষার ফল প্রয়োজন। ২০২৩ সালে প্রকাশিত বুড়িগঙ্গার মাছবিষয়ক একটি গবেষণায় কয়েকটি মাছের নমুনায় ভারী ধাতু ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে পরীক্ষিত প্রজাতির তালিকায় সাকার ছিল না। তাই ওই ফল সাকারের পরীক্ষার ফল হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না; এটি সংশ্লিষ্ট নদীর মাছের নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রয়োজন বোঝায়।

প্রতিবেদনটির ভিত্তিতে সবচেয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য হলো: বাংলাদেশের বিভিন্ন জলাশয়ের সাকার মাছকে ঢালাওভাবে নিরাপদ খাদ্য ঘোষণা করার ভিত্তি নেই। উৎসভিত্তিক পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

নিষেধাজ্ঞা আছে—তবু বাজারে যাওয়ার পথ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সরকারি তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি জারি করা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে সাকার মাছের আমদানি, চাষ, পরিবহন, বিক্রয়, সরবরাহ ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারি মৎস্য দপ্তরের আইনসংক্রান্ত তালিকাতেও নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ রয়েছে।

সুতরাং নদী থেকে ধরে সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ এবং খাবারের জন্য নতুন বাণিজ্য তৈরি করা একই ব্যবস্থাপনা নয়। নিয়ন্ত্রণের নামে বাজার তৈরি হলে জীবিত মাছ পরিবহন বা অন্য জলাশয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এখানে অনুসন্ধানের প্রশ্ন হবে—মাছ কোথা থেকে ধরা হচ্ছে, কে সংগ্রহ করছেন, কোথায় যাচ্ছে, কী নামে বিক্রি হচ্ছে এবং ক্রেতা আসল পরিচয় জানছেন কি না।

দেশি মাছের ক্ষতি কতটা প্রমাণিত?

সাকার মাছ নিয়ে ‘সব মাছ খেয়ে ফেলে’ ধরনের বক্তব্য প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু ক্ষতির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আরও নির্দিষ্ট হওয়া দরকার।

বাংলাদেশের একটি পরীক্ষামূলক গবেষণায় তিন ধরনের দেশীয় কার্পজাতীয় মাছের সঙ্গে সাকার মাছ রেখে বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার পরিবর্তন দেখা হয়েছে। ফলাফলে সাকারের উপস্থিতিতে দেশীয় মাছের বৃদ্ধি ও টিকে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এটি খাদ্য ও পরিবেশগত প্রতিযোগিতার উদ্বেগকে সমর্থন করে। তবে পরীক্ষার ফল দিয়ে দেশের সব নদীতে একই মাত্রার ক্ষতি হিসাব করা যাবে না।

দেশি মাছ কমার জন্য দূষণ, আবাসস্থল ধ্বংস ও অন্যান্য চাপও বিবেচনা করতে হবে। সব ক্ষতির দায় শুধু সাকারের ওপর চাপালে নদী ব্যবস্থাপনার অন্য ব্যর্থতা আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

যে গবেষণা এখন জরুরি

প্রকাশিত তথ্যগুলোকে ভিত্তি করে পরবর্তী অনুসন্ধানে পাঁচটি কাজ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

১. একই পদ্ধতিতে নদী জরিপ: বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও ধলেশ্বরীর নির্বাচিত অংশের সঙ্গে অন্য নদীর নমুনা তুলনা করতে হবে। প্রতি জাল, প্রতি ঘণ্টা বা প্রতি নির্দিষ্ট প্রচেষ্টায় কত মাছ উঠছে, তা নথিবদ্ধ করা প্রয়োজন।

২. বিখ্যাত বিল–হাওরে উপস্থিতি যাচাই: হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ারের সংবাদ যাচাইয়ের পাশাপাশি চলনবিল, বাইক্কা বিল ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়ে নির্দিষ্ট স্থানাঙ্কসহ নমুনা সংগ্রহ দরকার।

৩. বংশবিস্তারের প্রমাণ: শুধু বড় মাছ নয়, ছোট মাছের উপস্থিতি, প্রজননক্ষমতা ও বাসার তথ্য যাচাই করতে হবে। এতে বোঝা যাবে মাছটি ঘটনাক্রমে এসেছে, নাকি স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৪. খাদ্য ও বাজার অনুসন্ধান: পুরোনো বিক্রির স্থানগুলো পুনরায় পরিদর্শন করে বর্তমান অবস্থা, উৎস ও ক্রেতার পরিচয়জ্ঞান যাচাই করা দরকার।

৫. জনজীবিকার ক্ষতি পরিমাপ: জাল মেরামত, মাছ ছাড়ানোর শ্রম, বিক্রিযোগ্য মাছের পরিমাণ এবং জেলের নিট আয়ের পরিবর্তন হিসাব করতে হবে।

এই প্রস্তাবিত কাজগুলো নতুন জরিপের রূপরেখা; এগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে না।

সাকার মাছের বিস্তার নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু তার অস্বাভাবিক চেহারা নয়। উদ্বেগ হলো, জলাশয়ে তার উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের তথ্যের ঘাটতিও দৃশ্যমান হচ্ছে। কোথায় একটি মাছ পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় প্রজনন চলছে, কোথায় জালের বড় অংশ দখল করছে আর কোথা থেকে মানুষের খাবারে পৌঁছাচ্ছে—প্রতিটি প্রশ্নের আলাদা উত্তর প্রয়োজন।

বাংলাদেশের নদী–বিল–হাওরে সাকার মাছের অনুসন্ধান তাই একটি বিদেশি মাছের গল্পের চেয়েও বড় বিষয়। এটি দেশি মাছের ভবিষ্যৎ, জেলের আয়, বাজারের স্বচ্ছতা এবং জলজ সম্পদ রক্ষায় আমাদের প্রস্তুতির পরীক্ষা।

সাকার মাছ নিষিদ্ধ—নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ?

২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে সরকার সাকার মাছের আমদানি, প্রজনন, চাষ, পরিবহন, বিক্রয়, গ্রহণ–প্রদান, বাজারজাতকরণ, মজুদ ও নিজের অধিকারে রাখাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। মৎস্য সংরক্ষণ বিধিমালা সংশোধন করে এই বিধান যুক্ত করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন কতটা হচ্ছে? নদী–বিল–হাওরে বিস্তার ঠেকাতে মাঠপর্যায়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? সরকারি গেজেট, বাস্তবায়নের চিত্র ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য নিয়ে আগামী পর্বে থাকছে বিস্তারিত অনুসন্ধান। সঙ্গে থাকুন Agriculture News-এর।

সর্বশেষ - ছাগল পালন